SHARE

রাশেদ খান মেনন, সভাপতি, বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টি

সহজ কথা যায় না বলা সহজে। আবার কম সময়েও প্রয়োজনীয় কথা বলা সহজ হয় না। এসো আড্ডা দেই, পাঁচ মিনিট… এ ধরনের কথা শুনলে প্রথমেই অনেকে না-না করে উঠবেন। বলবেন, আরে ভাই মাত্র পাঁচ মিনিটের আড্ডায় কি বলব? শুরু করতে করতেই তো শেষ হয়ে যাবে। এতো গেল ব্যক্তিগত পর্যায়ের আড্ডা। কিন্তু আড্ডাটা যদি হয় কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য। সময় মাত্র পাঁচ মিনিট অর্থাৎ ৩০০ সেকেন্ড। উপস্থাপক প্রশ্ন করবেন। অতিথি উত্তর দিবেন। বাস্তবেও তাই হয়েছে। চ্যানেল আইতে শাহরিয়ার নাজিম জয়-এর উপস্থাপনায় ৩০০ সেকেন্ড নামের একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান বেশ জমে উঠেছে। এই অনুষ্ঠানেরই বাছাই করা ১০০জন বিশিষ্ট ব্যক্তির ৩০০ সেকেন্ড অর্থাৎ  পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎকার নিয়ে আনন্দ আলোর ঈদ সংখ্যার একটি বিশেষ আয়োজন এখন বাজারে। আজ থেকে অনলাইনে শুরু হলো এই সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত একশজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার…

জয়: আপনাকে নিয়ে রাজনীতিতে তোলপাড়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় এমনটা কেন?
মেনন: আমি তো মানুষটাই তোলপাড়
জয়: আপনি কী এটা ইচ্ছা করে করেন?
মেনন: জ্বী না। বিভিন্ন ধরনের ঘটনাই আমাকে সে পরিস্থিতিতে নিয়ে যায়।
জয়: আপনি কয়েকদিন আগে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন যার কারণে অনেক সমালোচনার স্বীকার হয়েছেন। আপনি কী এখনো আপনার কথায় অনঢ়?
মেনন: জী আমি যা বলেছি তার মধ্যে কিছু ভুল ছিল কিন্তু তার কিছু অংশ আমি বিশ্বাস করি।
জয়: আপনি যদিই সবই জানতেন, তাহলে কেন নির্বাচনের পরের দিন বলেন নি।
মেনন: আমি না বললেও পার্লামেন্টে তো এই কথা উঠেছে। নির্বাচনের পরেই বলা হয় যে আমাদের দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা যেদিকে আগাচ্ছে তা মোটেই দেশের ভবিষ্যতের জন্য কোন সুগম পথ নয়।
জয়: লোকে বলে আপনি মন্ত্রী না পাওয়ার ক্ষোভে এসব বলেছেন। এ বিষয় কী বলবেন?
মেনন: ২০১২ সালের শেষের দিকে এই প্রধানমন্ত্রীই আমাকে মন্ত্রী হওয়ার নিমন্ত্রণ দিয়েছিলেন কিন্তু তখন তো আমি হইনি। কারণ মন্ত্রী হওয়াটা আমার জন্য মুখ্য বিষয় ছিল না।
জয়: আপনার সাথে ‘ক্যাসিনো’ নামটা জড়িয়ে গিয়েছে। সে সম্পর্কে কী বলবেন?
মেনন: আমি এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। এটা আমি আগেও বলেছি। কিন্তু এই সাংবাদিকেরা, সে এলাকার থানার পুলিশেরা কী জানতোনা এখানে ক্যাসিনো আছে? আমি বিভিন্ন কাজে বহুবার থানায় গিয়েছি যোগাযোগ করেছি কিন্তু তারা কখনোই আমাকে এধরণের কিছু বলেনি। থানায়ও যদি এ বিষয়ে কোন আাইডিয়া না থাকে তাহলে আমি কীভাবে জানবো? এমপির কাজ এলাকার উন্নতি করা, গোয়েন্দাগিরি করা না। এটা যাদের কাজ ছিল তাদের আরোও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।
জয়: আপনি তো জেনে থাকবেন এই ক্যাসিনোর কারণে অনেক অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারে নেমে আসে ধ্বংস। এ বিষয়ে কী বলবেন
মেনন: মাদক, জুয়া এসবের কারণে অনেকে সর্বশান্ত হয়ে গিয়েছে। অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এজন্যই এগুলোয় সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
জয়: আপনি কী এই পুরো বিষয়ে এবং সরকারকে কটাক্ষ করে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন এই বিষয়ে কী নিজের কোনো ভুল দেখছেন?
মেনন: জী না। আমার এ বিষয়ে কোন ভুল আছে তা আমি দেখছিনা। আমি আমার বিবেকের কাছে পরিষ্কার এবং দেশের জনগনের কাছেও পরিষ্কার।
জয়: আপনি ১৯৯২ সালে গুলি খেয়েছিলেন এবং আপনার বেচে ওঠাটা একটি অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। আপনার এই নতুন জীবন সম্পর্কে কী বলবেন?
মেনন: আমার সে ঘটনার পরেই দেশের জনগনের মধ্যে একটি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তারা আমার জন্য রক্ত দিয়েছে, নামাজে দাড়িয়ে দোয়া করেছে। ওমরাহ করেছে এবং আমি সুস্থ হয়েই প্রথমে বলেছিলাম জনগণের এই রক্তের ঋণ আমাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শোধ করতে হবে।
প্রচার: ৩ নভেম্বর ২০১৯