Home প্রতিবেদন মহাকাশে বাংলাদেশ

মহাকাশে বাংলাদেশ

SHARE
Space

ফারুক হোসেন, আমেরিকা থেকে ফিরে:
স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশ পানে যাত্রা করবে। নিঃসন্দেহে এটি হবে একটি ঐতিহাসিক দিন যেদিন এই যাত্রা শুরু হবে। যেই ক্ষণে যাত্রা শুরু হবে সেই ক্ষণও হবে একদিকে যেমন উত্তেজনাকর, অন্যদিকে আবেগময়। কারণ এই মুহূর্তেই বাংলাদেশ বিশ্ববাসীকে জানান দেবে, আমরাও পারি। আমরাও আছি মহাকাশে। আমাদের মর্যাদা বিস্তৃত এখন পৃথিবীর বাইরেও। আমরাও যুক্ত হচ্ছি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, চীন, রাশিয়া, ভারতসহ স্যাটেলাইট মালিকানার দেশগুলোর তালিকায় ও ৫৭তম দেশ হিসেবে। এই সোনালি ক্ষণের প্রত্যক্ষদর্শী হচ্ছি ভেবে আমি গর্বিত, সর্বোচ্চ আনন্দিত ও উত্তেজিত। সত্যি এবং শক্তির অনুধাবন অণুরণিত হচ্ছিল আমার বুকে। খোলা আকাশের নীচে চিৎকার করে বলেছিলাম, সেই ক্ষণে, হ্যাঁ আমার দেশ বাংলাদেশ। সমৃদ্ধি স¤প্রসারিত হচ্ছে আমাদের। সত্যি হলো উপলব্ধি, সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ সরাসরি দেখার জন্যই আমরা সরকারি প্রতিনিধিদল ৮ মে ২০১৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডে পৌঁছে যাই। প্রস্তুতকারক ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান থ্যালেস এলেনিয়া স্যাটেলাইটটি তৈরি করে নিয়ে এসেছে, নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে। এটি উৎক্ষেপণ করবে ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স। উৎক্ষেপণ হবে নাসা চত্বর থেকে। একাধিকবার তারিখ নির্বাচনের পর সবশেষে নিশ্চিত তারিখ ঠিক হলো ১০ মে ২০১৮। বিকেল ৩:৩৭। আমরা অরল্যান্ডে মিলিত হলাম। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতিসহ ৬ মাননীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যানসহ ৪২ সদস্যের একটি দল আমরা। মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টা উৎক্ষেপণকালে সরাসরি যোগদান করবেন। স্যাটেলাইট প্রকল্পের সফলতার পেছনে অবদান রাখা প্রতিটি দপ্তরের, যেমন এই দলে কয়েকটি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, ইআরডি, পরিকল্পনা কমিশন, আইএমইডি, সিপিটিইউ-এর প্রতিনিধি ছিল। প্রকল্পের আইনি সহায়তা প্রদানকারী আইনজীবীর একটি দলও এসেছে। ছিল স্যাটেলাইট-এর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান থ্যালেস এলেনিয়ার স্থানীয় এজেন্ট স্পেকট্রার প্রতিনিধি। দরদাতার পক্ষে অর্থায়ন জোগানদার হংকং সাংহাই ব্যাংকের কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশী নাগরিকগণ। অরল্যান্ডো হয়ে ওঠে একখÐ প্রাণবন্ত বাংলাদেশ।
৯ মে সকালে আমরা মিলিত হলাম টেকনিক্যাল ব্রিফিং এ। স্পেস এক্স, অর্থাৎ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান তাদের পক্ষ থেকে এই ব্রিফিং আয়োজন করে। স্যাটেলাইট নির্মাণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, কারিগরি দিক, উৎক্ষেপণের স্তর এবং চূড়ান্ত অবস্থান সম্পর্কে দুঘণ্টার এই আয়োজন ছিল আনন্দ ও জানার আগ্রহের উচ্চারণে সরগরম। এখানে বলে রাখা দরকার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বৃহৎ প্রধান যে দুটি ক্রয়, তা হচ্ছে স্যাটেলাইট নির্মাণ, উৎক্ষেপণ, উৎক্ষেপণ পরবর্তী তদারকি, বাংলাদেশের দক্ষতা সৃষ্টি ও দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন। গ্রাউন্ড স্টেশনের একটি গাজীপুর যেটি মূল স্টেশন হিসেবে কাজ করবে। আর মিরর (অর্থাৎ ইধপশঁঢ়) হিসেবে কাজ করবে বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশন। এই ক্রয় ছিল প্রতিযোগিতামূলক। অন্য প্রধান ক্রয় ছিল রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিক-এর কাছ থেকে অরবিট ক্রয়। এটি ছিল সরাসরি ক্রয়। এই অরবিটেই স্যাটেলাইট স্থির থাকবে। স্যাটেলাইট নির্মাণ ও অন্যান্য অঙ্গ কার্যক্রমটি প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় থ্যালেস এলেনিয়া। আর দরপত্রের অর্থায়নের প্রকৃতি ছিল দরদাতার অর্থায়ন ও সরাসরি প্রকল্প ব্যয়। তদানুযায়ী চুক্তি অর্জনকারী দরদাতা সিংহভাগ অর্থের জোগান দেবে। অবশিষ্ট অর্থ জোগান দেবে সরকার (বিটিআরসি) উন্নয়ন বাজেট থেকে। এতে সরকারী বাজেটের একসঙ্গে প্রদেয় দায় হ্রাস পেয়েছে। ক্রমান্বয়ে দরদাতার উদ্যোগে অর্থ জোগানদারী ব্যাংকের অর্থ সুদসহ পরিশোধ করবে বিটিআরসি। এদিকে স্যাটেলাইট যেহেতু স্বউপার্জিত টেকসই একটি প্রশাসনে পরিণত হবে সেহেতু ইতোমধ্যেই সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন একটি কোম্পানি গঠন করেছে সরকার। প্রকল্প শেষে স্যাটেলাইটটির পুরো প্রশাসনই দেখবে এই কোম্পানি। এদিকে বিটিআরসির ১৮ সদস্যের একদল তরুণ কর্মকর্তা প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষিত হয়েছেন। তারাই কাজ করবে এই স্যাটেলাইট পরিচালনায়। তবে পুরোপুরি টেকওভার করা পর্যন্ত থ্যালেস স্যাটেলাইটের Operations & Management দেখভাল করবে প্রথম তিনবছর। সবকিছু ঠিকঠাক মতো এগুচ্ছে। নির্মাণশেষে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত। এখন সফল উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় আমরা ফ্লোরিডার অরল্যান্ডে। অপেক্ষায় পুরো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের শুভার্থী বিশ্ব।
Space-2কারিগরি ব্রিফিং এ স্পেস এক্স সাধারণ ও কারিগরি প্রকৃতির দুটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করে। অনেক প্রশ্নের উত্তর দিল স্পেস এক্স। অনেক কিছুই এতটাই উচ্চ মানের কারিগরি বিষয়-মাথায় ঢুকছিল না কোনো ভাবেই। এক মন এক ধ্যানে শুধু অপেক্ষা, ১০ মে বিকেলের জন্য। যখন বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য যাত্রা করবে মহাকাশে।
বাংলাদেশে বসে আমরা অনেকটাই বিরক্ত হচ্ছিলাম, বারবার উৎক্ষেপণের তারিখ পরিবর্তন দেখে। কিন্তু ব্র্রিফিং ও চারপাশের তথ্য থেকে জানতে পারি, এটি নতুন কিছু নয়। স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ একবারেই, একটি নির্ধারিত সময়ে হয়েছে এমন নজীর কম। একমাত্র উৎক্ষেপণের সময়ই বলা যাবে এটি নিশ্চিত। আজকের এই পদক্ষেপটির সফলতাই প্রমাণ করবে এই সময়টি নিশ্চিত। মন অনেকটা হালকা হলো। শুনলাম অন্যান্য দেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের গল্প। তারাও প্রতিনিধি এনে একাধিক দিন অপেক্ষার পর কোনো একদিনের পদক্ষেপে সফলতা দেখতে পেরেছে। তার মানে কোনো ক্ষণই নিশ্চিত নয়। আর নিশ্চিত না হলে, স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কম্পিউটারের নির্দেশে স্যাটেলাইট যাত্রা থেকে বিরত থাকে।
ব্রিফিং শেষে ফ্লোরিডার সৈকত দেখলাম। দেখলাম ঘুরে ফিরে এই শহরের নানা সৌন্দর্য্য। বিকেলেই হলো নিরাপত্তামূলক নিবন্ধন। আমাদের দেয়া হলো বাংলাদেশের পতাকা, স্যাটেলাইটের র‌্যাপলিকা (আসলে সাদা ওয়াটার ক্যারিয়ার), স্যাটেলাইট কোর্ট পিন এবং পরিচিতি ব্যাজ। সন্ধ্যায় হোটেল হিলটনের রূপ টপে ডিনার। ডিনারে আলাপচারিতার ঝড়। নানা তথ্যের উদ্ধৃতি। স্যাটেলাইট দুই প্রকৃতির। প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম। প্রথম কৃত্রিম স্যাটেলাইট হচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্পুটনিক-১। রেডিও ট্রান্সমিটারবাহী এটি উৎক্ষেপণ হয় ৪ অক্টোবর ১৯৫৭ সালে। স্যাটেলাইটের আবিষ্কারক গ্যালিলিও গ্যালিলেই। তার নামেই আছে জুপিটার বেষ্টিত স্যাটেলাইট গ্যালিলিও।
আমাদের প্রতিবেশী দেশ প্রথম স্যাটেলাইট ‘আরিয়াভাতা’ উৎক্ষেপণ করে ১৯ এপ্রিল ১৯৭৫ এ। ভারতের রয়েছে এখন তিনটি স্যাটেলাইট।
আমাদের স্যাটেলাইট একটি যোগাযোগ উপগ্রহ। এটি উৎক্ষেপণ হবে বøক ৫ এর ফ্যালকন ৯ এ। প্রথম ধাপ হবে খধঁহপয ধহফ বধৎষু ড়ৎনরঃ ঢ়যধংব। এই ধাপে লাগবে ১০ দিন। ২য় ধাপ হচ্ছে ংধঃবষষরঃব রহ ড়ৎনরঃ. এই ধাপে লাগবে ২০ দিন। মোটামুটি ৩০ দিনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ অরবিটে অবস্থান নিয়ে স্থির হবে। এর কার্যকারিতা শুরু হতে লাগবে ৩ মাস। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ওজন ৩৭০০ কে জি। এটি কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপিত হয়ে ৩৬ হাজার কি: মি: পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছাবে লক্ষ্যস্থলে, ১১৯.১ দ্রাঘিমাংশে। তখন এর নিয়ন্ত্রণ থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে। প্রথম ৩ বছর থ্যালেস এটি পর্যবেক্ষণ করবে। তারপর বাংলাদেশ পুরো দায়িত্ব নেবে।
১০ মে তারিখে সকালেই আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো ক্যানেডি স্পেস সেন্টারে। সেই ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ থেকে একে একে পিছিয়ে নির্ধারিত হয় আজকের দিনটি। বিকেল ৩.৪৭ এ উৎক্ষেপণের সময়। আমরা নাসায় কাটালাম পুরো দিন। ক্যানেডি স্পেস সেন্টার ভিজিটরস কমপ্লেক্সে হাজারো আকর্ষণ। ঘুরে দেখলাম তার কিছুটা। ইউএস এসটোনট হলো অফ ফেম, দ্যা অ্যাসাং হিরোজ অফ এ্যাপোলো, রকেট গার্ডেন, এ্যাপলো এইট এ্যান্ড ফায়ারিং রুম, এক্সপ্লোরিং দ্যা মুন, স্যাটার্ন ভি রকেট, ইত্যাদি দেখলাম। উপভোগ করলাম ক্যানেডি স্পেস সেন্টার বাস ট্যুর। যতটা সম্ভব সেন্টারের ভেতরটা দেখলাম। আর তখনই বাস থেকে প্রত্যক্ষ করলাম বাংলাদেশের সরকারি মনোগ্রাম খচিত ফ্যালকন ৯ রকেট। উৎক্ষেপণের অপেক্ষায়। ইচ্ছে হলো বাস থেকে নেমে তাকে স্পর্শ করি। কিন্তু না বাস থেকেও সেটি অনেক দূরে। ঘুরে দেখা শেষ করে উপভোগ করলাম ইতিহাসের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের উপর ডকুমেন্টারি ১৯৫৭ সালে স্যাটেলাইটের মহাশূন্যে যাত্রা। দেখলাম এ্যাপোলো-১১ এর মহাশূন্যে অভিযান নিয়ে ডকুমেন্টারি।
Space-1বিকেল ৪ টার আগেই আমরা পৌঁছলাম কনফারেন্স কক্ষে। আবার ব্রিফিং। স্পেস এক্স-এর মনিটরে প্রত্যক্ষ করছি পরিস্থিতি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে উৎক্ষেপণ দেখবো এবং আমরা তুলে ধরবো বাংলাদেশের পতাকা। সেই বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখলাম ভূমিতে শত শত বাংলাদেশি ও বিদেশি নাগরিক। প্রত্যেকেই অপেক্ষমান। অনেকের হাতে বাংলাদেশের পতাকা। আমরা দেখলাম ৪.৩৭ এর আগেই ফ্যালকন-এর পাশ দিয়ে ¯্রােতের মতো বের হচ্ছে সাদা ধোঁয়া। শুরু হবে কাউন্ট ডাউন। এই এক্ষুণি বিস্ফোরণ হবে আর আকাশ পানে ছুটবে স্যাটেলাইটবাহী রকেট। কিন্তু না, ৪২ সেকেন্ড আগেই স্থগিত হয়ে যায় উৎক্ষেপণ। কনফারেন্স কক্ষে রকেট থেকে মাত্র ৪ মাইল দূরে মনিটরে দেখলাম স্পেস এক্স ২৪ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেছে উৎক্ষেপণ। মূলত স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শাটডাউন হয়ে যায় উৎক্ষেপণ। মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় কক্ষ। নীরব প্রত্যেকে। অনেকের চোখে জল। আমারও কান্না পেল। কেন এমন হলো। কারো মুখে কোনো শব্দ নেই। স্পেস এক্স এবং অভিজ্ঞদের কাছে স্থগিতকরণ একটি নৈমিত্তিক বিষয়। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের মহাশূন্যযাত্রায় এতটাই উল্লোসিত এবং আবেগপ্রবণ, স্থগিতকরণের ঘোষণা ভিজিয়ে দিয়ে গেল আমাদের চোখ। আবার অপেক্ষা ২৪ ঘণ্টার। কিন্তু বুকে সীমাহীন প্রত্যয়। স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১, ১১ মে ২০১৮ তারিখ ৪টা ১২ মিনিটে মহাকাশে যাত্রা করবেই। এই প্রত্যাশা প্রত্যেকের চোখে মুখে। ফিরে গেলাম এয়ারফোর্স মিউজিয়ামে। পূর্ব নির্ধারিত আফটার লঞ্চ ডিনার পার্টি। আনন্দ নেই-শুধুই ডিনার। উৎক্ষেপণ না হলেও ডিনার হলো।
কষ্ট, দুঃখ, দ্বিধা, দ্ব›দ্ব, নানা প্রশ্নে রাত কাটলো। পরদিন ১১ মে বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে বীরের মতো বাংলাদেশের মনোগ্রাম খচিত ফ্যালকন ৯ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ নিয়ে সফল যাত্রা করলো মহাকাশ পানে। মিলিয়ে গেল চোখের জল। স্বদেশপ্রেমের আবহে আমরাও যেন মহাশূন্যগামী। প্রথমে সাদা ধোঁয়া, তারপর বিস্ফোরণ, এরপর অপ্রতিরোধ্য ছুটে চলা। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম আমরা, বাংলাদেশ এবং শুভার্থী বিশ্ব।
সাবাস বাংলাদেশ। মহাকাশ হলো আমাদের। অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা ইংগিত নিয়ে ছুটে চলেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১, তার কক্ষপথে অরবিটকে লক্ষ্য করে।
শুধু বললাম, বাংলাদেশ এগিয়ে যাও।