SHARE
Band-Fest

মোহাম্মদ তারেক: তারুণ্যই শক্তি। সেটা দেশের কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সংগীত সব খানেই প্রযোজ্য। কৃষি ক্ষেত্রে শিক্ষিত, মেধাবী তরুণ-তরুণীদের অংশ গ্রহণের ফলে দেশের কৃষি খাত এখন বেশ উন্নত। সে রকম সংগীতের বেলায়ও ঘটছে। বিশেষ করে ব্যান্ড সংগীতে মেধাবী তারুণ্যের উপস্থিতি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। চ্যানেল আই চতুর্থ বারের মতো ব্যান্ড ফেস্টের আয়োজন করল। পরপর তিন বছর সাফল্য ধরে রেখেছে এ উৎসব। এটি এখন উল্লেখ করার মতো অবস্থানে পেীঁছেছে। বিশ্বের যেখানে বাংলা ভাষাভাষি দর্শক আছেন তারা চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে এই ব্যান্ড ফেস্ট উপভোগ করলেন। ব্যান্ড সংগীতের ব্যাপারে আবারও মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। চ্যানেল আই ব্যান্ড ফেস্ট ২০১৭ এর উদ্বোধন ঘোষণার পর কথাগুলো বললেন, চ্যানেল আই-এর পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ।

ঘড়ির কাটা তখন দশটা। অনুষ্ঠান শুরু হবে সাড়ে দশটায়। আধঘণ্টা আগেই অসংখ্য তরুণ-তরুণী ছুটে এসেছিল তাদের প্রিয় ব্যান্ডের গান শোনার জন্য চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। দিনটি ছিল পহেলা ডিসেম্বর। বিজয় মাসের প্রথম দিন এই ব্যান্ড ফেস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ায় বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের জন্য বড় একটা বিজয় অর্জিত হয়েছে বলে ব্যান্ড তারকারা মনে করেন। ব্যান্ড ফেস্ট উৎসবটি ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক আনন্দময় ঘটনা।

তরুণদের মাঝে বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের শুদ্ধচর্চা এবং নতুন ব্যান্ডগুলোর মধ্যে একটা সেতু বন্ধন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে চ্যানেল আই চতুর্থ বারের মতো আয়োজন করেছিল দেশীয় ব্যান্ড সংগীতের এই উৎসব। গত তিনটি বছর ধরে চ্যানেল আইয়ের উদ্যোগে ব্যান্ড সংগীত শিল্পীদের মিলিত প্রয়াসে ব্যান্ড ফেস্ট অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারও হলো পহেলা ডিসেম্বর জমকালো এক ব্যান্ড ফেস্ট। এই আয়োজন সরাসরি সম্প্রচার করে চ্যানেল আই। পহেলা ডিসেম্বর ব্যান্ড ফেস্ট হওয়ায় ওই দিনটি যেন নবীন-প্রবীণ ব্যান্ড শিল্পীদের নিজস্ব একটা দিনে পরিণত হয়েছে। দিনটিতে ব্যান্ড শিল্পীরা হাসি-আনন্দ, আড্ডায় মেতে ছিলেন। বহুদিনের পুরনো বন্ধুকেও খুঁজে পেয়েছেন কেউ কেউ। গত তিনটি ব্যান্ড ফেস্টের চেয়ে এবারের আয়োজন ছিল আরো বর্ণিল, জাঁকজমকপূর্ণ ও আকর্ষণীয়। এবারের ব্যান্ড ফেস্ট উৎসবে অংশ নেয় দেশের নবীন-প্রবীণ ১৬টি ব্যান্ড দল। দলগুলো হলোÑ এলআরবি, অবসকিউর, ডিফরেন্টটাচ, তীরন্দাজ, জলের গান, দুরবীন, মেট্রিক্যাল, স্পন্দন, তরুণ, স্টোন, সেতার, সারগাম, আনাড়ি, রঙ, সাসটেইন ও হৈচৈ।

সকাল সাড়ে ১০টায় লাল সবুজের বেলুন আকাশে উড়িয়ে ব্যান্ড ফেস্ট ২০১৭ উদ্বোধন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক সুজেয় শ্যাম, সৈয়দ হাসান ইমাম, ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, ফকির আলমগীর, ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মামুনুর রশীদ, শেখ সাদী খান, মো: খুরশীদ আলম, শাহীন সামাদ, লায়লা হাসান প্রমুখ। উদ্বোধন শেষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সদ্যপ্রয়াত আনিসুল হকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন শিল্পী, উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা। চ্যানেল আইতে আনিসুল হককে স্মরণ করতে খোলা হয় শোক বই। তাকে স্মরণ করেছে কাছের মানুষ। গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের। নিরবতা শেষ হওয়ার পরপরই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিকরা গেয়ে শোনান, বিজয় নিশান উড়ছে ঐ গানটি। এরপর আইয়ুব বাচ্চু পপ গুরু আজম খানের ‘আমি যারে চাইরে সে থাকে মোর এ অন্তরে’ গানের কিছু অংশ গেয়ে শোনান। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ব সংগীতের দুই মহারথী ববডিলন ও জর্জ হ্যারিসন যুক্তরাষ্ট্রের মেডিসন স্কয়ারে যে কনসার্ট ফর বাংলাদেশ আয়োজন করেছিল ব্যান্ড ফেস্টের শুরুতেই মহান সেই উদ্যোগের কথা স্মরণ করা হয়।

জর্জ হ্যারিসনের ‘বাংলাদেশ’ গানটি পরিবেশন করেন এলিটা করিম। তার সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক ও ১৬টি ব্যান্ড দলের সদস্যরা গেয়ে উঠেন ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ গানটি। মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় আনাড়ি ব্যান্ডের শিল্পী মেহরীনের একটি গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। আনাড়ি ব্যান্ডের গান শেষ হতেই মঞ্চে আসে ব্যান্ড সেতার। তারা গেয়ে শোনায়Ñ ‘এক দুই তিন’, ‘যেন বৃষ্টি হয়’। ব্যান্ড সেতারের পর মঞ্চে আসে সারগম। তারা গেয়ে শোনায় ‘মুক্তি সংগ্রাম’ গানটি। এরপর মঞ্চে উঠে তারুণ্যের ব্যান্ড মেট্রিক্যাল। তারা গেয়ে শোনায়Ñ মুছে যাবে যত গøানি, ‘মানুষ একটা দুই চাককার সাইকেল’। মেট্রিক্যালের পর মঞ্চে আসে এসময়ের জনপ্রিয় ব্যান্ড জলের গান। তারা গেয়ে শোনায় ‘বকুল ফুল বকুল ফুল’, এমন যদি হতো। জলের গান শেষ হতেই মঞ্চে আসে তারুণ্যের ব্যান্ড স্পন্দন। তারা গেয়ে শোনায় ‘রঙিলা দুনিয়া’, ‘পাগলা তোর পাগলি কই’। এরপর মঞ্চে উঠে হৈচৈ ব্যান্ড। তারা গেয়ে শোনায় ‘অসনি সংকেত’, ‘লারে লাপ্পা’। হৈচৈ এরপর মঞ্চে আসে ব্যান্ড রং। তারা গেয়ে শোনায় ‘চেতনা’, ‘তুমি’। রং এর গান শেষ হতেই মঞ্চে আসে ব্যান্ড স্টোন। তারা পরিবেশন করে ‘ঘুনে ধরা শহর’, ‘অমানুষ’ শিরোনামের দুটি গান। ব্যান্ড স্টোনের পর মঞ্চে আসেন তরুণ ব্যান্ড। তারা গেয়ে শোনায় ‘স্বার্থপর’, ‘চাইলে তুমি’। এরপর মঞ্চে আসে দুরবীন। তারা গেয়ে শোনায় ‘জ্বলে উঠো বাংলাদেশ’, ‘মানব জনম’। দুরবীনের গান শেষ হওয়ার পর মঞ্চে আসে ব্যান্ড সাসটেইন। তারা গেয়ে শোনায় ‘জয় বাংলা’ শিরোনামের একটি গান। সাসটেইনের পর মঞ্চে আসে চট্টগ্রামের তরুণদের একটি ব্যান্ড তীরন্দাজ। তারা পরিবেশন করে ‘জাগো বাংলাদেশ, পাগলাটে এক গান’। এরপর মঞ্চে আসে ডিফরেন্টটাচ। তারা গেয়ে শোনায় ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে, বাবা বলতো’। উপস্থিত দর্শকরাও গেয়ে উঠে আজ কেন মন উদাসী হয়ে। ব্যান্ড ডিফরেন্টটাচের গান শেষ হওয়ার পর পারফর্ম করতে মঞ্চে উঠে আশির দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড অবসকিউর। তারা পরিবেশন করে রোহিঙ্গাদের নিয়ে অসাধারণ একটি গান স্টপ জেনোসাইড, চাঁদ কিছু আলো।

ঘড়ির কাটায় তখন ৬-৩০ মিনিট। পারফর্ম করতে মঞ্চে আসে ব্যান্ড লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চুর নেতৃত্বে এদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবি। আইয়ুব বাচ্চু তার গিটারের ঝংকার তোলার সঙ্গে সঙ্গে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণ জুড়ে তারুণ্যের জয় গান শুরু হয়। আইয়ুব বাচ্চু একে একে গেয়ে শোনান জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি গান। আইয়ুব বাচ্চুর গানের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরাও মেতে উঠেন গানের উৎসবে। সবাই আনন্দে এবি এবি বলে চিৎকার করতে থাকে। এলআরবির গান শেষ হওয়ার পর পরই ব্যান্ড সংগীত উৎসবটির সমাপ্তি ঘটে। চ্যানেল আই ব্যান্ড ফেস্ট ২০১৭ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন অপু মাহফুজ ও সাফি আহমেদ। প্রযোজনার ছিলেন অনন্যা রুমা।