Home ফিচার চিনিকে কী আমরা সত্যি চিনি?

চিনিকে কী আমরা সত্যি চিনি?

SHARE

কথাটা শুনে ভয় পাবেন না। কারণ ভয়কে জয় করারও উপায় আছে। তার আগে ভয়ের কথাটা বলি। আমরা প্রতিদিন চায়ের সাথে চিনি খাই। সেমাই, ফিরনি, পায়েস অথবা মিষ্টি জাতীয় খাবারে চিনি কম হলেই হই চই শুরু করে দেই। যেন চিনি না খেতে পারলে জীবনই বৃথা। কিন্তু আমরা কি জানি চিনি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপুর্ণ? সাধারণ মানের চিনি খেলে ডায়াবেটিস, হাইপ্রেশার, হাইপার টেনশন ও কোলেস্টেরল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অথচ চিনি অনেকেরই প্রিয় খাবারে ব্যবহৃত হয়। পরিবারে কোনো সুখের সংবাদ এসেছে তো সাথে সাথে মিষ্টি মুখের ধুম পড়ে যায়। ছেলে-মেয়ের পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে, সাথে সাথেই মিষ্টির খোঁজ পড়ে। মিষ্টি ছাড়া যেন কোনো আনন্দই পূর্ণ হয় না।
যেখানে আনন্দ সেখানেই মিষ্টি থাকা চাই। আর মিষ্টি মানেই চিনি জাতীয় খাবার। চিনি খাচ্ছি আনন্দে। কিন্তু শরীরকে ফেলে দিচ্ছি স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাঝে। হঠাৎ দেখা গেল দাঁতে ক্ষয়রোগ উকি দিয়েছে। শুরু হলো দুশ্চিন্তা। অনেকে মনে করেন নিয়মিত দাঁত না মাজার কারণেই বোধহয় দাঁত ক্ষয় শুরু হয়েছে। হ্যাঁ, নিয়মিত দাঁত না মাজলে দাঁত ক্ষয় রোগ দেখা দেয়। কিন্তু চিনি অথবা চিনি জাতীয় খাবারও দাঁত ক্ষয়ের অন্যতম কারণ। অথচ এই কথা অনেকেই জানি না। আবার জানলেও তা মানি না।
হঠাৎ দেখা গেলো আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে। শুরু হলো আরেক দুশ্চিন্তা। ডাক্তার পরামর্শ দিলেন, খাবার নিয়ন্ত্রণ করুন। নিয়মিত হাঁটবেন। শুরু হলো ধরা বাঁধা জীবন। অথচ আপনি কি জানেন অব্যাহত গতিতে চিনি ও চিনি জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলেই আপনার শরীরে ডায়াবেটিস রোগটি ধীরে ধীরে বাসা বেঁধেছে? আরও ভয়াবহ তথ্য হলো চিনি ও চিনি জাতীয় খাবারে হৃদযন্ত্রের অসুস্থতা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, চিনি প্রক্রিয়াজাত করণে ব্যবহৃত রাসায়নিকে ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ মানের চিনি খেলে দাঁতক্ষয়, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, এমনকি ক্যান্সার রোগও হতে পারে।
তবুও আমরা অনেকেই চিনি খাই। চায়ের কাপে হয়তো এক চামচ চিনি দিলেই যথেষ্ট, অথচ দুই চামচ এমনকি তিন চামচ চিনি দিয়ে অনেকে চা খাই। এর ফলে তুষের আগুনের মতো আমাদের শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে। সাধারণ মানের চিনি খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। তবুও আমরা চিনি খাই। চিনি খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াই। যখন নানান রোগে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে তখন অনেকেরই বোধোদয় হয়। চিনি খাওয়া কমিয়ে দেন। কিন্তু তখন আর কাজের কাজ হয় না।
এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, তাহলে কী আমরা চিনি খাব না? চা খাওয়ার অভ্যাস কিভাবে ত্যাগ করবো? আনন্দ অনুষ্ঠানে মিষ্টিতো লাগবেই। পায়েস, ক্ষীর জাতীয় খাবার খেতে মন চাইলে তখন কি করব? চিন্তা করবেন না। সব প্রশ্নেরই উত্তর আছে। বাজারে জিরো ক্যালরি সম্পন্ন সুগার সাবস্টিটিউট পাওয়া যায়, যা গ্রহণ করলে আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমে যাবে। জিরো ক্যালরি সম্পন্ন সুগার সাবস্টিটিউটের ব্যাপারে পরে আসছি। তার আগে আসুন জেনে নেই চিনি যুক্ত কোন কোন খাবার আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কোনো অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন। পোলাও মাংস খেলেন। এবার কোমল পানীয় না হলে কী চলে? ওই মুহূর্তে কোমল পানীয় হয়তো আপনার শরীরকে কিছুটা চাঙ্গা করে তুললো, কিন্তু আপনি তো স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকেই পা বাড়ালেন। কারণ কোমল পানীয়তেও চিনি ব্যবহার করা হয়। শুধু কোমল পানীয় নয়, এনার্জি ড্রিংক, ফলের কৃত্রিম রসেও প্রচুর পরিমাণে সাধারণ মানের চিনি ব্যবহার করা হয়। কাজেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানোর জন্য আমাদের উচিৎ চিনি যুক্ত সকল পানীয় পরিহার করা। বিয়ে, জন্মদিন অথবা এ জাতীয় অনুষ্ঠানে অনেকেই ডেজার্টের দিকে ঝুঁকে পড়েন। আপনার জানা প্রয়োজন যে ডেজার্টে পুষ্টিগুণ বলতে তেমন কিছু নেই। বরং ডেজার্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। কারণ ডেজার্টের সব উপাদানই চিনি দিয়ে তৈরি হয়। তবে হ্যাঁ, ডেজার্ট তালিকায় তাজা ফল ফলাদিকে গুরুত্ব দিন। আঁশ সমৃদ্ধ ফল খেতে পারেন। খেজুর খেতেও কোনো আপত্তি নাই। আরেকটি কথা। অনেকেই ভাজা পোড়া খাবারের সাথে সস খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না এক টেবিল চামচ সসে এক চা চামচ চিনি থাকে। কাজেই মজা করে সস খেলেন; কিন্তু আসলে সসের সাথে খেলেন প্রচুর পরিমাণে চিনি। স্বাস্থ্য ঝুঁকি তো বেড়েই গেলো। সসের বদলে ভাজা পোড়া খাবারের সাথে কাঁচা মরিচ, কাসুন্দি, ভিনেগার থাকলে ক্ষতি নেই।
আবারও আসি চিনি যুক্ত খাবারের প্রসঙ্গে। মিষ্টি জাতীয় খাবার ছাড়া কি আনন্দ অনুষ্ঠান জমে? কিন্তু সাধারণত চিনি ছাড়া তো মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরি হয় না। অথচ চিনিতেই তো অনেক সমস্যা। প্রক্রিয়াজাত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের চিনি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাহলে আমরা কোন চিনি খাবো? হাতের কাছেই সহজ সমাধান আছে। বাজারে জিরো ক্যালরি সম্পন্ন সুগার সাবস্টিটিউট পাওয়া যায়। সুগার সাবস্টিটিউট দিয়ে বানানো মিষ্টি, মিষ্টি জাতীয় খাবারে কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই। কাজেই স্বাস্থ্য সচেতন সকলেরই উচিত খাবারে সুগার সাবস্টিটিউট ব্যবহার করা।
জিরো ক্যালরি সম্পন্ন সুগার সাবস্টিটিউটের গুণাগুণ
বাজারে অনেক ধরনের সুগার সাবস্টিটিউটের প্যাকেট পাওয়া যায়। সাধারণ চিনির চেয়ে এর দানা একটু ছোট। দাম সাধারণ মানের চিনির মতোই। এই সুগার সাবস্টিটিউট দিয়ে বানানো খাবার খেলে আপনার শরীরে ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি প্রেশারের কোনো ঝুঁকিও থাকবে না। চা, কফি ও পায়েশ তৈরিতে এই চিনি ব্যবহার করলে সাধারণ চিনির মতোই স্বাদ পাওয়া যায়। সব বয়সী মানুষ এই পণ্য খেতে পারেন। এতে কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই। মিষ্টি জাতীয় সকল খাবার, যেমন: দই, পায়েস, শরবতে এই পণ্য ব্যবহার করুন, স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকবে না। বাজারে পাওয়া সুগার সাবস্টিটিউট পণ্যগুলোর মধ্যে ন্যাচারাল সুক্রালোজ বেইজড পণ্যই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট।
সতর্কতাই আসল
অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন এতোদিন তো সাধারণ মানের চিনি দিয়েই সব খাবার খেয়েছি। এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। কিভাবে এই অভ্যাস পাল্টাবো? অভ্যাস পাল্টানো খুবই সহজ। এক্ষেত্রে আপনার সতর্কতা ও ইচ্ছে শক্তিই যথেষ্ট। আজই সিদ্ধান্ত নিন আর সাধারণ মানের চিনি নয় সুগার সাবস্টিটিউট ব্যবহার করা খাবারই খাবো। বেশি না, কমপক্ষে ৬০ দিন আগের অভ্যাসকে না বলুন; দেখবেন নতুন অভ্যাস রপ্ত হয়ে গেছে। এটা গবেষণা থেকেই পাওয়া গেছে।
জরুরি পরামর্শ
শুধুমাত্র সুগার সাবস্টিটিউট দিয়ে খাবার খেলেই যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমবে এটা ঠিক নয়। শরীর সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করাও জরুরি। এজন্য জিমে অথবা পার্কে যেতে পারেন। যাদের এতো সময় নেই তারা সকালে অথবা বিকেলে, না হয় রাতে নিজের ঘরেই প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করে নিতে পারেন। কথায় আছে শরীর ফিট তো সবই ফিট!