SHARE

আমিই বাংলাদেশ’ কথাটার মধ্যে একটা শক্তি আছে। সাহসও আছে। পাশাপাশি প্রেরণাও আছে। এবার বিজয় দিবসের বিজয় মেলায় এমনই সাহস, শক্তি ও প্রেরণা ছড়িয়ে দিল চ্যানেল ও গ্রামীণফোন। অতীতের ধারাবাহিকতায় বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে এবারও দিনব্যাপি বিজয় মেলার আয়োজন করেছিল চ্যানেল আই। গ্রামীণফোনের সৌজন্যে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই বিজয় মেলায় দেশমাতৃকার প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রায় সকলেই বলেছেন, উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় প্রিয় বাংলাদেশ স্বগৌরবে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন প্রয়োজন যার যার অবস্থানে দাঁড়িয়ে দেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখা। আমরা নিজেরা যার যার অবস্থানে দাঁড়িয়ে যদি ভাবতে পারিÑ আমিই বাংলাদেশ তাহলেই দেশটা আরও এগিয়ে যাবে। যদি সবাই ভাবি যে, দেশের উন্নয়নে আমারও কিছু ভূমিকা আছে। তাহলে প্রিয়দেশ সম্ভাবনার আলো ফেলে আরও এগিয়ে যাবে।
লাল সবুজের বেলুন উড়িয়ে এবারও বিজয় মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যবৃন্দ, খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশী পর্যটক সহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ইমপ্রেস গ্রুপ ও চ্যানেল আই পরিচালনা পর্ষদ সদস্য মুকিত মজুমদার বাবু, জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন, গ্রামীণফোনের হেড অব অপারেশন্স সাজ্জাদ হাসিব, হেড অব কমিউনিকেশন্স খায়রুল বাসার, বিশিষ্ট শিল্পী আজাদ রহমান, কাদেরী কিবরিয়া, ফকীর আলমগীর, শাহীন সামাদ, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য সাইদুর রহমান প্যাটেল, আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারোয়ার, ঐক্য স্টোরের পক্ষে জান্নাতুল ফেরদৌসী তিথি প্রমুখ। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজ্জাম্মেল হক মেলা চলাকালে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন এবং শিশু-কিশোর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। চ্যানেল আই মেলার পুরো কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করে। মেলার সহযোগী ছিল আইএফআইসি ব্যাংক ও ঐক্য স্টোর।

দুষ্টি নন্দন মঞ্চে বিজয়ের গান
বিজয়ের ৪৭ বছর পূর্তিতে এবার চ্যানেল আই আয়োজিত বিজয় মেলার অনুষ্ঠানমালা ছিল অনেক শ্রদ্ধা আর স্বপ্নে মোড়া। বিশেষ করে ‘আমিই বাংলাদেশ’ এই দীপ্ত শ্লোগানটি মেলায় উপস্থিত সকলের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মেলায় এসেছিলেন অসংখ্য মানুষ। তাদেরই একজন স্কুল শিক্ষক আসাদুল ইসলাম প্রসঙ্গক্রমে বললেন, এই যে ‘আমিই বাংলাদেশ’ কথাটি, সত্যিকার অর্থে আমার মাঝে নতুন এক চিন্তার জন্ম দিয়েছে। ঠিকই তো, সবাই যদি এভাবে ভাবে যে ‘আমিই বাংলাদেশ’। তাহলে কিন্তু একটা দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে। ভাবছি সুন্দর এই শ্লোগানটি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দিব।
সূরের ধারার
অনন্য আয়োজন
বিজয় মেলার মূল মঞ্চে উদ্বোধন পর্ব শেষে চমক নিয়ে হাজির হন দেশবরেণ্য শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। তাঁর নেতৃত্বে সুরেরধারার একদল তরুণ শিল্পী দেশাত্ববোধ কিছু গান পরিবেশন করে। মহান স্বাধীনতা আন্দোলন ও দেশমাতৃকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধায় মোড়া প্রতিটি গান উপস্থিত দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। মেলায় উপস্থিত অনেক বয়স্ক নাগরিক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সঙ্গীতায়োজনে অংশ নেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে রফিকুল আলম, ফকীর আলমগীর, কিরণ চন্দ্র রায়, শাহীন সামাদ সহ দেশ বরেণ্য শিল্পীবৃন্দ সঙ্গীত পরিবেশন করেন। পাশাপাশি ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, মুকাভিনয়, নৃত্য পরিবেশনা ও শিশুদের চিত্রাংকন। দেশের বরেণ্য শিল্পীবৃন্দও মেলায় ছবি আঁকেন। শিল্পী অনিমা রায় সুর বিহারের শিল্পীদের নিয়ে ‘আমরা সবাই রাজা’ শীর্ষক সঙ্গীতায়োজন উপহার দেন। চিত্র নায়িকা মিষ্টি মারিয়ার নেতৃত্বে একদল নৃত্য শিল্পী মনোমুগ্ধকর এক নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।