Home আরোও বিভাগ টিভি গাইড কেমন হলো ঈদের নাটক!

কেমন হলো ঈদের নাটক!

SHARE
Eid-Natok

গত ঈদে বিটিভিসহ দেশের প্রায় ২০টি টিভি চ্যানেলে এক ঘণ্টার নাটক, টেলিছবি ও ধারাবাহিক- সব মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক নাটক প্রচার হয়েছে। এসব নাটকে ছিল তারকাদের সরব উপস্থিতি। ঈদের নাটকেও পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। হাসি, আনন্দ, রম্য নাটকের পাশাপাশি নির্মাতারা ব্যতিক্রমী ধারণা নিয়ে কাজ করতে শুরু করেছেন। সামাজিক সমস্যা থাকে শুরু করে সংসার জীবনের অদৃশ্য রহস্য ঘেরা দেয়াল কোন কিছুই বাদ যাচ্ছে না এ ফিকশনগুলোতে। এবারের ভিন্নধর্মী কাজগুলো দর্শককে ভাবিয়েছে। সমাজের প্রতি, পরিবারের প্রতি প্রত্যেকের কি দায়-দায়িত্ব তা বুঝিয়ে দিচ্ছে টিভি নাটক। ঈদে এমন ব্যতিক্রমী টেলিফিল্ম, নাটক নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদনটি।
কানামাছি ভোঁ ভোঁ: আশফাক নিপুনের পরিচালনায় জন কবীর, অপি করিম অভিনীত কানামাছি ভোঁ ভোঁ নাটকটিতে সমাজের কিছু ঘৃণ্য মানুষের রূপ তুলে ধরা হয়েছে। কিছু মানুষ মুখোশের আড়ালে এক অন্য মানুষ। ২২ বছর পর পিতার খুনীর সন্ধানে দেশে আসার পর ছেলে এমন কিছু জানতে পারে যা তার অজানা ছিল, অকল্পনীয় ছিল কিন্তু তা ছিল নির্মম বাস্তব। নাটকটি দর্শক মনে অনেকগুলো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আয়েশা: বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীতে বড় অভ্যুত্থান চেষ্টা হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর। সেদিন বিদ্রোহী সৈনিকরা বিমান বাহিনীর ১১ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছিলো। এরপর ৭ অক্টোবর থেকে সামরিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কয়েকশ’ সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যকে মৃত্যুদÐ দেয়া হয়েছিল, যা কিনা দÐপ্রাপ্তদের পরিবার-পরিজনকে জানানোই হয়নি। ১৯৭৭ এর বিমান বাহিনীর অভ্যুত্থান এর ঘটনা নিয়েই নির্মিত হয়েছে ‘আয়েশা’ টেলিফিল্মটি। আনিসুল হক- এর গল্প ‘আয়শামঙ্গল’ অবলম্বনে মোস্তফা সরোয়ার ফারুকির পরিচালনায় ইতিহাস ভিত্তিক দারুণ একটি কাজ। এটি প্রচার হয় চ্যানেল আইতে। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং চঞ্চল চৌধুরী।
সোনালি ডানার চিল: চ্যানেল আইতে প্রচার হওয়া আরেকটি আলোচিত নাটক ‘সোনালি ডানার চিল’। প্রশ্ন পত্র ফাঁস একটা ব্যাধির মত হয়ে গেছে আমাদের এ সমাজে। প্রতিবছর প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে আর আমরা বলছি কোথাও প্রশ্ন ফাঁস হয় না। প্রশ্ন পত্র ফাঁসের মত একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে পরিচালক আশফাক নিপুনের একটি সাহসী কাজ বলা যায় ‘সোনালি ডানার চিল’। রাইসুল ইসলাম আসাদ এবং মেহজাবিনের অভিনয় সব মিলিয়ে দারুণ একটা কাজ হয়েছে।
আমার নাম মানুষ: মানুষ! সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে অভিহিত করা হয়ে। বুদ্ধি , চিন্তা-চেতনার মধ্য দিয়ে মানুষ নিজেকে নিয়ে গেছে অন্য এক স্তরে। কিন্তু আসলেই কি আমরা সেরা জীব হতে পেরেছি? আমাদের সমস্যাগুলো কি আমরা নিজেরা সমাধান করতে পেরেছি? নিজেরাই নিজেদের জিম্মি কর রেখেছি সমস্যার যাতাকলে। নিজেদের ইচ্ছামত রাস্তা ঘাটে ময়লা ফেলছি আবার আমরাই বলছি এ দেশের কিচ্ছু হবে না। নিজেরা ঘুষ খাচ্ছি আবার দূর্নীতিতে ১ নাম্বার হলে নিজেদের গালাগাল দিচ্ছি। রাস্তা পার হচ্ছি না ফুট ওভার ব্রিজ দিয়ে আবার বলছি এদেশে ট্রাফিক ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। ইভ টিজিং করছি পাবলিক ট্রান্সপোর্টে কিন্তু কেউ কিছু বলছে না। আসলে আমরা নিজেরা কি কখনো চেয়েছি নিজেদের পরিবর্তন করতে? পরিবর্তন সম্ভব। শুধু প্রয়োজন এগিয়ে আসবার, প্রয়োজন যার যার স্থান থেকে দায়িত্ব পালন করার। যেন জোড় দিয়ে আমরা বলতে পারি “আমার নাম মানুষ”। পরিচালক শাফায়েত মনসুর রানার আর একটি সেরা কাজ বলা যায় এটি।
এবার তোরা মানুষ হ: জাতি নির্মাণের কারিগর এক শিক্ষক জীবনের শেষ সময় এসে তার ১১ জন শিক্ষার্থীকে চিঠি লিখে তার কাছে আসতে বলেন। এদের মধ্যে কেউ ছাত্রনেতা, কেউ নায়ক, কেউ ডাক্তার, কেউ সাংবাদিক। নিজ নিজ স্থানে তারা সেরা হলেও তারা সকলেই পথভ্রষ্ট। এই ১১টি চরিত্র নানান ক্ষেত্রের অনিয়ম, দুর্নীতি আর কিছু বাস্তব চরিত্রের রূপক। বেশ ভালো কন্সেপ্ট এবং গল্পটিও বেশ। মূল চরিত্রে নিশোর অভিনয় ব্যাল্যান্স ছিল। মাবরুর রশীদ বান্নাহ’র গল্প, চিত্রনাট্য, পরিচালনায় ঈদের ভালো একটি কাজ ছিল।
বেড সীন: একটি খাট, দুটি মানুষ আর তাদের সারাজীবন। সংসার জীবনের সকল সমস্যা, চিন্তা, আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঐ একটা বিছানাকে কেন্দ্র করেই হয়ে থাকে। ভালোবাসার মানুষটি যখন চলে যায় তখন বিছানার একপাশ খালি হয়ে গেলেও মনের মাঝে থাকে যায় সে, ভালোবাসার কমতি থাকে না সেখানে। দুজন মানুষের পুরো জীবন পরিক্রমা বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক মাবরুর রশীদ বান্নাহ। অভিনয়ে ছিলেন ইরফান সাজ্জাদ এবং তানজিন তিশা।
বিবাহ বিভ্রাট: উপভোগ্য স্যাটেয়ার ধর্মী এ নাটকটিতে বর্তমানে বিয়ের নামে যে ধরনের অনুষ্ঠান হচ্ছে তার কিছুটা তুলে ধরা হয়েছে। বিয়ে মানে মানুষের দুটি আত্মার মিলন, দুটি পরিবারের মিলন। বলা যায় একটা পারিবারিক গেট টুগেদার। কিন্তু এক্ষেত্রেও ঢুকে গেছে অপসংস্কৃতি। মেহেদী নাইট, হালদি নাইট, ব্রাইডাল ফটোশুট ইত্যাদি ইত্যাদির মধ্যেই জড়িয়ে গেছে যেন ব্যাপারটা। কে কত টাকা খরচ করে সব করতে পারল এখন এটাই মূখ্য। এখন বিয়ে মানেই ছবি তোলা, কার কত ভালো ছবি উঠলো এটাই হল বিয়ে। ইয়াশ রোহান এবং ময়ূরি সেলিম অভিনীত এ নাটকটি পরিচালনা করেছেন সাইমন ইসলাম।
জুনিয়র আর্টিস্ট লতিফ: জুনিয়র আর্টিস্ট কিংবা এক্সট্রা শিল্পী, যে নামেই অভিহিত করেন না কেন নাটক কিংবা সিনেমাতে এদের ভূমিকা কোন অংশে কম না। তবুও এদেরকে দেখা হয় অবহেলার চোখে। বড় বড় আর্টিস্টদের থেকেও দেখা যায় এদের অভিনয় দক্ষতা অনেক বেশি। শুধুমাত্র সুযোগের অভাবে অকালেই হারিয়ে যায় এসব আর্টিস্টরা। অভিনয়কে হৃদয় থেকে ভালোবাসা এসব আর্টিস্টদের গল্প নিয়ে পরিচালক সুমন আনোয়ার নির্মান করেছেন “জুনিয়র আর্টিস্ট লতিফ”। অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, মৌসুমী হামিদ, শাহেদ শরিফ খান, সাহেদ আলী সুজন, আহসান হাবিব নাসিম, সাজ্জাদ রেজা ও একটি বিশেষ চরিত্রে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন প্রমুখ। ঈদে আলোচনায় ছিল নাটকটি।
দানব: গ্রাম বাংলায় অতীতে ভয়ংকর ডাকাত দলের কথা শোনা যেতো। ৮০ দশকের দিকে ডাকাতের গল্প নিয়ে সিনেমা বেশ জনপ্রিয় ছিল। ভয়ংকর এক ডাকাত দলের সর্দারের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে দানবের গল্প। যার কাছে মানুষ হত্যা নিত্যদিনের আহারের মত। সমাজের ভালো মানুষের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পিশাচ চরিত্ররটিকে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন মোশাররফ করিম। টেলিফিল্মটি পরিচালনা করেছেন আজাদ কালাম।
Eid-Natok-1ফেসবুক ছাড়ার ৬ টি উপায়: মিজানুর রহমান আরিয়ান রোমান্টিক নাট্য নির্মাতা হিসাবে পরিচিত হলেও তাকে এবার দেখা গেল একটি ভিন্ন ধরনের একটি কাজ করতে। ফেসবুক ছাড়ার ৬ টি উপায় নাটকটির গল্পটি খুবই সরল কিন্তু ম্যাসেজ টা বেশ অর্থবহ। আমাদের যান্ত্রিক জীবন ধারার জন্য আমরা বেশী ফেসবুক নির্ভর হয়ে পড়ছি। প্রকৃতি এবং পরিবারের সাথে কাটানো মূহুর্তগুলোই পারে আমাদের এই ভয়াবহ যান্ত্রিকতা থেকে বাঁচাতে। হয়তো অনেক কঠিন কিন্ত অসম্ভব কিছু না।
ঠিকানা: সড়ক দূর্ঘটনা এখন আমাদের প্রত্যাহিক জীবনে একটি নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের হাইওয়ে গুলোতে সড়ক দূর্ঘটনা হলে একদল সুযোগ সন্ধানী মানুষ থাকে যারা নানান অপকর্ম করে থাকে। একটি দূর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর কিছু মানুষ থাকে যারা কিনা মৃত ও আহত ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোবাইল, মানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসগুলো নিয়ে চম্পট দেন। তেমনি একটি গল্প নিয়ে নির্মাতা তুহিন হোসেন নির্মাণ করেছেন নাটক ‘ঠিকানা’। মোশাররফ করিম ও রিচি সোলায়মানকে নাটকটিতে ভিন্নভাবে দেখা গেছে। আরো অভিনয় করেছেন শিশুশিল্পী প্রাঞ্জল। সড়ক দূর্ঘটনায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি শিশুকে নিয়ে নাটকটির গল্প এগিয়ে যায়।
চ্যানেল আইতে ঈদের আগের দিন রাতে প্রচার হওয়া বিশিষ্ট নির্মাতা রেজানুর রহমানের ‘বড় বল ছোট বল’ নাটকটিও বেশ প্রশংসা পায়। অভিনেতা রওনক হাসান ও অভিনেত্রী উর্মিলা শ্রাবন্তী কর-এর অভিনয় দর্শকদের হৃদয় কাড়ে। ফুটবল খেলা নিয়ে নাটকরি গল্প সমাজের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন নির্মাতা। এছাড়াও নাটকটির লোকেশন ও নির্মাণশৈলী ছিলো দেখার মতো।
আলোচিত যারা
ঈদ আয়োজনের অসংখ্য নাটকের মধ্যে নিজ প্রতিভায় আলোচনায় আসেন তরুণ নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা।
আশফাক নিপুণ: এই বছর নির্মাতা হিসেবে নিজেকে আরো মেলে ধরেছেন আশফাক নিপুন,সামাজিক ইস্যু নিয়ে সাহসী কাজের জন্য আলাদা করে প্রশংসিত হচ্ছেন দিন দিন। চ্যানেল আইতে ভাই- ব্রাদার এক্সপ্রেসের আয়োজনে প্রশ্নফাঁস নামক সামাজিক ব্যাধি নিয়ে নির্মিত ‘সোনালী ডানার চিল’ বেশ প্রশংসিত হয়েছে, এছাড়া কানামাছি ভোঁ ভোঁ নাটকেও নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছেন। ভালোবাসা দিবসে প্রচার হবার কথা থাকলেও এই ঈদে প্রচার হয়েছে ‘লায়লা, তুমি কি আমায় মিস করো?’, এটিও প্রশংসিত হয়েছে। এই তিনটি বাদে প্রচারিত আরেকটি নাটক হলো ‘ছলনা’। এছাড়া ‘কে’ নামক একটি শর্টফিল্ম বানিয়ে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।
শাফায়েত মনসুর রানা: নাট্যঙ্গনে এই মুহুর্তে অন্যতম আলোচিত নির্মাতা শাফায়েত মনসুর রানা। এই ঈদে নির্মাণ করেছেন মাত্র একটি টেলিফিল্ম, তাতেই তিনি প্রশংসিত। সমাজের নানা অনিয়ম, দূর্নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু মানুষের প্রতিবাদী হয়ে উঠার গল্প নিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘আমার নাম মানুষ’। এই নাটক নির্মাণের পাশাপাশি পাশাপাশি তিনি অভিনয়ও করেছেন।
রেদোয়ান রনি: বাংলা নাটকে নির্মাণের মধ্য দিয়ে এক সময় মাতিয়ে রেখেছিলেন রেদওয়ান রনি, তবে সা¤প্রতিক কালে পুরনো রুপে পাওয়া যাচ্ছে না এই অভিযোগ ছিল অনেকেরই, তবে তিনি এই অভিযোগ ভেঙেছেন এইবার চ্যানলে আই এর ভাই- ব্রাদারসের আয়োজনে ‘পাতা ঝরার দিন’ নাটকের মধ্য দিয়ে। একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই নাটকের প্রচারের পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছেন তিনি, অনেকের মতে এই ঈদে সেরা নাটকটি বানিয়েছেন তিনি।
হিমেল আশরাফ: গত কয়েকবছর ধরেই নিয়মিত নাটক নির্মাণ করছেন হিমেল আশরাফ। এই বছর নিজেকে আরো ভালোভাবে মেলে ধরেছেন। এই ঈদে তিনি বেশকিছু নাটক বানিয়েছেন তার মধ্যে আলোচিত হয়েছে ‘সব গল্প রুপকথা নয়’ ও ‘ওগো বধূ সুন্দরী’। দুটি নাটকেই তিনি আলাদা স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছিলেন।
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: গত ঈদের মতো এই ঈদেও সর্বোচ্চ নাটক বানিয়েছেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ। টিভি চ্যানেল ও অনলাইন মিলিয়ে নাটক বানিয়েছেন মোট ১৪টি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে ‘লালাই’, অন্যান্য নাটকের মধ্যে ‘এবার তোরা মানুষ হ’, ‘ছেলেরাও কাঁদে’, ‘জীবন যেখানে এমন’, ‘মানুষ হবো’, ‘সুখী পরিবার’ অন্যতম।
এছাড়া প্রায় ১০ বছর পর টেলিভিশনের জন্য নাটক বানিয়েছেন মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী, আনিসুল হকের ‘আয়শামঙ্গল’ অবলম্বনে নির্মান করেছেন ‘আয়েশা’। এটি ছিল এই ঈদের বহুল প্রতিক্ষীত নাটক, প্রচারের পর বেশ আলোচিত হয়েছে নাটকটি। এছাড়া অন্যান্য নির্মাতাদের মধ্যে শিহাব শাহিন (বিনি সুতোর টান), সাজ্জাদ সুমন (কলুর বলদ ২), আজাদ কালাম (দানব), জাকারিয়া সৌখিন (উগান্ডা মাসুদ), মিজানুর রহমান আরিয়ান (শোক হউক শক্তি), তুহিন হোসেন (আমি তোমাকেই বলে দিবো), চয়নিকা চৌধুরী (চাঁদের আলোয়), সাগর জাহান (রতœগর্ভা), আলম আশরাফ (কলি:০২), ইমেল হক (ঢাকাইয়া কোরবানি), মাহমুদুল ইসলাম (দ্য অরিজিনাল আর্টিস্ট), মাহমুদুর রহমান হিমি (বাড়ি ফেরা), প্রবীর রায় চৌধুরী (লাভ ভার্সেস ক্রাশ), আবু হায়াত মাহমুদ (বৃত্ত), সুমন আনোয়ার (দ্য জুনিয়র লতিফ আর্টিস্ট), মাহমুদ দিদার (সিনেমা সিনেমা খেলা), দীপু হাজরা (ভাগের মা) অন্যতম।
আফরান নিশো: গত ঈদের মত এই ঈদেও সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত ও আলোচিত হয়েছেন আফরান নিশো,এই বছর টা বেশ ভালোই তার। ‘লালাই’ নাটকে অনবদ্য অভিনয় করে দর্শকদের কাঁদিয়েছেন,’লায়লা, তুমি কি আমায় মিস করো?’ নাটকে বিচ্ছেদীদের অনুপ্রেরণা হয়েছেন,’শোক হউক শক্তি’ নাটকেও তাই। এছাড়া এই ঈদে প্রচার হওয়া তাঁর অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে সব গল্প রুপকথা নয়, ছেলেরাও কাঁদে, রং বদল, ট্যাটু ৩, টুইন, দ্য জুনিয়র লতিফ আর্টিস্ট, শহরে নতুন প্রেমিক, ডাকাতের বউ অন্যতম।
মোশাররফ করিম: টিভি নাটকের ইতিহাসে যারা তুমুল জনপ্রিয় হয়েছেন,তাদের মধ্যে মোশাররফ করিম অন্যতম। এই ঈদে ‘দানব’ টেলিফিল্মে ডাকাত চরিত্রে অভিনয় করে যেমন ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন, তেমন ‘উগান্ডা মাসুদ’ নাটকেও তার দর্শকদের নির্মল আনন্দ দিয়েছেন। বরাবরের মত তার ‘যমজ’ সিরিজ হয়েছে বেশ আলোচিত, এইবার প্রচার হয়েছে এই সিরিজের দশম কিস্তি। এছাড়া এই ঈদে তার অন্যান্য নাটকের মধ্যে আস্থা, ঠিকানা, ফ্যাটম্যান ফ্যান্টাস্টিক, ক্যারিয়ার, বø্যাক লাইট কম বেশি আলোচনায় এসেছে।
অপূর্ব: বর্তমানে রোমান্টিক নাটক গুলিতে অনন্য অপূর্ব, এই ঈদেও তিনি বেশ সংখ্যক রোমান্টিক নাটক নিয়ে হাজির হয়েছেন, তবে এর মধ্যে ভিন্ন প্রচেষ্টা ছিল ‘বিনি সুতোর টান’। বাবা ও ছেলের সম্পর্ক নিয়ে নির্মিত এই নাটকটি বেশ আলোচিত হয়েছে, এই নাটকে তার ছেলে আয়াশও অভিনয় করেছে। এছাড়া প্রচারিত অন্যান্য নাটকগুলোর মধ্যে আলোচনায় এসেছে আদিত্যের মৌনতা, প্রেম ছবি, লাইফ ইজ বিউটিফুল, তোমার অপেক্ষায়, আমার পক্ষে তোমাকে রাখা সম্ভব না সহ কয়েকটি নাটক।
রিয়াজ: গত ঈদে চ্যানেল আইতে প্রচার হওয়া ‘কলুর বলদ’ নিয়ে বেশ আলোচনায় এসেছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ, সেই সাফল্যে এই ঈদে প্রচার হয়েছে ‘কলুর বলদ ২’। প্রচারের পরেই বেশ প্রশংসায় ভাসছেন তিনি বিশেষ করে গতবারের মত এই নাটকটিও প্রবাসীরা উল্লেখযোগ্যভাবে দেখেছে পাশাপাশি প্রশংসা করেছে।
ইরফান সাজ্জাদ: দিন দিন নিজেকে আরো পরিনত করে তুলছেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। ক্রমশই অভিনয়ে তাঁর ব্যস্ততা বেড়ে চলেছে। ‘বেড সিন’ শর্টফিল্মে যুবক বয়স থেকে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন, এছাড়া এই ঈদের অন্যতম সেরা প্রশংসিত টেলিফিল্ম ‘আমার নাম মানুষ’ এ অভিনয় করেছেন। তাঁর প্রচারিত অন্যান্য নাটকের মধ্যে কলি:০২, ফুল হাতা হাফ শার্ট, বাইকার, বৃষ্টি হয়ে এলে তুমি অন্যতম।
তবে, দুইজনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতেই হয়, একজন বর্ষীয়ান অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম। তিনি ‘পাতা ঝরার দিন’ নাটকে একজন স্মৃতিভ্রষ্ট বৃদ্ধের ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় করেছেন, অন্যদিকে ‘সোনালী ডানার চিল’ নাটকে একজন স্কুল শিক্ষকের ভূমিকায় নিজেকে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ। দুইজনই বুঝিয়ে দিয়েছেন বয়স হলেও তাদের প্রতিভার ধার এতটুকুও কমেনি।
Eid-Natok-2এছাড়া অন্যান্য অভিনেতাদের মধ্যে যারা আলোচনায় এসেছেন তাদের মধ্যে মাহফুজ আহমেদ (ওগো বধূ সুন্দরী), জাহিদ হাসান (মাখন মিয়ার শিক্ষিত বউটা), চঞ্চল চৌধুরী (বৃত্ত), তৌসিফ (পার্টনার), নাঈম (রিক্সায় কোনো রিক্স নেই), তাহসান (বাড়ি ফেরা), শহিদুজ্জামান সেলিম (ফেসবুক ছাড়ার ৬ টি উপায়), অ্যালেন শুভ্র (সিনেমা সিনেমা খেলা), মুকিত জাকারিয়া (লিটনের গরিবি ফ্ল্যাট), শাওন (মানুষ হবো), কল্প (মডার্ন টাইমস), ইয়াশ রোহান (বিবাহ বিভ্রাট), জন কবির (কানামাছি ভোঁ ভোঁ), কামরুজ্জামান কামু (দ্য অরিজিনাল আর্টিস্ট) অন্যতম।
মেহজাবীন: এই মুহুর্তে নাট্যঙ্গনে সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন, গত ঈদের মত এই ঈদেও তিনি নিজেকে মেলে ধরেছেন। সোনালী ডানার চিল, লায়লা তুমি কি আমায় মিস করো? থেকে ওগো বধূ সুন্দরী তিনটি নাটকেই তিনি বেশ প্রশংসিত হয়েছেন ‘লাভ ভার্সেস ক্রাশ’ নাটকটিও বেশ আলোচিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর অভিনীত অন্যান্য নাটকগুলির মধ্যে রয়েছে রং বদল, পরিবার, তোমার অপেক্ষায়।
তিশা: এই ঈদের সবচেয়ে বহুল প্রতিক্ষীত নাটক ‘আয়েশা’ তে দুর্দান্ত অভিনয় করে নিজের ক্যারিয়ারে বিশেষমাত্রা এনেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা।এই নাটকে অভিনয় করে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন গুণী এই অভিনেত্রী। এছাড়া তার প্রচারিত অন্যান্য নাটকের মধ্যে ভিন্নঘরানার নাটক ‘কলি:০২’ দর্শকরা বেশ পছন্দ করেছেন। এছাড়া ‘ডাকাতের বউ’ নাটকটিও আলোচনায় এসেছে।
অপি করিম: নাট্যঙ্গনের এক সময় স্বপ্রতিভায় বিচরণ করেছিলেন অপি করিম,এখন অভিনয়ে অনিয়মিত হলেও বিভিন্ন উৎসবে নাটকে অভিনয় করতে দেখা যায়। এই ঈদে মোট নাটক করেছেন মাত্র দুটি,তাতেই তিনি বেশ আলোচনায়। বিশেষ করে ‘কানামাছি ভোঁ ভোঁ’ নাটকে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন,এছাড়া তার অভিনীত ‘মাধবীলতা’ নাটকটিও আলোচনায় এসেছে।
তানজিন তিশা: এই ঈদে খুব সম্ভবত সবচেয়ে বেশি নাটকে অভিনয় করেছে তানজিন তিশা। এই ঈদে তাঁর প্রচারিত নাটকসমূহের মধ্যে লালাই, বেড সিন, প্রেম ছবি, বাড়ি ফেরা, ছেলেরাও কাঁদে, একটি পূর্নদৈর্ঘ্য প্রেম, বৃষ্টি হয়ে এলে তুমি, সুখী পরিবার অন্যতম।
সাবিলা নূর: নাট্যঙ্গনে প্রতিশ্রæতিশীল অভিনেত্রী হিসেবে দিন দিন নিজেকে গড়ে তুলছেন সাবিলা নূর, এভাবে যদি মনোযোগী হন তবে অতি শীঘ্রই সে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবেন। এই ঈদে ‘সব গল্প রুপকথা হয় না’ নাটকে তাঁর অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়েছে। ‘মর্ডান টাইমস’ নাটকেও স্বল্প উপস্থিতিতে নজর কেড়েছেন। এছাড়া তাঁর অভিনীত নাটকগুলির মধ্যে লাইফ ইজ বিউটিফুল, পার্টনার, রিক্সায় কোনো রিক্স নেই, কাঁদবো না, কথা রেখেছিলাম অন্যতম।
তবে, বিশেষভাবে বলতে হয় নন্দিত অভিনেত্রী ঈশিতার কথা, অনেকদিন বাদে অভিনয়ে ফিরে ‘পাতা ঝরার দিন’ নাটকে অনবদ্য অভিনয় করে দর্শক প্রশংসায় ভেসেছেন, নিজের ক্যারিয়ারেও অন্যতম অভিনয় সমৃদ্ধ একটি নাটক যোগ করেছেন। এছাড়া অন্যান্য অভিনেত্রীদের মধ্যে যারা আলোচনায় এসেছেন তাদের মধ্যে সাফা কবির (আমি তোমাকেই বলে দেবো), রিচি সোলায়মান (চাঁদের আলোয় ও ঠিকানা), অপর্ণা ঘোষ (আমার নাম মানুষ), মম (আদিত্যের মৌনতা), নাবিলা (দ্য অরিজিনাল আর্টিস্ট), সালহা খানম নাদিয়া (শোক হউক শক্তি) অন্যতম।