Home আরোও বিভাগ সিনেমা ঈদে মুক্তির মিছিলে তিন ছবি

ঈদে মুক্তির মিছিলে তিন ছবি

SHARE

ঈদ বিনোদনের অন্যতম আকর্ষন সিনেমা। যুগ যুগ ধরে ঈদ উৎসবে নতুন সিনেমাদেখে আনন্দের পূর্ণতায় ভাসে দর্শক। আর সে কারণে প্রতি ঈদে মুক্তি পায় একাধিক সিনেমা। ঈদে সিনেমা দেখাকে ঐতিহ্যও মনে করেন অনেকে। খুশির এই দিনে নানা আনন্দ আয়োজনের তালিকায় যুক্ত হয় পরিবার-পরিজন নিয়ে সিনেমা দেখা। আমাদের এই উপমহাদেশে প্রাচীনকাল থেকে এ ঐতিহ্য চলে আসছে। ঢালিউডের শুরুতে ঈদে কমপক্ষে দুটি ছবি মুক্তি পেত। একসময় এ সংখ্যা বেড়ে ১০ পর্যন্ত বেড়েছিল। এবছর নতুন সিনেমা মুক্তি নিয়ে নির্মাতাদের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে অনেক আগে থেকেই। ঈদে নতুন সিনেমা মুক্তি মানেই নিঃসন্দেহে মুনাফার মুখ দেখা। অন্য সময় দর্শক প্রেক্ষাগৃহমুখী না হলেও ঈদে বেশ ঘটা করে সিনেমা দেখতে যায়। তাই একদিকে দর্শকের আনন্দ, অন্যদিকে নির্মাতার ঘরে লাভের অঙ্ক। দুইয়ে মিলে ঈদের আনন্দ বেড়ে যায় বহু গুণ। উৎসব হিসেবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতারা এখন পর্যন্ত ঈদকে সেরা সময় বলে মনে করেন। তাই তো এ সময় নিজেদের সেরা সিনেমা মুক্তি দিতে চান সবাই। শুধু সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রেই নয়, প্রচারণাতেও থাকে ভিন্নতা। ইন্টারনেটের কল্যাণে সিনেমার প্রচারণায় এসেছে বিশেষ মাত্রা। এখন ফেসবুক, ফ্যানপেজ, টুইটার, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুটিং শুরু হওয়ার আগে থেকেই প্রচারণায় সরব হয়ে ওঠেন সংশ্লিষ্টরা।
ঈদের ছবি নিয়ে ঢাকাই চলচ্চিত্র বাজারের দর-পতনের হিসাব সবচেয়ে বেশি হয় চলচ্চিত্রপাড়া খ্যাত কাকরাইলে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই ব্যবসা মন্দার সময়ে দুই ঈদ উৎসবের দিকেই তাকিয়ে থাকেন প্রযোজকরা। আশায় থাকেন লাভের। তাই ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকে অনেক ছবি। প্রতি বছরই এমনটি দেখা যায়। ঈদে মুক্তির আওয়াজ দেওয়া হয় হাফ ডজন ছবি। শেষ পর্যন্ত সেটা কাটছাঁট হয়ে নেমে আসে তিন বা চারে। রোজার আগে একাধিক সূত্র আসন্ন ঈদে সাতটি ছবি মুক্তির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল। পাশাপাশি প্রযোজনা সংস্থার বরাতে জানা যায় চারটি ছবির নিশ্চয়তা। ছবিগুলো ছিল শাকিব খান-বুবলী অভিনীত ‘পাসওয়ার্ড’, রোশান-ববি অভিনীত ‘বেপরোয়া’, তারিক আনাম খান-স্পর্শিয়া অভিনীত ‘আবার বসন্ত’ ও নবাগত শান্ত খান-নেহা আমান্তি [কলকাতা] অভিনীত ‘প্রেমচোর’। এর বাইরে ছিল শাকিব-নুসরাত ফারিয়া ও রোদেলার ‘শাহেনশাহ’, মাহি অভিনীত ‘অবতার’ ও জয়া আহসান-ফেরদৌসের ‘বিউটি সার্কাস’। তবে রোজা শুরু হতে না হতেই পাল্টে যায় চিত্র। সাত থেকে নেমে এলো তিনে। এখন সব ঠিক থাকলে আসন্ন ঈদে তিনটি ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে একাধিক সূত্রের বরাতে। তবে একেবারেই যে নিশ্চিত সেটা নয়। শেষ নাগাদ মুক্তির দোরগোড়ায় কারা পৌঁছাতে পারে, সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।

ঈদে মুক্তির বিষয়টি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে ‘পাসওয়ার্ড’, ‘নোলক’ ও ‘আবার বসন্ত’। হল বুকিংও চলছে তিনটি ছবির।
এমনিতেই ঈদ উৎসব মানেই শাকিব খানের ছবি। গত এক দশকে দেশের সিনেমা হলগুলো তার ছবি দিয়েই চাঙ্গা করে রেখেছে প্রেক্ষাগৃহ। ব্যতিক্রম হচ্ছে না এবারও। আসছে ঈদেও ঢালিউড কিংয়ের থাকছে দুটি ছবি। এগুলো হলো সাকিব সনেটের ‘নোলক’ ও মালেক আফসারীর ‘পাসওয়ার্ড’। ফলে শাকিবকে নিজের সঙ্গেই প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নামতে হচ্ছে ঈদে। ‘নোলক’ ছবিতে শাকিব আসছেন চিত্রনায়িকা ববিকে নিয়ে আর ‘পাসওয়ার্ড’-এও থাকছেন বুবলী। এর মধ্যে ‘পাসওয়ার্ড’ নির্মিত হয়েছে শাকিব খানের নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে। শাকিব খান বলেন, ‘আমার ভক্তরা ঈদে ভালো কিছু দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। তাদের জন্যই পাসওয়ার্ড। ছবিটি তাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে আমার বিশ্বাস।’
অন্যদিকে নোলক শাকিবের প্রচারণার এ সুবিধা পাচ্ছে না। ছবির পরিচালক-প্রযোজক দ্ব›েদ্বর কারণে ছবিটি নিয়ে কথাই বলছেন না শাকিব। তবে নোলকের গান ও ট্রেলার প্রকাশের পর প্রশংসিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককেই ছবিটির প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে। এই দুই ছবির বাইরে অনন্য মামুনের ‘আবার বসন্ত’ নিয়ে আলোচনাও বেশ। ইতিমধ্যে হল বুকিংও শুরু হয়েছে বলে জানান নির্মাতা। আবার বসন্ত ভিন্ন ধারার একটি গল্প।
ছবিটি নিয়ে অভিনেতা তারিক আনাম খান বলেন, ‘ছবির গল্প অসাধারণ। যখন শুটিং করি তখনই মনে হয়েছে দারুণ কিছু হচ্ছে। এখন শুনলাম এটি ঈদের ছবি। ঈদে এমন একটি ছবি দর্শকরা পেলে তাদের ঈদ মন্দ কাটবে না। এখন সবার কাছে প্রত্যাশা ছবিটি যেন তারা হলে গিয়ে দেখেন।’ সবকিছু ঠিক থাকলে শাকিবের ‘নোলক’ আর ‘পাসওয়ার্ড’-এর বাইরে ‘আবার বসন্ত’ও আশাবাদ জাগাচ্ছে।