Home শীর্ষ কাহিনি করোনাকালের ঈদ করোনাকালের আনন্দ

করোনাকালের ঈদ করোনাকালের আনন্দ

SHARE
Eid

আনন্দ আলো প্রতিবেদন : কেমন যেন এক হাহাকারের ঈদ এসেছে এবার। ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। কিন্তু দুটোর একটাও পুরোপরি নেই। বরং মানুষের মনে ভয় আর শংকা। এই বুঝি নতুন কারও মৃত্যুর খবর এলো। কাল যার সাথে দেখা হয়েছে আজ হয়তো তিনি নেই। না ফেরার দেশে চলে গেছেন। প্রতিদিন বাড়ছে অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর মিছিল। মৃত্যু ভয়ে ঈদের আনন্দ অনেকটাই ফিঁকে হয়ে গেছে। স্বাভাবিক বছরে এই সময়ে ঈদের বাজার জমজমাট হয়ে ওঠে। এবারের ঈদের বাজার যেন অন্যরকম। জনশূন্য হীন। ঈদের কেনাকাটায় অনেকেরই মনযোগ নেই। মনযোগ থাকবে কী করে? ভয়-আতংককে সাথে নিয়ে তো আর উৎসব করা যায় না।
যে মুহূর্তে এই লেখাটি লিখছি তখন পাশের দেশ ভারতের অবস্থা মোটেই ভালো নয়। করোনার ভয়াল থাবায় ভারতের জন জীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত। উদ্বেগজনক হারে মৃত্যুর মিছিল ক্ষণে ক্ষণে বড় হচ্ছে। অক্সিজেনের অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর একটাইÑ করোনা। লন্ড ভন্ড করে দিচ্ছে জীবন যাত্রা। করোনার ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্থ মানুষ। করোনা-অদৃশ্য এক ভাইরাস। দেখা যায় না। অথচ পৃথিবীকে অশান্ত করে তুলেছে। পৃথিবী অশান্ত থাকলে পৃথিবীর বাসিন্দা মানুষ তো আর স্বস্তিতে থাকতে পারে না। প্রতিদিন করোনার প্রকোপ বেড়েই চলেছে। আর তাই আনন্দ আর খুশি সাহস করে বলতে পারছে না আমরা এসেছি। বরং আনন্দ আর খুশিও যেন বিব্রত। এমন বিপদের দিনে মানুষকে কীভাবে হাসাবে তারা। কীভাবে আনন্দ দিবে।
বাস্তবতা হলো করোনা আমাদের মাথার উপর থেকে নির্ভরতার ছাদ গুলো একে একে সরিয়ে নিচ্ছে। একটা প্রজন্মের মানুষ হঠাৎ নাই হয়ে যাচ্ছেন। তারা আমাদের অভিভাবক। আমাদের বাতিঘর। যে কোনো সংকটে আমরা অভিভাবকদের কাছেই ছুটে যাই। বরেন্য শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামান আমাদের সকল সৃষ্টিশীল কর্মের অনুপ্রেরণা। শামসুজ্জামান খান পাশে এসে দাঁড়ালেই কী এক মানসিক শক্তি জাগ্রত হয়। কামাল লোহানী, আজাদ রহমান, আলী যাকের আমাদের সংস্কৃতির আয়না। যাঁদের সামনে দাঁড়ালেই ভালো কাজের শক্তি ও সাহস পেতাম সবাই। অথচ তারা আজ নেই। করোনা সবাইকে পৃথিবী থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। যাকেই খুঁজি সেই নাই। কী এক অশান্ত ভীতিকর পরিবেশে এসেছে এবারের পবিত্র ঈদ।
বলছিলাম পাশের দেশের কথা। ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। সীমান্ত রেখা দেখলেই অবাক হতে হয়। একই বাড়ির এক ঘর বাংলাদেশে অন্য ঘর ভারতে। দুই দেশের মধ্যে এমন সম্পর্ক। করোনায় ভারত পর্যূদস্ত। সীমান্ত বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। তাই বলে আমরা কিন্তু নির্ভার নই। পাশাপাশি বাড়ির একটিতে আগুন লাগলে অন্য বাড়িও পুড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। কাজেই এবারের ঈদে আনন্দের চেয়ে উৎকণ্ঠাই বেশী প্রভাব ফেলেছে। তবে জীবন থেমে নেই। ঈদ উৎসব বলে কথা। ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে প্রতিদিন নির্ধারিত কাজে বের হচ্ছে মানুষ। মার্কেট খোলা। অফিস আদালত খোলা। গার্মেন্টস সহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলা। ভয়ের মধ্যে আনন্দ খোঁজার চেষ্টা সবার মাঝে।
তবুও ঈদ উৎসব পালিত হবে সারাদেশে। করোনার প্রকোপে মানুষের আয় রোজগার কমে গেছে। অনেকে চাকরি হারিয়েছে। বিত্তবানদের উচিৎ এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ঈদ একার আনন্দ নয়। সমষ্টিগত মানুষের আনন্দের মাঝেই ঈদের আনন্দ পুর্নতা পায়। কাজেই যাদের সামর্থ আছে তাদের উচিৎ এই ঈদে বিপদগ্রস্থ অসহায় মানুষ ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। পাশাপাশি দুটি বাড়ি। একটি বাড়িতে ঈদের আনন্দ থই থই করছে। অন্যবাড়িটিতে কোনো আনন্দ নাই। এভাবে ঈদ আনন্দ পুর্নতা পায় না। কাজেই আমাদের সকলের উচিৎ প্রতিবেশীর প্রতি খেয়াল রাখা।
প্রিয় পাঠক, একটি ছোট্ট কৈফিয়ত দিতে চাই। ঈদ সংখ্যা আনন্দ আলো মানেই ‘এক ব্যাগ আনন্দ আর এক ব্যাগ আলো’র বর্নাঢ্য আয়োজন। কিন্তু এবারও সেই আয়োজন করা গেল না। কেন করা গেল না সেই ব্যাখ্যায় যাবার কী প্রয়োজন আছে? পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সীমিত পরিসরে হলেও আনন্দ আলো ঈদ সংখ্যা প্রকাশ হলো। এজন্য সকল বিজ্ঞাপন দাতা, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রিয় পাঠক আপনাদের প্রতি। করোনার এই দুঃসময়েও ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। মানবতার জয় হোক এই কামনা আমাদের। দেশকে ভালোবেসে ভালো থাকুন সকলে।
ঈদ মোবারক