SHARE

সংসদনেতা, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছিলেন করোনাভাইরাসের দুর্যোগের সময় দলের নেতাদের পাশাপাশি সব সাংসদকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর । কিন্তু দলীয় প্রধানের সেই নির্দেশের পরও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২০০-এর বেশি সাংসদ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। করোনাকালীন দলটির হাতেগোনা যে কয়েকজন সাংসদ স্থানীয় জনগণের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের মধ্যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। কৌশিক বা নড়াইল এক্সপ্রেস নামেও খ্যাত মাশরাফী যেমন ব্যাট-বল হাতে নিয়ে মাঠে জ্বলে উঠেছিলেন, জয় করেছেন কোটি কোটি দর্শকের মন, তেমনি রাজনীতির মাঠে নেমেও একের পর এক ব্যতিক্রমী কর্মকা-ের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। সম্প্রতি করোনা মোকাবিলায় নিজ সংসদীয় আসন নড়াইলেও নানা প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে উদাহরণ তৈরি করেছেন মাশরাফী। করোনাদুর্গতদের সহায়তায় তহবিল জোগাতে নিজের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হাতের প্রিয় ব্রেসলেটটিও ৪২ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করেছেন তিনি।

সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর খেলার মাঠের পাশাপাশি রাজনীতির মাঠে নতুন  ইনিংস শুরু করেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। সাংসদ নির্বাচিত হয়ে অবহেলিত নড়াইল জেলাকে একটি মডেল জেলায় রূপান্তরের স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, জেলার অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব ক্ষেত্রেই তিনি সফল জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংকটময় সময়ে নড়াইলের চিকিৎসকসহ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মানবিক সাংসদ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এ ছাড়া নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন’র মাধ্যমেও এই সংকটময় মুহূর্তে কাজ করে চলেছেন তিনি।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথম চিকিৎসকদের নিরাপত্তার কথা ভেবেছেন সাংসদ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। সে কারণে প্রথমেই তিনি ব্যক্তিগত অর্থায়নে চিকিৎসক, সেবিকা, স্বাস্থ্য সহকারী ও মাঠপর্যায়ে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে ৬৪০টি পিপিই বিতরণ করেন। এ ছাড়া সদর হাসপাতালের প্রবেশদ্বারে জীবণুনাশক চেম্বার স্থাপন এবং ডাক্তার ও রোগী উভয়ের সুরক্ষার জন্য স্থাপন করেছেন ‘ডক্টরস সেফটি চেম্বার’।

করোনা আতঙ্কে যখন রোগীরা হাসপাতালে এসে চিকিৎসাসেবা নিতে ভয় পাচ্ছিলেন, তখন মাশরাফী ‘ডাক্তারের কাছে রোগী নয়, রোগীর কাছে ডাক্তার’ সেøাগনে নড়াইলে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা চালু করেন। নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অন্তত ২ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা ও বিনা মূল্যে ওষুধ দিয়েছে। নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনে মাশরাফীর দান করা অ্যাম্বুলেন্সটি সাধারণ মানুষের সেবায় সব সময় নিয়োজিত রয়েছে।

শুধু ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের চিকিৎসাসেবায় থেমে থাকেননি মানবিক সাংসদ মাশরাফী। রোগীরা যাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন, সে জন্য চালু করেছেন ‘টেলিমেডিসিন সেবা’। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মোবাইলের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করছে রোগীরা। এ ছাড়া করোনার লক্ষণ নিয়ে কোনো রোগী হাসপাতালে এলে যাতে সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা পায় সে ব্যবস্থাসহ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য ১০টি বেড নিয়ে করোনা ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। এর বাইরে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নড়াইল জেলা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে নড়াইল সদর হাসপাতালে একটি আইসি ইউনিট চালু এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান মাশরাফী।

কারাবন্দিদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে নড়াইল কারাগারের ১৪৪ বন্দির মাঝে ওয়াশেবল মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ, সাবান ও হ্যান্ড গ্লাভস বিতরণ করেছেন মাশরাফী। এই মানবিক সাংসদ মাশরাফী শুধু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেই বসে থাকেননি। করোনার কারণে দিনমজুর, মোটরশ্রমিক, ভ্যানচালক, কৃষিশ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, খেলোয়াড়, শিক্ষক, ইমামসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ যাতে অভুক্ত না থাকে, সে জন্য অন্তত ১৫ হাজার মানুষের মাঝে উপহারসামগ্রী ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। এর মধ্যে দলীয় নেতাদের মাধ্যমে চার হাজার পরিবারকে উপহারসামগ্রী, নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিন হাজার পরিবার, জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে এক হাজার অসচ্ছল সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং বাস, মিনিবাস, ট্রাক ও মোটরযানের ৮০০ শ্রমিকের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি। এ ছাড়া মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনদের খাবার ও নগদ অর্থ প্রদান, প্রতিটি এতিমখানা-মাদ্রাসায় ৫০ কেজি করে চাল উপহার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মাধ্যমে ৫০ জন পুরোহিতকে খাবার ও নগদ টাকা দিয়েছেন মাশরাফী। আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও ছাত্রলীগের অসচ্ছল নেতাকর্মীদের মাঝেও তিনি গোপনে উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছেন। এর বাইরে পবিত্র রমজান মাসে রাস্তাঘাটে কোনো রাজাদার যাতে ইফতার করতে কষ্ট না পান, সে জন্য  ভ্রাম্যমাণ ইফতারি বিতরণ কার্যক্রম চালু রেখেছেন এই সাংসদ।

সম্প্রতি তিনি নড়াইলে এসে কয়েকটি ইউনিয়নের ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের খোঁজ নিয়েছেন এবং নিজে উপহারসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। ভ্যানচালকদের মাঝে নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহার, সরকারি ত্রাণের তালিকা প্রস্তুত ও বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তদারকিও অব্যাহত রেখেছেন মাশরাফী।

করোনার এই সংকটকালীন মুহূর্তে তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কৃষিবান্ধব এই সাংসদ তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ধান কাটার চারটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন কিনে দিয়েছেন কৃষকদের। যাতে শ্রমিক সংকটের এই দুর্দিনে কৃষকরা যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন।

সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক, প্রশাসনিক, পুলিশ বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক নিয়ে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ পরিচালনা করে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে করোনা মোকাবিলাসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে এলাকার জনগণের সেবা অব্যাহত রেখেছেন মাশরাফী।

সর্বশেষ তিনি ১৮ বছর ধরে ব্যবহৃত তার প্রিয় ব্রেসলেটটিও নিলামে ৪২ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এই টাকাও করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করবেন। নিজ এলাকার করোনা দুর্গতদের সহায়তায় আগামীতে আর কী কী করতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে নড়াইল-২ আসনের সাংসদ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের সুরক্ষাসহ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় যা যা করণীয় তার সবই করা হবে। তবে এই মুহূর্তে আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই।’