Home ভ্রমণ চলো যাই নন্দন পার্কে

চলো যাই নন্দন পার্কে

SHARE

কর্মব্যস্ত আমাদের জীবন। সারাদিন শুধু কাজ আর কাজ। তবুও জীবনের ফাঁক গলে মনপ্রাণ মাঝে মধ্যেই হারিয়ে যেতে চায় দূর অজানায়। কেউ হয়তো একা, কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে, কেউ বা পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেড়িয়ে পরেন সবুজ প্রকৃতির খোঁজে। ঢাকার বাসিন্দাদের ব্যস্ততম ও কর্মমুখর পরিবেশ থেকে দূরে গিয়ে অবকাশ যাপন, বিনোদন, বনভোজন, কনসার্ট, সেমিনার অথবা কর্মশালা আয়োজনের প্রয়োজন হয়। এসকল প্রয়োজন মিটানোর তাগিদে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনেকগুলো বিনোদন পার্ক ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। তার মধ্যে ইতিমধ্যে পছন্দের তালিকায় এবং আস্থা কুড়ানো এক বিনোদন পার্ক হয়ে উঠেছে নন্দন পার্ক। এ যেন এক আনন্দময় রাজ্য। প্রকৃতি ও আধুনিকতার এক অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই বিনোদন রাজ্যে নিরাপত্তা আর পরিচ্ছন্নতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয় সর্বাধিক। নন্দন পার্ক বিশ্বমানের পারিবারিক বিনোদনের এক আকর্ষনীয় স্থান, যার অপরূপ সৌন্দর্য ও চিত্তাকর্ষক বিনোদন সুবিধা বাংলাদেশের বিনোদন ভুবনে একটি আদর্শ হিসেবে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছে। সেই আনন্দ রাজ্য নন্দন পার্ক নিয়েই প্রকাশ করা হলো এই বিশেষ প্রতিবেদন। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক
সবুজ-শ্যামল শান্ত পরিবেশে মনের সব ক্লান্তি দুর করতে রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারের নবীনগর-চন্দ্রায় গ্রামীণ পরিবেশে ১০০ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত নন্দন পার্ক। এটি এখন দেশের বৃহত্তম এবং একমাত্র পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র। ঢাকা থেকে দিনে দিনেই ঘুরে আসা যায় এ পার্ক থেকে। আর হাতে সময় থাকলে কাটাতে পারেন রাতও। রাত যাপনের জন্য রয়েছে নন্দন ভিলেজ সহ ইকো রিসোর্ট।
নন্দন পার্ক এর মূল প্রবেশ দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়লো সবুজের মাঝে চমৎকার একটি ফোয়ারা। ফোয়ারার সামনে অপেক্ষারত নন্দনের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার হাসিনুর রহমান আমাদেরকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে পার্কে আসা দর্শনার্থীদের মাঝে মাস্ক বিতরন করলেন। এগিয়ে গেলাম একটু সামনে। দেখি অসংখ্য মানুষের ভীড়। পারিবারিক ভাবে এসেছেন অনেক। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের বিভিন্ন রাইডে ওঠার ব্যস্ততা আর আনন্দময় ছোটাছুটি দেখে সেটাই মনে হলো। কেইভ ট্রেন, কিড্ডি রকার, মিনি ক্যারোসাল, ফ্লাইং গো রাউন্ড, প্ল্যানেটরিয়াম, প্যাডেল বোট, ক্যাবল কার, বাম্পার কার সহ বিভিন্ন রাইডে চড়ে আনন্দ ফুর্তিতে ব্যস্ত সবাই।
একটু এগুতেই অপরূপ প্রকৃতি স্বাগত জানাতে শুরু করলো। দুই পাশে গাছ আর গাছ। পার্কের এক পাশ দিয়ে একে বেঁকে এগিয়ে গেছে সৃদৃশ্য লেক। দুই পাশের বড় গাছ গাছালি থেকে নাম জানা-অজানা পাখিদের ওড়াওড়ি দেখে মন আনন্দে ভরে গেল। লেকের পাশ দিয়ে যেতে যেতেই নজরে এলো ক্যাবল কার এর দিকে। সিঁড়ি বেয়ে উপরে ক্যাবল কারে উঠে পড়লাম। ছুটছে আকাশ পানে। চোখে পড়লো সবুজে ঘেরা পুরো নন্দন পার্ক। যাকে কেন্দ্র করে নন্দন পার্ক নামের এই বিশাল আনন্দ রাজ্য গড়ে উঠেছে। লেকের ঘাটে বাধা অনেক গুলো প্যাডেল বোট। দর্শনাথীরা টিকেট কিনে বোটে চড়ছেন। সাথে সাথে একটার পর একটা প্যাডেল বোট রওয়না দিচ্ছে সামনের দিকে। সাইকেলের মতো পা দিয়ে নৌকা চালিয়ে দারুন মজা উপভোগ করছেন সবাই। ক্যাবল কার থেকে নেমে একটু সামনে এগুতেই চোখে পড়লো এয়ার সাইকেলের রোমাঞ্চকর দৃশ্যটি। ২৫ ফুট উঁচুতে একজন মহিলা দর্শনার্থী এক তারের ওপর দিয়ে এয়ার সাইকেল চালিয়ে সামনের দিকে যাচ্ছে, আবার পিছনের দিকে আসছে সাইকেল চালিয়ে। কেউ কেউ মোবাইলে দৃশ্যটি ধারণ করছে। রোমাঞ্চকর এই দৃশ্যটি দেখার পর ৫ডি সিনেমা থিয়েটারে ঢুকে পড়লাম সিনেমা দেখার জন্য। সিনেমা দেখে আমরা শিহরিত হলাম। ৩ডি সিনেমার চেয়ে আধুনিকতার উন্নত প্রযুক্তি ৫ডি মোশন চেয়ার থিয়েটার। প্রযুক্তির এক অবাক বিস্ময়। সিনেমা দেখার সময় আপনিও হয়ে যেতে পারেন সিনেমারই অংশ। সিনেমার ঘটনার সাথে একাত্ম হয়ে যাবেন সহজেই। সহজেই অনুভব করতে পারবেন সিনেমার প্রতিটি ঘটনা। অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন। ৫ডি সিনেমা থিয়েটার থেকে বের হয়ে এগিয়ে গেলাম সামনে। গোলাপ পিকনিক স্পটে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা কারাতে করছে। নন্দন পার্কে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় কারাতের এ শোটি। ‘নারীর সুরক্ষায় নন্দন’ এই শ্লোগানকে ধারন করে মেয়েদের আত্মরক্ষায় কারাতে প্রশিক্ষণ ও সচেতন বৃদ্ধির জন্য এই শো’র আয়োজন করেছিল। এটি নন্দনের ভালো একটি উদ্যোগ।
বাঁচ্চাদের কারাতে শো দেখে সবুজের মাঝে হারিয়ে যেতে লাগলাম। দুই পাশের বিশাল গাছ গাছালি থেকে পাখিদের ওড়াওড়ি দেখে আর নির্মল বাতাসের ছোয়া পেয়ে মন আনন্দে ভরে গেল। সামনে এগুতেই নজরে এলো মনোরম কয়েকটি রিসোর্ট। নন্দন ভিলেজ এ ঢুকে পড়লাম। এখানে থাকা কুটির গুলো অত্যন্ত চমৎকার। রাত যাপনের জন্য নন্দন ভিলেজে রয়েছে ১২টি রুম। প্রতিটি রুমই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। সাজানো হয়েছে রুচিশীল আসবাবপত্র দিয়ে। রুম গুলো দেখে মন আনন্দে ভরে গেল। রুমের মধ্যে রয়েছে টিভি, স্যাটেলাইট কানেকশন, সার্বক্ষনিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা, কমোড, সোফা, বাথটাব, গরম ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা। নন্দন ভিলেজে একটি আধুনিক মানের গুহা রেস্টুরেন্টও রয়েছে। ৩০ জন বসার ক্ষমতা আছে সেখানে। এই রেস্টুরেন্টে পাবেন বাংলাদেশী মজাদার খাবার সহ চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, থাই, কন্টিনেন্টাল ফুডের চমৎকার সব আয়োজন। আপনার চাহিদা অনুযায়ী খাবারের সব রকম আয়োজন আছে রেস্টুরেন্টটিতে। নন্দন পার্কে রিসোর্ট আছে ১৯টি। এর মধ্যে রয়েছে ৫টি ইকোরিসোর্ট।
নন্দন ভিলেজ এ রাত্রি যাপন করে রাতের নীরবতায় আপনি হারিয়ে যাবেন অন্য এক ভুবনে। আকাশে রুপালি চাঁদ, চোখের সামনে সবুজের সমারোহ আর নন্দন পার্ক জুড়ে জোনাকির উড়াউড়ি উপভোগ করার এক অপূর্ব সুযোগ। রিসোর্ট এ কিছুক্ষণ থেকে হাজির হলাম ওয়াটার ওয়ার্ল্ড এ। সেখানে রয়েছে পানির রোমাঞ্চকর সব খেলা, যা আনন্দের এবং গরমে প্রাণ জুড়ানো আয়োজন। ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে রাইডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওয়েভ পুল, ফ্যামিলি ¯øাইড, ডুম ¯øাইড, ওয়েভ রানার, মাল্টি প্লে জোন, রেইন ড্যান্স ইত্যাদি। ওয়াটার ওয়ার্ল্ডের প্রতিটি রাইড বেশ আনন্দের। তার মধ্যে ওয়েভপুল এর প্রতি দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখলাম। হঠাৎ বাজনা শুরু হলো। সাথে সাথে রাইডে জমে থাকা পানিতে সমুদ্রের ঢেউ খেলতে শুরু করলো। দেখে মনে হচ্ছিল কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে আছি। বঙ্গোপসাগরের ঢেউ এখন নন্দন পার্কে। সমুদ্রের বিশাল ঢেউ উড়ে এসে ডুবিয়ে দিয়ে যাচ্ছে এলাকা।
শব্দ যন্ত্রে সমুদ্রের সেই শো শো শব্দও প্রচার করা হচ্ছিলো। সত্যি এ এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা। একথা মানতেই হবে, নন্দন পার্ক মানেই পুর্নাঙ্গ একটি ভ্রমণ প্যাকেজ সমৃদ্ধ বিনোদন কেন্দ্র। আনন্দ এবং ভ্রমণকে কেন্দ্র করে যাবতীয় অনুষঙ্গ রয়েছে এই বিনোদন কেন্দ্রে। যারা বেড়াতে এসে বিভিন্ন রাইড ব্যবহার করে ক্যাবল কার এ চড়ে পার্কের সৌন্দর্য দেখতে চান তাদের জন্য তো সকল সুযোগ সুবিধা অবারিত। আর যারা বেড়াতে এসে দুই একদিন থাকতেও চান এখানে তাদের জন্যও রয়েছে প্রয়োজনীয় আধুনিক ব্যবস্থা। অর্থাৎ বেড়াতে এসে কর্তৃপক্ষকে শুধু বলুন আপনার চাহিদার কথা। নিমিষেই সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে। জানা গেল ছুটির দিন গুলোতে নন্দন পার্ক দর্শনার্থীদের ভীড়ে মুখর থাকে। তবে শীত কালটা হয়ে ওঠে আরও বেশি ব্যস্ত। ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ, ৩১ ডিসেম্বর, দুই ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের বিশেষ দিনগুলোতে নন্দন পার্কে জায়গা দেওয়াই মুশকিল হয়ে পড়ে।
আজিমপুর থেকে একটি পরিবার সেদিন নন্দন পার্কে বেড়াতে এসেছিল। এক প্রশ্নের জবাবে পরিবারের কর্তা ইমাম আহমেদ বলেন, আমি আজিমপুরে থাকি। কর্মব্যস্ততার কারণে পরিবারকে নিয়ে দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া হয় না। নন্দন পার্ক ঢাকার কাছাকাছি হওয়াতে সময় পেলেই ছুটির দিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে বেড়াতে আসি। নন্দন পার্কের পরিবেশ অত্যন্ত ভালো। ওয়াটার পার্কে ঘুরতে বেশ ভালো লাগে। ঢাকায় ব্যবসায়িক কাজে এসেছিলেন সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ী মতিন রহমান। প্রসঙ্গ তুলতেই বললেন, ঢাকা এলেই আমি নন্দন পার্কে আসি। এখনকার পরিবেশ আমার খুব ভালো লাগে। উত্তরা থেকে নন্দন পার্কে ঘুরতে এসেছিলেন ৪ সদস্যের একটি পরিবার। স্বামী-স্ত্রী সাথে দুই সন্তান। ক্যাবল কার এ করে সবুজে ঘেরা পুরো পার্কটি দেখছিলো তারা। ছেলে-মেয়েরা ভীষণ খুশি। ১২ বছরের মাহিম বলল, আমি আগেও এখানে এসেছি। এখানকার রাইড গুলো অনেক আনন্দের। সব চেয়ে আনন্দের হলো ওয়াটার পার্কে। ঢেউয়ের মাথা চেপে অনেক নীচে নামার মজাই আলাদা।
এ কথা সত্য নন্দন পার্ক এর আনন্দ রাজ্যে একবার যিনি ঢুকবেন তিনি বার-বার আসতে চাইবেন। ঈদ তো এসেই গেল। সময় থাকতেই ঈদের ছুটিটা পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজিয়ে ফেলুন। দিনে বেড়াতে এসে দিনেই চলে না গিয়ে এখানে এক রাত থাকার আনন্দও উপভোগ করতে পারেন অনায়াসে।
ভাবুনতো একবার প্রকৃতি ও প্রযুক্তির এক অপূর্ব সমন্বয় নন্দন পার্কের ভিতরে আধুনিক মানের কটেজের রুমে রাত কাটানোর মজাটা কেমন হবে? রুমের বারান্দায় দাঁড়ালেই দেখতে পাবেন পার্কের মনোরম দৃশ্য। চারপাশে বাতাসের কোমল স্পর্শ। দূর থেকে হয়তো ডাক শুনবেন নাম না জানা কোনো পাখির। আর যদি রাতটি হয় জোছনায় ভরা… চাঁদের ছায়া পড়েছে লেকের জলে। আহ। কী অপরুপ দৃশ্য! এমন সুযোগ কী কেউ কখনও হাত ছাড়া করে। তো, আজই পরিবারের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলুন কবে যাচ্ছেন নন্দন পার্কে।
বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক মানের রাইডস: ক্যাবল কার, ওয়াটার কোস্টার, প্যাডেল বোট, মুন রেকার, ক্যাটার পিলার, টিল্ট-এ হোয়াল, নেট-এ-বল, আইস ল্যান্ড, জিপ ¯øাইড, বাম্পার কার, মিউজিক্যাল ফাউন্ডেন, রক ক্লাইম্বিং, সফট বল ক্যানন, কেইভ ট্রেন, মিনি ক্যারোজাল, কিড্ডি রকার, ফ্লাইং গো রাউন্ড, ফ্যামিলি ¯øাইড, ওয়েভ রানার, রেইন ড্যান্স ও ওয়েভ পুল। নন্দন এর নতুন আকর্ষণ হচ্ছে মাল্টি পারপাস হল, ওয়াটার বল, প্ল্যানেটরিয়াম।

ওয়াটার কোস্টার: অনেক উঁচু থেকে প্যাচানো পথে রাবারের ভেলা চেপে পানির সাথে ¯øাইড করে নামা। ভীষণ মজার রাইড। একটু ভয় ভয় করে তবে মোটেই ভয়ংকর নয়।
ক্যাবল কার: না প্লেন না ট্রেন, ছুটছে আকাশ ধরে। ক্যাবল কারের মজাটা এখানেই। একটু হাওয়ার দোলা আর শুধু ভেসে যাওয়া মেঘের সাথে লুকোচুরি। ভয় নেই, আছে আনন্দ।
মুনরেকার: চাঁদে যাবার রেল গাড়ি। চাঁদ ছুঁয়ে যায় ঝম ঝম শব্দে তুমুল গতিতে। মাঝে মাঝে মনে হয় লাইন ছেড়ে চাঁদের গাড়ি আকাশে উড়াল দেবে। রকেট ছাড়াই চাঁদ ভ্রমণের এমন সুযোগ আর কোথায়?
ক্যাটার পিলার: রেল গাড়ির দোলা আর ঘোড়ায় চড়ার ঝাকুনি, দু’য়ে মিলে মজার রাইড ক্যাটার পিলার। একবার চড়ার পর দ্বিতীয়বার যারা চড়বে না তারা বেরসিক।
আইসল্যান্ড: রহস্যময় আলো আধারীর জগতে মিউজিক আর গানের তালে হারিয়ে যাবেন বরফের রাজ্যে।
প্যাডেল বোট: নৌকা চালাতে বৈঠা লাগে, কিন্তু নৌকা যদি প্যাডেলে চলে তাহলে মজাটা কেমন? আসলে দারুন মজা। সাইকেলের মতো নৌকা চালিয়ে পেতে পারেন দুর্দান্ত এক নৌকা বাইচের আনন্দ।
বাম্পার কার: দুরন্ত ছুটছে গাড়ি আর অন্য গাড়ির ধাক্কায় হচ্ছে না কোনো এ্যাক্সিডেন্ট, স্বপ্ন নয় বাস্তব।
জ্বিন ¯øাইড: ৪৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট টাওয়ার থেকে ৪৫ ডিগ্রি ¯েøাপে ১৪ মি. মি. স্টিল ওয়ারের সাহায্যে স্যান্ডিং পয়েন্টে বা ভ‚মিতে অবতরণ করতে হয়। এটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় রোমাঞ্চকর রাইড।
রক ক্লাইম্বিং: এই রাইডটি ৪৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ১০ ডিগ্রি খাড়া একটি টাওয়ারের পর্বতাকৃর্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ওই পর্বতের গায়ে লাগানো কৃত্রিম পাথর বেয়ে পবর্তারোহন করতে হবে। এই দুঃসাহসিক খেলায়। আরোহণকারীর নি¤œ পতন রোধের জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা।
র‌্যাপলিং: বর্তমান প্রযুক্তির যুগে র‌্যাপালি একটি অত্যন্ত সহজ ও আনন্দ দায়ক রাইড। এটাও ৪৫ ফুট উঁচু টাওয়ারের ওপর থেকে টাওয়ারের খাড়া গা বেয়ে স্ট্যাটিক রোপের সাহায্যে কৃত্রিম পাথরে র‌্যাপলার, পা দুটি এক সঙ্গে কাঁধ বরাবর বাঁকা করবে এবং হাটু ৯০ ডিগ্রি সোজা করে টাওয়ারের গায়ে জোরে ধাক্কা মেরে পেছনে যাবে এবং একই সময় হাতের মধ্যে স্ট্যাটিক রোপ রিলিজ করে নিচে অবতরণ করতে হবে এই দুঃসাহসিক খেলায়।
সফটবল ক্যানন: হাতের তাক যাচাই করতে চান? দেখতে চান লক্ষ্য ভেদে আপনি কতটা পারদর্শী? তবে সফটবল ক্যানন হবে আপনার প্রিয় গেমস। যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে দিন আপনার হাতের নিশানা।
৫ডি সিনেমা থিয়েটার: নন্দন পার্ক বিনোদনের ইতিহাসে সংযোজন করেছে এক নতুন মাত্রা। বাংলাদেশে এই প্রথম নন্দন পার্কে স্থাপিত হয়েছে ৫ডি সিনেমা থিয়েটার, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এক নবতর সংযোজন। যা আপনাকে দেবে এক অসাধারন মজার অভিজ্ঞতা। ৫ডি সিনেমা থিয়েটার এ আপনার বসার চেয়ারটি বিশেষভাবে সংযোজিত। যা নির্দিষ্ট ধারায় ছবির কাহিনীর সাথে তাল মিলিয়ে নড়াচড়া করবে। অর্থাৎ এখানে আপনি সিনেমার গল্পের সাথে সক্রিয় চরিত্র হিসেবে যুক্ত হবেন।
ওয়েভ পুল: সমুদ্রের স্বাদ নিয়ে এলো ওয়েভ পুল। সমুদ্রের মজা পাওয়ার জায়গা সমুদ্র ছাড়া এই একটাই। নানান ঢেউয়ের মেলা এখানে। হালকা ঢেউ, ভারী ঢেউ, উত্তাল ঝোড়ো ঢেউ, ঢেউয়ের সাথে নাচবে মন, সাথে শরীর যাবে ভেসে আনন্দে।
ফ্যামিলি ¯øাইড: প্রায় তিন তলা সমান উচ্চতা থেকে দুটি ভিন্ন ধরনের টিউবের ভেতর দিয়ে সোজা পানিতে। প্যাঁচানো পথে রাবারের ভেলায় চেপে পানির সাথে ¯øাইড করে নামা। এই রাইডে আছে জোশ, আছে উত্তেজনা।
ওয়েভ রানার: একেবারে নয়, কিছুটা গড়িয়ে ¯øাইড করে তীব্র গতিতে নামা। এর নাম ওয়েভ রানার। দারুন থ্রিলিং এক ফান গেম। প্রায় ৭০ ফুট ওপর থেকে রাবারের ভেলা বা ম্যাটে চড়ে টিউবের মাঝ দিয়ে সোজা গিয়ে পড়া নন্দন সাগরের মাঝে, মানে পুলে। এক অন্য রকম আনন্দ। যেন সমুদ্রের উঁচু ঢেউয়ের ওপর দিয়ে সারফেসিং করে ভেসে যাওয়া। এই রাইড প্রচন্ড উত্তেজনার।
ডুম ¯øাইড: পানির মাঝে ছোট্ট পাহাড়, পানির মাঝে ঢেউ, ডুম ¯øাইডের পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ে কেউ। পুলের মাঝখানে এ ¯øাইডের মজা বেশ। হাত-পা ছড়িয়ে পানির মাঝে পিছলে পড়ার মজা মানেই ডুম¯øাইড। সোজা হয়ে চিৎ হয়ে কিংবা কাৎ হয়ে ইচ্চেমতো গড়িয়ে পািনতে মাছের মতো সাঁতার কিংবা হুটোপুটি। ডুম¯øাইড হলো মজার পাহাড়, যার ওপরে আছে একঝরনা। পাহাড় থেকে গড়িয়ে পানিতে পড়ার আনন্দ এনে দেয় ডুম¯øাইড।
মাল্টি প্লে জোন: পানিতে মজার খেলার জায়গা। যেখানে খেলা আছে ধুলা নেই। পানির রাজ্যে ধুলা আসবে কোথা থেকে? সাঁতার শেখা আর খেলা দুটোই হবে এখানে। এখানে আছে দোলনার দোল আর আছে ¯িøপার। এক জাদুর বালতি ওপর থেকে ঢেলে দেবে রাশি রাশি পানির ফোয়ারা। সারাদিন পানির মাঝে খেলা। ছোটদের এখানে ডুবে যাওয়ার ভয় নেই। তবে আছে অপার আনন্দের ভেসে যাওয়ার মজা। ছবি : রাকিবুল হক