Home ফিচার নাফিসার স্থাপত্য ভুবন

নাফিসার স্থাপত্য ভুবন

SHARE

স্থাপত্য শিল্পে যারা দেশের জন্য সৃষ্টিশীল কাজ করে চলেছেন তাদের মধ্যে স্থপতি নাফিসা সুলতানা অন্যতম। বুয়েট থেকে পড়াশোনা করেছেন। পাস করে বের হবার পর ২০০৩ সালে তিনি যোগদেন ‘রাসেল লজ হোল্ডিং’ নামের একটি ফার্মে। এ যাবৎ তিনি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন পাসপোর্ট অফিস সহ বিভিন্ন স্থাপনার ডিজাইন করেছেন। ছবি আঁকাআঁকি ছিল তার পছন্দের বিষয়। গানেও পারদর্শী ছিলেন। ২০০৫ সাল  থেকে এখনো পর্যন্ত স্থাপত্য অধিদপ্তরে সহকারি স্থপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার শাহ সিমেন্ট সুইট হোমে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন। লিখেছেন-মোহাম্মদ তারেক তিন ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় স্থপতি নাফিসা সুলতানা। তার গ্রামের বাড়ি ভোলায় । কিন্তু বেড়ে ওঠা ঢাকার মহাখালির নিউ ডিওএইচএসএ। নাফিসা সুলতানার বাবার নাম শহীদ লেফটেনেন্ট  মোহাম্মদ সোলেওমান। মা সেলিনা সুলতানা গৃহিনী। স্কুল জীবন থেকে ছবি আঁকাআঁকি করতেন। গান গাওয়া ছিল তার পছন্দের বিষয়। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু তিনি হয়েছেন একজন সফল স্থপতি।  হলিক্রস স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন ১৯৯৩ সালে। ১৯৯৫ সালে হলিক্রস কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাস করেন। ভর্তি হন বুয়েটের স্থাপত্য
বিভাগে। তার সহপাঠী বন্ধুদের মধ্যে আছেন স্থপতি উর্মি, লিজা, মালিয়া, ফয়সাল ও শাহরিয়ার। এরা সবাই প্রতিষ্ঠিত আর্কিটেক্ট। প্রিয় শিক্ষকের তালিকায় আছেন স্থপতি শামসুল ওয়ারেস ও রিয়াদ স্যার।  নাফিসা সুলতানা বুয়েট থেকে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রিলাভ করেন ২০০৩ সালে। পাস করে বের হওয়ার পরই যোগ দেন ‘রাসেল লজ হোল্ডিং’ নামের একটি ফার্মে। সেখানে তিনি এক বছর চাকরি করেন। ২০০৫ সালে স্থপতি নাফিসা সুলতানা যোগ দেন স্থাপত্য অধিদপ্তরে। সেখানে তিনি সহকারী স্থপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  ইতিমধ্যে নাফিসা সুলতানা দেশের নামকরা ফায়ার স্টেশন, ফ্যাক্টরী, হসপিটাল, পাসপোর্ট অফিস বিল্ডিং সহ অসংখ্য বিল্ডিংয়ের কাজ করেছেন। তার উলে­খযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছেÐ স্থপতি কাজী গোলাম নাসিরের সাথে আগারগাঁও এর পাসপোর্ট অফিসের হেড কোয়াটার, মিরপুর-১০ এর ফায়ার স্টেশনের বার্ণ হসপিটাল,
রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, রংপুর, ফরিদপুর, দিনাজপুর, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল এসব জেলা সমূহের পাসপোর্ট অফিসের বিল্ডিং, নরসিংদীর রাসেল লজ হোল্ডিং এর ফার্মাসিউটিক্যাল ফ্যাক্টরী, সুত্রাপুরের পুরাতন জমিদার বাড়ির হ্যারিটেজ ও মিউজিয়ামের রেনুভিশনের কাজ, স্থপতি বিশ্বজিৎ বড় য়ার সাথে ‘র‌্যাব’ এর সাতটি কমপ্লেক্স ভবন সহ অসংখ্য বিল্ডিংয়ের ডি01_01জাইন করেছেন।  এছাড়া বর্তমানে বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টের কাজ করছেন নাফিসা। সে গুলো হলো গোটা বাংলাদেশে জেলা-উপজেলায় ১৫৬টি ফায়ার স্টেশন, কক্সবাজার, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, বগুড়া, ফেনী, ঢাকার উত্তরা ও যাত্রাবাড়ির পাসপোর্ট অফিসের বিল্ডিং ইত্যাদি। নাফিসা সুলতানা তার সব ধরনের কাজ স্থাপত্যনীতি ও রাজউকের নিয়ম মেনেই করেন। ২০০৩ সালে তিনি বিয়ে করেন। স্বামীর নাম মো: রাকিবুল আলম লিমন। তিনিও একজন আর্কিটেক্ট। এই দম্পতি দুই সন্তানের জনক-জননী।  নাফিসা সুলতানা বলেন, একজন স্থপতি হিসেবে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন সমূহের ডিজাইন করার জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তরে যোগদান করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করি। এ অধিদপ্তরে কাজ করার মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সেবা করার স্পৃহা সব সময় কাজ করে আমার মধ্যে। ফলে নকশা প্রনয়নের সময় এমন একটি ভবনের কথা চিন্তা করি যাতে সাধারণ মানুষ এসে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে এবং ভবনের ব্যবহারিক দিক তাদের জন্য সাবলীল হয়ে ওঠে। এছাড়াও ভবনের নান্দনিকতা ও কার্যকারীতার সাথে পারিপাশ্বিক পরিবেশও যাতে মানুষের মন ছুঁয়ে যায় সেদিক চিন্তা করে সাইটে খোলা জায়গা সমূহে সবুজের সমারোহ, গাছপালা, ফুলের বাগান রাখার চেষ্টা করি। এক কথায় প্রাকৃতিক আলো, বাতাস, গাছপালা সবুজের সমারোহের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর নকশা করার প্রয়াস থাকে।  সরকারি দায়িত্ব পালনে পেশার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে স্থপতি হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে চেষ্টা করি।  বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি কাজে নজর দেন স্থপতি নাফিসা সুলতানা।  স্থাপত্য নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সর্ম্পকে স্থপতি নাফিসা সুলতানা বলেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন সমূহের নকশা সমূহ সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিয়মের মাঝে থেকেও ব্যতিক্রম করে কার্যকর ও নান্দনিক ভাবে জনগনের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা এবং কাজের মাধ্যমে স্থাপত্য অধিদপ্তরের জন্য সম্মান বয়ে আনা।  এছাড়াও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য নান্দনিক কার্যকর স্থান  সমূহ তৈরি করার কাজে সরকারকে সহায়তা প্রদান।