SHARE

এরকম দুর্লভ মুহূর্ত খুব কমই দেখা যায়। ব্যক্তির মেধার দ্যুতিতে প্রিয় মাতৃভূমি যখন পৃথিবীময় আলোকিত, উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে তখন ব্যক্তির ভূমিকাই হয়ে ওঠে অনন্য। সেদিন অর্থাৎ ২৫ নভেম্বর ২০১৫ ফিলিপিনের রাজধানী ম্যানিলার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এমনি এক দুর্লভ মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এবছর গুসি শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব চ্যানেল আই-এর পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। ২৫ নভেম্বর ম্যানিলার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এক আলোকোজ্জ্বল অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে যখন পুরস্কার তুলে দেয়া হচ্ছিলো তখন বার বার গুরুত্বের সাথে উচ্চারিত হচ্ছিলো বাংলাদেশের নাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথি ও ফিলিপিনের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টবর্গ কৃষি উন্নয়ন সাংবাদিকতায় শাইখ সিরাজের অনন্য অবদানের সাথে পরিচিত হওয়ার পর শুধুই বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। সত্যি দেশের জন্য এ এক অনন্য সংবাদ। শাইখ সিরাজের সাথে এবার আরোও যারা এই পুরস্কার অর্জন করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন- বেলারুশের সাবেক প্রেসিডেন্ট শিক্ষাবিদ স্ট্যারিসলাভ গুশকেভিচ, অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানী ড. সানথের বন, চীনের মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব ড. হুয়াং জিয়েফু। এর আগে বাংলাদেশ থেকে এই পুরস্কার পেয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

শাইখ সিরাজ কৃষি ও উন্নয়ন সাংবাদিকতায় সুদীর্ঘ পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৫ সালে লাভ করেন দেশের অন্যতম সম্মানসূচক জাতীয় পুরস্কার একুশে পদক, ২০০৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ক্ষুধার বিরুদ্ধে সফল ও কৃতীত্বপূর্ণ সাংবাদিকতার জন্য প্রদান করে এ এইচ বুর্মা এ্যাওয়ার্ড। এছাড়া তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অর্ধশতাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

শাইখ সিরাজের গণমাধ্যম পেশার সঙ্গে সংযুক্তি গত শতকের সত্তরের দশকে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে টানা ১৪ বছর মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠান করে তিনি বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেন। এদেশে পতিত পুকুরের মাছ চাষ, খাঁচায় হাঁস-মুরগি পালন, বাড়ির আঙিনা ও ছাদে সবজি চাষ, কাজী পেয়ারার চাষ, ধান ও পাটের বাইরে সমন্বিত কৃষিকাজ, উচ্চমূল্যের ফসল আবাদের মতো কৃষিকৌশলের সফল সম্প্রসারক শাইখ সিরাজ। এই সম্প্রসারণ কাজে সহায়ক হিসেবে তিনি ব্যবহার করেছেন টেলিভিশন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের গণমুখী তৎপরতারও এক নতুন ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে অদ্যবধি চ্যানেল আইতে হৃদয়ে মাটি ও মানুষ ও হৃদয়ে মাটি ও মানুষের ডাক অনুষ্ঠান করছেন তিনি। এছাড়া তিনি চ্যানেল আই পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রতিদিনের বিশেষায়িত কৃষি সংবাদ ও জাতীয় সংবাদের সঙ্গে কৃষি সংবাদকে অপরিহার্য করে এক নতুন নজির প্রতিষ্ঠা করেন। শাইখ সিরাজ এদেশের কৃষককে অধিকার সচেতন করে তোলা, কৃষকের সঙ্গে সরকার ও নীতি নির্ধারকের সেতুবন্ধন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক সফল ও বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত সেরা অনুশীলনগুলো দেশের কৃষিতে যুক্ত করতে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন সারা পৃথিবীর কৃষির ক্রমবিকাশ ও উৎকর্ষকে সার্বজনীন করে তোলার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আজকের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার দিক নির্দেশনা অনুসন্ধানে সবসময় সক্রিয় তিনি। টেলিভিশন, রেডিও, পত্র-পত্রিকা থেকে শুরু করে আজকের বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুততম ও কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে তিনি খাদ্য নিরাপত্তার, দারিদ্র নিরসন ও কৃষি উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। তিনি চ্যানেল আই এর পরিচালক ও বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশে-বিদেশে যে কোনো আন্তর্জাতিক মানের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা মানেই দুর্লভ সব মুহূর্তের মুখোমুখি হওয়া। আর সেটা যদি হয় গুসি শান্তি পুরস্কারের মতো মর্যাদাবান পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান তাহলেতো কথাই নেই। কাছ থেকে দেখা অনন্য সব স্মৃতি জমা হয়ে যায় বুকের ভেতর। ফিলিপিনের রাজধানী ম্যানিলায় গুসি শান্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে শাইখ সিরাজের সফরসঙ্গী ছিলেন চ্যানেল আই-এর বার্তা সম্পাদক আদিত্য শাহীন ও ডিজিটার অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া এডিটর তৌফিক আহমেদ। তাদের দু’জনের অনুভূতির চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য।

দেশ সম্মানিত হয়েছে

-আদিত্য শাহীন, বার্তা সম্পাদক, চ্যানেল আই

বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের গুসি শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে ক্ষুধার বিরুদ্ধে সাংবাদিকতায় আরেকবার আন্তর্জাতিক বিজয় ঘটেছে বাংলাদেশের। পৃথিবীতে নজির সৃষ্টি হয়েছে উন্নয়ন সাংবাদিকতার মাধ্যমে শান্তির পক্ষে অনেক বড় কাজ করা যায়। পুরস্কারের স্বপ্নদ্রষ্টা ব্যারি এস গুসি শান্তির জন্য নিরন্তর কাজ করে যাওয়া একজন মানুষ। সারা পৃথিবী থেকে তিনি খুঁজে বের করেন এমন কিছু মানুষকে যাদের সম্মিলিত শ্রম ও প্রচেষ্টা এই পৃথিবীর সামনে শান্তির একটি রূপরেখা তৈরি করছে। এভাবেই বাংলাদেশের শাইখ সিরাজকে তিনি খুঁজে বের করেছেন এবং অকপটে বলেছেন, ‘তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দিতে পেরে গুসি শান্তি পুরস্কার কমিটি গর্বিত’। তিনি এও বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবীর সামনে শাইখ সিরাজ নতুনভাবে মূল্যায়িত হবেন।

গুসি শান্তি পুরস্কারের রীতিনীতির মধ্যে আরেক বিশেষ দিক ছিল, যে দেশের যে মানুষকে সম্মানিত করা হচ্ছে, সেই দেশকে সুউচ্চে তুলে ধরা। এটি অনেক বড় একটি দিক। আমরা যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সুযোগ লাভ করেছিলাম, তাদের কাছে এটি ছিল অনেক বড় এক প্রাপ্তির মতো। বাংলাদেশের পতাকাকে সুউচ্চে তুলে ধরা, সম্মান প্রদর্শন- এসবের মধ্য দিয়ে একটি বড় দৃষ্টান্ত গড়েছে গুসি শান্তি পুরস্কার কমিটি। মনে হয়েছে, অল্পদিনেই গুসি শান্তি পুরস্কার পৃথিবীর মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের তালিকায় বড় একটি জায়গা গ্রহণ করে নেবে।

আমি অভিভূত!

একটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পুরস্কার পাওয়া খুবই আনন্দের। নিজের কাজের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে ভালোই লাগে। সেদিন থেকে নিঃসন্দেহে একটি পজিটিভ অনুভূতিতো আছেই। এই ধরনের স্বীকৃতি দায়িত্বশীলতা বাড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা এই ধরনের পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে সারাবিশ্বের মেধাবী মানুষের সাথে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ হয়। এই যেমন এই ধরনের পুরস্কার গ্রহণ করার সময় বিশ্বের নানা দেশের সম্মানিত লরিয়েটদের সাথে নিজের অবস্থানগত দিকটি সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাওয়া যায়। নিজেকে যাচাই করা যায়। যেমন এই পুরস্কারটি প্রদানের ক্ষেত্রে অনেকগুলো আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। শুধু পুরস্কারপ্রাপ্ত লরিয়েটরাই নন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে আসেন। পুরস্কার প্রদানের আগে সম্মানিত লরিয়েটের কর্মকাণ্ডের ওপর ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। তখন দর্শক সারীতে দর্শকের অভিব্যক্তি দেখে সহজেই বুঝে ফেলা যায় পুরস্কারপ্রাপ্ত কোন লরিয়েট তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আমি যখন মঞ্চে পুরস্কার নেই তার আগে পর্দায় আমার সম্পর্কে যখন ডকুমেন্টারি দেখানো হচ্ছিলো তখন দর্শক সারীতে আমার সম্পর্কে বিশেষ করে বাংলাদেশ সম্পর্কে গভীর আগ্রহ দেখা যায় দর্শক ও আমন্ত্রিত অতিথিবর্গের মাঝে। পুরস্কার গ্রহণ করার পর আমি যখন মঞ্চ থেকে নেমে আসি তখন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকের মাঝ থেকে আন্তরিক অভিনন্দনের জোয়ার দেখা দেয়। আমি যেদিকেই যাই সেদিকেই মিডিয়ার লোকজন ছুটে আসে। অতিথিরা শুভেচ্ছা জানানোর জন্য হাত বাড়িয়ে দেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে নানা কথা জিজ্ঞেস করেন। সত্যি এই আনন্দের অনুভূতি কোনদিনই মুছে যাবে না। বিশেষ করে আমাকে পুরস্কার প্রদানের সময় ওরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় তুলে ধরেছে তা দেখে আমার কেবলই মনে হয়েছে দেশকে তো সম্মানিত করতে পেরেছি। আর কী চাই?

আপনারাই দেশের সত্যিকারের নায়ক

ফিলিপিনের ম্যানিলায় গুসি শান্তি পুরস্কার গ্রহণের সময় বাংলাদেশ থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত লরিয়েট চ্যানেল আই-এর পরিচালক ও বার্তা প্রধান, কৃষি উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ যে বক্তব্য প্রদান করেন তা প্রকাশ করা হলো-

সম্মানিত অ্যাম্বাসেডর ব্যারি গুসি, ডক্টর এভেলিন গুসি, গুসি শান্তি পদক কমিটি, উপস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, গুসি পিস লরিয়েটবৃন্দ, বিশিষ্ট অতিথিবর্গ, সম্মানিত সুধী, আসসালামু আলাইকুম এবং শুভ সন্ধ্যা।

আজ এখানে আসতে পেরে আমি ভীষণ গর্বিত। এরকম একটি বিশ্বনন্দিত পদক আমার হাতে তুলে দেয়ার জন্য আমি অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি গুসি পিস প্রাইজ ফাউন্ডেশনকে।

সত্যিই ৩০ বছরের বেশি সময়কাল ধরে সাংবাদিকতা করছি। সাংবাদিকতা করছি যাতে নিশ্চিত হয় খাদ্য নিরাপত্তা, ক্ষুধা আর দারিদ্র্য যেন ঘুচিয়ে ফেলা যায়। নয়া কৃষি প্রযুক্তির খবর গ্রামীণ কৃষকের হাতের নাগালে পৌঁছে দিচ্ছি সব সময়। সবচেয়ে বড় ব্যাপার এই দীর্ঘ সময় ধরে কৃষকের বুকে আস্থার বীজ বপন করে চলেছি। তাদেরকে বার বার মনে করিয়ে দিয়েছি, ‘আপনারাই আমাদের দেশের সত্যিকারের নায়ক।’

এগুলো বলতে বলতে তাদের মানসিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তাদের বার বার বলেছি, ‘দারিদ্র্য মনের খুব ভেতরে লুকিয়ে থাকে। ধুয়েমুছে ঐ দারিদ্র্য সাফ করে ফেলুন।’ অবশ্যই দারিদ্র্য থাকবে, কিন্তু লড়াকু মন মানবতার এই অভিশাপের বিরুদ্ধে লড়েই চলবে।

কৃষকেরা আমার কথা শুনেছে। মন থেকে মুছে ফেলেছে দারিদ্র্য। তারা সফল হয়েছে, তাদের দাবির কথা বলতে শিখেছে, নারী কৃষকরা বড় উদ্যোক্তা হতে পেরেছে, নাগরিক ছাত্র-ছাত্রী মাঠে গিয়ে কৃষকের মত কাজ করতে শিখেছে, কৃষক জলবায়ু পরিবর্তন এবং জৈব কৃষি সম্বন্ধে জানতে পেরেছে। ছুঁড়ে ফেলতে শিখেছে বিষাক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। এই সামগ্রিক প্রচেষ্টায় আজ বাংলাদেশে আমরা পেয়েছি একটি টেকসই কৃষিখাত।

আমার কাছে মনে হয়েছে বিশ্ব গণমাধ্যমের উন্নয়ন সংবাদের প্রতি, ইতিবাচক ও সাফল্যের খবরের প্রতি মনোযোগ আরো বাড়ানো উচিত। শুধুমাত্র যুদ্ধ, রক্তপাত, রাজনীতি- এগুলো সংবাদের প্রধান খোরাক হতে পারে না। পুরো এশিয়ার দেশগুলোর এক হওয়া উচিত ক্ষুধার বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ সে যুদ্ধে লড়বার জন্য। আরো কৃষি বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিশেষ করে এশিয়ান দেশগুলোতে কৃষি আর কৃষকের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি খুব জরুরি একটি ইস্যু।

দেখুন, গণমাধ্যম শুধুমাত্রই ক্ষুধা নিবারণের জন্য কাজ করছে তা নয়, এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর বিজ্ঞান যা পুরো বিশ্বে সম্প্রীতি ছড়িয়ে দিতে এবং শান্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে, বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবার জন্য অনেক কিছুই করেছে। আমি আমার অবস্থান থেকে গ্রামীণ এবং একইসাথে নাগরিক কৃষকদের বলেছি, আপনার একটি ক্ষেত আছে, বাড়ির ছাদ আছে, পুকুর আছে যেখানে চাইলেই আপনি কিছু উৎপাদন করতে পারেন এবং লাভ করতে পারেন যা আপনার দেশকে সামনে নিয়ে যেতে পারে।

দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে এবং ক্ষুধার বিরুদ্ধে বিজয়ের বিষয়টি আমাদের সামগ্রিকভাবে দেখতে হবে। দরিদ্রদের ক্ষমতায়ন এবং নারীদের কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্বের জায়গায় নিয়ে আসার বিষয়গুলোও জরুরি। এর মাধ্যমে পারিবারিক কৃষি আমরা আবার ফিরিয়ে আনতে পারি।

আমার বক্তব্য শেষ করব একটি বিখ্যাত প্রবাদ বলে যা আমি আমার সারাটি জীবন ধরে অনুসরণ করে চলেছি-

‘কোন একজনকে একটা মাছ খেতে দেয়া মানে ঐ একটি দিনের জন্য সে একটা মাছ খেতে পারল। আর কাউকে যদি মাছ ধরাটাই শিখিয়ে দেয়া যায়, দেখা যাবে বাকি জীবনের জন্য ঐ মানুষটা তার খাবার যোগাড়ের কৌশলও শিখে ফেলেছে।’

এতক্ষণ ধৈর্য ধরে আমার কথা শোনার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমার পরিবার এবং চ্যানেল আই-এর সকল সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার পাশে থাকার জন্য সব সময়।

নিরন্তর ধন্যবাদ রইল বাংলাদেশের কোটি কৃষকের প্রতি।

সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।

এ এক অনন্য মুহূর্ত!

-তৌফিক আহমেদ, ডিজিটাল অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া এডিটর, চ্যানেল আই অনলাইন

কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য পৃথিবীর নানা দেশে যাবার সুযোগ হয়েছে আমার। নানা দেশে নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এবার ম্যানিলায় গুসি শান্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। কারণ গুসি শান্তি পুরস্কার আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে খুবই মর্যাদাবান পুরস্কার। এর অনুষ্ঠানে থাকতে পারা সত্যি সৌভাগ্যের ব্যাপার। নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদানের যেমন কিছু রীতি আছে তেমনি গুসি শান্তি পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রেও কিছু রীতি মেনে চলা হয়। বিশেষ করে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি যেমনি আলোকোজ্জ্বল তেমনি মর্যাদাবান। পুরস্কারপ্রাপ্ত লরিয়েটদেরকে বিশেষ সম্মানের সাথে পুরস্কার প্রদান মঞ্চে ডেকে নেয়া হয়। তখন পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। শাইখ সিরাজকে মঞ্চে ডেকে নেয়ার আগে তার ওপর যখন ভিডিও চিত্র দেখানো হচ্ছিলো তখন গোটা অনুষ্ঠানস্থলে পিনপতন নীরবতার সৃষ্টি হয়। অনেকে শাইখ সিরাজকে কাছে থেকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে ওঠে। একসময় শাইখ সিরাজ যখন মঞ্চে ওঠেন তখন গোটা অনুষ্ঠানস্থল করতালির বন্যা বয়ে যায়। সত্যি এ এক অনন্য মুহূর্ত ছিল আমার জন্য।