SHARE

ড. কামাল হোসেন, রাজনীতিবিদ

সহজ কথা যায় না বলা সহজে। আবার কম সময়েও প্রয়োজনীয় কথা বলা সহজ হয় না। এসো আড্ডা দেই, পাঁচ মিনিট… এ ধরনের কথা শুনলে প্রথমেই অনেকে না-না করে উঠবেন। বলবেন, আরে ভাই মাত্র পাঁচ মিনিটের আড্ডায় কি বলব? শুরু করতে করতেই তো শেষ হয়ে যাবে। এতো গেল ব্যক্তিগত পর্যায়ের আড্ডা। কিন্তু আড্ডাটা যদি হয় কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য। সময় মাত্র পাঁচ মিনিট অর্থাৎ ৩০০ সেকেন্ড। উপস্থাপক প্রশ্ন করবেন। অতিথি উত্তর দিবেন। বাস্তবেও তাই হয়েছে। চ্যানেল আইতে শাহরিয়ার নাজিম জয়-এর উপস্থাপনায় ৩০০ সেকেন্ড নামের একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান বেশ জমে উঠেছে। এই অনুষ্ঠানেরই বাছাই করা ১০০জন বিশিষ্ট ব্যক্তির ৩০০ সেকেন্ড অর্থাৎ  পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎকার নিয়ে আনন্দ আলোর ঈদ সংখ্যার একটি বিশেষ আয়োজন এখন বাজারে। আজ থেকে অনলাইনে শুরু হলো এই সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত একশজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার…

জয়: আপনার এখন বয়স কত স্যার?
কামাল হোসেন: ৮৩ শুরু হল…
জয়: আপনি বঙ্গবন্ধুর খুব ঘনিষ্ঠ মানুষ ছিলেন। আপনি বাংলাদেশের সংবিধান রচয়িতা এবং বঙ্গবন্ধুর সময়ে আপনি মন্ত্রীও ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে কেমন দেখেছিলেন? মূল্যায়ন করবেন কী?
কামাল হোসেন: বঙ্গবন্ধু অসাধারন একজন ব্যক্তি। এতো বড় মাপের মানুষ আমি আর দেখিনি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমার এই কম বয়সে এরকম একটা দায়িত্ব কেন দিয়েছেন? সিনিয়র যারা আছেন, তারা তো… উনি তখন হেসে বলেছিলেন, দ্যাখো তোমার একটা বিশেষ গুণ আমার ভালো লাগে সেটা হল তুমি অপ্রিয় সত্য কথা বলতে দ্বিধা করো না।
জয়: স্যার ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট যে নৃশংস ঘটনাটি ঘটলো। আপনার মতো জ্ঞানী মানুষ তাঁর পাশে ছিলেন। ঘটনাটা আপনারা আঁচ করতে পারেননি।
কামাল হোসেন: একে তো উনি জনপ্রিয় নেতা… উনি ভাবতেই পারেননি যে উনার বিরুদ্ধে কারও হাত উঠতে পারে আক্রমণ করতে। সেটা উনিও যেমন ভাবেন নাই, আমরাও ভাবিনি। সত্যি আমরা এটা ভাবি নাই যে এরকম একটা ঘটনা ঘটতে পারে।
জয়: স্যার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উনি যখন দেশে ফিরলেন তখন উনি চাচাদের কাছে… চাচাদের বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন। কেউ তাঁকে আশ্রয় দেয়নি। গ্রহণ করেনি। তখন আপনার ভূমিকা কি ছিল?
কামাল হোসেন: আমি তো দিল্লীতে গিয়ে উনাকে নিয়ে এসেছি… উনি আমাদের সঙ্গেই এসেছেন।
জয়: অনেক চাচাদের সম্পর্কে তাঁর ক্ষোভ আছে। এ বিষয়ে কিছু বলবেন?
কামাল হোসেন: এভাবে বলার সুযোগ নেই। কারণ আমি তো জানিনা কে কি করেছে? উপরে উপরে তো সবাই চেষ্টা করেছে উনার পাশে থাকতে।
জয়: বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে দেশে যে সরকাররা এসেছে বিভিন্ন সময়ে সেই প্রক্রিয়াটা কি সঠিক ছিল? আপনি কি সেই প্রক্রিয়া গুলোকে সমর্থন করেন?
কামাল হোসেন: মোটেই না। সব চেয়ে জঘন্য তো ছিল ১৫ আগস্ট। এতে আমরা এত বড় আঘাত পেয়েছি যে, তার কবল থেকে এখনও আমরা মুক্ত হইনি।
জয়: আপনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কাছ থেকে সব চেয়ে দুঃখ কি পেয়েছেন?
কামাল হোসেন: সেটা হল যে বঙ্গবন্ধুর কথা থেকে সরে যাওয়া। উনার সেই রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া। আমি তো এখনও বলি যে, বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগেই আছি। উনার যে দল ছিল, নীতি ছিল, কাজ করার যে পরিবেশ ছিল সেটাকে এখনও মনে প্রাণে শ্রদ্ধা করি।
জয়: লোকে বলে যে আপনি বিএনপির জোটে এসেছেন আওয়ামীলীগের এজেন্ট হিসেবে। এব্যাপারে কি বলবেন?
কামাল হোসেন: কোনো অবস্থাতেই আমি বিএনপিতে আসি নাই। আমরা একটা ঐক্য প্রক্রিয়ায় আছি। ঐক্যের কথা এই জন্য বলছি যে, স্বাধীনতার পর থেকে বঙ্গবন্ধু ঐক্যের কথাটাই বলেছিলেন। সেই কথা আমার চিন্তায় এখনও গেথে আছে।
জয়: কিছুদিন আগে আপনি ঐক্যের ডাক দিলেন। আপনাদের রেজাল্টটা এরকম হলো কেন?
কামাল হোসেন: এর নানান কারণ আছে। যেভাবে পরিবেশ পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। বিবেকহীন, নীতিহীন পরিবেশ এ জন্য দায়ী। বঙ্গবন্ধু সব সময় ঐক্যের কথা বলেছেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা অনেকে তাঁর আদর্শ থেকে সরে এসেছি। এর কথা ওকে লাগানো, এর বিরুদ্ধে ওর কথা বলা… রাজনীতিকে অনেকে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে। ক্ষমতায় যেতে পারলে তো অনেক কিছু করা যাবে। ঘর, বাড়ি, সম্পত্তি, টাকা পয়সা ইত্যাদি… বঙ্গবন্ধু তার পরিবারের জন্য কিছুই রেখে যান নাই। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরে তাঁর মেয়েরা লন্ডনে থেকে…. আমি দেখেছি কি কষ্ট করেছে। যে রাজনীতি স্বাধীনতা এনেছে সেই রাজনীতি এখন নাই।
জয়: কি করলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সেই রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব?
কামাল হোসেন: মানুষকেই এব্যাপারে চাইতে হবে। আওয়াজ তুলতে হবে। এই দেশের অনেক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে এটা অস্বীকার্য…
প্রচার: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০