Home শাহ সিমেন্ট নির্মাণে আমি ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলমের গড়া টি.ডি.এম

ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলমের গড়া টি.ডি.এম

SHARE

ইঞ্জিনিয়ার মো: শামসুল আলম। বাংলাদেশের খ্যাতিমান একজন কাঠামোগত প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ। একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘ তিন দশক এর বেশি সময় ধরে স্থাপনাশিল্পের কাঠামোগত ডিজাইন করে চলেছেন। ১৯৮২ সালে বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯০ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটির আইবিএ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। ২০০২ সালে নিজে গড়ে তোলেন ‘দি ডিজাইনারস এন্ড ম্যানেজারস (ঞ.উ.গ) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এযাবৎ তিনি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার স্ট্রাকচারাল ডিজাইন করে অনেকের নজর কেড়েছেন। এবার শাহ সিমেন্ট সুইট হোমে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক
চার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট ইঞ্জিনিয়ার মো: শামসুল আলম। তিনি ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা। শামসুলের বাবার নাম শারুফুউদ্দীন আহমেদ। তিনি পেশায় ডাক্তার ছিলেন। মা শামসুন্নাহার গৃহিনী। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ডাক্তার হওয়ার সুবাধে বাবা-মা চাইতেন তাদের ছোট সন্তানও বড় হয়ে ডাক্তার হবে। কিন্তু তিনি হয়েছেন সফল একজন প্রকৌশলী। নিজের ইচ্ছা থেকেই প্রকৌশলী হওয়া তার। গভর্নমেন্ট ল্যাবেরটরী স্কুল থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন ১৯৭৫ সালে। ১৯৭৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ১৯৮২ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ‘প্রস্তাপনা লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানে কাঠামোগত প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৯০ সালে তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটির আইবিএ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি স্ট্রাকচারাল ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন স্থপতি সংসদ-এ।

১৯৯৪ সালে ইঞ্জিনিয়ার মো: শামসুল আলম পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সেখানে রানহিল বার্সেকুটু এসডিএন বিএইচডি নামের কনসালটেন্সি ফার্মে কাজ করেন। দেশের জন্য কিছু করার তাগিদে মালয়েশিয়ার চাকরি ছেড়ে ১৯৯৮ সালে দেশে ফিরে আসেন মো: শামসুল আলম। দেশে ফিরে এসে তিনি যোগ দেন গ্যাসমিন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। সেখানে কয়েক বছর কাজ করার পর ২০০২ সালে নিজে গড়ে তোলেন ‘দি ডিজাইনারস এন্ড ম্যানেজারস’ (ঞ.উ.গ) নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও প্রিন্সিপ্যাল স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে দেশের মানুষকে সহযোগিতা করছেন তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার মো: শামসুল আলম দীর্ঘ তিন দশক ধরে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ কাজ করে যাচ্ছেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে। ইতিমধ্যে তিনি দেশের নামকরা ইউনিভার্সিটি, জাদুঘর, হসপিটাল, পার্টি অফিস, ফ্যাক্টরী বিল্ডিং, গার্মেন্টস, ফার্মাসিটিক্যালস বিল্ডিং, স্কুল, হোটেল, পাওয়ার প্ল্যান্ট, অফিস বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং সহ অসংখ্য বিল্ডিংয়ের স্ট্রাকচারাল ডিজাইন করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছেÑ আগারগাঁও এ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ পার্টি অফিস, তেজগাঁও এ আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফার্মগেট খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট ভবন, তেজগাঁও এ ইমপালস হসপিটাল বিল্ডিং, চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে হোটেল দ্যা পেনিনসুলা চিটাগং, চট্টগ্রামের পাহাড়তলিতে আই এইচ এল হাসপাতাল, বসুন্ধরায় আন্তর্জাতিক কোম্পানী এফ সি পি এস এর সঙ্গে আগাখান স্কুল, টাঙ্গাইল কালিয়াকৈর এ নাসির গ্লাস ফ্যাক্টরী, সিএনসি সি সি এর সঙ্গে হোসেন কেমিক্যালস, আশুলিয়াতে ইফাদ মাল্টি প্রডাক্টস, মানিকগঞ্জে ইফাদ অটোস অফিস বিল্ডিং, চট্টগ্রাম ও সাভার নবীনগরে বার্জার পেইন্টসের ফ্যাক্টরী বিল্ডিং গাজীপুর টঙ্গীতে পপুলার ফার্মাসিটি ক্যালস লিমিটেড, ফ্যাক্টরী বিল্ডিং, গাজীপুরে জেনারেল ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড এর ফ্যাক্টরী বিল্ডিং, সিদ্ধিরগঞ্জে ডাচ বাংলা পাওয়ার প্ল্যান্ট, নাটোর ও ফেনীতে রাজলঙ্কা পাওয়ার প্ল্যান্ট, আশুগঞ্জের মিডল্যান্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট মেঘনা ঘাটে এইচ এল পাওয়ার প্ল্যান্ট, মুন্সীগঞ্জের ডিজিটাল পাওয়ার প্ল্যান্ট সহ অসংখ্য ভবনের স্ট্রাকচারাল ডিজাইন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টের কাজ করছেন।

১৯৮৭ সালে তিনি বিয়ে করেন। স্ত্রীর নাম আসিয়া কাউসার। তিনি বেঁচে নেই। এই প্রকৌশলী দুই সন্তানের বাবা। বড় ছেলে তারেক আলম মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি কানাডা প্রবাসী। মেয়ে নাবিলা কাউসার ইউকে তে চাকরি করছেন।
প্রকৌশলী মো: শামসুল আলম বলেন, দি ডিজাইনারস এন্ড ম্যানেজারস (টি.ডি.এম) মূলত স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ফিডে কাজ করে। এর পাশাপাশি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের কাজও করে থাকে। দেশের স্থাপত্য পেশায় জড়িত মোটামুটি সব কোম্পানিকে আমরা স্ট্রাকচারাল সার্পোট দিয়ে থাকি।
ইতোমধ্যে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ চ্যালেঞ্জিং কাজ করে অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এই মুন্সিয়ানার ছাপ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের ভবনেও ফুটে উঠেছে। পাওয়ার সেক্টরে টিডিএম কাজ করেছে দেশী-বিদেশেী কোম্পানীর সাথে। নাটোর, ফেনী পাওয়ার প্ল্যান্ট এল.টি.এল শ্রীলংকার সাথে করেছে। এছাড়াও মোট ৮টি পাওয়ার প্ল্যান্ট এর সাথে উপদেষ্টা হিসেবে আমরা জড়িত ছিলাম। আন্তর্জাতিক কোম্পানী ঋ.ঈ.চ.ঝ (টক) এর সাথে আগাখান স্কুল, ঈঘঈঈঈ এর সাথে হোসেন কেমিক্যাল এর কাজ করেছি।
প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের কিছু উল্লেখ করার মতো কাজ হলো আওয়ামীলীগ পার্টি অফিস। এখানে ১৫ মাসের মধ্যে একটা ১০ তলা ভবন সম্পুর্ণভাবে কমপ্লিট করে দেওয়া হয়। এছাড়াও ইমপালস হসপিটাল, চট্টগ্রামের হোটেল পেনিনসুলা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের সাথে ঞ.উ.গ যুক্ত ছিল।
এই প্রকৌশলী তার কাজ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করতে ভালোবাসেন। নিজের পেশায় দায়বদ্ধ থেকে সেটাকে সততার সঙ্গে শেষ করতে চান।