Home আরোও বিভাগ গানবাজনা স্টেজ শো নিয়ে কিছু ঝামেলা চলছে -পুতুল

স্টেজ শো নিয়ে কিছু ঝামেলা চলছে -পুতুল

SHARE
PUTUL

ক্লোজ আপ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সঙ্গীত জগতে পথ চলা শুরু করেন পুতুল। উপস্থাপনা ও গানে গানে কাটছে তার সময়। সাম্প্রতিক ব্যসৱতা ও সঙ্গীতের নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

আনন্দ আলো: বর্তমানে আপনার ব্যসৱতা কী নিয়ে?

পুতুল: ব্যসৱতা শুধু গান নিয়ে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সঙ্গীত বিষয়ক অনুষ্ঠানে লাইভ শো করছি। অডিও অ্যালবামের কাজ করছি। পাশাপাশি উপস্থাপনা করে যাচ্ছি। স্টেজ শো নিয়ে কিছু ঝামেলা চলছে। নিরাপত্তার কারণে কিছু শো বাতিল হয়েছে। তবে আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় কিছু শোয়ের বিষয়ে কথা হচ্ছে।

আনন্দ আলো: নজরুল সঙ্গীতের অ্যালবামের কী খবর?

পুতুল: ‘শামস ফিচারিং নজরুলের পুতুল’ অ্যালবামে মোট ১০টি গান থাকছে। গানগুলো হলো- ‘তোমার আমার এই যে বিরহ’, ‘উচাটন মন ঘরে রয় না’, ‘আমার কোন কূলে আজ ভিড়ল তরী’, ‘নির্জনে সখী বলো বধূয়ারে’, ‘একি অপরূপ রূপে মা’, ‘দীপ নিভিয়াছে ঝড়ে’ ইত্যাদি। সঙ্গীতায়োজন করছেন ওয়ারফেজ ব্যান্ডের শামস। এ অ্যালবামের কাজ আপাতত স্থগিত রয়েছে ব্যক্তিগত ব্যসৱতার জন্য। যেহেতু এটা তার প্রকল্প, তাই তার সুবিধামতো সময়েই কাজ করব।

আনন্দ আলো: একক অ্যালবামের কাজ করার কথা ছিল। সেটির খবর কী?

পুতুল: ‘পুতুল গান তৃতীয় অধ্যায়’ শিরোনামে এ অ্যালবামের কাজ শুরু করেছি। এটি আমার পঞ্চম একক অ্যালবাম। অ্যালবামের কম্পোজিশন, সুর সব কিছু আমি নিজেই করছি। তবে কয়টি গান রাখব তা এখনও ঠিক করা হয়নি।

আনন্দ আলো: আপনার উপস্থাপনার কী খবর?

পুতুল: উপস্থাপনায় বিরতি দিয়েছিলাম অনেক আগেই। প্রায় তিন বছর পর আবার কলের গান শুরু করলাম। বিরতিটা ইচ্ছে করেই নেয়া। নিজের অনুপস্থিতি অন্যদের বোঝাত দেয়ার জন্য মাঝে মধ্যে বিরতি নিতে হয়। আর আমি কিন্তু অন্য অনেক সঙ্গীত শিল্পীর মতো।  যেখানে যা পাই তাই উপস্থাপনা করি না। শুধু কলের গানেই উপস্থাপনা করি।

আনন্দ আলো: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

পুতুল: আমি ইউডা থেকে সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনা করেছি। তাই আমার সব ধ্যান, জ্ঞান সঙ্গীত নিয়েই। এজন্য এখন থেকে গান গাওয়ার পাশাপাশি কথা, সুর ও সঙ্গীতায়োজন নিয়মিত করব। দেশের বাইরে মিউজিক নিয়ে পড়তে যাব। আশাকরি আগামী বছরই তা করতে পারব।

মাইলসের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াল ফসিলস

কলকাতার সঙ্গীত শিল্পী রূপম ইসলামের ব্যান্ড ফসিলসকে অপপ্রচারের জবাব দিল বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলস। গত ৩ আগস্ট বুধবার রাত ১টা ৪ মিনিটে মাইলসের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন দলটির দুই সদস্য শাফিন আহমেদ ও মানাম আহমেদ। ভিডিওর শুরুতে শাফিন আহমেদ বলেন, কলকাতার ব্যান্ড ফসিলস আমাদের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে, এটা আমরা জানতে পেরেছি। তারা যে আমাদের বয়কটের ডাক দেবে তা আমরা আশা করিনি। সঙ্গীতকে ভৌগোলিক জায়গায় ভাবা ঠিক নয়। ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৩ আগস্ট কলকাতার নজরুল মঞ্চে আজাদী কনসার্টে সঙ্গীত পরিবেশনের কথা ছিল মাইলস, ফসিলস ও পাপনের। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারত বিদ্বেষী মনৱব্যের জেরে মাইলসকে বাদ দেয়ার দাবি তোলে ফসিলস। এ কারণে বিতর্ক এড়াতে আয়োজকরা দুটি ব্যান্ডকেই এ কনসার্ট থেকে সরিয়ে দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু মাইলস বিরোধিতা করেই বসে নেই রূপমরা। তারা ফেসবুকে বয়কট মাইলস নামে একটি পেজও তৈরি করেছিল এবং মাইলসকে বয়কটের দাবিতে গত ৩ আগস্ট কলকাতার কালীগঞ্জ ফাঁড়িতে কনসার্ট আয়োজকদের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করার কথা ছিল। পরে অবশ্য তা বাতিল হয়েছে। গত টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করার জেরে হামিন ও শাফিন ফেসবুকে আবেগ থেকে কিছু মনৱব্য করেন। এগুলোকেই ফসিলস ভারত বিরোধী মনৱব্য উল্লেখ করে অপপ্রচার চালিয়েছে। মাইলসের সমালোচনা করে রূপম কলকাতার এ বেলা পত্রিকায় বলেন, মাইলসের ভক্ত আমরা সবাই। কিন্তু তাদের এ ধরনের মনৱব্য প্রকাশের পর থেকে আর তাদের প্রতি সম্মান দেখনো যায় না। কথায় কথায় ভারতকে গালি দেয়াটা তাদের একটা বড় উদ্দেশ্য। এ ধরনের মানুষ স্বপ্ন দেখে কী করে। আয়োজকরাও কীভাবে এ ধরনের ব্যান্ডকে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের কনসার্টের জন্য নির্বাচন করতে পারে বুঝতে পারছি না। রূপম ইসলামের কাণ্ডকে নোংরা মানসিকতার উদাহরণ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনা। বসে নেই মাইলসের সদস্যরাও। তারাও জবার দিয়েছে। মাইলসের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন দলটির দুই সদস্য শাফিন আহমেদ ও মানাম আহমেদ। এ প্রসঙ্গে শাফিন বলেন, ফসিলসের ইন্ধন পেয়ে হাতে গোনা কিছু ছেলে ফেসবুকে আমাদের নিয়ে কটু কথা বলছে। এটাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। ঈর্ষা থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে থাকতে পারে ওরা। এ ধরনের কার্যকলাপের মাধ্যমেই আমাদের অনেক বছর দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু পারেনি, পারবেও না। তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ ক্রিকেট চলাকালে প্রত্যেকেই তার দেশের পক্ষে কথা বলতে পারে। আমরাও বলেছি। আমাদের ক্রিকেটার ও দলের ওপর যে অনৈতিক সিদ্ধানৱ দেয়া হয়েছে, তাতে কিন্তু আমরা ওদের দেশের শিল্পীদের এখানে আসা নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি। এদিকে ভিডিও বার্তায় শাফিন বলেন, দেশের যে কোনো ব্যাপারে নাগরিক হিসেবে মনৱব্য করার অধিকার আমার আছে। এটাকে টেনে নিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গে মেলানোর কোনো প্রয়োজন ছিল বলে আমরা মনে করি না। দেশ প্রেমের কথা বলাটা ভারত বিদ্বেষ নয়। বিদ্বেষ সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। একই ভিডিওতে মানাম আহমেদ বলেছেন, আমরা চাই সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও বাড়ুক। ভারতীয় শিল্পীরা এলে কিন্তু মাইলসের কেউ সমালোচনা করে না। ফসিলসও চাইলে যখন ইচ্ছে এদেশে কনসার্ট করে যেতে পারবে। কিন্তু রূপম যেটা করেছে তা নোংরামি। এটা তার কাছ থেকে কাম্য নয়।

সুবীর নন্দীর কণ্ঠে নজরুলের গান

প্রথমবারের মতো নজরুলের গানের অ্যালবাম বের করছেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী। ইতোমধ্যেই অ্যালবামের কাজ শেষ হয়েছে। অ্যালবামের নাম ‘মোরা ছিনু একেলা’। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান নিয়ে সাজানো এই অ্যালবামে সুবীর নন্দীর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী ছন্দা চক্রবর্তী। অ্যালবামে দুটি দ্বৈত ও দুই শিল্পীর চারটি করে আটটি একক গান রয়েছে। গানগুলো হলো- ‘মোরা আর জনমের হংস মিথুন ছিলাম’, ‘মোরা ছিনু একেলা হইনু দুজন’, ‘সন্ধ্যা গোধূলি লগন’, ‘আনার কলি’, ‘সেদিন ছিল কি গোধূলি লগন’, ‘তোমারে আমি চাহিয়াছি প্রিয়’, ‘নিশি পবন’, ‘কে তুমি দূরের সাথি’, ‘চোখের নেশার ভালোবাসা’, ‘বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে’।

অ্যালবামটির সঙ্গীতায়োজন করেছেন বদরুল আলম। নজরুলের গান গাওয়া প্রসঙ্গে সুবীর নন্দী বলেন, আসলে আমি ছিলাম নজরুল সঙ্গীতের শিল্পী। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিসৱান সঙ্গীত সম্মেলনে নজরুল সঙ্গীত গেয়ে আমি দ্বিতীয় হয়েছিলাম। বাংলাদেশ বেতারেও ১৯৭৪ সাল থেকে আমি নজরুল ও আধুনিক গানের তালিকাভুক্ত শিল্পী। পরে আধুনিক গানে নিয়মিত হলেও নজরুলের গানের প্রতি একটা দায়বদ্ধতা ছিল। এই অ্যালবামটি করার বিষয়ে একজনের কথা না বললেই নয়, তিনি শ্রদ্ধেয় সুধীন দাশ। সব সময় দেখা হলেই আমাকে বলতেন, ‘সুবীর নজরুলের গানটা গাও। তোমার গলায় নজরুলের গান ভালো যাবে’। সব ধরনের গান তো গাইলাম, তাই মনে হলো আমি যেহেতু নজরুলের গান গাইতাম, তা-ই করা উচিত। সুবীর নন্দী আরও বলেন, নজরুলের অ্যালবামটি করার আগে প্রস্তুতিটাও সেভাবে নিয়েছি। পুরো অ্যালবামের গানগুলো নির্বাচন, সুর, গায়কি এসবই সুধীন দাশের তত্ত্বাবধানে হয়েছে। গীতাঞ্জলির ব্যানারে অ্যালবামটি খুব শিগগিরই বাজারে আসবে।

জমে উঠেছে মিউজিক্যাল প্রিমিয়ার লিগ

গান নিয়ে প্রতিযোগিতার খেলা সেভেন আপ মিউজিক্যাল প্রিমিয়ার লিগ জমে উঠেছে। দেশের আটটি বিভাগের আটজন জনপ্রিয় শিল্পী ও তাদের দল অংশ গ্রহণ করছেন এই প্রতিযোগিতায়। সেরা হওয়ার জন্য লড়ছে দলগুলো। ঢাকা বিভাগের দল ‘ঢাকা ঢোলকস’ এ রয়েছেন নাফিস, মাটি, আলসাবা ও শাহানজে। দলনেতা নিশীতা বড় য়া। চট্টগ্রাম বিভাগের দল ‘চিটাগং চাইমস’ এর প্রতিযোগীরা হলেন চন্দ্রিমা, মনোয়ার, রুমন ও জনি। তাদের ক্যাপ্টেন হিসেবে আছেন আইকন সিঙ্গার পুতুল। রংপুর রকার্সের দলে রয়েছেন বর্ণ, মেহেদী, সাগর ও নয়ন। তাদের দলের ক্যাপ্টেন হিসেবে আছেন আইকন সিঙ্গার দিঠি আনোয়ার। বরিশাল বিভাগের দল ‘বরিশাল বিটস’ এর প্রতিযোগীরা হলেন এশা, তানিজ, তৈতি ও নিসু। তাদের দলের ক্যাপ্টেন আইকন সিঙ্গার পারভেজ। কুমিল্লা বিভাগের দল ‘কুমিল্লা কোরাস’ এর দলে রয়েছেন দ্বিপ, শ্রাবণী, শানৱা ও এথেনা। তাদের দলের ক্যাপ্টেন হিসেবে আছেন আইকন সিঙ্গার সালমা। রাজশাহী বিভাগের দল ‘রাজশাহী রিদমস’এর প্রতিযোগীরা হলেন হৃদয়, সাদ্দাম, রুমেল ও সাদিয়া। দলের ক্যাপ্টেন হিসেবে আছেন আইকন সিঙ্গার মাহাদী। সিলেট বিভাগের দল ‘সিলেট সারগমস-এ রয়েছেন মুন্না, নওশীন, মিথিলা ও সোহাগ। দলের ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করছেন আইকন সিঙ্গার সন্দীপন। খুলনা বিভাগের দল ‘খুলনা খঞ্জনিস’ এর প্রতিযোগীরা হলেন রাখী, বনি, বিপুল ও সুজন। তাদের দলের ক্যাপ্টেন আইকন সিঙ্গার সাব্বির। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন জনপ্রিয় শিল্পী শাকিলা জাফর, পার্থ বড় য়া ও বাপ্পা মজুমদার। নাবিলার উপস্থাপনায় তাহের শিপনের পরিচালনায় সেভেন আপ মিউজিক্যাল প্রিমিয়ার লিগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি। এই অনুষ্ঠানটি প্রতি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে চ্যানেল আইতে প্রচার হচ্ছে।