Home আরোও বিভাগ ছোট পরিবার আবশ্যক

ছোট পরিবার আবশ্যক

SHARE

উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের একটি বাড়ির ভেতর থেকে বেশ আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। সম্ভবত কেউ কারো সাথে ঝগড়া করছে। কি নিয়ে ঝগড়া? তা বোঝার জন্য বাড়ির ভেতরে যেতেই কয়েকজন মানুষের জটলা দেখা গেলো। একটি বাচ্চার কান্নাও শোনা যাচ্ছিল। ঝগড়ার আশপাশে বেশ কয়েকজন মানুষ নানান কথাবার্তা বলাবলি করছে। সেখানে অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব, সাফা কবির, সমাপ্তি মাকসুদ, রুহী সহ আরো কয়েকজনকে দেখা গেল। ঘটনাটি জানার বেশ চেষ্টা করছে আনন্দ আলো টিম। লিখেছেন সৈয়দ ইকবাল
তাদের কথা কাটাকাটি থেকে এটা বোঝা গেলো- তৌসিফ আর সাফা কবির যে বাসায় ভাড়া থাকে সেই বাসারই একটি রুম ভাড়া দিয়েছেন। ভাড়া দেয়ার সময় শর্ত ছিল কোনোভাবে বাচ্চা সহ সাবলেট ভাড়া দেয়া হবে না। সেই বাসাটি ভাড়া নেয় আরেক দম্পতি সমাপ্তি মাকসুদ ও নুসরাত জান্নাত রুহী। তারা বাসা যখন অ্যাডভান্স করতে এসেছিল তখন নাকি বলেছিল সিঙ্গেল পরিবার, কোনো বাচ্চাকাচ্চা নেই। কিন্তু যেদিন বাসায় উঠে সেদিন তারা সাথে করে একটি ৪/৫ বছরের মেয়ে বাচ্চা নিয়ে আসে। এটা নিয়েই এই দ্বন্দ্ব। বাড়িওয়ালা কোনাভাবেই সাবলেট বাসায় বাচ্চা-কাচ্চা সহ ভাড়া দিবে না বলে জানায়। ঘটনাস্থলে বাড়িওয়ালাও আসে। কিছু না বুঝতেই এরইমধ্যে দৃশ্যটি চলার ফাঁকে কেউ একজন ‘কাট’ বলে উঠলো। বোঝা গেলো এখানে শুটিং চলছিল। হ্যাঁ, পাঠক এটি একটি নাটকের শুটিং। আসন্ন বৈশাখ উপলক্ষে একটি খন্ড নাটকের শুটিং চলছিল। পারাবারিক একটি গল্পের নাটক ‘ছোট পরিবার আবশ্যক’। এই শহরে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষদের একটি ছোট্ট বাসা ভাড়া নিতে যে যন্ত্রণা কাঁধে নিতে হয় তা নিয়েই এই নাটকের গল্প। যে দৃশ্যটির শুটিং চলছিল তা ছিল এমন- টুলেট দেখে বাসা ভাড়া নিতে আসে সমাপ্তি ও রুহী। টুলেট-এ লেখা ছিল-‘ছোট পরিবার আবশ্যক’। বাসা ভাড়া নেয়ার আগে তৌসিফ ও সাফাকে সমাপ্তি ও রুহী বলেছিল তাদের কোনো বাচ্চা নেই। কিন্তু বাসায় উঠার সময় বাচ্চা সহ আসায় দেখা দেয় বাকবিতন্ডা। বাচ্চা আছে বললে তো তারা সাবলেট ভাড়া দিতো না। আবার পুরো একটি বাসা ভাড়া নিয়েও থাকা সম্ভব না।
নাটকের গল্প সময় উপযোগী। এই শহরে এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। এমন অনেক পরিবার থাকে যারা কিনা না নিতে পারে পুরো ফ্ল্যাট ভাড়া, আবার তারা চাইলেই যেনোতেনো জায়গায় থাকতে পারে না। ফলে একটি ছোট্ট বাসার জন্য সবার যে কতো কসরত করতে হয় এটা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন।
এক পর্যায়ে তৌসিফ আর সাফার রুমের একটি দৃশ্য ধারন করার তোড় জোড় শুরু হল। লাইট আর সেট গোছানোর কাজ চলছিল। এরইফাঁকে কথা হলো তৌসিফের সঙ্গে। কথায় কথায় তিনি নাটকটি নিয়ে বলেন, ‘অনেক দিন পর অন্যরকম একটি নাটকের শুটিং করলাম। নাটকের গল্পে একটি ম্যাসেজ আছে। নাটকটি দেখার পর সবার মধ্যে কিছু না কিছু অনুভূতি কাজ করবে। একজন শিল্পীর সমাজের প্রতি কিছু দায়বদ্ধতা আছে, সেটা নিয়েও কাজ করতে হবে। এই নাটকটিতে কাজ করতে গিয়ে এই কথাগুলো খুব মনে পড়েছে। আমার বিশ্বাস এই নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’ সাফা কবির তখন চেঞ্জিং রুম থেকে নতুন একটি শাড়ি পড়ে মেকআপের বিশাল আয়নার সামনে দাঁড়ায়। নিজের মেকআপটা হালকা করে নিলেন। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ‘এই নাটকের গল্পটা পরিচালক আমাকে অনেক আগেই শুনিয়েছিল। তার সাথে দেখা হলেই আমি বলতাম কাজটা কবে শুরু করবেন? সত্যি কথা বলতে কী কিছু কিছু গল্প থাকে যেগুলোতে কাজ করার জন্য মুখিয়ে থাকি। এই নাটকের গল্পটাও তাই। এই সময়ে এসে যখন গল্পবিহীন এবং ভিউয়ের জন্য কাজ হচ্ছে বেশি সেখানে এমন একটি ভালো নাটকে অভিনয় করা সত্যিই অন্যরকম আনন্দ দেয়। আশা করছি দর্শকদেরও নাটকটি ভালো লাগবে। কারন গল্পটাই ভালোলাগার ।’

এরইমাঝে ডাক পড়ে পরবর্তী দৃশ্য ধারণের জন্য। দৃশ্যটা হচ্ছে সমাপ্তি আর রুহীর মেয়ের জন্মদিনকে ঘিরে। টানাপোড়েনের সংসারে মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে বড় কোনো আয়োজন নেই। ছোট্ট একটি কেক দিয়ে কোনোমতে মেয়েকে খুশি করার চেষ্টা। তাই তো মেয়েকে হ্যাপি বার্থডে বলে কেক কাটতে যাওয়ার সাথে সাথেই ছোট্ট সিমান্তনী বল ওঠে, ‘এতো ছোট কেক কেনো? আর আমার জন্মদিনে অন্য মানুষ নেই কেনো? আমি কেক কাটবো না’। দৃশ্যটি নেয়ার সময় প্রথমে সিমান্তনীর এক্সপ্রেশন পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই পরিচালক আবার এটি নেয়ার কথা বলেন। দু’বারেই দৃশ্যটি ওকে হয়ে যায়। এই দৃশ্যটির শেষে একটি মজা দেখতে পাবেন দর্শক। দরজার পাশ থেকে সাফা কবির সিমান্তনীর এই আদুরে বায়না শুনছিল। তাই তো জন্মদিন উপলক্ষে সিমান্তনীকে হয়তো পরের দৃশ্যেই একটা সারপ্রাইজ দিবে। সেই দৃশ্যের জন্যই প্রস্তুতি চলছিল। আবার মেকআপ রুমে এসে কথা হয় অভিনয়শিল্পী সমাপ্তি আর রুহীর সাথে। সমাপ্তি বলেন, ‘আসলেই গল্পটা খুব সুন্দর। কাজটা করে মনের মধ্যে কোথাও যেনো একটা শান্তি কাজ করছে। গড়পড়তা সব গল্পতে কাজ করতে করতে যখন হাঁপিয়ে উঠেছি তখন এই নাটকটিতে অভিনয় করে অনেক আরাম পেয়েছি।’ অভিনয়শিল্পী রুহী তখন পরবর্তী দৃশ্যের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সাফা কবির আর তৌসিফের সাথে স্ক্রিপ্ট নিয়ে কথা বলছিলেন তিনি। এরইমাঝে কথা হয় তার সাথে। নাটকটির প্রসঙ্গ আসতেই রুহী বলেন, ‘আসলে এই সময়ে এসে এই ধরনের গল্পের কাজ খুবই কম হচ্ছে। আমরা এই বিষয়টা নিয়ে শুটিং স্পটে বসে অনেক আলোচনা করেছি। যেখানে নাটকের ভিউয়ের জন্য যেনোতেনো গল্পের কাজ হচ্ছে এবং দর্শকদের শুধু বিনোদনের কথাই চিন্তা করা হয়ে থাকে। সেখানে এই ধরনের কাজ দিয়ে দর্শকদের বিনোদনের মাধ্যমেও অনেক বড় ম্যাসেজ দেয়া যায়- এই বিষয়টি নাটকটির মাধ্যমে দর্শক দেখতে পাবেন। নাটকে আমার চরিত্রটি অন্যরকম। এর আগে এই ধরনের চরিত্রে কাজ করিনি।’
মেকআপ রুম থেকে বেরিয়ে আসতেই দেখা যায় পরিচালকদ্বয় তাদের সহকারীদের সাথে পরবর্তী দৃশ্যগুলোর বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন। ‘ছোট পরিবার আবশ্যক’ শিরোনামের এই নাটকটি লিখেছেন জুলফিকার ইসলাম শিশির। আর নাটকটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন জুলফিকার ইসলাম শিশির ও আতিফ আসলাম বাবলু। তৌসিফ মাহবুব, সাফা কবির, নুসরাত জান্নাত রুহী, সমাপ্তি মাকসুদ ছাড়াও আরো অভিনয় করেছেন সাজ্জাদ ভূঁইয়া, সিমান্তনী চৌধুরী ও সাহেদ চৌধুরী প্রমুখ।
বিকেল গড়িয়ে তখন সন্ধ্যা। শুটিং হাউজে সকলের ব্যস্ততা যেনো আরো বেড়েছে। কারন রাত ১১টার মধ্যে শুটিং শেষ করতে হবে। টেলিভিশনের তিন সংগঠন থেকে নিয়ম করা হয়েছে রাত ১১টার পর কোনো শুটিং করা যাবে না। তাই তো সন্ধ্যার পর সকলেই চাইছে কাজটা যেনো তাড়াতাড়ি শেষ হয়। আনন্দ আলো টিম রওয়ানা দিলো তাদের গন্তব্যে। শুটিং চলতে থাকলো। ছোট দুটি পরিবারের গল্পের শুটিং। আসলেই তো তাই। এই শহরের প্রতিটি বাসার দেয়ালের আড়ালে এমন কতো না গল্প থাকে। যার সবটাই কী জানা যায়! অনেক গল্পই থেকে যায় অজানা…