Home আরোও বিভাগ সম্পাদকের লেখা রূপালি গিটার ফেলে তুমি চলে গেলে…

রূপালি গিটার ফেলে তুমি চলে গেলে…

SHARE
AB-2

জন্ম, মৃত্যু মহান সৃষ্টিকর্তার হাতেই… তবুও খবরটা যেনো কারোই বিশ্বাস হচ্ছিলো না। এটা হতেই পারে না। উড়ো খবর। যার কোনোই ভিত্তি নাই। কিন্তু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কেউ কি উড়ো খবর দিতে পারে? তাও আবার এমন একজন মানুষের মৃত্যুর খবর যার জন্য গোটা দেশের মানুষের রয়েছে অফুরান ভালোবাসা। সংস্কৃতি মনস্ক মানুষের অনেক প্রিয়, আপনজন তিনি। যার গান শুনে জীবনে চলার ক্ষেত্রে প্রেরণা খুঁজে পায় সকলে…। যার গানে মানুষের পাশাপাশি প্রকৃতিও হাসে। যার গান শুনে তরুণেরা হয়ে ওঠে পাগল পারা। তরুণদের কণ্ঠে একটাই সুর বেজে ওঠেÑ গুরু তোমায় সালাম… বয়োজ্যোষ্ঠদের কণ্ঠে বেজে ওঠে আশার বানীÑ গান নিয়েই ভালো থাকিস বাবা… সেই মহান শিল্পীর মৃত্যুর খবর কারোই যেন বিশ্বাস হচ্ছিলো না। বিশ্বাস হবেই বা কি করে? মাত্র ২ দিন আগে রংপুরে হাজার হাজার ভক্তের সামনে প্রাণ খুলে গান গেয়েছেন তিনি। গানের ফাঁকে ফাঁকে গান প্রিয় সাধারন মানুষ ও ভক্তদের উদ্দেশে কত কথাই না বলেছেন! তারও আগে ১ অক্টোবর চ্যানেল আই-এর জন্মদিনে খোলা মঞ্চে সুরের পাশাপাশি গিটারের জাদুকরী ঝংকার তুলেছিলেন। যেনো হামিলিনের সেই বাঁশিওয়ালা। গিটারই তার বাঁশি। অবিরাম সেই বাঁশি বাজালেন চ্যানেল আই-এর জন্মদিনে, খোলা মঞ্চে। চ্যানেল আই-এর পর্দায় গোটা দেশের পাশাপাশি বিশ্বের ৬টি মহাদেশে অবস্থানরত কোটি কোটি বাংলা ভাষাভাষি মানুষ সেদিন আবারও প্রত্যক্ষ করেছেন এই গুণী শিল্পীর মায়াবী সঙ্গীত ভ‚বন। যেখানে গানই জীবন। আবার অন্যভাবে বলা যায় জীবনই গান।
হ্যা, খবরটাই সত্যি। টেলিভিশনের স্ক্রলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কান্না ছড়িয়ে বাতাসের চেয়েও দ্রæত গতিতে খবরটা পৌঁছে গেল দেশ থেকে দেশান্তরে। আমাদের এই উপমহাদেশের গুণী সঙ্গীত শিল্পী বাংলাদেশের অহংকার আইয়ুব বাচ্চু আর নেই। দেশ-বিদেশের কোটি কোটি সঙ্গীতপ্রেমি মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। যেন হঠাৎ করেই থমকে গেল দেশের গোটা সাংস্কৃতিক অঙ্গণ। ফেসবুকে কান্নার রোল দেখেও যেনো অনেকের বিশ্বাস হচ্ছিলো না। এক বন্ধু অন্য বন্ধুকে, এক শিল্পী অন্য শিল্পীকে, সঙ্গীত প্রিয় সাধারন মানুষও একে অপরকে ফোন করতে শুরু করলেনÑ ঘটনা কি সত্যি? আমাদের প্রিয় শিল্পী বাচ্চু কি সত্যি সত্যি না ফেরার দেশে চলে গেছেন? নিমিষেই গোটা দেশে শোকের ছায়া নেমে এলো!
গিটারের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চুর অসুস্থতার কোনোই লক্ষণ ছিল না। ১৬ অক্টোবর রাতে রংপুরে একটি কনসার্ট সেরে পরদিনই ঢাকায় ফিরেছিলেন সুরের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু। ১৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাসায় বুকে ব্যাথা অনুভব করেন তিনি। ব্যক্তিগত গাড়িচালক তাকে নিয়ে স্কয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওয়না দেন। গাড়িতে তোলার সময় তিনি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালের নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষনা করেন।
আইয়ুব বাচ্চুর অকাল মৃত্যুতে দেশের গোটা সাংস্কৃতিক অঙ্গণ এখন শোকে মুহ্যমান। শুধুমাত্র সঙ্গীত নিয়েই জীবন কাটানো এই গুণী শিল্পী সঙ্গীতের মাধ্যমেই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপুর্ণ অবদান রেখেছেন। দেশের প্রতি অফুরান মায়া ছড়ানো এই গুণী শিল্পী ছিলেন তরুণদের কাছে সকল সৃষ্টিশীল কর্মে প্রেরণার উৎস। আর তাই বাচ্চুর কোনো কনসার্ট মানেই লাখো তরুণ-তরুণীর হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি। জীবদ্দশায় বাচ্চু একবার বলেছিলেন, তরুণ বয়সটাই জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। তাই আমি তরুণদের অনেক পছন্দ করি। একথা জোর দিয়েই বলতে পারিÑ যে তরুণ অথবা তরুণী গান পছন্দ করে সে কখনই জীবনে কোনো অন্যায় কাজে জড়ায় না।
একজন পরিপুর্ণ শিল্পীর পাশাপাশি একজন আদর্শ মানুষও ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। মানব প্রেম ছিল তার আদর্শের অন্যতম দিক। ব্যান্ড সঙ্গীতের উন্নয়নে সদা তৎপর ছিলেন। প্রতিবছর ১লা ডিসেম্বর চ্যানেল আই-এর উদ্যোগে চ্যানেল আই প্রাঙ্গনে দিনব্যাপি যে ব্যান্ড ফেস্ট অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয় তার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু।
আইয়ুব বাচ্চু আমাদের সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিশেষ করে ব্যান্ড সঙ্গীতের ক্ষেত্রে তাঁর অবাদন ইতিহাসে অমর, অক্ষয় হয়ে থাকবে। আনন্দ আলোর এবারের পুরো সংখ্যাটি মহানশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হলো। শিল্পীর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রইলো সমবেদনা। শেষে একটি আরজি করতে চাই আমরা যেন এই মহান শিল্পীকে ভুলে না যাই। জীবদ্দশায় তিনি তাঁর গিটারের ভুবনকে নিয়ে একটা স্বপ্ন দেখেছিলেন। তরুণ শিল্পীদেরকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল। এরকম প্রচেষ্ঠা গুলোকে আমরা যেনো এগিয়ে নিয়ে যাই। একথা সত্য, আইয়ুব বাচ্চুর গান ও তাঁর সামাজিক কর্মকান্ডকে যদি আমরা এগিয়ে নিতে পারি তাহলে দেশই উপকৃত হবে।