Home এক্সক্লুসিভ গরমে আরাম চাই

গরমে আরাম চাই

SHARE
Mousumi-Hamid

এবার শীত এসেই যেন চলে গেল। শীতকালটা অনেকেরই পছন্দ। কারণ বাহারি রঙের পোশাক পরা যায়। শীত হলো যতো পারো কাপড় পরো। আর গরম কালটা যেন তার একেবারেই বিপরীত। যতো পারো কম কাপড় পরো। তাই বলে গরমকাল কি আনন্দের নয়? অবশ্যই আনন্দের। আসলে সময়বুঝে পোশাক পরলে কি গরম কি শীত দুই ঋতুই বেশ মজার।

তবে অনেকেই গরমকালটাকেই বেশ উপভোগ করেন। এ সময় ক্যাজুয়াল পোশাকে থাকা যায়। শীতের মতো অতো শতো পোশাকের প্রয়োজন পড়ে না। ছেলেরা প্যান্টের সঙ্গে একটা টিশার্ট জড়িয়ে নিলেই হলো। মেয়েরাও আজকাল প্যান্টের সঙ্গে টিশার্ট পরছেন। তবে গরমে সুতি কাপড়ের চাহিদা বেশ থাকে। গরমে আরাম পেতে হলে সুতি কাপড়ের ওপরই ভরসা রাখুন।

জৈষ্ঠ্যের এই কাঠফাটা রোদ, লু হাওয়া, তীব্র গরমেও অনেকে ফ্যাশন নিয়ে ভাবেন। গরমে নিত্যদিনের ফ্যাশন করতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা হয়। কোন কাপড়ে পাওয়া যায় একটু আরাম। সহজ উত্তর- হালকা সুতি। গরম আর সুতি- এই দুটি শব্দের সম্পর্ক সম্ভবত আমাদের চেয়ে ভালো বোঝে না কেউ। এই সময় যেন সুতির ওপর বিশ্ব ফ্যাশনের প্যাস্টেল শেডগুলো বা হালকা রংগুলো মানানসই হয়ে ওঠে।

সাধারণ রঙের একটু হালকা বা ফিকে, কোমল রঙগুলোকেই ডাকা হয় প্যাস্টেল শেড বলে। ফিকে হলুদ, উজ্জ্বল হলুদ, ঘিয়া, হালকা সোনালি, কখনো বাসন্তী, জলপাই সবুজ, পেস্ট, বেবি পিংক, বাঙ্গি, আকাশি নীল, সমুদ্রের নীল, লাইট চকলেট এবং ঘুরেফিরে সাদা। গরমে নরম বুননে এই ফ্যাকাশে রংগুলোই এত স্নিগ্ধ এবং কোমল হয়ে ওঠে যে গরমের ফ্যাশন হিসেবে প্যাস্টেল শেড পেয়ে গেছে বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি।

আমাদের দেশে অবশ্য অনেক আগে থেকেই এই রংগুলো ছিল। আমরা বলি হালকা রং বা অফ কালার। চিরচেনা বøক, বাটিক, টাইডাই কিংবা শিবুরির কাজ এই রংগুলোকে ঘিরেই তো শুরু হয়েছিল এককালে। এখনো টাইডাইয়ের কাপড়ে এই রংগুলো মুখ্য।

Tarunnoএকটি ফ্যাশন হাউসের কর্মকর্তা বললেন, সুতির আঁটসাঁট জামার চল উঠে গেছে অনেক আগেই। এখন সুতির ঢিলেঢালা প্যাটার্নই জনপ্রিয়। কামিজ জনপ্রিয়, ঝালর দেওয়া স্কার্টও মন্দ লাগে না। তাতে হালকা সুতির কাজ থাকছে, বøক থাকছে, স্ক্রিন প্রিন্ট থাকছে। ভারী কাজ না থাকাই ভালো। ওতে গরমের হাঁসফাঁস ভাব আরও বেড়ে যায়।

একটু ফ্রক ও ম্যাক্সি ধাঁচের কামিজে ফ্রিলের কাজ অনেক বেড়েছে এখন- জানালেন আরেকজন ডিজাইনারা বললেন, তাতে পার্সিয়ান ধাঁচের মোটিফ থাকছে, গয়না, ফুল, লতাপাতার মোটিফ থাকছে। নরসিংদী ও টাঙ্গাইলের তাঁতেও এই রং ভালো ফুটছে। দাওয়াতের জন্য জয় সিল্ক, অ্যান্ডি, লিলেন ও কিছু পেশোয়ারি বুনন তো আছেই। সুতির কাপড়ের ওপর বিভিন্ন ধরনের লেসের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।

গরমে সুতির শাড়ির কথা বললে এক পাড়ের কিংবা একাধিক লাইন টানা রঙিন পাড়ের কথা অবধারিতভাবেই চলে আসে। অনলাইনে দেখা গেল, প্রায় সব ফ্যাশন ব্র্যান্ডই গরমের জন্য এমন কাজের শাড়ি রেখেছে সম্ভারে। অধিকাংশ ব্র্যান্ড প্যাস্টেলের জমিনে কন্ট্রাস্ট করেছে গাঢ় রঙে। পাড়টা চিকনই থাকছে। কিছু শাড়ির জমিনে রয়ে গেছে স্ক্রিন প্রিন্টের পরশ। জলপাই সবুজে কালো পাড়, নীলের সঙ্গে হলুদ, খয়েরিতে সবুজ, কখনো হলুদের সঙ্গে গোলাপি।

এই গরমে সতর্কতা

সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দিন। অবশ্যই ঢিলে ঢালা কাপড় পরুন।

গরমকালে রাস্তাঘাটে ধুলার উপদ্রব বেড়ে যায়। কাজেই অফিস আদালত থেকে বাসায় ফিরে ভালো করে মুখ হাত ধুয়ে ফেলুন। চুলে শ্যাম্পু করুন।

গরমের এই দিনে মোটা কাপড় না পরাই ভালো। হাফ হাতা পছন্দের পোশাক হতে পারে। একই কাপড় বারবার ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ কাপড় একবার পরলে ঘামে ভিজে যায়। কাজেই একদিনের পোশাক অন্যদিন না পরাই ভালো।

গরমের দিনে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন। দিনে কমপক্ষে ৮/১০ গøাস বিশুদ্ধ পানি পান করলে শরীর সতেজ থাকবে।

খাবারের ক্ষেত্রে শাক সবজির প্রতি জোরদিন। তাজা ফলের জুস খেতে পারেন। এতে শরীর তরতাজা থাকবে।

এই গরমে রোদ থেকে রেহাই পেতে রোদ চশমা ব্যবহার করতে পারেন।