Home শীর্ষ কাহিনি প্রচ্ছদ মুখ লাল সবুজ-এর বিজয়গাঁথা

লাল সবুজ-এর বিজয়গাঁথা

SHARE
16

৪৭ পেরিয়ে গেল। মহান স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রম করলাম। ১৯৭১ সাল। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভ‚মি বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। সবুজের মাঝে লাল সূর্যের একটা পতাকা বিশ্বের বুকে আপন মহিমায় পত পত করে ওড়ার স্বাধীনতা পায়। স্বাধীনতা লাভের পর যুদ্ধ বিধ্বস্থ বাংলাদেশকে র্অথনৈতিক ভাবেতো বটেই সাংস্কৃতিক, সামাজিক ভাবে গড়ে তোলাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জের বিষয়। কারণ তখনকার দিনে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির সাথেও আখ্যা দিয়েছিল কেউ কেউ। চরম প্রতিক‚লতার সাথে লড়াই করে বাংলাদেশ আজ স্বগৗরবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে পৌঁছে যাওয়ায় পৃথিবীর অনেক দেশে সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আজ থেকে ৪৭ বছর আগে বাংলাদেশে যা ছিল কল্পনার তাই আজ বাস্তব। বর্তমান সরকারের আন্তরিক নানা পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় দূর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রিয় মাতৃভ‚মি বাংলাদেশ এখন অযুত সম্ভবনার দেশ। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ মহান বিজয়ের ৪৭ তম আনন্দ দিনে প্রিয় জন্মভ‚মির প্রতি অনেক শ্রদ্ধা। অনেক ভালোবাসা।
৪৭ বছরে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। এনিয়ে বিশ্বব্যাপি অনেক পজিটিভ আলোচনাও রয়েছে। একটি দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সূচকে অর্থনীতি যেমন গভীর ভাবে আলো ফেলে তেমনি ভাবে সাংস্কৃতিক উন্নয়নও একটি দেশকে বিশ্বে মহিমান্বিত করে। ইরান একটি মুসলিম দেশ। অথচ ওই দেশের চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপি সমাদৃত। বিশ্ব চলচ্চিত্রের কোনো আলোচনা উঠলেই ইরানী চলচ্চিত্র গুরুত্ব পায়। উন্নততর সংস্কৃতির কথা উঠলেই ফ্রান্সের কথা অতি সহজেই উঠে আসে। তেমনি ভাবে আমাদের বাংলাদেশও নানা ক্ষেত্রে বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Shakib-Mash

এক্ষেত্রে খেলাধুলার কথাই প্রথম উঠে আসে। ক্রিকেট বাংলাদেশকে অনেক মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যারা এক সময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ বলে আখ্যা দিয়েছিল তারাই এখন বাংলাদেশের অনেক প্রশংসা করছে। ক্রিকেট বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে অনন্য মর্যাদায় আধষ্ঠিত করেছে। এখন আর বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশকে চেনাতে কষ্ট হয় না। এক সময় বিদেশের অনেক মানুষ বাংলাদেশ নাম শুনলেই মানচিত্র ঘেটে অথবা ‘Near India’ বলে মন্তব্য করতো। এখন বাংলাদেশ বললেই চিনে ফেলে। oh! Bangladesh. Cricket… I like Bangladesh. কয়েক বছর আগে ফিলিপাইনে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উঠতেই ওখানকার তরুণ-তরুণীরা ব্যাপক আগ্রহ দেখাল। এগিয়ে এসে কথা বলল! ওরা গর্ব ভরে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উচ্চারণ করলো। শেখ মুজিব… গ্রেট লিডার…
বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে শুধু ক্রিকেটেই নয় ফুটবলও এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বিশেষ করে মেয়েদের ফুটবলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন সমীহ জাগানো নাম। বাংলাদেশের মেয়েরা ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটেও বিশ্বব্যাপি ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। ফুটবল ও ক্রিকেটে বাংলাদেশের ছোট ছোট ছেলে- মেয়েরা যেভাবে নিজেদের প্রতিভা দেখাচ্ছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশ্বে আরও অনেক বিস্ময় সৃষ্টি করেেব।
আগেই বলেছি, একটি দেশকে অনেক মর্যাদার আসনে তুলে নিতে পারে তার বিকাশমান সংস্কৃতি, যেমন নাটক, চলচ্চিত্র। নিঃসন্দেহে বলতে হয়, বাংলাদেশের মঞ্চ নাটক বিশ্বের নানা দেশে ব্যাপক আলোচনার বিষয়। মঞ্চ নাটকের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইটি আইতে নেতৃত্ব দানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাপক ভ‚মিকা রেখে চলেছে। তবে মঞ্চ নাটকের তুলনায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যেন একটু ¤্রয়িমান। গত ৪৭ বছরে সংস্কৃতির অন্যান্য শাখা পত্র-পল্লবে বিকশিত হলেও চলচ্চিত্র কেমন যেন গতিহীন ¯্রােতে পা রেখে হাঁটছে।
সেই অর্থে চলচ্চিত্রের কোনোই উন্নতি হয়নি। দেশের উল্লেখযোগ সংখ্যক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। সিনেমা হল ভেঙ্গে মার্কেট গড়েছে অনেকে। যারা সিনেমা বানান তারাও যেন আগের মতো সচল নন, আন্তরিকতার বড়ই অভাব। তরুণ প্রতিভাবান অনেক চলচ্চিত্রকারের আবির্ভাব ঘটেছে। তাদের অনেকেই ভালো, আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র বানাচ্ছেন। কিন্তু অনেকেই হাঁটছেন লক্ষ্যহীন পথে। কোথায় যাবেন জানেন না। অথচ হেঁটে চলেছেন। পাশের দেশ অর্থাৎ কলকাতার শিল্পী, কলাকুশলীরা আগের দিনে আমাদের দেশের সিনেমায় অভিনয় করতে আসতেন। এখন আমাদের দেশের ব্যস্ত তারকাদের প্রায় সবাই এখন কলকাতা মুখি। কলকাতার ছবি হিট হচ্ছে। অথচ নিজ দেরে ছবি নিয়ে কারও কোনো সুদুর প্রসারি পরিকল্পনা নাই। ধর্মীয় ভাবে সিনেমা নির্মাণের প্রতি দেশে এক ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান। অথচ ইরনের চলচ্চিত্র অনেক সমৃদ্ধ। খোদ সৌদি আরবে সংস্কৃতির অনেক বন্ধ জানালা খুলে দেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের দেশে কোনো কোনো ক্ষেত্রে খোলা জানালা আবার বন্ধ করে রাখা হচ্ছে।
তবে একথা সত্য, দেশে টেলিভিশন সংস্কৃতির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ৩০টিরও বেশি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল কার্যকর ভ‚মিকা পালন করছে। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ-তরুণী টেলিভিশন চ্যানেল সমূহে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। টেলিভিশন মাধ্যমের বিস্তৃতি দেশকে অন্য এক মর্যাদার আসনে আধিষ্ঠিত করেছে। ব্যবসার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ গত ৪৭ বছরে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। অহংকারের সাথে বলতেই হবে টেলিভিশন সেক্টরের মতো ব্যবসা ক্ষেত্রেও দেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীরা ব্যাপক দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। ব্যবসার মতো আইটি সেক্টরেও বাংলাদেশের তরুণ তরুণীদের উজ্জ্বল উপস্থিতি বিশ্বে ব্যাপক ভাবে প্রশংসিত। স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে আমাদের প্রিয় মাতৃভ‚মি বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পরিচালনার ক্ষেত্রেও ব্যাপক ভ‚মিকা রাখছে দেশেরই একদল মেধাবী তরুণ-তরুণীরা।
বেশি না ২০ বছর আগে যে মানুষটি দেশ ছেড়েছিল তিনি যদি এখন নিজের দেশে আসেন তাহলে আমাদের ধারনা দেশটিকে তার কাছে অনেক নতুন বলে মনে হবে। কেউ কি ভেবেছিল ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরে ফ্লাইওভার বসবে? মেট্রোরেল দৃশ্যমান হচ্ছে। এটাও কি কেউ ভেবেছিল? বাংলাদেশ নিজের টাকায় পদ্মা সেতুর মতো একটি বড় সেতু বানাচ্ছে। যার কাজ প্রায় শেষের পথে। কেউ কি তা ভেবেছিল।
প্রযুক্তির কল্যাণে দেশের মানুষ এখন ঘরে বসেই অনেক সুবিধা পাচ্ছে। ঘরে বসেই বিদ্যুৎ বিল দিতে পারছে। ছাত্র-ছাত্রীরা ঘরে বসেই কাঙ্খিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারছে। ঘরে বসেই এখন চিকিৎসা সেবাও পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভ‚মি বাংলাদেশ এখন অনেক সম্ভাবনার দেশ। বিজয়ের ৪৭ তম বছরে যারা এই দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি রইল আমাদের অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা! তাদের দেখানো পথেই হাঁটছে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ!
আসুন সংস্কৃতি ক্ষেত্রে আরও আন্তরিক হই। বিশেষ করে চলচ্চিত্র নির্মাণ ভাবনায় আরও গতির সঞ্চার করি। একবার ভাবুন তো আমাদের ক্রিকেট, আমাদের ফুটবল, আমাদের মঞ্চ নাটক, যে ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেভাবেই যদি আমাদের চলচ্চিত্রও এগিয়ে যায় তাহলে তো কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
বিজয় মাসের অনেক শুভেচ্ছা নিন।

Cover
দেশ স্বাধীনের পর অন্যান্য সেক্টরের মতো আমাদের পোশাক শিল্পেও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে। দেশের পোশাক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ বিশেষ করে বুটিক-বাটিক হাউস সমূহের পোশাক তৈরির নান্দনিক ভাবনায় আলোকময় হয়ে ওঠে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এক্ষেত্রে বিপ্লব সাহার বিশ্বরঙ সবর্দাই ব্যতিক্রম। বিশ্বরঙ প্রতি বছরেই তার নতুন পোশাক ভাবনায় লাল সবুজের প্রিয় বাংলাদেশকে অনেক মায়া ছড়িয়ে গুরুত্ব দেয়। এবারও বিজয় দিবসে বিশ্বরঙ লাল সবুজের আবহে বানিয়েছে নতুন পোশাক। মডেল হয়েছেন নন্দিত অভিনয় শিল্পী সুবর্ণা মুস্তাফা ও সাদিয়া ইসলাম মৌ। আনন্দ আলোর এবারের সংখ্যায় প্রচ্ছদ মুখ হয়েছেন তারা। এজন্য দু’জনেকই অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। একই সাথে বিশ্বরঙের প্রতি রইল কৃতজ্ঞতা।