SHARE

চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ  ঘরে বসেই সময় কাটাচ্ছেন। এই সময় তিনি কী করছেন, কী ভাবছেন সিনেমা নিয়ে তা তুলে ধরা হলো…

আরিফিন শুভর ঘরবন্দি সময় কাটছে নানা কাজে। কখনো ব্যায়াম, কখনো বই পড়ে আবার কখনোবা সিনেমার দুনিয়ায় বুঁদ হয়ে পড়ে থেকে। আরিফিন শুভ বলেন, ‘বেশির ভাগ সময় আমি ফ্রি এক্সারসাইজ করছি। মাঝেমধ্যে বই পড়ছি। কখনোবা সিরিজগুলো দেখছি। আর বাগানও করি। ঘর থেকে যেহেতু বাইরে বের হতে পারছি না ফলে পরিবারকেই বেশি সময় দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও ফোনে কথা বলছি।’

জানালেন কী পড়া হলো, কী দেখা হলো সে বিষয়েও। শুভ বলেন, ‘এর মধ্যে ফেলুদা সিরিজ আবার পড়লাম। নেটফ্লিক্সে যত সিনেমা আছে সেগুলো দেখা প্রায় শেষের দিকে। সিরিজগুলোরও বেশিরভাগ দেখে ফেলেছি।’

লকডাউন শেষে অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর কাজ শুরু করার পাশাপাশি করবেন নতুন সিনেমার কাজও। বলছিলেন, ‘কিছু সিনেমার কাজ শেষ। সেগুলো কখন মুক্তি পাবে তা জানি না। নতুন সিনেমাও আছে হাতে। এর মধ্যে একটা সিনেমার কাজ মে মাসে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এটা পিছিয়ে গেছে। আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কোনো কিছুই ঠিক করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।’

সম্প্রতি কাজ করেছেন দুটি বিজ্ঞাপন চিত্রেও। এর মধ্যে অপো ফোনের বিজ্ঞাপনের শ্যুটিং হয়েছে দুবাইতে। অন্যদিকে সম্প্রতি রিলিজ পেয়েছে মৃত্যুপুরী সিনেমার প্রথম ঝলক। এ বিষয়ে শুভ বলেন, ‘এটা নিয়ে বেশি কিছু জানি না। “মৃত্যুপুরী” সিনেমার কাজ হয়েছে চার-পাঁচ বছর আগে। এরপর আর প্রযোজনা সংস্থা তেমন আপডেট জানায়নি। যে সিনেমার বিষয়ে জানিই না সে বিষয়ে কী বলব।’

করোনার কারণে সিনেমায় নেতিবাচক প্রভাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন আরিফিন শুভ। তিনি বলেন, ‘আমার তো মনে হয় করোনার নেতিবাচক প্রভাবটা সিনেমার জন্য ভালো হবে। আমি চাই সিনেমায় যে জরাজীর্ণতা আছে সেটা একেবারে শেষ হয়ে যাক। একেবারে সব শেষ হলে আবার নতুন করে সবকিছু জন্মাবে। করোনার আগে আমরা না এদিকে ছিলাম, না ওদিকে ছিলাম। আমার মনে হয় করোনার পর সিনেমা আরও ভালোর দিকে যাবে। পুরো ইন্ডাস্ট্রি নতুন করে জন্ম নেবে। এটুকু বলতে পারি। নতুন মেকার, নতুন শিল্পী নতুন সব মানুষ নিয়ে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি আবার যাত্রা করবে বলেই আমার মনে হয়। সিনেমার সব ধ্বংস হয়ে আবার নতুন করে শুরু হোক। এটাই আমি চাই।’

করোনা-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে জয়প্রিয় এ নায়ক বলেন, ‘আমি ভবিষ্যতের কথা ভাবি না। আমি এই মুহূর্তের কথা ভাবি। আমার কাছে এই মুহূর্তটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার আশপাশের মানুষদের সাবধানে চলা, সাবধানে রাখা এবং নিজেই নিজের পরিবারের সবাইকে নিরাপদ রাখাই আমার এখনকার কাজ। নিজের এবং পরিবারের দায়িত্ব আমার। আমার পরিবারকে কেউ বাঁচাতে পারবে না যদি আমি সুরক্ষা নিশ্চিত না করি। আমি যদি বাইরে চলে যাই বা অরক্ষিতভাবে চলাফেরা করি তাহলে আমার এবং পরিবারকে বাঁচানো সম্ভব নয়। এই মুহূর্তে আমি এবং আশপাশের সবাইকে নিরাপদ রাখাই হচ্ছে আমার একমাত্র লক্ষ্য। জীবন থাকলে গল্প থাকবে, জীবনটাই যদি না থাকে প্রতিজ্ঞা দিয়ে কী করব। আর সবার উদ্দেশে বলব, যার যতটুকু আয়ু সে ততদিন বাঁচবে। নিজের আয়ুর কথা ভেবে সবাই সতর্ক থাকুন, সচেতনতামূলক নির্দেশনা মেনে চলুন। সবাইকে সুস্থ রাখবেন। আগামী যে কদিনই বাঁচি না কেন, সবাই যেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকি। এতটুকুই আমার প্রত্যাশা।’