SHARE

তাহলে কী ফেলে আসা দিন গুলোই শ্রেষ্ঠ? সেই যে আমার নানান রঙের দিনগুলিই কী সেরা? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশিষ্ট নির্মাতা আফজাল হোসেন নির্মিত একটি বিজ্ঞাপন সিনেমা ঘুরে বেড়াচ্ছে। মরণঘাতি এইডস এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিজ্ঞাপনটি ৮০’র দশকে নির্মাণ করেন আফজাল হোসেন। আজকের সময়ে বিজ্ঞাপনটি দেখে যারপর নাই অবাক হয়েছি। সেই সময়ের আলোচিত দেশের এমন কোনো শিল্পী নাই যিনি বিজ্ঞাপনটিতে অংশ নেননি। আজকের বাস্তবতায় এ ধরনের একটি কাজে আলোচিত শিল্পীদেরকে কী এইভাবে সংগঠিত করা সম্ভব? প্রসঙ্গটি এক আড্ডায় তুলতেই আড্ডায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠরাই অভিন্ন সুরে বললেন, আজকের সময়ে জনপ্রিয় শিল্পীদেরকে এভাবে এক জোট করা মোটেই সম্ভব নয়। যারা এই বিজ্ঞাপনটিতে অংশ নিয়েছেন তারাও বোধকরি এখন আর এভাবে সময় দিবেন না।
তার মানে বর্তমান বাস্তবতা কী এতটাই রুঢ়? প্রশ্ন তুলতেই একজন নাট্য নির্মাতা বললেন, ‘আপনাকে একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই। আশির দশকে আফজাল হোসেন যখন এই বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেন তখন আমাদের মাঝে বানিজ্যিক চিন্তা-ভাবনা ততটা সরব ছিল না। সরব ছিল দেশাত্ববোধ। দেশের জন্য কিছু একটা করার তাড়না ছিল প্রবল। যে কোনো মূল্যে একটি ভালো কাজে অংশ নিতে হবে এই তাড়নাই সবাইকে ব্যস্ত রাখতো। রিহার্সেল ছাড়া টিভি নাটকের শুটিং হতো না।
আর এখন টিভি নাটকের শুটিং এর আগে কেউ কী রিহার্সেল করে নেবার কথা ভাবে? রিহার্সেল তো দূরের কথা, আটিস্টদের সবাই কি পান্ডুলিপি পড়ে শুটিং এ যায়? যায় না। কাজেই আশির দশকের ওই পরিবেশ এখন তো পাওয়া মুশকিল।
তার মানে কী দাঁড়াল? আমরা কি এগুচ্ছি? নাকি পিছিয়ে যাচ্ছি? আশির দশকে যারা এক সাথে একটি সামাজিক সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছিলেন তাদের নাম গুলো একবার দেখুনÑ সৈয়দ আব্দুল হাদী, শাবানা, আলমগীর, মামুনুর রশীদ, ফেরদৌসী মজুমদার, আবুল হায়াত, সাবিনা ইয়াসমীন, ববিতা, হুমায়ূন ফরীদি, কায়সার হামিদ, আসলাম, টুটুল, চুন্নু, সুবর্না মুস্তাফা, অঞ্জনা, অমিত হাসান, শাবনাজ, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, খুরশিদ আলম, রোজী সামাদ, দিতি, সোনিয়া, আইয়ুব বাচ্চু, নকীব খান, মাকসুদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, নীমা রহমান, শমী কায়সার, অরুনা বিশ্বাস, আফজাল হোসেন, আলী যাকের, জিনাত বরকত উল্লাহ, শামীম আরা নীপা, শিবলী মুহম্মদ, মৌসুমী, শাইখ সিরাজ, জুয়েল আইচ, আবেদ খান, সানজিদা খাতুন, আনোয়ার হোসেন, ওমর সানী, সুবীর নন্দী, ইয়াসমীন মুশতারী, আজিজুল হাকিম, শামসুর রাহমান, রফিক আজাদ, জাহিদ হাসান, ইলিয়াস কাঞ্চন, সামিনা চৌধুরী সহ আরও কতই না পরিচিত মুখ। এক সাথে হয়েছিলেন একটি সামাজিক সচেতনতা মূলক বিজ্ঞাপনে অংশ নিতে। তার মানে গোটা বাংলাদেশই তো দাঁড়িয়েছিল এক সাথে?
আজকের সময়ে আবার যদি এরকম কোনো কাজে এদের সবাইকে ডাকা হয়, সাড়া কী মিলবে? সম্মানীত ব্যক্তি বর্গের মধ্যে বর্তমানে অনেকেই জীবিত নেই। কিন্তু যারা আছেন তারাও কি পারবেন এভাবে পরস্পরের পাশে দাঁড়াতে? যেখানেই কথাটা তুলি সেখানেই ‘না’ শব্দের প্রতিধ্বনী হয়। কেন রে ভাই, না কেন? ‘হ্যা’ বলতে সমস্যা কোথায়?
বিজ্ঞাপনটির নির্মাতা আফজাল হোসেনকে প্রশ্ন করেছিলাম, আশির দশকে কিভাবে এত বড় কাজটি করেছিলেন? মৃদু হেসে তিনি বললেন, তখনকার দিনে আমরা অনেকেই আজকের দিনের মতো এতোটা স্বার্থপর ছিলাম না। ভালো কাজে সবাই নিঃস্বার্থভাবে ঝাপিয়ে পড়তাম। সময় পাল্টেছে। এখন আমরা অনেকেই স্বার্থের বাইরে এক পাও এগুতে চাই না। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে…
প্রিয় পাঠক, এব্যাপারে আপনাদের মন্তব্য জানতে চাই। কলম ধরুন, প্লিজ…