Home এক্সক্লুসিভ ক্রিকেট যখন সুখের ঠিকানা….

ক্রিকেট যখন সুখের ঠিকানা….

SHARE

মামুনুর রহমান: একজন বিদেশী তরুণ ফেসবুকে নিজের নামে একটি চ্যানেল খুলেছে। বিভিন্ন দেশের ওপর ওই চ্যানেলে তথ্য প্রচার করে সে। বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষ একটি পর্ব তার চ্যানেলে পাওয়া গেল। ৫/৭জন বিদেশী তরুণ-তরুণীকে পার্কের মধ্যে দাঁড় করিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে নানা তথ্য জানতে চাইছে। দেখা গেল বিদেশী তরুণ-তরুণীরা ক্রিকেটের কল্যানেই বাংলাদেশকে চিনে। সাকিব আল হাসানের প্রশংসা করলো সবাই। ঘুরে ফিরে সবাই ক্রিকেটের কথাই বলছিল…
প্রিয় পাঠক, একথাতো সত্য ক্রিকেট আমাদের প্রিয় মার্তৃভ‚মি বাংলাদেশকে মান মর্যাদায় অনন্যা এক উচ্চতায় দাঁড় করিয়েছে। আনন্দ আলোয় এই রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার সময় পর্যন্ত বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এটা সত্য ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ সমীহ জাগানো একটি গুরুত্বপুর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে। ইংল্যান্ডের মাঠে যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলে তখন কখনও কখনও মনে হয় খেলাটা বুঝি বাংলাদেশে মীরপুর জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গ্যালারী ভর্তি দর্শকের মুখে শুধুই বাংলাদেশের নাম। শুধু প্রবাসী বাংলাদেশীরাই নয় ইংল্যান্ডের সাধারন মানুষও বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভক্ত হয়ে উঠেছে। মাঠে চার ছক্কা মারার সময় বাংলাদেশের জন্য উল্লাস প্রকাশ করা দর্শকের তালিকায় ইংল্যান্ডের সাধারন মানুষও বিশেষ ভ‚মিকা রাখছে। সব মিলিয়ে ক্রিকেটের কল্যাণে প্রিয় মাতৃভ‚মি বাংলাদেশের একটি সুখি চেহারা দেখা যাচ্ছে ইংল্যান্ডের মাটিতে। বিশ্ব প্রচার মাধ্যমের কল্যাণে সেই সুখি চেহারা এখন বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তারকা, ব্যবসায়ী, সাধারন মানুষ এখন ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন। দলের প্রতি সমর্থন জানাতে অনেকেই গিয়েছেন ইংল্যান্ডে। যার প্রমান পাওয়া গেছে ২ জুলাই ভারত বনাম বাংলাদেশের ক্রিকেট লড়াইয়ের দিন। আহা! দেশেল জয়ের জন্য প্রতিটি মানুষের সে কি আকুলতা! দেশের প্রতি কোথায় থাকে এতো ভালোবাসা? বুকের ভিতর? হ্যা, বুকের গভীরেই থাকে এতো ভালোবাসা! দেশের জন্যই… দেশ মানে তো মা… মাকে ভালোবেসে মায়ার সাগর তৈরি করেছে ইংল্যান্ডে প্রবাসী বাঙ্গালীরা। তারাই সুখি বাংলাদেশের একটি সুন্দর চিত্র তৈরি করেছে। বাংলাদেশের লড়াকু ক্রিকেটাররা সেই সুন্দর চিত্রের সুনিপুন কারিগরর। ভালোবাসার পংক্তি সাজানো কবি যেন সবাই। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের আদরের ধন। একথাতো সবাই মানবেন গোটা দেশে জাতীয় ক্রিকেট দলের ১৫ জন খেলোয়াড়ই আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, মিরাজ, মোস্তাফিজুর, সৌম্য সরকার, লিটন দাসেরা এক একজন সোনার টুকরো ছেলে। মাঠের খেলায় তারা যখন দেশের জন্য লড়াইয়ে নামে তখন গোটা বাংলাদেশে কোটি কোটি মানুষ দুই হাত তুলে, কেউবা মনে মনে দেশের মঙ্গল কামনায় অস্থির হয়ে ওঠে। ক্রিকেট তো একটি খেলা মাত্র। কিন্তু ওই খেলাটিই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও অহংকারের প্রতীক। ক্রিকেট জিতলে গোটা বাংলাদেশ জিতে। আর তাই কত যে আশা-ভরসা এই ক্রিকেটকে ঘিরে। একথা সত্য, ক্রিকেট একমাত্র ক্রিকেটই বাংলাদেশকে একটি সুখি দেশের মর্যাদায় উপনীত করেছে।
এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবি গুলো দেখুন। বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষেই আনন্দময় ছবি গুলোর সৃষ্টি হয়েছে। এক একটি ছবি যেন এক একটি ইতিহাস। ছবিগুলো দেখলেই খুর্শিতে যে কারও মন ভরে যাবার কথা। একথা সত্য, বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলতে না পারলে এতো এতো সুন্দর ছবির জন্ম হতো না। নাটক, সিনেমা অথবা খেলা যাই হোক না কেন বিজয়ের পরের ছবি গুলো হয় অনেক আনন্দের। অর্থাৎ এক একটি বিজয় এক একটি প্রেরনার ছবি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ কৃতিত্ব দেখানোর ফলে ক্রিকেট বিশ্বে একটি সমীহ জাগানো দেশে পরিনত হয়েছে। অর্থাৎ ক্রিকেটের জয় বিশ্ব সভায় আমাদের প্রিয় মাতৃভ‚মিকে বিশেষ মর্যাদায় উন্নীত করেছে। একই ভাবে আমাদের ফুটবল, আমাদের চলচ্চিত্র, আমাদের সঙ্গীতও যদি বিশ্ব আসরে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে তাহলে দেশের মর্যাদা কোথায় গিয়ে দাড়াবে একবার কল্পনা করুনতো।

আমাদের ক্রিকেট বিশ্ব আসরে মর্যাদার একটা জায়গায় দাঁড়িয়েছে। এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের পারফরমেন্স গোটা বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। একথা জোর দিয়ে বলা যায় ভবিষ্যতে ক্রিকেটই বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্র্যান্ডিং হয়ে দাঁড়াবে। অথচ এই ক্ষেত্রে ফুটবল সহ অন্যান্য খেলায়ও ব্যাপক ভ‚মিকা নিতে পারে অনায়াসে। একটি সহজ প্রশ্ন প্রায়শই কঠিন হয়ে ধরা দেয়। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ শ্রেষ্ঠত্বের তালিকায় দাঁড়াতে পারলে ফুটবলে কেন পারে না? যারা ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব দেখায় তারাও তো মানুষ। তারা পারলে আমরা কেন পারি না? শুধু ফুটবল নয়, একটি ভালো সিনেমা, একটি ভালো সঙ্গীত, একটি ভালো চিত্রকলা অনায়াসেই দেশকে সম্মানিত করতে পারে। কিন্তু ক্রিকেটের বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা যেন নিজেদেরকে দাঁড় করাতে ব্যর্থ হচ্ছি। অথচ একবার কল্পনা করুণ তো ক্রিকেটের মতো ফুটবলেও যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারতাম তাহলে দেশের মান মর্যাদা কোথায় গিয়ে দাঁড়াত! অনেকে হয়তো ছোট দেশের কথা বলবেন। বাংলাদেশ তো একটি ছোটদেশ। ক্রিকেটে পারলেও ফুটবলে তা সম্ভব নয়। যারা একথা ভাবেন আমরা তাদের সাথে একমত পোষণ করতে পারছিনা। বাংলাদেশের চেয়েও অনেক ছোটদেশ ফুটবল বিশ্বে দাপট দেখিয়ে চলেছে। কাজেই ছোটদেশ বলে আমরা নিজেদেরকে ছোট ভাবতে পারি না। ক্রিকেটে তো বড় দেশের সাথেই বাংলাদেশকে লড়াই করতে হয়। ক্রিকেট পারলে ফুটবল কেন পারবে না?
এই প্রতিবেদনে ক্রিকেট অর্জনের যে ছবিগুলো প্রকাশ করা হলো তার প্রতিটি ছবিই সুখি বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। ক্রিকেটের অর্জনে বাংলাদেশ আনন্দের সাগরে ভাসছে। ক্রিকেট যদি হয় ক্রীড়া পরিবারের একজন সদস্য তেমনি ফুটবলও আরেকজন সদস্য। তেমনি ভাবে গান, নাটক, সিনেমাও পরিবারেরই এক একটি অংশ। আবার ভাবুন তো সেই কথাটিই… ক্রিকেটের মতো ফুটবল যদি এই দেশে জাগরণ সৃষ্টি করতে পারে তাহলে বাংলাদেশ মর্যাদার দিক দিয়ে কতটা এগিয়ে যাবে? একই ভাবে সিনেমার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ যদি মর্যাদাবান হয়ে উঠতে পারে তাহলেও তো গর্বের নতুন একটা জায়গা তৈরি হবে।
এব্যাপারে বোধকরি স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। ক্রিকেট সাফল্য দেখাতে পারলে ফুটবল কেন পারবে না? ইরান একটি মুসলিম কান্ট্রি। অথচ ওই দেশের সিনেমা আন্তর্জাতিক মানে দাঁড়িয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ কেন পারছে না? বিষয় গুলোর প্রতি গভীর মনযোগ দরকার। ক্রিকেটের মতো অন্যান্য খেলায়ও বাংলাদেশকে সুখি দেশের কাতারে সহজেই দাঁড় করাতে পারে। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত আন্তরিক উদ্যোগ!