Home আরোও বিভাগ টিভি গাইড চ্যানেল আইতে লাভলুর নতুন ধারাবাহিক সোনার পাখি রুপার পাখি

চ্যানেল আইতে লাভলুর নতুন ধারাবাহিক সোনার পাখি রুপার পাখি

SHARE
sonar-pakhi-rupar-pakhi

আয়াতুন্নেসার বড় ছেলে আকবর কৃষিনির্ভর পরিবারের ছেলে হয়েও কৃষির সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে কলেজ অবধি লেখাপড়া করেছিল। চাকরি জোটেনি। এখন তার ছেলে বিদ্যুৎও কলেজে পড়ে। স্ত্রী সেতারা অবশ্য হাল ছাড়তে নারাজ। স্ত্রী সেতারার ধারণা আকবর অপদার্থ বলে চাকরি জোটাতে পারেনি- তার নিজের ছেলে বিদ্যুৎ নিশ্চয়ই পারবে। কৃষি কাজের ধারে-কাছে যেতে দেয় না ছেলেকে। খেতের কামলা নয়, ছেলে একদিন বড় অফিসার হবে- এই স্বপ্ন নিয়ে সেতারার কাটে দিন-রাত। স্ত্রী-শাসনে নাজেহাল বেচারা আকবর অধিকাংশ সময় বাড়িতেই কাটায়। খুব একটা হতাশা কাজ করে না। কারণ তার স্ত্রী সেতারা শুধু তাকেই নাজেহাল করে না, সংসারের অন্য সদস্যদেরও মোটামুটি দৌড়ের উপর রাখে। যে রাবেয়ার স্বামী শাজাহান বিদেশ থেকে টাকা পাঠায় বলে সংসারে এখন কিছুটা জৌলুস আছে সেই রাবেয়াকেও সেতারা দিন-রাত খাটিয়ে মারে। রাবেয়া ভদ্র ও বিনয়ী। স্বামী বিদেশে থাকায় সামাজিক কিছু অপবাদের ভয় কাজ করে তার মধ্যে। বিজলী নামের তার নিজের কন্যাটি ধেই-ধেই করে বড় হয়ে উঠছে বলে- সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করে রাবেয়া। রাবেয়া তো পরের বাড়ির মেয়ে; কিন্তু সেলিম? সেলিমতো আকবর-শাজাহানের ছোট ভাই, আয়াতুন্নেসার ছোট ছেলে, শুধু তাই নয়, পুরো সংসারের খাওয়া-খাদ্য জোগাড় করতে গিয়ে খেতে-খামারে পরিশ্রম করে দিন-রাত, সেই সেলিমকেও কামলা বলে খোটা দিতে ছাড়ে না সেতারা। শুধু আয়াতুন্নেসা আছে বলে রক্ষা। একজন আয়াতুন্নেসা, মাথার উপরে থাকা একজন মা কতদিন একটি সংসারকে আগলে রাখতে পারেন? কত বড় বড় সামাজিক-পারিবারিক-ব্যক্তিগত ঝড়-জলোচ্ছ্বাস-ভূমিকম্প মর্মমূল ধরে নাড়িয়ে দিয়ে যায় সংসারের! অতীত হয়ে যাচ্ছে যে সময়, আর যে সময় এসে বর্তমানের দরোজায় কড়া নাড়ছে- তাতো এক নয়। রাবেয়ার জীবন আর রাবেয়ার কন্যা বিজলীর জীবনতো দুই সময়ের রঙে দু’রকম। সেতারার বিশ্বাস আর সেতারার ছেলে বিদ্যুতের বিশ্বাসেতো আকাশ-পাতাল ফারাক। আয়াতুন্নেছার অবিবাহিত ছেলে সেলিম আর আয়াতুন্নেসার মূল্যবোধের নিক্তিতে আস্থা রাখতে পারছে না। জীবনের এই টানাপোড়েনে একেকটি সংসার হয়ে ওঠে আনন্দ-বেদনার একেকটি মহাকাব্য। এমনি গল্প নিয়ে জনপ্রিয় পরিচালক সালাহউদ্দিন লাভলুর নতুন ধারাবাহিক ‘সোনার পাখি রুপার পাখি’। কাজী শাহীদুল ইসলামের রচনায় নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- খালেদা আক্তার কল্পনা, আরফান আহমেদ, নিলয় আলমগীর, ফারজানা চুমকি, তাহমিনা সুলতানা মৌ, শাহেদ শাহরিয়ার, শাহনাজ সুমী, জোহরা ইতিপা, সোমা, সজল, তানভির লিমন, মনিষা সিকদার, মিষ্টি মারিয়া, তন্দ্রা শ্রাবণ, রোজলিন নুসরাত প্রমুখ।

সালাহউদ্দিন লাভলু তার ক্যারিয়ারে অনেক দর্শক নন্দিত ধারাবাহিক ও খণ্ড নাটক দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। ভবের হাট, রঙের মানুষ, আলতা সুন্দরী, ঘর কুটুম, সাকিন সারিসুরি, গরু চোর, ব্যস্ত ডাক্তার, ঢোলের বাদ্যসহ অসংখ্য দর্শক প্রিয় নাটক তিনি নির্মাণ করেছেন। তাই তো সোনার কাঠি রুপার কাঠি কেমন হবে? এমন প্রশ্নে সালাহউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘ইদানিং দর্শকরা নাকি আমাদের দেশের টিভি নাটক দেখেন না, কথাটা কখনো কখনো মনে হয় সত্যি, আবার যখন আমি ঢাকার বাইরে মফস্বল শহরগুলোতে যাই কিংবা যে কোনো শহর বা গ্রামের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে আমার নাটকের প্রশংসা শুনি তখন আবার দ্বিধায় পড়ে যাই। কোন্‌টা সত্য? যদিও আমি সবসময় সবশ্রেণির মানুষের ভালোলাগার মতো করে নাটক নির্মাণ করার চেষ্টা করি। এইসব কিছু মাথায় রেখেই আমি আমার নতুন ধারাবাহিক ‘সোনার পাখি রুপার পাখি’ নির্মাণ করেছি।’ নাটকের গল্প নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই নাটকের গল্প আমাদের দেশের গল্প। গ্রামীণ জীবনের গল্প। একটা সংসারের গল্প। দাদি, বাবা, মা, ভাই, স্ত্রী, ভাবী, ভাতিজা, ভাতিজী, আমাদের ছোটবেলা থেকে দেখে আসা বেড়ে ওঠার গল্প এটি। কেমন ছিল আমাদের ছোটবেলা? পারিবারিক বন্ধন ও মায়া মমতার সম্পর্ক। সেই সুন্দর অতীতকে আমি দেখাতে চাইছি এই নাটকের মাধ্যমে।’ নাটকটি চ্যানেল আইতে ১২ নভেম্বর থেকে প্রতি সপ্তাহের শনি ও রবিবার প্রচার হবে।