Home সাক্ষাৎকার এগিয়ে যাচ্ছে বাপ্পা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস

এগিয়ে যাচ্ছে বাপ্পা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস

SHARE

মোহাম্মদ তারেক: সঙ্গীত হচ্ছে আত্মার যোগ। হৃদয়ের টান। সঙ্গীত হচ্ছে গুরুবিদ্যা। সাধনা ছাড়া সঙ্গীত সিদ্ধি কখনোই সম্ভব নয়। সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে মনের পরিশুদ্ধি মেলে। সঙ্গীত সাধনার পূর্বশর্ত হচ্ছে অনুশীলন। সেদিন পৌষের এক বিকেলে আমরা গিয়েছিলাম বাপ্পা অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের গানের অনুশীলনে। প্র্যাকটিস রুমে ঢুকেই দেখা হলো জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক বাপ্পা মজুমদারের সাথে। সে সময় তিনি একটি গানের কর্ড বাজাচ্ছিলেন। তার সাথে তাল মিলিয়ে জন শাটন বেজ গিটার বাজানো শুরু করলেন। বাপ্পাকে দেখা গেল এই মিউজিকের সাথে হামিং করতে। ধীরে ধীরে একটি নতুন সুর সৃষ্টি হলো।
এই সুরের সাথে তাল রেখে ডানো আসেত্ম আসেত্ম ড্রামে বিট দিতে শুরু করলেন। সৃষ্টি হয়ে গেল একটি নতুন গানের সুর ও কম্পোজিশন। এরই মধ্যে বাপ্পা গানের একটি দু’টি লাইন গাওয়া শুরু করলেন। জমে উঠল পুরো প্র্যাকটিস রুম। এভাবে প্রায় আধঘন্টা প্র্যাকটিস সেরে ফেলল তারা। চা পানের বিরতি দেয়া হলো। এ সময় জন শাটন জানালেন, আমরা সবাই অনেক সিরিয়াস। শো থাক বা না থাক সপ্তাহে অনত্মত তিনদিন প্র্যাকটিসে বসি। কারণ প্র্যাকটিস না করলে মিউজিক ঠিক থাকে না। মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যায়। প্র্যাকটিসটা অনেক জরুরি বলে মনে করেন তারা। চা পানের বিরতি শেষ হলে বাপ্পা মজুমদার একে একে গাইলেন ‘কারে দেখাব মনের দুঃখ গো’, ‘গাড়ি চলে না চলে নারে’, ‘বেনানন্দ’সহ কয়েকটি গান। গানের ফাঁকে ফাঁকে একে অপরের ভুলগুলো ঠিক করে নিচ্ছিলেন। এইভাবে একটানা অনুশীলনের পর আবার বিরতির ঘণ্টা বাজল। জমে উঠলো আনন্দ আলোর আড্ডা। জানা গেল বাপ্পা অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের শুরুর কথা। ২০১৩ সালের শেষের দিকে যাত্রা শুরু হয় এ গানের দলটির। ব্যান্ড গড়ার আইডিয়াটা আসে বেজ গিটার তানিমের মাথা থেকে। কিন্তু কিছুদিন যেতেই চট্টগ্রামে পারি জমান তিনি। তার জায়গায় আসেন জন শাটন। এরপর আরেক সদস্য ফান্টির জায়গায় আসেন ডানো। লাইন আপে আর কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এখন বাপ্পা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস সদস্যরা হলেন, ভোকাল ও গিটারে বাপ্পা মজুমদার, বেজ গিটারে জন শাটন, কি-বোর্ডে শোহেল আজিজ, ড্রামসে ডানো, গিটারে মাসুম এবং ম্যানেজার শাহান কবন্ধ। নতুন করে আবার ব্যান্ড করার কারণ কী? এ প্রশ্নের জবাবে বাপ্পা মজুমদার বলেন, আমরা সাধারণত শ্রোতাদের কথা মাথায় রেখে কিংবা নিজস্ব ঢঙে গান করে থাকি। অনেক সময় এর বাইরেও কিছু করতে মন চায়। সেটা করার জন্য এই উদ্যোগ। গত বছরের শেষের দিকে বাপ্পা অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের প্রথম অ্যালবাম বের হয়। অ্যালবামের নাম ছিল ‘বেনানন্দ’। জিরোনা বাংলাদেশ থেকে অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়েছে। এ অ্যালবামটিতে লালন ও রাধারমনের তিনটি করে, হাছন রাজা ও মনমোহন দত্তের একটি করে গান রয়েছে। গানগুলোর শিরোনাম ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, ‘বাড়ির পাশে আরশি নগর’, ‘জাত গেল জাত গেল বলে’, ‘কারে দেখাব মনের দুঃখ গো’, ‘শ্যাম কালিয়া সোনা বন্ধুরে’, ‘বনমালি তুমি পরজনমে হইও রাধা’, ‘আগুন লাগাইয়া দিল কনে’ ও ‘বেনানন্দ’।
বাপ্পা অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের প্রথম অ্যালবাম প্রসঙ্গে বাপ্পা মজুমদার বলেন, লোকগান নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ বেশি। কারণ গানগুলো সবার আগে থেকেই শোনা। এক্সপেরিমেন্টটা কতটা হয়েছে, কি হয়েছে, পরিচিত গান হলে সেটা সহজে বোঝা যায়। আর তাই ‘বেনানন্দ’ অ্যালবামটি লোকগান নিয়ে সাজানো হয়েছে। রবি রেডিওতে শোনা যাচ্ছে ‘বেনানন্দ’ অ্যালবামের গানগুলো। অ্যালবামটি নিয়ে কেমন সাড়া পেলেন? প্রশ্নের জবাবে ব্যান্ডের কি-বোর্ড বাদক সোহেল আজিজ বলেন, এখন পর্যনত্ম বেশ ভালোই সাড়া পাচ্ছি।
Bappaইতিমধ্যে বাপ্পা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস ব্যান্ডটি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে লাইভ শো করেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে কনসার্ট করে যাচ্ছে নিয়মিত। সব জায়গাই মিলছে ইতিবাচক সাড়া। তাদের এই সফলতার কারণ সম্পর্কে গিটার বাদক মাসুম বলেন প্রতিনিয়ত নিজেদের ভালো করার চেষ্টা করছি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে বাপ্পা অ্যান্ড ফ্রেন্ডসে যারা বাজাচ্ছেন তারা সবাই অসাধারণ। মাসুমের কথা শেষ হতেই বাপ্পা বলেন, ব্যান্ডের বৈচিত্র্য আনার জন্য ভবিষ্যতে আমাদের সঙ্গে আরো মিউজিশিয়ান যোগ হতে পারেন যারা তবলা, খোল প্রভৃতি দেশি যন্ত্র বাজাবেন।
এরই মধ্যে নিজেদের প্রথম মিউজিক ভিডিওর কাজও সেরে ফেলেছেন তাঁরা। এজন্য বেছে নিয়েছেন ‘বেনানন্দ’ টাইটেল গানটি। কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন অনলাইনে ও টিভি চ্যানেলে ভিডিওটির প্রচার শুরু হবে।
ব্যান্ড সঙ্গীতের বর্তমান অবস্থা কী? এ প্রশ্নের জবাবে বাপ্পা বলেন, ব্যান্ড সঙ্গীতের অবস্থা অবশ্যই ভালো। তবে আমাদের অডিও বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রোডাকশন কোম্পানিগুলোর সমস্যা, পাইরেসির সমস্যা। যার কারণে একসময় ব্যান্ডের যে জোয়ারটা ছিল সেই জোয়ারটা এখন নেই বললেই চলে। ব্যান্ডগুলো চেষ্টা করছে অনলাইনে অ্যালবাম বের করার। এরই মধ্যে বেশ কিছু অ্যালবাম বের হয়েছে। এটা একটা ভালো দিক। এখন ভালো গান হচ্ছে কিন্তু শ্রোতারা ঠিকমতো গানটা শুনতে পাচ্ছে না পাইরেসির কারণে। পাইরেসি নকল গানসহ নানা কারণে অনেক ক্ষেত্রে ভালো গান মার খেয়ে যাচ্ছে।
দলছুটের খবর কী? এ প্রশ্নের জবাবে বাপ্পা বলেন, দলছুটের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত। অনেকদিন ধরেই পুরনো গানগুলোই করছি। নতুন সাউন্ড ও নতুন গান নিয়ে আসা দরকার। দলছুটের গানের মূল উপাদান লিরিক। আমরা সেই মানের লিরিকের সন্ধানে আছি। আরেকটি বড় কারণ সঞ্জীব দা। তিনি চলে যাওয়ার পর বিশাল একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। আগে দু’জন সব কিছু শেয়ার করতাম। গান নিয়ে বসতাম। বোঝাপরাটাও ছিল দারুণ। তার লিরিক মানেই অন্যকিছু। সুরের ধরনটাই অন্যদিকে চলে যেত। এই জায়গাটাই আমরা পিছিয়ে পড়েছি।
বর্তমানে বাপ্পা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস দ্বিতীয় অ্যালবামের কাজ নিয়ে ব্যসত্ম রয়েছে। নজরুল সঙ্গীতের এই অ্যালবামটি এবছরই প্রকাশ করতে চান বলে জানিয়েছেন তারা। এদিকে একক ক্যারিয়ার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন বাপ্পা মজুমদার। পাশাপাশি তার বাপ্পা অ্যান্ড ফ্রেন্ডসও চলছে।