Home আরোও বিভাগ সম্পাদকের লেখা সোবহান সাহেব হাজির…

সোবহান সাহেব হাজির…

SHARE
Editorial

এটি একটি লোকধাঁধা। কে উত্তর দিতে পারবেন হাত তুলুন। ‘নানা নাতিরে কইছে একটা চিডি লেখি দে। বাবা কইছে অংকে কত হাইছে? মা ভাত খাইতো ডাইকছে। এমতাবস্থায় এমন একটা শব্দ দ্বারা উত্তর দিতে অইবো যেন তিনটা কাজ এক সাথে সমাধা অয়’। কে উত্তর দিতে পারবেন? ঠিক আছে উত্তর ভাবার জন্য সময় দেওয়া হলো। এই ফাঁকে আপনাদেরকে একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। অবশ্য আনন্দ আলোর অনেক পাঠক-পাঠিকাই তাকে চিনেন। সোবহান সাহেব অনেকের কাছেই প্রিয় একটি চরিত্র। একটা সময়ে আনন্দ আলোর প্রতি সংখ্যায় তিনি হাজির থাকতেন। হঠাৎ করেই লোকটি যেন হাওয়া গেলেন। আশার কথা তিনি আবার সক্রিয় হয়েছেন। এখন থেকে আনন্দ আলোর প্রতি সংখ্যায় তাকে পাওয়া যাবে আশা করি।
যারা আনন্দ আলোর নতুন পাঠক তাদের কাছে সোবহান সাহেব মোটেই পরিচিত নন। কাজেই তাদের কাছে হঠাৎ সোবহান সাহেবের উপস্থিতি তেমন একটা আগ্রহ সৃষ্টি করার কথাও নয়। কাজেই সোবহান সাহেব সম্পর্কে একটা সংক্ষিপ্ত পরিচিতি থাকা দরকার। ভদ্রলোকের নাম আব্দুস সোবহান। চাকার নিউমার্কেটের পাশে গভঃ ল্যাবরেটরী স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার তিন ছেলে একটি মেয়ে। বড় ছেলে রাজনীতি করে। তার পরেরটাও রাজনীতিবিদ। ছোট ছেলে একটি টিভি চ্যানেলের বড় কর্মকর্তা। একমাত্র মেয়ে সংসারে সবার ছোটো। সদ্য তার বিবাহ হয়েছে। স্বামীর সাথে বিদেশে থাকে। ছেলে- মেয়েদের সবারই নতুন সংসার হয়েছে। তাদের ছেলে- মেয়েরাও স্কুল কলেজে পড়ে। এক সময় যৌথ পরিবারে বসবাস করতো সবাই। এখন তিন ছেলেই আলাদা আলাদা ফ্লাটে থাকে। খিলগাঁও-এ পাঁচতলা বাড়ির তিনটা ফ্লোরে তিন ভাই সংসার পেতেছে। নীচতলায় সোবহান সাহেব থাকেন। বাড়ির ৫ম তলার ফ্লাটটি মেয়ের নামে লিখে দিয়েছেন সোবহান সাহেব। ওই ফ্লাটে ভাড়া থাকে ৪ সদস্যের একটি ছোট্ট পরিবার। সাদেকুল নামে দারোয়ান কাম কেয়ারটেকার টাইপের একজন লোক নীচতলায় থাকে। মূলতঃ সেই বাড়িটি দেখাশুনা করে। সোবহান সাহেব প্রায় ৬ মাস গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। ইচ্ছে করেই ঢাকার দিকে মনযোগ দেননি। কারণ ঢাকা শহরের পরিবেশÑ পরিস্থিতি এখন তার ভালো লাগে না। তরুণ বয়সে যখন ঢাকায় এসেছিলেন তখন ঢাকা শহরটা খুবই ছোটো ছিল। কিন্তু মানুষের মন অনেক বড় ছিল। আর এখন ঢাকা অনেক বড় হয়েছে। কিন্তু শহরের মানুষের মন আস্তে আস্তে ছোটো হচ্ছে। তরুণ বয়সে ঢাকায় এসে নবাবপুরের একটি পরিবারে লজিং ছিলেন সোবহান সাহেব। ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। গোটা নবাবপুরের মানুষ সোবহান সাহেবকে এক নামে চিনতো। আহারে। কি আনন্দেরই না ছিল দিনগুলি। আর আজ খিলগাওয়ে পাশের বাড়ির ভাড়াটেরা তো দূরের কথা বাড়ির মালিকেরাও তাকে চিনেনা। এই ধরনের অস্থির পরিবেশে ঢাকায় দম বন্ধ হতে যাচ্ছিলো। সে কারণে গ্রামেই চলে যান সোবহান সাহেব। ভালই ছিলেন গ্রামে। শুধু কষ্ট হতো স্ত্রীর জন্য। মীরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের পাশেই একটা কবরে শুয়ে আছেন সোবহান সাহেবের স্ত্রী খোদেজা। ঢাকায় থাকলে প্রতি সপ্তাহেই কবরটা দেখতে যান সোবহান সাহেব। কিন্তু গ্রামে যাবার পর স্ত্রীর কবরের পাশে না যাওয়ার অস্থিরতাটাই তাকে কাহিল করে। হঠাৎ একদিন সাদেকুলের জরুরি ফোন আসে। খালুজান একটা খবর আছে। সাদেকুলের রহস্যজনক কথা শুনে সোবহান সাহেব প্রশ্ন করেনÑ খবরটা কি আগে বলবি তো! সাদেকুল অস্থির কণ্ঠে বলে, আপনি আজই রাতের বাসে ঢাকার দিকে রওয়না দেন…
সাদেকুলকে মৃদু ধমক দেন সোবহান সাহেবÑ ঘটনা কি… না বললে আমি কেন ঢাকার দিকে রওয়না দিব?
সাদেকুল ঘটনাটা খুলে বলে। সবকিছু শুনে সোবহান সাহেব কুড়িগ্রাম থেকে রাতের বাসেই ঢাকায় আসার সিদ্ধান্ত নেন।

খ.
প্রিয় পাঠক, রহস্যের মধ্যে পড়ে গেলেন নাতো? এক সাথে দুই রহস্য! কি হবে ধাঁধার উত্তর? পাশাপাশি সোবহান সাহেব কি এমন সংবাদ শুনলেন যে রাতের বাসেই তাকে ঢাকায় আসতে হলো? রহস্যটা একটু থাকুক। এই ফাঁকে আসুন আনন্দ আলো থেকে একবার ঘুরে আসি। জানেন নিশ্চয়ই আনন্দ আলোর সম্পাদকীয় নীতি আগের মতোই আছে। ‘আনন্দ আলো বিনোদনে বন্ধু আমার’ এই শ্লোগানকেই আমরা গুরুত্ব দিয়ে চলেছি। তবে একথা সত্য বিনোদনের অনেক নতুন নতুন মাধ্যমের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অফুরান বিনোদন ছড়িয়ে দেওয়া আছে। এমন বাস্তবতায় আনন্দ আলোর বোধকরি একটা পরিবর্তন দরকার। এব্যাপারে পাঠক হিসেবে নিশ্চয়ই আপনার কোনো পরামর্শ আছে? থাকলে আমাদের জানান। এখন থেকে আনন্দ আলোর নতুন সংখ্যা প্রকাশের দিন ফেসবুক লাইভে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। আশাকরি এই পরিবর্তনের সাথে আপনারাও যুক্ত থাকবেন ।

গ.
একটা নতুন খবর দিয়ে রাখি প্রতি বছরের মতোই এবারও নভেম্বরের মাঝামাঝি ‘ব্রাইডল ক্যাটালগ’ শীর্ষক আনন্দ আলোর বিশেষ একটি সংখ্যা প্রকাশ হবে। এবারের ব্রাইডাল সংখ্যাটিকে কেমন দেখতে চান? এব্যাপারে পরামর্শ আশা করছি। ব্রাইডাল সংখ্যায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রকাশিত লেখার জন্য অবশ্যই সম্মানী পাবেন।

ঘ.
জানেন নিশ্চয়ই বহু বছর পর এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্র নায়িকা অঞ্জুঘোষ ঢাকায় এসেছিলেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। গুণী এই চিত্রনায়িকার ওপর একটি প্রতিবেদন থাকলো আনন্দ আলোর চলতি সংখ্যায়। অঞ্জু ঘোষ সম্পর্কে আপনার মন্তব্যও লিখতে পারেন। আনন্দ আলোয় তা গুরুত্বের সাথে ছাপা হবে।

ঙ.
জয়া আহসান দেশের একজন গুণী অভিনেত্রী। এবার সিনেমার প্রযোজক হিসেবেও নিজেকে মেলে ধরেছেন। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদর দেবী উপন্যাস অবলম্বনে ‘দেবী’ নামেই নতুন সিনেমা বানিয়েছে তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। চলতি সংখ্যায় জয়া আহসানের একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হল।

চ.
ছোট কাকু। আমাদের সাহিত্য অঙ্গনে একটি জনপ্রিয় চরিত্রের নাম। বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের আলোচিত গোয়েন্দা সিরিজ ছোটকাকু অবলম্বনে নন্দিত অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন এবারও একটি ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ করেছেন চ্যানেল আই এর জন্য। নানা চমকে ভরা ছিল এবারের ধারাবাহিকটি। বিশেষ চমক ছিল সময়ের ব্যাপক আলোচিত ও জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা সজল ও এক সময়ের জনপ্রিয় মডেল তারকা মিলার সিরিয়ালটিতে যুক্ত হওয়া। ছোটকাকুর এবারের ধারাবাহিকে সজল একটি ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করেন। সজল এবং মিলাকে নিয়েই এবার লেখা হয়েছে আনন্দ আলোর শীর্ষ কাহিনী। এজন্য অনেক কৃতজ্ঞতা সজল ও মিলার প্রতি।

ছ.
ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা ভবনে বসেছে দক্ষিণ এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর জমজমাট এক আসর। বাংলাদেশ সহ ২০টি দেশের সমকালীন চিত্রকলা ও চিত্রকলা বিষয়ক ভাবনার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে এই প্রদর্শনীতে। যারা এখনও প্রদর্শনীটি দেখতে যাননি। তারা আর দেরী না করে আজই সিদ্ধান্ত নিন কবে যাবেন শিল্পকলায়। প্রদর্শনীটি এমাসের শেষ দিন পর্যন্ত চলবে।

জ.
মঞ্চ নাটক নিয়ে হঠাৎ একটি বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফ্লাট নির্মাণকারী একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সম্প্রতি শিল্পকলায় ৫দিন ব্যাপি এক নাট্য উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনলাইনে বিনে পয়সায় টিকেট সংগ্রহের মাধ্যমে উৎসবের নাটক দেখার সুযোগ ছিল। বিতর্কটা উঠেছে এখানেই। আজ থেকে ৪০ বছর আগে ‘দর্শনীর বিনিময়ে মঞ্চ নাটক দেখুন’ এই শ্লোগান তোলা হয়েছিল। অথচ ৪০ বছর পর বিনে পয়সায় মঞ্চ নাটক দেখানো হল! মঞ্চ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কেউ বলছেন এটা ঠিক হয়নি। কেউ বলছেন ঠিক হয়েছে। বিতর্ক চলছেই। পাঠক, আপনারা কি বলেন? আনন্দ আলোয় এব্যাপারে লিখুন। গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হবে।

ঝ.
এবার একটি আনন্দের খবর বলি। বাংলা ভাষার প্রথম ডিজিটাল স্যাটেলাইট টিভি মাধ্যম চ্যানেল আই আগামী ১লা অক্টোবর ২০ বছরে পা দিতে যাচ্ছে। কখনও কখনও মনে হয় এই তো সেদিন চ্যানেল আই-এর আত্মপ্রকাশ ঘটলো। অথচ ইতিমধ্যে কেটে গেছে ১৯টি বছর। বাংলাদেশের টেলিভিশন মাধ্যমে চ্যানেল আই অবিস্মরনীয় ভ‚মিকা পালন করে চলেছে। আমেরিকার বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট সম্প্রতি চ্যানেল আই পরিদর্শনে এসেছিলেন। তিনি বলেনছেন, শুধু বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান নয়, সমাজ ও দেশ উন্নয়ন মূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে চ্যানেল আই বিশ্বে একটি অনন্য মর্যাদার টিভি চ্যানেল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চ্যানেল আই-এর জন্মদিন উপলক্ষে আমরা আগাম অভিনন্দন জানাচ্ছি। জয়তু চ্যানেল আই।

ঞ.
আরও একটি আন্দের খবর বলি। টিভি মিডিয়ায় সঙ্গীত বিষয়ক দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র জনপ্রিয় অনুষ্ঠান চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস এর এবারের আসর বসবে ২১ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রিসোর্ট দ্য প্যালেসের বিশাল আঙিনায়। দেশ-বিদেশের গুণী সঙ্গীত শিল্পীদের মিলন মেলায় পরিণত হবে অনুষ্ঠানটি। আনন্দ আলোর পরবর্তি সংখ্যায় এব্যাপারে একটি বর্নাঢ্য আয়োজন থাকবে আশাকরছি।

ট.
ও হ্যা, ধাঁধাটির উত্তর কি খুঁজে পেয়েছেন? আর সোবহান সাহেবকে হঠাৎ কেন ঢাকায় আসতে বলল, তার বাড়ির কেয়ার টেকার? এটাকে কাকতালীয় ঘটনাও বলতে পারেন। কারণ ধাঁধাটির উত্তরের সাথে সোবহান সাহেবের ঢাকায় আসার কারণটিও জড়িত। ধাঁধার উত্তর হলোÑ আশি। দাদা নাতিরে কইছে আমারে একটা চিডি লেখি দে। উত্তরে নাতি বলেছেÑ আসি… বাবা কইছে অংকে কত হাইছে? এর উত্তরওÑ আশি। মা ভাত খাইতে ডাইকছে… এর উত্তরও আসি…. মজার ব্যাপার হলো আগামী অক্টোবরে সোহবান সাহেব ৮০ বছরে পা দিবেন। ছেলে-মেয়েরা গোপনে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কিন্তু আনন্দের আতিশয্যে ফোনে খবরটা আগাম জানিয়ে দিয়েছে বাড়ির কেয়ার টেকার। কিন্তু কেয়ার টেকারের ফোন পেয়ে সোবহান সাহেব বিচলিত হয়ে উঠলেন কেন? ঘটনা কি? জানতে হলে আনন্দ আলোর আগামী সংখ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
নিজে ভালো থাকবেন। অন্যকেও ভালো রাখার চেষ্টা করবেন। সবার জন্য রইলো শুভ কামনা।