Home ফিচার রূপচর্চায় চন্দনের কারিশমা

রূপচর্চায় চন্দনের কারিশমা

SHARE
Joty

সুবর্না হক
ত্বকের যতেœ কত কিছুই না করেছে শায়লা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সারা মুখে ব্রণ উঠেছে। সাথে আছে র‌্যাশ। জ্বালা পোড়া করে। ব্রণের কারণে মুখের চেহারা পাল্টে গেছে। শরীরের অন্যান্য অংশেও ‘তেলতেলে’ ভাব। একে তো প্রচÐ গরম তার ওপর শরীরের ত্বকের এই অবস্থা। শায়লার মন খুবই খারাপ। আজ কলেজেও যায়নি। বাসার বাইরে বের হলেই নানা জনের কথা শুনতে হয়। সবাই এটা করো ওটা করো বলে পরামর্শ দেয়। আবার কেউ কেউ শায়লার ত্বকের অবস্থা দেখে আতকে উঠেÑ ‘ওমা তোমার একি হাল? স্কীনের দেখি জটিল অবস্থা। ট্রিটমেন্ট করাও। কতজনের যে কত কথা। তাই কলেজে যাওয়াও ছেড়ে দিয়েছে শায়লা।
বিকেলে শায়লাদের বাসায় বেড়াতে এলেন পাশের বাসার মাজেদা খালা। তাকে সবাই ‘ফ্রি ডাক্তার’ বলে ডাকে। কারণ মাজেদা খালা টুকটাক ডাক্তারিও করেন। সর্দি, কাশি, গলা ব্যাথা, মাথা ব্যাথা সহ শারিরীক ছোটো খাটো সমস্যায় ঔষধ বাতলে দেন। মাজেদা খালা ডাক্তারি পড়েননি। তার বাবা ছিলেন নামকরা ডাক্তার। চিকিৎসা কাজে বাবাকে সহায়তা করতে গিয়েই চিকিৎসার টুকিটাকি শিখে ফেলেন। সেটাই এখন কাজে লাগাচ্ছেন। মাজেদা খালা মানুষ হিসেবেও বেশ ভালো। শায়লার খুউব পছন্দের মানুষ। বাসায় মাজেদা খালা এসেছে একথা শোনার পর অন্যদিন হলে শায়লা এতক্ষণে দৌড়ে তার কাছে চলে যেত। আজ যেতে ইচ্ছে করছে না। মুখের ত্বকের যা অবস্থা… এভাবে মাজেদা খালার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে মন চাইছে না।
কিন্তু শায়লাকে অবাক করে দিয়ে মাজেদা খালাই শায়লার রুমে এসে ঢুকলো। চোখে-মুখে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে বলল, কিরে শায়লা তোর যে এই অবস্থা আমাকে একবারও জানালি না? তোর শরীরের স্কীনের তো দেখি বারোটা বেজে গেছে। কিভাবে এটা হলো? নিশ্চয়ই ত্বকের যতœ নিস না? দিনে কয় গøাস পানি খাস? বল, বল… দিনে কম করে হলেও ৫/৬ গøাস বিশুদ্ধ পানি খাবি। দেখবি শরীরের ত্বক ভালো থাকবে। বলেই শায়লার মুখ, হাত, পা সহ শরীরের দিকে একবার দেখে নিয়ে মাজেদা খালা বলল, তোর ট্রিটমেন্ট আমিই করব। আমার কথা মতো যদি কাজ করিস তাহলে কয়েক দিনের মধ্যেই তোর শরীরের ত্বকের এই বাজে অবস্থা দূর হয়ে যাবে। তোকে চন্দন থেরাপি দিতে হবে। বলেই শায়লার চোখের দিকে তাকালেন মাজেদা খালা। চন্দন কি জিনিস জানিস তো নাকি?
কলেজের এক বান্ধবীর কাছে রূপচর্চার এই উপকরণটি সম্পর্কে জেনেছে শায়লা। পাশের বাসার সিথি আন্টিও চন্দন সম্পর্কে বলেছেন। খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি শায়লা। কিন্তু মাজেদা খালার কথায় চন্দন সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠলো। মাজেদা খালা আবার জিজ্ঞেস করল, চন্দন সম্পর্কে জানিস তো নাকি? চন্দন গাছের কাঠ শুকিয়ে গুড়া করে পাওয়া যায় চন্দন গুড়া। যাকে ইংরেজিতে বলা হয় স্যান্সেল উড পাউডার। ত্বকের যতেœ চন্দন বেশ উপকারি। চন্দনের অনেক গুণ। বলব চন্দনের গুণের কথা?
শায়লা আগ্রহী হয়ে বলল, খালা বলো আমি শুনবো… মাজেদা খালা চন্দনের গুণাগুণ সম্পর্কে বলতে শুরু করলÑ চন্দন ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। ত্বকের ক্লান্তিভাব দূর করে। চন্দনের সঠিক ব্যবহারে ত্বকের কোমলতা বৃদ্ধি পায়, ব্রণ বা ত্বকের অবাঞ্ছিত দাগ দূর করে। সব চেয়ে বড় কথা বয়সের কারণে যাদের ত্বক ঝুলে গেছে তাদের জন্যও চন্দন বেশী উপকারি। কারণ ত্বকে চন্দন ব্যবহার করলে এটি ত্বককে টানটান রাখে। এই পর্যন্ত বলে থামল মাজেদা খালা। মাজেদা খালার কথা কেন যেন বিশ্বাস হচ্ছে শায়লার। সে আগ্রহী হয়ে বলল, খালা আমি আমার ত্বকে চন্দন ব্যবহার করতে চাই। মাজেদা খালা খুশি হয়ে বলল, এই তো ল²ী মেয়ের মতো কথা। তুই আয় আমার সাথে।
Milaসুখবর হলো, নিয়মিত চন্দন ব্যবহারের ফলে শায়লার ত্বকের সকল সমস্যা দূর হয়ে গেছে। তার মুখে এখন আর ব্রণ নাই। র‌্যাশও হাওয়া। নিয়মিত চন্দন ব্যবহারের ফলে শায়লার শরীরে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বেড়েছে। দিনে দিনে রূপবতি হয়ে উঠছে সে। এখন একদিনও কলেজ কামাই করে না শায়লা। কারণ কলেজে গেলেই বান্ধরীরা ঘিরে ধরে তাকে। তার রূপের রহস্য জানতে চায়। কিযে আনন্দ লাগে শায়লার। তখন মনে মনে চন্দনকেই কৃতজ্ঞতা জানায়। আহ! চন্দন! বাহ! চন্দন!
চন্দনের অসাধারণ গুণ
একটি সুগন্ধি গাছের নাম চন্দন। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চন্দন গাছ দেখতে পাওয়া যায়। ভারতে চন্দনকে পূণ্য অর্জনের উপকরণ হিসেবে সম্মান করা হয়। কপালে চন্দনের ফোটা ছাড়া পুজা শুদ্ধ হয় না। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ক্ষেত্রেও চন্দনের বহুল ব্যবহার রয়েছে।
ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন চন্দনের রূপচর্চার জন্য খ্যাতি রয়েছে যুগ যুগ ধরে। প্রাচীনকালে রূপচর্চার অন্যতম উপাদান ছিল চন্দন। মোট কথা, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় চন্দন বেশ উপকারি। চন্দনের অনেক গুণ। বলি রেখা দূর করতে চন্দনের রয়েছে অসাধারণ কারিশমা। ত্বকের রোগে পোড়া ভাব দূর করতে চন্দন বেশ উপকারি। শসার রস, চন্দনের গুড়া, দই ও গোলাপজল এক সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে রোদে পোড়া ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। ব্যস ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর হয়ে যাবে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে চন্দনের রয়েছে অসাধারণ কারিশমা। মসৃণ ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য হলুদ বাটা ও চন্দনের গুড়ো মিশিয়ে লাগান। ২০ মিনিট পর ঠাÐা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত কিছু দিন ব্যবহার করতে থাকুন। দেখবেন আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বেড়ে গেছে।
আপনার যদি ডার্ক সার্কেল থাকে তাহলে সামান্য পরিমাণ চন্দনের গুড়ার সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে চোখের চারপাশে লাগান। এভাবে সারারাত রেখে সকালে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আশা করি মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আপনার চোখের চারপাশের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে।
মুখের অবাঞ্ছিত দাগ দূর করতেই চন্দনের রয়েছে অসাধারণ কারিশমা। ডিমের কুসুম, মুধু ও চন্দন গুড়া একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগালে মুখের অবাঞ্ছিত দাগ দূর হয়। প্রতিদিন দুই চা চামচ চন্দনের গুড়া ও গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণ মুখে মেখে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কিছুদিন ব্যবহার করলে আপনার মুখের অবাঞ্ছিত দাগ দূর হয়ে যাবে।
শুষ্ক ত্বকের জন্য
শুষ্ক ত্বকের জন্য বাড়তি যতœ প্রয়োজন। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে চন্দনের সঙ্গে মধু ও দুধের মিশ্রণ ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। দুধে আছে ল্যাকটোজেন ও মধুতে আছে অ্যান্টিবায়েটিক উপাদান। চন্দনের সঙ্গে এই দুটি উপদান মিশিয়ে মুখ, হাত ও পায়ে ব্যবহার করলে ত্বক হয়ে উঠবে সতেজ ও কোমল।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে চন্দনের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে হাতে পায়ে, মুখে ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে।
শুধুমাত্র সংবেদনশীল ত্বকের জন্য
যাদের ত্বক সংবেদনশীল তাদের উচিৎ রূপচর্চার ক্ষেত্রে বেশি সচেতন থাকা। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে চন্দনের গুড়ার সাথে হালকা টক দই মেখে তা ত্বকে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

মডেল: জ্যোতিকা জ্যোতি ও মিলা
মেকওভার: অরা বিউটি লাউঞ্জ