Home প্রতিবেদন শাহ সিমেন্ট সুইট হোম ঊর্মির স্থাপত্য ভুবন

ঊর্মির স্থাপত্য ভুবন

SHARE

সানজিদা শামস ঊর্মি। বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য স্থপতি। তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর সমন্বয়ে স্থাপত্যশিল্পে সৃষ্টিশীল কাজ করে যাচ্ছেন। ২০০০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর স্থাপত্য বিভাগ থেকে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা শেষ করেই তিনি এসোসিয়েট আর্কিটেক্ট হিসেবে যোগ দেন তানিয়া করিম এন আর খান এসোসিয়েটস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। ২০০৫ সালে তিনি স্কলাশটিকা গ্রæপে সিনিয়র আর্কিটেক্ট হিসেবে তিন বছর কাজ করেন। এরপর যোগ দেন অটবী লিমিটেড-এ চিফ আর্কিটেক্ট হিসেবে। ২০১০ সালে নিজে গড়ে তোলেন ‘ইনোভা আর্কিটেক্টস’ নামের একটি কনসালটেন্সি ফার্ম। এযাবৎ তিনি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র করে অনেকের নজর কেড়েছেন। এবার শাহ্ সিমেন্ট সুইট হোমে তাকে নিয়েই প্রতিবেদন। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক
দুই ভাই বোনের মধ্যে সানজিদা শামস্ ঊর্মি বড়। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলায়। জন্ম চট্টগ্রামে হলেও তার বেড়ে ওঠা ঢাকায়। ঊর্মির বাবার নাম মরহুম এ কে এম শামসুল আলম। তিনি আমেরিকান এ্যাম্বেসির লাইব্রেরী ডিরেক্টর ছিলেন। মা কানিজ ফাতেমা শিক্ষিকা ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। গান গাওয়া, বই পড়া ছিল তার পছন্দের বিষয়। লেখালেখিও করতেন। নিজের ইচ্ছা থেকে আর্কিটেক্ট হওয়া তার।
অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন ১৯৮৮ সালে। ১৯৯০ সালে ইউনিভার্সিটি ল্যাবেরটরি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর স্থাপত্য বিভাগে। স্থপতি সানজিদা শামস্ ঊর্মি ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন ২০০০ সালে। পাস করে বের হওয়ার পর পরই এসোসিয়েট আর্কিটেক্ট হিসেবে একবছর তানিয়া করিম এন আর খান এসোসিয়েটস নামের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। এরপর আর্কিটেক্ট হিসেবে যোগ দেন আর্কিটেকটন প্রাইভেট লিমিটেড-এ। সেখানে চার বছর কাজ করেন। ২০০৫ সালে তিনি সিনিয়র আর্কিটেক্ট হিসেবে যোগ দেন স্কলাশটিকা গ্রæপে। সেখানে তিন বছর কাজ করার পর ২০০৮ সালে তিনি অটবীতে যোগ দেন। সেখানে চার বছর কাজ করেন। ২০১০ সালে সানজিদা শামস্ ঊর্মি নিজে গড়ে তোলেন ‘ইনোভা আর্কিটেক্টস’ নামের একটি কনসালটেন্সি ফার্ম। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল আর্কিটেক্ট এবং স্বত্বাধিকারী।

ইতিমধ্যে তিনি দেশের নামকরা ফ্যাক্টরি বিল্ডিং, স্কুল, ব্যাংক, স্কুল, অফিস বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং সহ অসংখ্য ভবনের ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র করেছেন। তানিয়া করিম এন আর খান এসোসিয়েটস নামের প্রতিষ্ঠানে থাকাকালীন তার কাজের মধ্যে রয়েছে গ্রীন্ডল্যাজ স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত আনিসুল হক এর বাসভবনের ইন্টেরিয়র, স্কলাশটিকা গ্রæপে থাকাকালীন তার উল্লেখযোগ্য কাজ মিরপুর-১৩ তে স্করাশটিকা স্কুল, অটবী লিমিটেড এ থাকাকালীন তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছেÑ অটবী কর্পোরেট অফিসের ইন্টেরিয়র, নকিয়া সিমেন্স হেড অফিস, তেজগাঁও-এ এসপিএল টাওয়ার, বসুন্ধরায় গ্রামীণফোনের হেড অফিসের রিসিপশন, মিনিটোরিয়াম, মাইক্রোস্পেকট্রাম ইত্যাদি কাজ করা, ডেইলী স্টার অফিসের কনফারেন্স রুম, এন্ট্রিলবী, মতিঝিলে বিসিবিএল হেড অফিস, ঢাকা, চট্টগ্রামের রিহ্যাব ইত্যাদি। তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের হয়ে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছেÑ গুলশান-১ এ কোটো গ্যালারী, নারায়নগঞ্জ ইপিজেড-এ অনন্তা হুয়াজিয়াং ফ্যাক্টরি, পল্টনে আইএফআইসি হেড অফিসের ইন্টেরিয়র, বনানীতে ব্যুরো ভ্যারিটাজ অফিস, গুলশান-২ এ খ্যাতিমান স্থপতি মুস্তফা খালিদ পলাশ এর আবাসিক ভবনের ডেলভিস্তা মনোতারা ইন্টেরিয়র, ধানমন্ডিতে ডা: শামীম এর অ্যাপার্টমেন্ট নিসর্গ, লেবএইড কার্ডিক হাসপাতালের কিছু কিছু অংশের ইন্টেরিয়র (রেনুভেশন), বারিধারা ডিওএইচএস এ আইপিএ গেøাবাল, নরসিংদী মাধবদীতে ম্যাক টেক্সটাইল, মহাখালি ডিওএইচএস এ গুয়াতেমালার কনস্যুলেট অফিস, রূপপুরে মনিটরিং সেল, চট্টগ্রাম, রংপুর, দোহারে কিছু বিল্ডিং প্রজেক্ট সহ অসংখ্য ভবনের ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র করেছেন। এছাড়াও তিনি বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টের কাজ করছেন।
স্থাপত্যচর্চার বাইরে তিনি লেখালেখি করেন। গান তার পছন্দের বিষয়। ভালোবাসেন দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াতে। সময় পেলেই মেয়েকে নিয়ে পাড়ি জমান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। তিনি মনে করেন বিশ্বের বিভিন্ন স্থান ও স্থাপনা পরিদর্শন তার চিন্তা ভাবনাকে বিকশিত হতে সাহায্য করে সব সময়। এই স্থপতি এক কন্যা সন্তানের জননী। মেয়ের নাম অত্রি। সে শহীদ আনোয়ার গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ এ নবম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে।
সানজিদা শামস্ ঊর্মি বলেন, আমি আমার কাজের মধ্যে কাঠ, বাঁশ, পাথর, মার্বেল, গøাস, মিরর এবং বিভিন্ন ধরনের লাইট এসব গুলোকে কম্বিশন করে ইন্টেরিয়র ডিজাইনটা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। আমার কাজের মধ্যে লাইটটা বেশি প্রাধান্য পায়। আমার কাজের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ম্যাক্সিমাম ইউটিলাইজেশন অব মিনিমাম স্পেস। মর্ডান আর্কিটেক্টরা বলেন থাকেন খবংং রং গড়ৎবÑ অল্প জায়গাকে যত বেশি কাজের যোগ্য করা যায়। আমিও আমার ডিজাইনে এই ভাবধারাটা বজায় রাখার চেষ্টা করি। বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি কাজে নজর দেন সানজিদা শামস্ ঊর্মি। পাশাপাশি পেশার কাছে দায়বদ্ধ থেকে সেটাকে সততার সঙ্গে শেষ করতে তৎপর থাকেন সর্বদা। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্থপতি সানজিদা শামস্ ঊর্মি বলেন, আর্কিটেক্টদের জন্য একটা সুষ্ঠু কর্পোরেট কাজের পরিবেশ তৈরী করে ক্লায়েন্টদের সন্তুষ্টির জায়গাটাকে পরিপূর্ণতা দিতে চাই।