SHARE

স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল গাজী টেলিভিশনের (জিটিভি) ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমান আশরাফ গ্রামীণফোন, ইউনিলিভারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বড় দায়িত্ব পালন করেছেন।  জিটিভিতে ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে টিভি মাধ্যমের জন্য নতুন নতুন সব আইডিয়া নিয়ে কাজ করছেন।  বর্তমানে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলের অবস্হা, অনুষ্ঠান সম্পর্কে দর্শকদের প্রত্যাশাসহ সার্বিক বিষয়ে আনন্দ আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন।  লিখেছেন  সৈয়দ ইকবাল

আনন্দ আলো: দেশে চব্বিশটিরও বেশি টেলিভিশন চ্যানেল থাকার পরও আমরা কী সব শ্রেণির দর্শকদের বিনোদন দিতে সক্ষম হচ্ছি, আপনার কী মনে হয়?

আমান আশরাফ: দেখুন, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে অনেকগুলো বিষয়ে কথা বলা দরকার।  আমাদের স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের যাত্রাটা যে সময় শুরু হয় তখন টিভি চ্যানেল ছিলো একটি অর্থাৎ বিটিভি।  এরপর এটিএন বাংলা, চ্যানেল আই, এনটিভি আসে।  পরবতর্ীতে আরো অনেক টিভি চ্যানেল এসেছে।  গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে স্যাটেলাইট চ্যানেলের যাত্রা বিটিভি সংশ্লিষ্ট মানুষদের দিয়েই শুরু হয়েছে।  আমি তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি সে সময়, যে চিন্তাভাবনাটা ছিল, যে সময় ছিলো, পারিপার্শ্বিকতা ছিল তার বাইরে তারা যেতে পারেননি।  ফলে একটা ফরম্যাটের মধ্যে চ্যানেলগুলো চলতে শুরু করে।  যতোই নতুন চ্যানেল আসুক সেই ফরম্যাটের বাইরে যেতে পারেনি।  এতে করে চ্যানেলগুলোর আইডেনটিটি তৈরি হয়নি।  প্লিজ, আমার কথা কেউ অন্যভাবে নিবেন না।  কারণ আমাদের এখানে যতোগুলো টিভি চ্যানেলই থাকুক না কেন চ্যানেলের লোগো উঠিয়ে দিলে বলা মুশকিল কোনটা কোন চ্যানেল।  প্রায় একই সময়ে সংবাদ, একই সময়ে নাটক, একই সময়ে টকশো, একই সময়ে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান চলছে তো চলছেই…।  ফলে দর্শক অনেকটা বিরক্ত দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলোর প্রতি।  সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে সময়টায় টিভি চ্যানেলগুলোর পথচলা শুরু হয় তখন কিন্তু ডিশ লাইনে ভারতীয়সহ বিদেশি এতোগুলো চ্যানেল পাওয়া যেতো না।  ফলে তখন চ্যালেঞ্জটাও এখনকার মতো ছিল না।  কিন্তু গত কয়েক বছরে ভারতীয় ও বিদেশি চ্যানেলের সংখ্যা বেড়েছে।  ফলে দর্শকদের রুচির পরিবর্তন হয়েছে।  কিন্তু সময়ের তুলনায় আমরা ‘নিজস্বতা’ তৈরি করতে না পারায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে গেছি।  তাই আমি বলবো অতীত যে ভাবে গেছে সেটা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নাই।  কিন্তু বর্তমানে প্রতিযোগিতার বাজারে অনেক নিত্যনতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে হবে এবং দর্শকদের জীবনযাত্রার মান, সামাজিকতার প্রেক্ষাপট এবং এগিয়ে যাওয়া বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং দর্শকদের কথা চিন্তা করেই প্রোগ্রাম বানাতে হবে।  এর কোনো বিকল্প নেই।  আমি এখানে একটি কথা উল্লখ করতে চাই।  আমাদের টেলিভিশন মিডিয়ায় দর্শকদের মাঝে জরিপ করে কখনোই কোনো অনুষ্ঠান কিংবা নাটক নির্মাণ করা হয়নি।  শুধু তাই নয় কোন সময় কোন দর্শক টিভি দেখে, কোন দর্শক কী ধরনের অনুষ্ঠান দেখতে চায় এমন কোনো ডাটা বা জরিপ আমাদের হাতে নেই।  ফলে আমরা (চ্যানেল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ) আমাদের পছন্দমতোই অনুষ্ঠান নির্মাণ করে আসছি।  সম্প্রতি জিটিভি একটা জরিপ চালায় এই বিষয়ে।  জরিপের পর একটা ভয়ংকর তথ্য পেয়েছি আমরা।  এতোদিন জেনে আসছিলাম টেলিভিশনে পিক আওয়ার হচ্ছে সাধারণত সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত বারোটা।  কিন্তু আমাদের জরিপ বলছে আরবান ট্রুথের বিশাল একটা সংখ্যা রাত এগারোটা থেকে একটা পর্যন্ত টিভি দেখতে পছন্দ করেন।  এই তথ্য এতোদিন আমরা জানতামই না।  ফলে আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো রাত এগারোটা থেকে একটা পর্যন্ত কী দেখাচ্ছে? টকশো, খবর কিংবা মিউজিক অনুষ্ঠান।  ফলে ঐ যে বিশাল আরবান ট্রুথ সংখ্যা তারা ঐ সময় চলে যাচ্ছেন বিদেশি কোনো চ্যানেলে।  কারণ আমরা তো ঐ মানুষটির জন্য কোনো বিনোদন রাখিনি।

আনন্দ আলো: অনেকেই মনে করেন আমাদের টিভি চ্যানেলের দর্শক কমে যাচ্ছে।  আপনার কী মত?

আমান আশরাফ: কিছুদিন আগে একটি জরিপের ফল দেখেছি যে, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ভারতীয় টিভি চ্যানেল দেখেন, ১৯ শতাংশ মানুষ দেশিয় টিভি চ্যানেল দেখেন, আর ১১ শতাংশ লোক অন্যান্য দেশের টিভি দেখেন।  প্রথমত আমার কাছে এই জরিপ পরিষ্কার না।  কারণ আমরা যারা টিভি চ্যানেল চালাই আমাদের সকলের টিআরপির উপর যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়, তার সাথে কিন্তু এই রিপোর্ট মিলে না।  আমার পড়াশোনা থেকে শুরু করে পরবতর্ী সময়ে কাজের বিভিন্ন সেক্টর পর্যন্ত সংখ্যা নিয়েই আমার কাজ।  যেহেতু ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল সায়েন্স তাই তখনও যেমন সংখ্যা নিয়ে কাজ করেছি, তেমনি কর্মজীবনে ইউনিলিভার, গ্রামীণফোনেও এই সংখ্যা নিয়ে কাজ করেছি।  তাই পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকেই এই বিষয়গুলো পাশাপাশি রেখে আমি জরিপটা বোঝার চেষ্টা করেছি।  তখন আমার কাছে বিষয়টা পরিষ্কার হয়েছে।  এই জরিপের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।  এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই তাহলো আমরা গত ঈদে বিরতিহীন অনুষ্ঠান চালানোর ফলে দেখেছি অনুষ্ঠানের চাইতে বিজ্ঞাপনের সময় দর্শক বেশি ছিল।  উদাহরণস্বরূপ যখন অনুষ্ঠান চলেছে তখন যদি একশো জন দর্শক ছিলেন ঠিক পরবতর্ী সময়ে বিজ্ঞাপন প্রচারের সময় দেখা গেছে একশো বিশ জন দর্শক হয়েছে।  এখন এই ডাটাকে কি বলা হবে? তার মানে দর্শক কিন্তু বিজ্ঞাপনও দেখতে চায়।  আমাদের দেশের পণ্যের বিজ্ঞাপন নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক মানের।  বিজ্ঞাপনগুলো অনেক বেশি সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন।  যাইহোক এটা অন্য আলোচনা।  তবে এমন জরিপ বিশ্বাস করা সত্যিই কঠিন।  কারণ আমরা বিরতিহীন অনুষ্ঠান করার ফলে যে রেসপন্স বিভিন্ন মিডিয়া, নিউজ পোর্টাল, দর্শক, কলাকুশলী, শিল্পীদের কাছ থেকে পেয়েছি সেই ডাটার সাথে কিন্তু এই জরিপের ডাটা মিলছে না।  কারণ এতোগুলো মানুষের ভুল হওয়া সম্ভব না।  তাই আমার মতে, আমাদের টেলিভিশনে দর্শক কমছে এটা বলবো না।  তবে প্রতিযোগিতার বাজারে দর্শক চাহিদার কথা মাথায় না রেখে অনুষ্ঠান নির্মাণ করলে দর্শক কমবে।  আমি ঐ যে পিক আওয়ার ও অফপিক আওয়ারের কথা বললাম, সেই আরবান ট্রুথ দর্শক তাদের জন্য কিন্তু অনুষ্ঠান দিতে হবে।  নতুবা তারা রিমোট চেপে অন্য কোথাও চলে যাবে।  ফলে তাদেরকে আমরা হারাবো।

আনন্দ আলো: জিটিভি কী সেই দর্শকদের জন্য কোনো অনুষ্ঠান নির্মাণ করছে?

আমান আশরাফ: হ্যাঁ।  করছে।  শুধু সেই দর্শকদের জন্যই নয়, সকাল থেকে রাত একটা পর্যন্ত এমন কি গভীর রাত পর্যন্ত দর্শকদের জন্যও জিটিভি অনুষ্ঠান নির্মাণ করছে।  অলরেডি প্রচারও করছে।  আমরা ঐ জরিপে আরেকটা তথ্য পেয়েছি।  আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার রাতে একটা অনেক বড় সংখ্যার মানুষ টিভি অনুষ্ঠান দেখতে চায়।  শুধু তাই নয়, তারা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে অনুষ্ঠান দেখতে চায়।  তাই আমরা চিন্তা শুরু করলাম সেই দর্শকদের জন্য কী করা যায়? আমরা একটা আইডিয়া নিলাম ডেইলি ফ্রাইট নাইট এর।  প্রতিদিন রাত ১২টায় আমরা একটা ভয়ের ছবি দেখাবো।  সপ্তাহের ছয়দিন ছয়টি পর্ব প্রচার হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে সেই ছয়টি পর্ব একসাথে করে একটি টেলিফিল্ম প্রচার করছি।  এটা কিন্তু মেগাসিরিয়াল না।  এটা ছয় পর্বের গল্পের একটা সিরিজ।  সেই ছয় সিরিজ নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি টেলিফিল্ম হয়ে যায়।  এক্ষেত্রে আমরা বেশ সাড়া পাচ্ছি।  সপ্তম দিন এটা শেষ হওয়ার পর আবার নতুন গল্প শুরু হয় অষ্টম দিন থেকে।  এটাকে আমরা বলছি সিক্সপ্লাস ওয়ান।  দেখুন এটার কিন্তু বেশ পজিটিভ সাইট রয়েছে।  যে দর্শক পুরো সপ্তাহ মিস করছেন তিনি একদিনেই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার পুরোটাই দেখতে পারছেন।  এটা নতুন একটি আইডিয়া।  এখানে সুবিধা দুটো।  একবার শুটিং করার জিনিস আমি দুবার চালাচ্ছি।  এবং দর্শকও খুশি।  আমাদের এই আয়োজনের ফলে দর্শক একটা ব্রেক পাচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস।  এর পাশাপাশি আমরা ফাইভ ফিমেল ধারাবাহিক, কুংফু পা াসহ বেশকিছু নতুন ধারার অনুষ্ঠান ও নাটক প্রচার করছি।  আমাদের চ্যানেলের  োগান অনুযায়ী সব অনুষ্ঠান সাজানোর চেষ্টা করছি।  অনেকাংশে সফলও হয়েছি।  জিটিভি সব ধরনের দর্শকদের কথা চিন্তা করেই অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচার করছে।

আনন্দ আলো: চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান প্রমোট করার বিষয়গুলো নিয়ে আপনার মতামত কী?

Folaroid-Frame-2আমান আশরাফ: এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  একটি চ্যানেলের অনুষ্ঠান তার দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর উপরই নির্ভর করে সেই অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা।  দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আমাদের দেশের চ্যানেলগুলো তার অনুষ্ঠান বা নাটক প্রমোশন খুব অযত্ন অবহেলায় করে থাকে।  অথচ পার্শ্ববর্তী দেশে একটি অনুষ্ঠান শুরুর আগে অন্য আরেকটি অনুষ্ঠান দিয়ে তাকে টেনে তোলে বা উপস্হাপন করে।  যেটাকে ক্রসপ্রমোশন বলে।  তাদের একটি রিয়েলিটি শো শেষ মানে পরে কোনটা শুরু হচ্ছে সেটার ঘোষণা দিতে থাকে।  আর তাদের প্রত্যেকটি নাটকের মিড বিজ্ঞাপনের প্রথম বিজ্ঞাপনটিই নতুন একটি অনুষ্ঠানের প্রমোশন বিজ্ঞাপন।  অথচ সেটা খুব দামি একটা  ট কিন্তু তারপরও তারা টাকার তোয়াক্কা করে না।  দর্শকদের সামনে অনুষ্ঠানটাই তুলে ধরে।  দুঃখজনক হচ্ছে আমাদের চ্যানেলগুলোতে অনুষ্ঠানের প্রমোশনটা যেনোতেনো ভাবে দেখানো হয়।  অফ পিক আওয়ারে কিংবা বিজ্ঞাপনের  ট না থাকলে তখুনি প্রমোশন চালায়।  এখন সেটা দর্শক দেখছে কি দেখছে না সেটা বিষয় নয়।  তবে জিটিভিতে সবচেয়ে দামি সময়েও অনুষ্ঠানের প্রমোশন চালানোর ঘটনা ঘটেছে।  আগে কি হয়েছে, সেটা বিষয় নয়, আমি আসার পর অনেক কিছুই নতুনভাবে করেছি।  বাংলাদেশের খেলা চলাকালীন সময়ে সবচেয়ে দামি  টে আমাদের প্রোগ্রামের প্রমোশন চালিয়েছি।  এই চর্চাটা আমরা শুরু করেছি।  যেহেতু ব্র্যান্ড নিয়ে অনেক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সেটাকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন ব্র্যান্ডিং করছি ।  ব্র্যান্ডিং এর ভাষায় ৩৬০ ডিগ্রি একটি শব্দ আছে।  অর্থাৎ চতুর্দিক থেকে একটি জিনিস বা পণ্যকে মানুষের কাছে জানানো।  আমরা ঠিক তেমনিভাবে আমাদের অনুষ্ঠান তথা চ্যানেলকে ব্র্যান্ডিং করছি।  পত্রিকা, ম্যাগাজিন বিলবোর্ড, পোস্টার, সামাজিক যোগাযোগ সাইট (ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার ইত্যাদি), অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ সব মাধ্যমেই ক্যাম্পেইন চালাচ্ছি।  কারণ একজন পত্রিকা দেখে জানবে, আরেকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অন্যজন বিলবোর্ড কিংবা অন্যকেউ অনলাইন পোর্টাল থেকে জানবে।

আনন্দ আলো: এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি।  আপনি টিভি মিডিয়ায় কাজ করেন এবং নানান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শকদের বিনোদন দিয়ে থাকেন।  তাই জানতে চাই আপনার বিনোদন কী?

আমান আশরাফ: এমনভাবে তো বিষয়টা কখনোই চিন্তা করিনি।  কাজটাই আমার আনন্দ।  কাজটাই বিনোদন।  একটা অন্যরকম আইডিয়া করে সেটা নিয়ে যখন নানান মানুষের কাছ থেকে সাড়া পাই, প্রশংসা পাই তখন আসলে অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে।  আমার কাছে এটাই বিনোদন।  এছাড়াও সব সময় রুমে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল দেখি কোন চ্যানেল কোন সময়ে কী প্রচার করছে।  কাকে নিয়ে অনুষ্ঠান নির্মাণ করছে কিংবা কার নাটক বেশি প্রচার করছে এমন বিষয়গুলোর দিকেও নজর রাখি।  এটাও আমার কাছে এক প্রকার বিনোদন।  পরিবার নিয়ে সময় কাটানো কিংবা বেড়ানোর সময় আমরা আসলে পাই না বললেই চলে।  সেই বিনোদনটা মিস করি।  এটার পরিবর্তে একটি চ্যানেলের এতো মানুষের একটা পরিবার পেয়েছি, এটা কী কম কথা।  কর্মক্ষেত্রের এই পরিবেশ এবং মানুষগুলোই তো আমার বিনোদন।