Home আরোও বিভাগ সিনেমা ওয়াও! এক মাসে ছয় ছবি!

ওয়াও! এক মাসে ছয় ছবি!

SHARE
Dhaka-Attack

সুবর্ণা হক: এক মাসে ৬ ছবি। খবরটা বড়ই আনন্দের। যে সময়ে ছবির শুটিং হয় না। এফডিসিতে খা খা পরিবেশ। আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ কি? এই ধরনের নানা প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই সময়ে এক মাসে ৬ ছবি মুক্তির ঘটনা আনন্দের তো বটেই। ৬টি ছবিই বেশ আলোচিত। মুক্তির আগে থেকে ফিল্ম পাড়ায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবে দর্শক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

৬টি নতুন ছবির মধ্যে ৬ অক্টোবর সারাদেশে মুক্তিপাবে তরুণ নির্মাতা দীপঙ্কর দীপনের আলোচিত ছবি ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিটিতে আরিফিন শুভ, মাহিয়া মাহীর পাশাপাশি আরও অভিনয় করছেন নায়ক আলমগীর, আফজাল হোসেনসহ অনেকে। একই দিন ঢাকাসহ সারাদেশে ইমতিয়াজ আহমেদের নতুন ছবি ‘মাটির প্রজার দেশে’ মুক্তিপাবে। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।

১৩ অক্টোবর ঢাকাসহ সারাদেশে মুক্তি পাবে গুণী পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবরের নতুন ছবি ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৌসুমী, মীম, বাপ্পি, ডিপজলসহ অনেকে। একই দিন মুক্তি পাবে সারোয়ার হোসেনের নতুন ছবি ‘খাসজমিন’। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাইমন ও বিপাশা কবির।

২০ অক্টোবর ঢাকাসহ সারাদেশে মুক্তি পাবে বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত নতুন ছবি ‘গহীন বালুচর’। ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুবর্ণা মুস্তাফা, রাইসুল ইসলাম আসাদ, নীলাঞ্জনা নীলা, আবু হুরাইরা তানভীর, ফজলুর রহমান বাবু, বন্যা মির্জাসহ অনেকে।

Film২৭ অক্টোবর ঢাকাসহ সারাদেশে মুক্তি পাবে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘ডুব’। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউড তারকা ইরফান খান, তিশা, রোকেয়া প্রাচীসহ অনেকে।

গত মাসে ঢাকাসহ সারাদেশে মুক্তি পেয়েছে সরকারি অনুদানে নির্মিত ইমপ্রেস টেলিফিল্ম-এর নতুন ছবি আকরাম খান পরিচালিত ‘খাঁচা’। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে আহসান, মামনুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ অভিনয় করেছেন। ছবিটি ইতোমধ্যে দর্শক প্রিয় হয়ে উঠেছে।

Film-1বহুদিন পর দেশে এক মাসে ৬টি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এজন্য চলচ্চিত্রাঙ্গনে একটা সাড়া পড়ে গেছে। বিশিষ্ট নির্মাতা মতিন রহমান বলেছেন, অনেক দিন পর দেশে এক মাসে অধিক সংখ্যক ছবি মুক্তি পাচ্ছে, এটি খুশির খবর। তবে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা না করা গেলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। একই সঙ্গে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো মানসম্মত হয়েছে কি না তাও বেশগুরুত্বপূর্ণ। অনেক ছবি যেমন দরকার, তেমনি দরকার ভালো ছবিও।

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, এক মাসে ৬টি ছবি মুক্তি পাচ্ছে অনেক দিন পর। তাই বেশ আনন্দ পাচ্ছি। ৯০ এর দশক পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে দুটি অর্থাৎ মাসে কম করে হলেও ৮টি নতুন ছবি মুক্তি পেয়েছে। তখনকার দিনে বেশ মানসম্মত ছবি হতো। দর্শক সিনেমা হলের প্রতি আগ্রহী ছিল। ফলে সিমেনা হলের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। কিন্তু এক সময় আমাদের সিনেমায় অশ্লীলতা ও নি¤œমানের কাহিনী ভর করায় দর্শক কমে যেতে শুরু করে। সিনেমা হলে দর্শক ফিরিয়ে আনতে হলে ভালো গল্পের ছবি বানাতে হবে।

আমরাও মনে করি ভালো গল্পের ছবি দরকার। গল্পের সঙ্গে যোগ্য পরিচালকও প্রয়োজন। কারণ সিনেমায় পরিচালককেই বলা হয় ক্যাপ্টেন অব শীপ। তীব্র ¯্রােতের সঙ্গে লড়াই করে জাহাজটিকে কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া যাবে তা একমাত্র যোগ্য ক্যাপ্টেনই জানেন।

বাংলা সিনেমার জয় হোক।

চরিত্রটি অনেক পছন্দ হয়েছে

মাহিয়া মাহী

mahiজনপ্রিয় নাট্য নির্মাতা রবিন খান তার জীবনের প্রথম সিনেমা নির্মাণ শুরু করেছেন। ইমপ্রেস-এর ব্যানারে ছবিটি নির্মিত হচ্ছে। নাম ‘মন দেব মন নেব’। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা অর্থাৎ রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে ছবিটির শুটিং চলছে। সম্প্রতি ঢাকায় আনন্দ মুখর পরিবেশে ছবিটির একটি গানের শুভ মুক্তি ঘোষণা করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এসময় পরিচালক রবিন খান, গায়িকা সিথি, সুরকার ও গীতিকার কবীর বকুল, ছবির ক্যামেরাম্যান মাহফুজুর রহমান সহ চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

‘মন দেব মন নেব’ ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন আলোচিত চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহী। তার সঙ্গে রয়েছেন নবাগত নায়ক শিবলী নওমান। ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী আমাদের চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে কবরী। ছবিটিতে অভিনয়ের ব্যাপারে চিত্রনায়িকা বেশ উচ্ছ¡াস প্রকাশ করেছেন। মাহী বলেন, ছবিটির কাহিনী অর্থাৎ গল্পটা দারুণ। আমার চরিত্রের নাম মোহনা। মধ্যবিত্ত পরিবারের ডানপিটে স্বভাবের মেয়ে আমি… চরিত্রটি অনেক পছন্দ হয়েছে।

 

 

যৌথ প্রযোজনার নতুন নীতিমালায় যা থাকছে

যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। এই বিষয়ে চলচ্চিত্র পরিবারের পক্ষ থেকে আন্দোলনও করা হয়েছে। সেই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থগিত রয়েছে যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মাণ। সরকার ইতিমধ্যে যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের লক্ষ্যে নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করেছে। নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো-

১. যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত সকল চলচ্চিত্রের যেকোন প্রচার-প্রচারণায় যৌথ প্রযোজনার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শিল্পী ও কলাকুশলীদের নাম সমানভাবে ও গুরুত্বসহকারে উল্লেখ থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শিল্পীর ছবি সমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

২. বিদেশি কোন প্রযোজক বা পরিচালক যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা ভঙ্গ করলে পরবর্তী সময়ে তিনি বা তারা বাংলাদেশে যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের অনুমতি পাবেন না।

৩. পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যৌথ চলচ্চিত্র পরিচালক নিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে। তবে সাধারণভাবে যৌথ চলচ্চিত্র প্রযোজনার ক্ষেত্রে প্রধান চরিত্রের অভিনয় শিল্পী এবং মূখ্য কারিগরি কর্মীসহ শিল্পী ও কলাকুশলী সমানুপাতিক হারে নিয়োগের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। কাহিনীকার, সংলাপ রচয়িতা, চিত্রনাট্যকার, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, গায়ক-গায়িকা, সহকারী পরিচালক, নৃত্য পরিচালক, কোরিওগ্রাফার, চিত্রগ্রাহক, সম্পাদক, শিল্প নির্দেশক, বিশেষ দৃশ্য পরিচালক, ব্যবস্থাপকসহ চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অন্যান্য ব্যক্তিরা কারিগরি কর্মী ও কলাকুশলী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

৪. বাস্তব কোন কারণ ও প্রয়োজনে শিল্পী ও কলাকুশলী সমানুপাতিক হারে নিয়োগ না করে কমবেশি করার আবশ্যকতা থাকলে যৌথ প্রযোজনার আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় যথাযথ যৌক্তিকতা প্রদর্শন করতে হবে। বাছাই কমিটির মতামত সাপেক্ষে মন্ত্রণালয় এ বিশেষ অনুমতি দেবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

৫. যৌথ প্রযোজনায় নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য পরীক্ষা ও পর্যালোচনাসহ পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পরীক্ষা করে চলচ্চিত্রটি নির্মাণের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ বা মতামত দিতে এবং নির্মাণ শেষে চলচ্চিত্র দেখে প্রদর্শনের জন্য চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে দাখিলের ছাড়পত্র দিতে বিএফডিসিতে (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন) একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হবে।

বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হবেন এই কমিটির সভাপতি। এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (চলচ্চিত্র), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজন সমিতির প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রতিনিধি ও সরকারের মনোনীত একজন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।

বিএফডিসির পরিচালক (উৎপাদন) এ কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটির প্রস্তাব বিবেচনা করে তথ্য মন্ত্রণালয় যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যাপারে চ‚ড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দেবে।

৬. যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের অনুমতি দেওয়া ও নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের বিষয়ে বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তের বিপরীতে কোন অভিযোগ থাকলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করতে পারবেন। আপিল আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি আপিল কমিটি থাকবে। তথ্য সচিব হবেন এ কমিটির সভাপতি। সদস্য হিসেবে থাকবেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম বা অতিরিক্ত সচিব ও সরকার মনোনীত চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন ব্যক্তি। বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়া বাছাই কমিটির অন্য কোনো সদস্য আপিল কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।

৭. যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্রের কাহিনী মৌলিক হতে হবে।

৮. চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের লোকেশন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমানুপাতিক হারে নির্ধারিত হবে। তবে কাহিনি ও চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে এবং বাস্তব কোন কারণে শুটিংয়ের লোকেশন সমানুপাতিক হারে নির্ধারণ করা না গেলে আবেদনপত্র দাখিলের সময় যথাযথ যৌক্তিকতা প্রদর্শন করতে হবে। বাছাই কমিটির মতামত সাপেক্ষে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিশেষ অনুমতি দেবে। কাহিনির প্রয়োজনে তৃতীয় কোন দেশ এবং দেশগুলোতে যৌথ চলচ্চিত্রের চিত্রায়ন করা যাবে।

৯. চ‚ড়ান্ত অনুমোদন ও চিত্রায়নের অনুমোদনের আগে চলচ্চিত্র নির্মাণ কাজ ও শুটিং শুরু করা যাবে না। চিত্রায়নের অনুমতি পাওয়ার পর ন্যূনতম ৭৫ দিন পার না হলে এই চলচ্চিত্র প্রিভিউর জন্য জমা দেওয়া যাবে না।

১০. যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র চিত্রায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লোকেশনে চিত্রগ্রহণের কমপক্ষে সাত দিন আগে স্থান ও তারিখ উল্লেখ করে বাংলাদেশি প্রযোজকের পক্ষ থেকে বিএফডিসিকে অবহিত করতে হবে। কোন প্রযোজক বা পরিচালক একই বছরে যে কোনো সংখ্যক যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারবেন।