Home আরোও বিভাগ সিনেমা অন্যরকম ভিলেন!

অন্যরকম ভিলেন!

SHARE
অন্যরকম ভিলেন!

দেশের দর্শক তাঁকে সিনেমায় প্রথম দেখেছিল হাফ টাইমের পর। হাফ টাইমে এসেই বাজিমাত করেন তিনি। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার ‘জিসান’ চরিত্রে তাসকিন রহমান অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেন, প্রশংসিত হন। সেই তাসকিন রহমানকে আবারও দেখা গেল ‘যদি একদিন’ ছবিতে। এবারও তিনি পর্দায় এসেছেন হাফ টাইমের পর। হাফ টাইমের পর তাঁকে দেখে নড়েচড়ে বসেন দর্শক। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের চোখ যেন ছবির নায়ক তাহসানের পাশাপাশি তাঁকেও এতক্ষণ খুঁজে বেড়িয়েছে। পর্দায় শুরু থেকে শেষ দৃশ্য পর্যন্ত অভিনয় দিয়ে মাত করে রেখেছেন। মধ্যাহ্নবিরতির পর থেকে শেষ দৃশ্য পর্যন্ত পর্দাজুড়ে দাপিয়ে বেড়ান তাসকিন।
‘যদি একদিন’ সিনেমায় তাসকিন রহমান জনপ্রিয় গায়ক। ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম জেমি। শুরু থেকেই চরিত্রটির জন্য তাসকিনকে ছাড়া কাউকে ভাবতে পারেননি পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। শুটিং শুরুর সময় রাজ বলেন, ‘জেমি চরিত্রটা তাসকিন রহমানকে ভেবেই লেখা হয়েছে। ছেলেটা রোমিও। মেয়েদের পটাতে তার জুড়ি নেই। আমার বিশ্বাস, ভিলেনের পর রোমিও হিসেবে তাসকিন দর্শকের হৃদয় জয় করবে।’ ছবিটি মুক্তি পর পরিচালক বললেন, ‘আমার ভাবনার চেয়েও অনেক ভালো অভিনয় করেছেন তাসকিন। দর্শক এই চরিত্রে তাঁকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন। আমি যে তাঁকে নিয়ে মোটেও ভুল করিনি, তা পর্দায় তাঁর প্রতি দর্শকের ভালোবাসা দেখে বুঝেছি।’
ছবিটি দেখার পর অনেক দর্শক মন্তব্য করেছেন, মধ্যাহ্ন বিরতির পর এসেও তাসকিন রহমান বাজিমাত করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, পর্দায় শুরু থেকেই তাঁর উপস্থিতি থাকলে আরও ভালো হতো। দুটি ছবিতে মাঝামাঝি সময়ে পর্দায় আসার বিষয়টি কোনো কৌশল? তাসকিন রহমান বলেন, ‘এখানে আমার কোনো হাত নেই। ছবির পরিচালক যেভাবে ভেবেছেন, সেভাবেই হয়েছে। এটা হয়তো তাঁর কৌশল। আমি শুধু আমার মতো করে অভিনয়ের চেষ্টা করেছি। দর্শক আমার অভিনয় কতটা পছন্দ করেছেন, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নয়। কিন্তু সবকিছু মিলিয়ে সিনেমাটা দর্শক বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। ছবির গল্পের সঙ্গে সবাই একাত্ম হচ্ছেন এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।’
ছোটবেলা থেকে অভিনয়ে যুক্ত তাসকিন রহমান। বয়স যখন আট বা নয় বছর, বাংলাদেশ টেলিভিশনের অভিনয় ও গান দুই বিভাগ থেকেই ‘নতুন কুঁড়ি’ পুরস্কার পেয়েছিলেন। গান ও অভিনয়ের পাশাপাশি ছবি আঁকার ব্যাপারেও আগ্রহ ছিল তাঁর। শিশুশিল্পী হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের কিছু নাটকে অভিনয় করলেও চলচ্চিত্রে তাসকিন প্রথম অভিনয় করেন ১৯৯৫ সালে। সেটি ছিল ‘হৃদয় আমার’ ছবিতে আমিন খানের ছোটবেলার চরিত্রে। এরপর ২০০২ সালে লেখাপড়া করতে অস্ট্রেলিয়া চলে যান তিনি। এর মধ্যে কিছু টেলিছবিতে কাজ করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি প্রথম অভিনয় করেন ‘আদি’ ছবিতে। পরে ২০১৫ সালে ‘মৃত্যুপুরী’, ২০১৬ সালে ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ ও ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিতে। মজার ব্যাপার হলো, তাঁর কাজ করা শেষ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে আগে। আর সেটিই তাঁকে দিয়েছে পরিচিতি। দেশের বাইরে ভারতেও অভিষেক হয়েছে তাসকিনের। ‘সুলতান, দ্য স্যাভিয়ার’ ছবিতে বাংলাদেশি এই অভিনয়শিল্পীর অভিনয় প্রশংসিত হয়।
সিনেমায় তাসকিনের শুরুটা খল চরিত্রের অভিনেতা হিসেবে। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার কারণেই তাঁর মতো একজন শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী পেয়েছে বলে মত দেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘হাফ টাইমের পর এসেছে তো কী হয়েছে! আসার পর তো পুরো গল্পের মোড় ঘুরে যায়। তাসকিন বরাবরের মতো তাঁর চমৎকার অভিনয় দিয়ে মন জয় করেছেন। মনেই হয়নি হাফ টাইমের পর এসেছেন। বারবার মনে হবে, পুরো গল্পেই তো জেমি চরিত্রের আধিপত্য। শুধু খল চরিত্রে নয়, স্যাড-রোমান্টিক এবং আবেগঘন দৃশ্যেও তাসকিনের অভিনয় দারুণ লেগেছে।’