Home প্রতিবেদন ঈদ উৎসব আয়োজনে চাই কিছু সতর্কতা

ঈদ উৎসব আয়োজনে চাই কিছু সতর্কতা

SHARE

বছর ঘুরে আবার এলো ঈদ। আর ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। তাই ঈদ উৎসবকে নিয়ে কতনা উচ্ছ¡াস আয়োজন। ছোট-বড় সবাই মেতে উঠবে এই আনন্দ উৎসবে। ঈদের আনন্দটা শিশুদের যেন একটু বেশি। ঈদের ছুটি। স্কুল বন্ধ। শিশুরা কি আনন্দেই না কাটাবে দিনগুলো। কয়েকদিনের ছুটি পেয়ে শিশুরা এরই মধ্যে নানা বাড়ি কিংবা দাদা বাড়ি যাওয়ার জন্য বায়না ধরেছে। কেউ কেউ চলেও গেছে। সারা বছর সম্ভব না হলেও অভিভাবকরা ঈদের ছুটির এই সময়টিতে শিশুদের আবদার রাখার চেষ্টা করেন। পড়াশোনার কারণে শিশুরা সারা বছর চাপের মধ্যে থাকে। ঈদ উৎসবে ছুটির সময়টাতে কী করবে তার পরিকল্পনা করতে থাকে। নানা রকম বায়নায় বাবা-মাকে অস্থির করে তোলে। অনেক সময় অফুরন্ত এই ছুটিটাই শিশুদের অসুখ বিসুখের কারণ হয়। হঠাৎ করে বেশ কয়েকদিনের ছুটি থাকায় শিশুদের চলতে থাকা নিয়মের হুট করে পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনটা শিশুদের শরীর সহজে মেনে নিতে পারে না। এ সময় শিশুরা লাগাম ছাড়া দুরন্ত হয়ে ওঠে। খাওয়া-দাওয়া বাদ দিয়ে খেলাধুলাই তাদের কাছে মুখ্য হয়ে যায়। আর এই অনিয়মের কারণে শিশুদের অনেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই পরিবারের ছোট্ট সোনামণি অর্থাৎ আদরের শিশুদের যতœআত্তির ব্যাপারে বিশেষ যতœবান হওয়া অতি জরুরি। আর গরমে তো এই যতেœর মাত্রাটা আরো বেশি হওয়া উচিত। অন্যান্য সময়ের তুলনায় গরমকাল শিশুদের জন্য কষ্টকর হয়ে থাকে। একদিকে প্রচÐ গরম, অন্যদিকে বৃষ্টি। তাইতো গরম ঠাÐার কারণে শিশুর শরীরে রোগ জীবাণু বাসা বাঁধে খুব সহজেই। ফলে এমন আবহাওয়ায় শিশুদের নানান অসুখ বিসুখ হতে পারে। যেমন- ঘামাচি, সর্দিজ্বর থেকে শুরু করে ইনফ্লুয়েঞ্জা, জলবসন্ত, ডায়রিয়া, জন্ডিস, সাইনাসে প্রদাহ, টনসিল ছাড়াও দেখা দিতে পারে কানের নানাবিধ সমস্যা। একটু বেশি যতœই পারে তাদেরকে সুস্থ রাখতে।
ঈদে মজার মজার খাবার
ঈদের আনন্দ-উৎসবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে বাহারি পদের রান্না । মজার মজার রান্নাগুলো করার আগে অবশ্যই আপনাকে জীবানুমুক্ত হাতে রান্না করতে হবে সে ক্ষেত্রে মহিলারা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে পারেন। মেহমান অ্যাপায়ন বা পরিবারের সবাই মিলে মজাদার খাবার খাওয়ার আগে ও পরে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার কথাটা ভুলবেন না।
গোসলের সময় করবেন না এই ৬টি কাজ
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য গোসলের প্রয়োজন। তবে আপনি জানেন কি এই গোসল আপনার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে? কি অবাক হচ্ছেন? গোসলের সময় ছোট ছোট কিছু ভুল আপনার ত্বক এবং চুলের ক্ষতি করে থাকে। সাধারণ এই ভুলগুলো নিজের অজান্তে আমরা কম বেশি সবাই করে থাকি।
১। প্রতিদিন এক্সফলিয়েট করা
আপনি হয়তো ভাবছেন প্রতিদিন ত্বক এক্সফলিয়েট করা ত্বকের জন্য ভাল। এটি ত্বকের ধুলোবালি দূর করে দেয়। কিন্তু অতিরিক্ত এক্সফলিয়েট ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এটি ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক করে তোলে। মুখের ত্বকের মত শরীরও প্রতিদিন স্ক্রাব করা উচিত নয়। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার স্ক্রাব করা ভাল।
২। প্রতিদিন সাবান ব্যবহার
সাধারণত সাবানে কোন ময়েশ্চারাইজার থাকে না যেমন অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান অথবা সুগন্ধি সাবান। এই সাবান প্রতিদিন ব্যবহারে ত্বক অনেক বেশি শুষ্ক হয়ে যায় এবং ত্বকের নমনীয়তা নষ্ট হয়। এমনটি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের অ্যাডভান্সড ডার্মকেয়ার ইন ড্যানইউরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোনা গোহারা। তাই ময়েশ্চরাইজার সমৃদ্ধ সাবান ব্যবহার করা উচিত।
৩। দীর্ঘসময় গোসল
ড. গোহারা বলেন, ‘অনেকেই আছেন যারা দীর্ঘসময় ধরে গোসল করেন। মনে করেন যে দীর্ঘসময় ধরে গোসল করলে শরীরের ময়লা ভালোভাবে পরিষ্কার হবে। শরীরের ময়লা পরিষ্কার হয় ঠিকই কিন্তু এতে শরীরের স্বাভাবিক তেল নিঃসরণ কমে যায়। যার ফলে ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক এবং রুক্ষ। তাই দীর্ঘসময় ধরে গোসল করা শরীরের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
৪। মুখ ধোয়া
বেসিন কিংবা কলের পানির চেয়ে শাওয়ারে মুখ ধোয়া বেশ সহজ। অনেকেই শাওয়ারের নিচে মুখ ধুয়ে থাকে। কিন্তু এটি আপনার ত্বকের ক্ষতি করে। শাওয়ারের মুখ ধোয়ার পরিবর্তে কুসুম গরম পানি অথবা ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। অনেকে মনে করেন ঠান্ডা পানি লোমক‚প বন্ধ করে দেয়। এটি ভুল ধারণা। রূপ বিশেষজ্ঞ অসধফরহব ওংহধৎফ বলেন “ঠান্ডা পানি ত্বকের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে, যা ত্বকে ফ্রেশ লুক দিতে সাহায্য করে”।
৫। লুফার পরিবর্তন না করা
ত্বক এক্সফলিয়েট করার জন্য লুফা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু একই লুফা সব সময় ব্যবহার করা উচিত নয়। পুরাতন লুফা ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হয় যা ত্বকে ইনফেকশন, র‍্যাশ সৃষ্টি করে। চার সপ্তাহ পর পর লুফাটি পরিবর্তন করুন। লুফার পরিবর্তে আপনি সুতির কাপড় ব্যবহার করতে পারেন।
৬। গোসলের পর ময়েশ্চরাইজার
ব্যবহার না করা
গোসলের পর অনেকেই ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন না। কিন্তু গোসলের পর পর যতটা সম্ভব দ্রæত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। শরীর ভেজা থাকা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার লাগানো ত্বকের জন্য ভালো। এতে ত্বক নরম এবং মসৃণ থাকে।
একটি জরুরি পরামর্শ
পানির অপর নাম জীবন। তবে পানি হতে হবে অবশ্যই বিশুদ্ধ। গরমের এই সময়ে ঘামে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। ফলে অনেকের শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। তাই বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি পানের ব্যাপারে সচেতন থাকুন। দিনে কম করে হলেও ১০/১২ গøাশ পানি পান করুন। পরিবারের ছোট সদস্য অর্থাৎ শিশুরা সহজে পানি খেতে চায় না। তাদেরকে বুঝিয়ে পানি পান করতে শেখান। তাদেরকে সময়মতো হাত ধোয়ার ব্যাপারটি যেমন শেখানো জরুরি তেমনি জরুরি বিশুদ্ধ পানি পান সহ পুস্টিকর খাবারের ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলা। পবিত্র ঈদ উৎসবে সবাই সুস্থ থাকুন। আনন্দ আলো ও ডেটল কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে এটাই শুধু কামনা।

মডেল: তাবিন্দা, লুবনা, দৃতি, তাসফিয়া, সিনহা, তিথি, রোহান