Home আরোও বিভাগ টিভি গাইড মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাড়ি সিক্যুয়েল স্মৃতির বাড়ি

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাড়ি সিক্যুয়েল স্মৃতির বাড়ি

SHARE
House

একটি বাড়ি তো একটি দেশেরই প্রতীক। ১৯৭১ সালে প্রিয় মাতৃভুমির স্বাধীনতার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। মূলতঃ বাড়ি থেকেই আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের মূলমন্ত্র উচ্চারিত হয়েছিল। একজন লেখক গত ১১ বছর ধরে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘বাড়ি’ শিরোনামে মুক্তিযুদ্ধের নাটক লিখছেন এটা বিশাল এক কাজ। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকের ইতিহাসে অনেক গর্বের একটি বিষয়। ‘বাড়ি’ নিয়ে গত ১১ বছরে ১১টি নাটক প্রচার হওয়ার পর এবার প্রচার হলো- ১২ তম নাটক। প্রতিটি নাটকের গল্প যেমন হৃদয়স্পর্শী তেমনি আবেগ তাড়িত। যারা দেশকে ভালোবাসেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসেন তারা বাড়ি শিরোনামের নাটক দেখার জন্য আগ্রহ নিয়ে বসে থাকেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের নাটকে সাধারণত যুদ্ধ, বিভীষিকা, পাকবাহিনীর বর্ববরতা উঠে আসে কিন্তু ‘বাড়ি’ নাটকে এসবই সৃজনশীলভাবে প্রতীকী অর্থে উঠে আসে গল্পের মাধ্যমে। গল্প বলার মাধ্যমে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে যিনি সফলভাবে  লিখে জাদু দেখান তিনি বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর ‘বাড়ি’ শিরোনামের নাটকের স্রষ্টা।

বিজয় দিবসের দিন ১৬ ডিসেম্বর রাত ৭.৩০ মিনিটে প্রচার হয় এবার নাটকটি। এবারের গল্পের নাম ছিল ‘স্মৃতির বাড়ি’। নাটকটির নাট্যরূপ ও পরিচালনা করেছেন অরুণ চৌধুরী। তিনি বলেন, এবারও চ্যানেল আইতে প্রচার হলো ফরিদুর রেজা সাগরের আলোচিত গল্প ‘বাড়ি’ সিরিজের নাটক। এবার ব্যতিক্রমী একটি গল্প নিয়ে হাজির হয়েছিলাম আমরা। মুক্তিযুদ্ধ, বন্ধুত্ব, আর একটি বাড়ির গল্প এবারের নাটকে গুরুত্ব পেয়েছে। এবারের নাটকটিতে অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, রাইসুল ইসলাম আসাদ, আল মনসুর, নরেশ ভুঁইয়া, অর্ষা, ইরফান সাজ্জাদ, মম আলী, তিনু করিম। শুটিং হয়েছে পূবাইলের হাসনাহেনা শুটিং স্পটে।

 

 

বড় বাড়ি ছোটবাড়ি: ২০১৬

বড় ভাই রাইসুল ইসলাম আসাদ। ছোট ভাই চঞ্চল চৌধুরী। ছোট ভাই বিয়ে করবেন প্রেমিকা অর্ষাকে। বিয়ে উপলক্ষে অন্য শহর থেকে বাড়িতে এলেন ফুফু দিলারা জামান। দিলারা জামানের পরামর্শে বড় বাড়িটা ভেঙে চঞ্চল যখন রাজধানীতে কনভেনশন সেন্টারে বিয়ে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নেয় তখনই তৈরি হয় মনোমালিন্য। বড় ভাইয়ের আপত্তিতে ছোট ভাই ক্ষুব্ধ হয়। বড় বাড়িটা বিক্রি করে তার ভাগ নিয়ে শহরে দামি ফ্ল্যাট কিনতে যায়। গল্পের মোচড় এখানেই। অভিনয়ে দিলারা জামান, আফরোজা বানু, রাইসুল ইসলাম আসাদ, নীলা, চঞ্চল চৌধুরী, অর্ষা ও নরেশ ভুঁইয়া।

বাড়ির নাম স্বাধীনতা : ২০১৫

দশতম নাটকের নাম বাড়ির নাম স্বাধীনতা। এক বীর মুক্তিযোদ্ধার তিন সন্তান। বড় ছেলে থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়, মেঝ ছেলে থাকেন কানাডায় এবং ছোট মেয়ে থাকেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তিন ভাই-বোন প্রতিবছর একবার করে দেশে আসেন। এবারও এসেছেন। তবে এবার তাদের দেশে আসার উদ্দেশ্য একটাই তাহলো বাবার রেখে যাওয়া পুরনো বাড়িটি ডেভেলপারকে দিয়ে মাল্টিস্টোরিড এপার্টমেন্ট করা। অসাধারণ কারুকার্যময় এই বাড়িটি ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার হতো। মুক্তিযুুদ্ধের অনেক স্মৃতিময় এই বাড়িটি ভেঙে এপার্টমেন্ট করার সব প্রস্তুতি যখন শেষ তখনই ঘটে আচমকা এক ঘটনা। টান টান ক্লাইমেক্সের মধ্যদিয়ে শেষ হয় ‘বাড়ির নাম স্বাধীনতা’ বিশেষ নাটক। নাটকের কাহিনি ফরিদুর রেজা সাগর, নাট্যরূপ ও পরিচালনা অরুণ চৌধুরী। অভিনয়ে মামুনুর রশীদ, আবুল হায়াত, রাইসুল ইসলাম আসাদ, মাহমুদ সাজ্জাদ, শম্পা রেজা, ইরফান সাজ্জাদ, সামিয়া সাঈদ প্রমুখ। প্রচার হবে ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭.০০টায় চ্যানেল আইতে।

এই আমাদের বাড়ি : ২০১৪

নবম নাটকের নাম ‘এই আমাদের বাড়ি’। আমীন সাহেব রিটায়ার্ড অফিসার। স্ত্রী মারা গেছেন ক্যান্সারে। আমীন সাহেব মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন ঢাকা ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য। দুই পুত্রকে নিয়ে তিনি একটি পিতৃপ্রদত্ত বড় বাড়িতে থাকেন জীবনভর। আমীন সাহেবের একটি কন্যা ছিল। সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। সেই কন্যার ঘরে এক নাতি সুমিত। তরুণ বয়সী ছেলেটির এই বাড়িতে প্রবেশাধিকার নেই। কারণ, ছেলেটি যদি সম্পত্তির ভাগ চায়। আমীন সাহেব যখন সিদ্ধান্ত নিলেন মৃত্যুর পর পুত্রদ্বয়কে সব বণ্টন করে দেবেন শুধু বাড়িটি ছাড়া, তখনই শুরু হলো ঝামেলা। আমিন সাহেব চাইছেন বাড়িটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে অক্ষুণœ থাকুক। পুত্রদ্বয় চাইছে বাড়িটি ভেঙে বহুতল ভবন বানাতে। সেখানেই শুরু হলো বিপত্তি। নাটকটির নাট্যরূপ ও পরিচালনা করেছেন অরুণ চৌধুরী। অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, সুবর্না মুস্তাফা, কাদরী, জেনি, আগুন, আসিব ও ম আ সালাম এবং নাতির চরিত্রে ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম আবুল কালাম আজাদ।

গৌরবের সেই বাড়ি : ২০১৩

অষ্টম নাটকের নাম গৌরবের সেই বাড়ি। মফস্বলের একটি বাড়ি। মুক্তিযুদ্ধের পর এ বাড়িতে কেউ থাকে না। তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকা এই বাড়িকে এলাকার মানুষ ভুতের বাড়ি বলে চেনে। বাড়ির মালিক ’৭১ সালে পাকবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। তার একমাত্র মেয়ে কানাডা প্রবাসী। হঠাৎ একদিন মেয়েটিকে ফোন করেন তার এক আত্মীয় দেশে আসার জন্য। কারণ এই বাড়ির পাশে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গেছে। গ্যাসক‚প খননের জন্য বাড়িটি ভাঙতে হবে। দেশে আসার পর মেয়েটি জানতে পারে এই বাড়িতে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিত, প্রচুর সহযোগিতা করতো। এই রাগে ক্ষোভে পাকবাহিনী তাকে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের এমন স্মৃতিবিজড়িত একটি বাড়ি কুচক্রীরা গ্যাসক‚প খননের নামে দলিল করে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নষ্ট করে দেয়ার চক্রান্ত করে। নাট্যরূপ ও পরিচালনা অরুণ চৌধুরী। অভিনয়ে সাদিয়া ইসলাম মৌ, চঞ্চল চৌধুরী, উর্মিলা, আসিফ প্রমুখ।

এই বাড়ি সেই বাড়ি : ২০১২

সপ্তম নাটক এই বাড়ি সেই বাড়ি। মফস্বল শহরের একটি বাড়ি। সেই বাড়িতে বাস করেন চার সদস্য। দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। বাড়ির বড় ছেলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। একসময় বাড়িটি দখল করে নেয় স্বাধীনতা বিরোধীরা। বাড়ির তিন সদস্যকে আটকে রাখে তারা। এরপর ঘটতে থাকে একের পর এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। সেই বাড়ি দখলমুক্ত করতে শুরু হয় নতুন নাটকীয়তা। নাট্যরূপ ও পরিচালনা অরুণ চৌধুরী। অভিনয়ে সুবর্ণা মোস্তফা, পূর্ণিমা, চঞ্চল চৌধুরী, জুঁই প্রমুখ।

নয়ন সমুখে সেই বাড়ি : ২০১১

ষষ্ঠ নাটকের নাম নয়ন সমুখে সেই বাড়ি। বাঙালির অস্তিত্ব মুক্তিযুদ্ধ। সেই মুক্তিযুদ্ধ এনেছে স্বাধীনতা। প্রায় সাড়ে চার দশক আগে যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে তাদের একজনের সাক্ষাৎকার ছাপা হলো একটি জাতীয় দৈনিকে। সেই সাক্ষাৎকার পড়ে তার কয়েকজন সহযোদ্ধা একত্রিত হলো। মুখোমুখি হলো সোনালি অতীতের। চোখের সামনে ভেসে এলো সেই বাড়ির  ছবিটি। নাটকটি পরিচালনা করেছেন খালিদ মাহমুদ মিঠু। অভিনয় করেছেন পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, আহসানুল হক মিনু প্রমুখ।

বাড়ি ২০০৯ : ২০১০

পঞ্চম নাটকের নাম বাড়ি ২০০৯। স্মৃতিমাখা পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করবে ওরা। ওরা মানে একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্য। কেউ এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে, কেউ এসেছে আমেরিকা থেকে, কেউ এসেছে ইউরোপ থেকে। উদ্দেশ্য একটাই পৈত্রিক বাড়ি বিক্রি করে অ্যাপার্টমেন্ট করবে ডেভেলপারকে দিয়ে। চূড়ান্ত হলো ডেভেলপার কোম্পানির কাছে যেদিন সম্পত্তি হস্তান্তর হবে সেদিন সব অংশীদারকে উপস্থিত থাকতে হবে। এই সিদ্ধান্তেই ক্রমশ তৈরি হতে শুরু করে জটিলতা। নাটকটি পরিচালনা করেছেন খালিদ মাহমুদ মিঠু। অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, খুরশিদুজ্জামান উৎপল, ছন্দা প্রমুখ।

বাড়ি ৭১: ২০০৯

চতুর্থ নাটকের নাম বাড়ি ৭১। একটি বাড়ি। একটি ইতিহাস। এক অসামান্য অহংকারের গল্প বাড়ি ৭১। কানাডা প্রবাসী এক তরুণ একদিন দেশে ফিরে একটি লক্ষ নিয়ে। তার বাবার বহুকালের স্মৃতিময় মফস্বল শহরের বাড়িটি ভেঙে ফার্ম করবে সে। সেখানে ৩৬ বছর ধরে আছে কয়েকটি পরিবার। সেই তরুণ শেষ পর্যন্ত কি বাড়িটি ভেঙে ফেলতে পারে? একা কি মানুষ সব বদলে দিতে পারে? পাল্টাতে পারে গর্বের অতীত। নাটকটি পরিচালনা করেছেন আবুল হায়াত। অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, তৌকির আহমেদ, মৌসুমী নাগ প্রমুখ।

এইতো আমাদের বাড়ি : ২০০৮

তৃতীয় নাটকের এইতো আমাদের বাড়ি। একটি একান্নবর্তী পরিবার। পরিবারের কর্তা নেই। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তাকে পাকসেনারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। অপরাধ তার কলম ছিল ক্ষুরধার। চিন্তা ছিল মুক্ত। বাঙালির অধিকার নিয়ে তার সোচ্চার ভুমিকা অপছন্দ ছিল পাকিস্তানিদের। সেই মানুষটির স্মৃতিময় ঘরটির বহু বছর আগলে রেখেছিলেন তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্য স্নেহময়ী মা। দ্বিতীয় ছেলের বিয়ের আয়োজনে যখন একটি ঘরের প্রয়োজন হলো তখনই তৈরি হলো নতুন এক সংকট। নাটকটি পরিচালনা করেছেন খালিদ মাহমুদ মিঠু। অভিনয়ে চিত্রনায়িকা মৌসুমী, ঈশিতা, লিটু আনাম প্রমুখ।

এই আমাদের বাড়ি : ২০০৭

দ্বিতীয় নাটকের নাম এই আমাদের বাড়ি। মা ও বাবা কিছুদিনের জন্য গিয়েছিলেন ব্যাংকক। অ্যাপার্টমেন্টে রেখে যান পুত্র ও কন্যাকে। সবই চলছিল ঠিকঠাক। হঠাৎ একদিন সেখানে এসে হাজির হলেন আমেরিকা প্রবাসী এক ভদ্রলোক। বাবার সিনিয়র বন্ধু। তাকে অনুসরণ করে কয়েকজন সন্ত্রাসী। অ্যাপার্টমেন্ট দখল নেয় প্রবাসীর ডলার টাকা হাতিয়ে নেয়ার ইচ্ছায়। টানটান উত্তেজনায় এগুতে থাকে এই আমাদের বাড়ি নাটকের কাহিনি। নাটকটি পরিচালনা করেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন, মেঘনা, অপি করিম প্রমুখ।

আমাদের বাড়ি : ২০০৬

প্রথম নাটকটির নাম আমাদের বাড়ি। খ্যাতিমান পাখি বিশারদ জামিল ভুঁইয়া। তার দোহিত্রীকে সঙ্গে করে এক সকালে জাহাজে করে গেলেন নদী ভ্রমণে। সেই জাহাজে পরিচয় তিন তরুণের সঙ্গে। হঠাৎ অসাবধানতাবশত জামিল ভুঁইয়া জাহাজ থেকে পড়ে গেলেন নদীর গভীর পানিতে। অনেক নাটকীয়তার পর বাঁচানো গেলেও তাকে ভর্তি হতে হলো হাসপাতালে। তারপর ঘটনা মোর নিল ভিন্নখাতে। নাটকটি পরিচালনা করেছেন খালিদ মাহমুদ মিঠু। অভিনয়ে শামস সুমন, ঈশিতা, লিটু আনাম প্রমুখ।

এক নজরে বাড়ি সিক্যুয়েল

গেল ১২ বছরে যে ১২টি নাটক প্রচার হয়েছে সেগুলো হলো: বড় বাড়ি ছোট বাড়ি, পরিচালনায় অরুণ চৌধুরী (২০১৬), বাড়ির নাম স্বাধীনতা, পরিচালনায় অরুণ চৌধুরী (২০১৫), এই আমাদের বাড়ি, পরিচালনায় অরুণ চৌধুরী (২০১৪), গৌরবের সেই বাড়ি, পরিচালনায় অরুণ চৌধুরী (২০১৩), এই বাড়ি সেই বাড়ি, পরিচালনায় অরুণ চৌধুরী (২০১২), নয়ন সমুখে সেই বাড়ি, পরিচালনায় খালিদ মাহমুদ মিঠু (২০১১), বাড়ি ২০০৯ পরিচালনায় খালিদ মাহমুদ মিঠু (২০১০), বাড়ি ৭১ পরিচালনায় আবুল হায়াত (২০০৯), এই তো আমাদের বাড়ি, পরিচালনায় খালিদ মাহমুদ মিঠু (২০০৮), এই আমাদের বাড়ি, পরিচালনায় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী (২০০৭), আমাদের বাড়ি, পরিচালনায় খালিদ মাহমুদ মিঠু (২০০৬)। এবারে অর্থাৎ ২০১৭ সালের নাটকের নাম স্মৃতির বাড়ি, পরিচালনা করেছেন অরুণ চৌধুরী।

বাড়ি নিয়ে আমার আনন্দ

অরুণ চৌধুরী

ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা সিক্যুয়েল ড্রামা ‘বাড়ি’। ১০ বছর ধরে বিজয় দিবসের মহান পরিক্রমায় এর নানা মাত্রিক নির্মাণ সব শ্রেনীর দর্শকের কাছে এখন বিশেষ জনপ্রিয়। ২০১১ সালে ০৭ বছর আগে, চ্যানেল আইতে যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬টি নাটক পরিচালনা আর নাটরূপ দেয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। জীবনে ক্ষুদ্র পরিচালক হিসেবে বেশ কিছু নাটক আর টেলিফিল্ম করবার সুযোগ আমার ঘটেছে। কিন্তু কোনো প্রযোজনায় এতো বেশি উদ্বেগ আর আনন্দ বোধ করি না। এ সিক্যুয়েল পরিচালনায় এতোটা উত্তেজনা বোধ করার কারণ, এর বিষয় বৈচিত্র্য। এক ধরনের কমিটমেন্ট থেকে কাহিনীকার যেমন কাহিনীগুলো তৈরি করছেন, একই কমিটমেন্ট থেকে পরিচালনায় যুক্ত হই। তার ওপর আছে, গল্পের নতুনত্ব। সে কারণে এ প্রযোজনায় এযাবত পেয়ে আসছি এদেশের সব বড় মাপের শিল্পীদের। এই সমাহারে আবুল হায়াত, রাইসুল ইসলাম আসাদ, সুবর্ণা মুস্তাফা, সাদিয়া ইসলাম মৌ, চঞ্চল চৌধুরী, আফরোজা বানুর মতো শিল্পীদের পেয়েছি। তাই যতোটা পরিচালনায় এই বাড়ি সিক্যুয়েলের খ্যাতি বৃদ্ধি ঘটে তার চেয়ে বেশি ঘটে কাহিনী আর শিল্পীদের মেধাবী উপস্থিতি।