Home আরোও বিভাগ গানবাজনা লালনের গানে জমলো মেলা

লালনের গানে জমলো মেলা

SHARE
Lalon

মোহাম্মদ তারেক
দেশের গান শুনলেই দেশ প্রেমিক যে কোনো মানুষ আবেগ আপ্লুত হতে বাধ্য। কারণ দেশ মানেই তো মা। আর মাকে নিয়ে গান মানেই অন্তর ছুঁয়ে যাওয়া একেকটি মুহূর্ত। জনপ্রিয় গীতিকার দেওয়ান লালন আহমেদের গান নিয়ে শিল্পী, সুরকার ও নির্মাতার এক জমজমাট আড্ডায় এমনই কিছু মুহূর্তের অনিন্দ্য সুন্দর স্মৃতি জমা হয়ে গেল ইতিহাসের ক্যানভাসে। লালন আহমেদ একজন পুলিশ কর্মকর্তা। কবিতার পাশাপাশি দীর্ঘ দিন ধরে গান লিখছেন। শিশুদের জন্যও লিখে থাকেন তিনি। ইতিমধ্যে ৩টি বইও প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে তাঁর রচিত ৩টি গানের ‘মিউজিক ভিডিও’ ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। বীরঙ্গনা, ২৫ শে মার্চ ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক ৩টি আলোচিত গানের মিউজিক ভিডিও বানিয়েছেন গুণী নির্মাতা সৈয়দ তানভীর আহমেদ। ধ্রæব মিউজিক থেকে প্রকাশিত লালন আহমেদের লেখা বীরঙ্গণা’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মিজান রহমান। আর ‘২৫ শে মার্চ’ শীর্ষক গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ফিডব্যাক খ্যাত সঙ্গীত তারকা লুমিন। জি সিরিজ থেকে প্রকাশিত লালন আহমেদের লেখা ‘বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক গানটিতেও লুমিন কণ্ঠ দিয়েছেন। কয়েকদিন আগে আমাদের সঙ্গীতাঙ্গনের এই চারগুণী তারকা আনন্দ আলোর দফতরে এসেছিলেন। গান নিয়ে কথা মালার পাশাপাশি জমে যায় জম্পেশ আড্ডা। শিল্পী ও সুরকারদের কণ্ঠে শুধুই গীতিকার লালন আহমেদের প্রশংসা। নির্মাতার কণ্ঠেও একই সুর। সকলের অভিন্ন মন্তব্য, একজন ব্যস্ত পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও লালন আহমেদ সাহিত্য ও সঙ্গীতের জন্য যেভাবে সময় দেন তা সত্যি প্রশংসা করার মতো।
লালনের লেখা বীরঙ্গনা গানটি আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো বীরঙ্গনাদের নিয়ে রচিত। গানটির মিউজিক ভিডিওতে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলের ২৪ জন বীরঙ্গনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ ঢাকায় রাজারবাগের পুলিশ ব্যারাকে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক ইতিহাসের নির্দয়, নিষ্ঠুরতম হত্যাকাÐ সংগঠিত হয়। সেদিন আমাদের পুলিশ বাহিনীর অসংখ্য সদস্য দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দান করেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য পুলিশ বাহিনীর এই মহান আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করে ‘২৫ শে মার্চ’ শীর্ষক গানটি লিখেছেন লালন। রাজারবাগের পুলিশ ব্যারাকেই গানটির ‘মিউজিক ভিডিও’ নির্মিত হয়েছে। লুমিনের কণ্ঠ মাধুর্য ও সৈয়দ তানভির আহমেদের আধুনিক নির্মাণ ভাবনায় ‘২৫ শে মার্চ’ গানটি শুধু একটি গান নয় মহান স্বাধীনতার চেতনা ও দেশের স্বাধীনতার জন্য পুলিশ বাহিনীর আত্মত্যাগের একটি দলিলও হয়ে উঠেছে। যা আগামী দিন গুলোতে দেশ ভক্ত মানুষ গড়তে প্রেরনা যোগাবে নিঃসন্দেহে।
এই গানটি লেখার ক্ষেত্রে একটি করুণ স্মৃতি তুলে ধরলেন লালন আহমেদ। বাংলাদেশের হয়ে সুদুর আইভরিকোস্টে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন তিনি। ২৬ শে মার্চ প্রিয় মাতৃভ‚মি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালন উপলক্ষে ওই মিশনে যোগ দেওয়া ১৮০জন সদস্যের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। হাবিলদার মোহাম্মদ আলী সেদিন এক করুণ কাহিনী বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে আমার বাবার কোনো স্মৃতি নাই। কারণ মহান স্বাধীনতার প্রাক্কালে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আমার বাবাকে পাক হানাদার বাহিনী নির্মম, নিষ্ঠুর কায়দায় হত্যা করে। বলতে বলতে ডুকরে কেঁদে ফেলেন মোহাম্মদ আলী।
ওই ঘটনা লালন আহমেদকে ভীষণ ভাবে তাড়িত করে এবং তিনি ২৫ শে মার্চ শীর্ষক’ গানটি লিখে ফেলেন। গানটি নিয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী লুমিনের মন্তব্যÑ অসাধারণ একটি গান। সবচেয়ে বড় কথা এই গানটি আমাদের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেছে। যা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।
শুধু লুমিনই নয়, গুণী নির্মাতা সৈয়দ তানভির আহমেদ, শিল্পী মিজানের কণ্ঠেও লালন বন্দনা শোনা গেল। সবার একই কথা, লালন আহমেদের গানে দেশের প্রতি মায়া থাকে। ‘কাজেই লালন ভাই এগিয়ে চলো আমরা আছি তোমার সাথে’ এই প্রত্যাশা থাকলো।
আমরাও লালন আহমেদের আরও সাফল্য কামনা করি। আনন্দ আলোর পক্ষ থেকে ৪ গুণী শিল্পীর প্রতি রইলো অফুরান শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। বাংলা গানের জয় হোক।