Home বইমেলা প্রতিদিন জাতীয় কবিতা উৎসব কবিতার জন্য অফুরান ভালোবাসা

জাতীয় কবিতা উৎসব কবিতার জন্য অফুরান ভালোবাসা

SHARE
Kobita-Utshob-2017

মোহাম্মদ তারেক
কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। এক সময় জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি কবিতা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কবিতা উৎসবের প্রসঙ্গ তুলতেই মৃদু হেসে বললেনÑ জাতীয় কবিতা উৎসব আসলে কবিতার উৎসব নয়। সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নবীনপ্রবীণ কবিদের উৎসব। কবিদের মিলন মেলা। এই উৎসবে যোগ দেয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কবিরা নিজের খরচে ঢাকায় আসেন। নিজের খরচে ঢাকায় থাকেন। আবার উৎসবে যোগ দেয়ার জন্য নির্ধারিত অঙ্কের চাঁদাও দেন। যাকেরেজিস্ট্রেশনবলি। আমার ধারণা পৃথিবীর আর কোনো দেশে শুধু কবিতার জন্য এত ত্যাগ এত ভালোবাসা বোধকরি আর নাই। এজন্য দেশের সকল কবির প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা ভালোবাসা।
হাবিবুল্লাহ সিরাজীর কথাই সত্যি। এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সংলগ্ন এলাকায় দুইদিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু হয়েছে গতকাল। দেশিবিদেশি কবিদের হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতিতে এবারের কবিতা উৎসব নতুন মাত্রা পেয়েছে। পৃথিবীর ৭টি দেশের প্রায় ২৫ জন কবি, সাহিত্যিক এবার জাতীয় কবিতা উৎসবে যোগ দিয়েছেন। ফলে কবিদের এক মহা মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে জাতীয় কবিতা উৎসব।
সকাল ১০ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে জাতীয় কবিতা উৎসবের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহম্মদ সামাদ, সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাতের নেতৃত্বে দেশবিদেশের কবিরা প্রথমে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের মাজার পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় উৎসব প্রাঙ্গণে কবি বেলাল চৌধুরী কর্তৃক জাতীয় পতাকা উৎসব পতাকা উত্তোলন মূলমঞ্চে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রথম দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
উদ্বোধন কবি বেলাল চৌধুরী বলেন, আজ থেকে ৩১ বছর আগে সেনা শাসক এরশাদের স্বৈরাচার বিরোধী অরাজকতা, অবিচার, একনায়কত্ব প্রমিত সাহিত্য সংস্কৃতিগণতন্ত্রবিরোধী অপশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশের প্রগতিশীল এবং অসাম্প্রদায়িক মনমানসের কবিদের নিয়ে কবি সংগঠন জাতীয় কবিতা পরিষদ। এর নেতৃত্বে ছিলেন কবি সুফিয়া কামালসহ কবি শামসুর রাহমান, আবুল হোসেন, ফয়েজ আহমদ, সৈয়দ শামসুল হক, রফিক আজাদ এবং আরও দেশ বরেণ্য কবিরা।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর জাতীয় কবিতা উৎসবের একটি নির্ধারিত সেøাগান থাকে। এবারের সেøাগান নির্ধারণ করা হয়েছেÑ কবিতা মানে না বর্বরতা। এর আগে সেøাগান ছিলÑ শৃঙ্খল মুক্তির জন্য কবিতা, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কবিতা, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কবিতা, কবিতা রুখবেই সন্ত্রাস, গণতন্ত্রের পক্ষে কবিতা, কবিতা রুখবেই মৌলবাদ, জয়বাংলা জয় কবিতার, জনতার সংগ্রাম কবিতার সংগ্রাম, মানুষের অধিকার, কবিতার অঙ্গীকার, মানবিকতার প্রত্যয়ে কবিতা, কবিতা মুক্তির শ্বাশত শক্তি, শান্তিসম্প্রীতি আনবে কবিতা, কবিতা তিমির বিনাসী, মাতৃভাষার আলোকধারায় কবিতার হোক জয়, কবিতা উৎসব সত্য সুন্দরের উৎসব, কালের যাত্রায় কবিতার জয়োধ্বনি, জয় কবিতার জয় মানবতার, কবিতা আনবেই সুসময়, কবিতা প্রতিরোধের হাতিয়ার, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কবিতা, কবিতা বার বার ফিরে আসে নতুন মিছিলে, কবিতার মন্ত্র জয় গণতন্ত্র জয় জনতার জয় কবিতার, নতুন কবিতা নতুন সময়, কবিতা উৎসব মুক্তির উৎসব, কবিতা শেণিতে, স্বপ্নের ধ্বনিতে, যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি আজ কবিতার। কবিতা সহে না দানব যাতনা, জাগো সম্ভাবনায় জাগো কবিতায়, কবিতা মৈত্রীর কবিতা শান্তির