SHARE
Shakib Mushfiq

মামুনুর রহমান: বাংলাদেশে যখন রাত নিউজিল্যান্ডে তখন দিন। সেজন্য ওইদেশের দিনের খেলা আমরা রাতে দেখি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ওইদেশে খেলতে গেছে বলে দেশের অনেকেই এখন রাত জেগে খেলা দেখেন। এর আগে ওয়ানডে ও টি টুয়েন্টি খেলা শুরু হয়েছিল আমাদের দেশের সময় রাত চার টায়। ওয়ানডের প্রথম খেলায় ভোরে সারাদেশ জেগেছিল। তার একটা কারণও ছিল। গত দু’বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছে। শুধু নিউজিল্যান্ড নয় পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকেও মাঠের ক্রিকেট লড়াইয়ে নাস্তানাবুঁদ করেছে। সেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিউজিল্যান্ডে খেলতে গেছে। মান সম্মান থাকবে তো! এই আশঙ্কায় ভোরের ঘুম ছুটে গিয়েছিল অনেকের। কিন্তু কী ওয়ানডে, কী টি টুয়েন্টি দুই ফরমেটেই নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। হতাশার আগুন যেন হঠাৎ করেই জ্বলে ওঠে।

ওয়ানডে, টি টুয়েন্টির পর টেস্ট সিরিজ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। এবার যেন বাংলাদেশের পক্ষে ভালো কিছু আশা করাটাও রীতিমত দুৎসাহসের পর্যায়ে দাঁড়িয়ে যায়। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ভালো দল। অথচ ওয়ানডেতেই হোয়াইটওয়াশ। কাজেই টেস্টে ভালো কিছু আশা করার সাহসই যেন হচ্ছিল না। স কারণে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ ছিল না অনেকেরই। উপরন্তু শীতের রাত। সকালটাও শীতের। তার ওপর শুক্রবার ছুটির দিন। কম্বল মুড়ি দিয়ে শীতের ঘুমে যখন বিভোর অনেকে তখনই নিউজিল্যান্ডের মাঠে আমাদের লড়াকু ক্রিকেটাররা বিশেষ করে সাকিব আর মুশফিক রীতিমতো এক বিস্ময়  সৃষ্টি করেছে। সাকিব করেছেন ২১৭ এবং মুশফিক করেছেন ১৫৯ রান। একদিনে সাকিবের ২টি শতক আর মুশফিকের একটি শতক। দলীয় রান সংখ্যা ৫৪২। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের জন্য এত আনন্দময় আর অহংকারের দিন বোধকরি আর আসেনি। আনন্দ আলোর জন্য যখন এই রিপোর্ট লেখা হচ্ছিল তখন এই টেস্টের ভবিষ্যৎ কি হবে? কে জিতবে, বাংলাদেশ নাকি নিউজিল্যান্ড তা বলা যাচ্ছিল না। কারণ ৫ দিনের টেস্টের ২দিন মাত্র অতিবাহিত হয়েছে। যদিও অনেকের ধারণা টেস্টের ২দিনে বাংলাদেশ যে অবস্থানে নিজেকে দাঁড় করিয়েছে তাতে নিশ্চিত করে বলা যায় বাংলাদেশের হারার আর সম্ভাবনা নাই। বরং জিতে যাবার সম্ভাবনা প্রবল।

ক্রিকেটের ব্যাপারে আগাম কিছু বলা নিরর্থক। তবে হ্যাঁ বাংলাদেশ এই সিরিজে জিতুক বা না জিতুক দেশের ক্রিকেট প্রেমী মানুষর মাঝে আবার যে আশার সঞ্চার করেছে এটাই বড় কথা।

নিউজিল্যান্ডের মাঠে সাকিব আর মুশফিক বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সম্ভাবনার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছেন। হ্যাঁ আমরাও পারি আবার প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। আনন্দ আলোর পক্ষ থেকে আমাদের ক্রিকেট দলকে অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

আমরা সব সময় ক্রিকেটে জয় চাই না। তবে এভাবেই ক্রিকেটে লড়াইয়ের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চাই। লড়াই করতে শিখলেই জয় আসে।