Home টি-২০ আড্ডা ছেলেটার প্রতি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ি-সুজানা জাফর

ছেলেটার প্রতি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ি-সুজানা জাফর

SHARE
Sujana-Jafor-1

মোহাম্মদ তারেক
আনন্দ আলো: এত কাজ থাকতে অভিনয়ে এলেন কেন?
সুজানা জাফর: বুঝে উঠার আগেই এই কাজে ঢুকে গেছি তাই অন্য কাজে ঢোকার সুযোগ পাইনি।
আনন্দ আলো: জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় যে কাজটি?
সুজানা জাফর: আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় সানক্রেস্ট কোলার বিজ্ঞাপনটি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
আনন্দ আলো: প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে মনে মনে কী বলেন?
সুজানা জাফর: মনে মনে বলি দিনটা যেন আমার ভালো যায়।
আনন্দ আলো: আপনাকে একদিনের জন্য মঙ্গলগ্রহে পাঠানো হলে কাকে সঙ্গে নিতে চাইবেন?
সুজানা জাফর: মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার সময় মোবাইল সঙ্গে নিয়ে যাব। কারণ সেলফি তোলাটা মিস করা যাবে না।
আনন্দ আলো: যে প্রশ্ন শুনতে শুনতে ক্লান্ত…
সুজানা জাফর: আপু আপনার সঙ্গে একটা সেলফি তুলবো, প্লিজ…
আনন্দ আলো: ক্যামেরার সামনে প্রথম দিন…
সুজানা জাফর: আমার মিডিয়ায় আসার গল্পটা খুব মজার। ছোটবেলা থেকেই আমি ছিলাম খুব লাজুক স্বভাবের। স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও তেমন একটা অংশগ্রহণ করতাম না। আর সেই আমিই একদিন ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে মডেলিং করব, এটা তো আগে কোনো দিন চিন্তাও করিনি। ২০০১ সালে আমি মূলত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই শোবিজে পা রাখি। সানক্রেস্ট কোলার বিজ্ঞাপনে প্রথম মডেল হয়েছিলাম। এটি নির্মাণ করেছিলেন আফজাল হোসেন। এখনো ভাবতে অবাক লাগে। শুটিংয়ের সময় ভয় ভয় লাগছিল। কিন্তু আফজাল ভাই আমাদের বলেছিলেন, বন্ধুদের সঙ্গে স্বাভাবিক আড্ডার সময় যেমন থাকি, ঠিক সেভাবে অভিব্যক্তি দিলেই চলবে, বাড়তি কিছু করতে হবে না। এজন্য হয়তো কাজটা করতে শেষমেশ খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। সে সময় বিজ্ঞাপনটি খুব জনপ্রিয় হয়েছিল।
আনন্দ আলো: প্রথম পারিশ্রমিক কত ছিলো?
সুজানা জাফর: অভিনয়ের জন্য আমি সর্বপ্রথম ২৫,০০০ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলাম। প্রথম বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়ার সুবাধে এই টাকা পেয়েছিলাম। সেই টাকা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন কিনেছিলাম।
আনন্দ আলো: বিলবোর্ডে নিজের প্রথম ছবি…
সুজানা জাফর: লাক্সের বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়ার কারণে প্রথম বিলবোর্ডে আমার ছবি শোভা পেয়েছিল। বিলবোর্ডে ছবি দেখার পর খুবই আনন্দ পেয়েছিলাম। প্রত্যেক মডেলই তার প্রথম ছবি বিলবোর্ডে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে। আমিও সেরকম আনন্দ পেয়েছিলাম। আমার পরিবার আমার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছিল। অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু-আত্মীয়-স্বজন বাসায় এসে ছবির প্রশংসা করেছিলেন।
আনন্দ আলো: আপনার অভিনীত প্রথম নাটক…
সুজানা জাফর: আমার অভিনীত প্রথম নাটক ‘একান্নবর্তী’। এটি পরিচালনা করেছিলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এতে আমার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন শাহেদ শরীফ খান। প্রথম নাটকে অভিনয়ের সময় খুব ভয় পেয়েছিলাম। তবে ফারুকী ভাই ও শাহেদ ভাই আমাকে প্রচুর সাহায্য করেছিলেন। এজন্য নাটকে আমার চরিত্রটি সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলাম।
আনন্দ আলো: যে ছবি দেখে প্রচÐ কেঁদেছিলেন….
সুজানা জাফর: অনেক ছোট থাকা অবস্থায় আম্মুর সঙ্গে প্রথম হলে গিয়ে ছবি দেখেছিলাম। ছবির নাম ছিল ‘ছুটির ঘণ্টা’। এটি পরিচালনা করেছিলেন আজিজুর রহমান। সে সময় ছবিটি দেখে অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছিলাম। পুরো হলের দর্শক ছবিটি দেখে চোখের পানি ফেলেছিলেন। শুধু হল ভর্তি দশক নয়- আমিও প্রচÐ কেঁদেছিলাম। অসাধারণ সুন্দর একটি ছবি ছিল। এরপর বাসাতেও ছবিটি অনেকবার দেখেছি।
আনন্দ আলো: প্রথম অটোগ্রাফ দেয়ার অভিজ্ঞতা!
Sujanaসুজানা জাফর: জীবনের প্রথম অটোগ্রাফটা দিতে হয়েছিল তারকা হওয়ার আগেই। আমার প্রথম বিজ্ঞাপনের শুটিং হয়েছিল ধানমন্ডির একটি ফাস্ট ফুডের দোকানে। তখন তো আমাকে কেউ চেনে না। কিন্তু শুটিং হচ্ছে দেখেই অনেক লোক জড়ো হয়ে যায়। আমার কাছেও কয়েকজন অটোগ্রাফ নিতে এসেছিলেন। আমি তো একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। তখন আমার বয়স কম, মিডিয়ায়ও একেবারে নতুন। কী লিখব ভেবেই পাচ্ছিলাম না। নিজের নাম আর তারিখ লিখেই অটোগ্রাফ দেওয়ার কাজটা সেরে ফেলি।
আনন্দ আলো: প্রথম পড়া উপন্যাস….
সুজানা জাফর: বই পড়তে খুব ভালো লাগে। একটু বুঝতে শেখার পর থেকেই নিয়মিত গল্প ও উপন্যাসের বই পড়ছি। তবে আমার জীবনে প্রথম পড়া উপন্যাস ছিল সমরেশ মজুমদারের ‘সাতকাহন’। উপন্যাসটি পড়ার পর খুব ভালো লেগেছিল। তখন থেকে তার লেখা বই নিয়মিত পড়ি। এছাড়া হুমায়ূন আহমেদের বই পড়তেও ভালো লাগে।
আনন্দ আলো: প্রথম বিদেশ ভ্রমণ…
সুজানা জাফর: বিদেশে প্রথম যাওয়া কাজের সূত্রে। একটি প্রসাধনীর বিজ্ঞাপনের শুটিং করতে ভারতের কলকাতায় গিয়েছিলাম। সঙ্গে আমার বড় ভাইও ছিলেন। শুটিং শেষে কলকাতা থেকে ইচ্ছামতো কেনাকাটা করেছিলাম। কিন্তু ভাগ্য খারাপ হলে যা হয়, সেবারই পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেছিলাম। এরপর আবার নতুন পাসপোর্ট করে দেশে ফিরতে হয়েছিল। ভাই কখনোই আর আমাকে নিজের কাছে পাসপোর্ট রাখতে দেননা। আবার যদি হারিয়ে ফেলি।
আনন্দ আলো: ফ্যাশন বলতে যা বুঝি…
সুজানা জাফর: ফ্যাশন বলতে বুঝি যুগের সঙ্গে তাল মেলানো।
আনন্দ আলো: যে পোশাকে আমাকে সবচেয়ে বেশি মানায়?
সুজানা জাফর: জিন্স আর টপস।
আনন্দ আলো: রেগে গেলে যা করেন…
সুজানা জাফর: রেগে গেলে চুপ করে থাকি, প্রকাশ করি না।
আনন্দ আলো: আমার চোখে সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ?
সুজানা জাফর: নায়ক আমির খান। তার নতুন ছবি দেখার জন্য এখনো মুখিয়ে থাকি।
আনন্দ আলো: যা করলে মন ভালো হয়ে যায়…
সুজানা জাফর: কেনাকাটা করলে মন ভালো হয়ে যায়।
আনন্দ আলো: প্রথম প্রেম…
সুজানা জাফর: প্রথম প্রেমে পড়ি কলেজে থাকতে। আমার কাজিনদের সঙ্গে কোথাও ঘুরতে গেলে অন্যরা খুব হইহল্লা করত। আমি থাকতাম একেবারে চুপচাপ। আমার কাজিনের এক বন্ধু এ কারণে আমাকে খুব পছন্দ করত। প্রেম নিবেদনের পর এক বছর আমাকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছে। আমি প্রথম দিকে তেমন একটা পাত্তা দেইনি। কিন্তু ছেলেটার স্বভাব চরিত্রের কারণে ধীরে ধীরে আমিও তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি। পরে সে বিদেশে পড়তে চলে যায়। ওই সময় আমাদের সেভাবে যোগাযোগ হতো না। অনেকদিন পর পর লুকিয়ে বাসার ল্যান্ড লাইন থেকে কল করতাম। আর সুযোগ পেলে এক ঘণ্টার জন্য সাইবার ক্যাফেতে চলে যেতাম। ইয়াহু ম্যাসেঞ্জারে তখন টুকটাক যোগাযোগ হতো আমাদের।