Home প্রতিবেদন কর্পোরেট অর্থনীতি ভবিষ্যতে কেউ ট্যাক্স ফাঁকি দিতে চাইলেও পারবে না!

ভবিষ্যতে কেউ ট্যাক্স ফাঁকি দিতে চাইলেও পারবে না!

SHARE
Dr

ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, মহাপরিচালক, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

আনন্দ আলো: দেশে মাদক বিরোধী এবং ভেজাল বিরোধী নানারকম অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার বিরুদ্ধে কোন ধরণের অভিযান কি পরিচালিত করছেন আপনারা?
ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম: যাতে সবাই সঠিকভাবে শুল্ক প্রদান করে এবং রাজস্ব ফাঁকি না দেয় তা দেখা এবং অন্যান্য ট্যাক্স কম্পোনেন্ট যেগুলো আছে সেগুলো সঠিকভাবে আদায়ের জন্যে নানামুখি কাজ করি আমরা। ট্যাক্স প্রদান করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িদেরকে আমরা উদ্বুদ্ধ করি। আমরা দেখছি যতোই দিন যাচ্ছে ততোই আস্তে আস্তে ব্যবসায়ীরা ভালভাবে ট্যাক্স দেওয়ার জন্যে আগ্রহী হচ্ছেন বা দিচ্ছেন। এর সাথে আমরা সিষ্টেমটাও এমনভাবে ডেভলপড করছি যাতে ভবিষ্যতে কেউ ট্যাক্স ফাঁকি দিতে চাইলেও ফাঁকি দিতে পারবে না।
আনন্দ আলো: সেরা করদাতাকে পুরষ্কৃতও করছেন আপনারা?
ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম: জ্বী। এটি এনবিআর এর একটি পার্ট। সেরা আয়কর দাতাকে পুরষ্কার দেওয়া হয়। সেরা ভ্যাট দাতাদেরও পুরষ্কার দেওয়া হয়। সারাদেশে এবং জেলা পর্যায়েও এই পুরষ্কার দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি যারা শুল্ক ফাঁকি দেয় অথবা ট্যাক্স ফাঁকি দেয় তাদের বিরুদ্ধেও আমরা সিরিয়াস অভিযান পরিচালনা করি। স্বর্ণ চোরাচালান কালীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যারা রাষ্ট্রের টাকা পাচার করে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসি। যারা মানি লন্ডারিং এবং হুন্ডির ব্যবসা করছে তাদেরকে গ্রেফতার করছি এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করি এবং তাদের বিদেশ যাত্রা স্থগিত করছি। পাশাপাশি যারা বিভিন্ন কমার্শিয়াল মালামাল আনার ক্ষেত্রে কম শুল্ক দিচ্ছে এবং মিথ্যা ষোষণা দিচ্ছে তাদেরকেও আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।
আনন্দ আলো: শুল্ক এবং রাজস্ব ব্যবস্থা ডিজিটাইলজেশনের জন্যে কি করছেন?
ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম: আমরা যদি ২০-২৫ বছর পেছনে তাকাই তাহলে দেখব তখন বাংলাদেশে যে সরকারি কর্মচারী ছিল অর্থাৎ সরকারের প্রশাসন চালানোর জন্যে যে টাকা প্রয়োজন হতো সেই টাকাও বিদেশ থেকে সাহায্য হিসেবে আনতে হতো। অর্থাৎ আমাদের নিজস্ব আয় দিয়ে চলতো না। আর এখন যদি দেখি? তখনকার চেয়ে বাজেটের সাইজ অনেক বড় হয়েছে এবং পুরো বাজেটের ৯০ শতাংশ কিন্তু আমাদের নিজস্ব আয় থেকে আসে। আর ১০ শতাংশ লোন গ্র্যান্ডস এবং সেক্টর অন্যান্য থেকে আসে। আর বছর শেষে আমরা যদি দেখি এই সাহায্যের ব্যবহার করি মাত্র ৫ শতাংশ। অর্থ্যাৎ ৯৫ শতাংশ কিন্তু আমাদের নিজস্ব আয় থেকে আসছে। ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাশাপাশি এর গ্যাপগুলো ছিল, ফাঁকি গুলো বিভিন্ন সেক্টরের সেগুলো প্রতিনিয়ত আমরা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। কারণ ট্যাক্স দেওয়ার যে সিষ্টেম এর জন্যে কালচারাল ডেভলপমেন্ট লাগে। একটি জাতি ট্যাক্স দিতে অভ্যস্ত হতে হয় সঠিক ভাবে। হঠাৎ করে চাপিয়ে দিলে বা আইন তৈরী হলে কিন্তু মানুষ ট্যাক্স দেয় না। আমরা এই জন্যে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি।
আনন্দ আলো: শুল্ক বা ট্যাক্স দেওয়া অভ্যাসের ব্যাপার আপনি বললেন- এই জন্যে রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে আপনারা তো সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করেন নিয়মিত?
ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম: হ্যাঁ। আমরা অনেক ধরণের ক্যাম্পেইনই করছি। একটু অন্যভাবে যদি বলি- আমি যখন চাকরিতে জয়েন করেছি অনেকদিন আগের কথা বলি ২০ বছর আগে… তখন আমরা যারা ট্যাক্স অফিসিয়াল কাষ্টমস হোক ভ্যাট হোক অথবা আয়কর কর্মকর্তা হোক আমরা যদি কোন একটা অনুষ্ঠানে যেতাম আর সেখানে যদি কোন ব্যবসায়ী থাকতেন তাহলে তারা খুব বেশিক্ষণ সেখানে থাকতেন না। তারা চলে যেতেন। বিষয়টা ছিল ভীতির। কিন্তু এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। আয়কর মেলায় হাজার হাজার লোক আসেন। ট্যাক্স দেয়ার জন্য ফ্লোরে বসে তারা ফরম পুরণ করেন। আগ্রহী হয়ে তারা চলে আসেন। সুতরাং পরিস্থিতি এইভাবে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে। একটা উৎসবের মত অবস্থা হয় আয়কর মেলায়। আমরা ভ্যাট দিবসে যদি দেখি সেখানেও হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছে- প্রতি জেলায় ব্যবসায়ীরা অংশ নিচ্ছে। র‌্যালিতে আলোচনা সভায় মুখর সবাই। ব্যবসায়ীরা আগে ট্যাক্স অফিসে সহজে আসতেন না। এখন কিন্তু সেই অবস্থা নাই।
আনন্দ আলো: কয়দিন আগেই আয়কর মেলা হয়ে গেলো- এবারের মেলার সফলতা কতোটা ছিল?
ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম: প্রতিবারই আমরা আগের সাফল্যকে ছাড়িয়ে নতুন মাইল ফলকে চলে আসি। আমরা থেমে থাকতে চাই না। আমরা প্রতি মুহুর্তে আগের থেকে আরও সামনে যেতে চাই। আয়কর হোক, ভ্যাট হোক অথবা কাষ্টমস হোক, প্রতিক্ষেত্রেই আমরা চাই যে, আগের থেকে অনেক ভাল করতে।
আনন্দ আলো: মাদক বিরোধী অভিযান চলছে দেশে। এই ব্যাপারে আপনার মতামত জানতে চাই?
ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম: আমাদের দেশে ইয়াবা ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়। মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা দিয়ে এটি আমাদের দেশে প্রবেশ করছে। বিরাট একটা সীমান্ত এলাকা। এর প্রতিটি জায়গায় পাহারা দেওয়া কষ্টকর ব্যাপার। দুর্গম এলাকা রাস্তা এবং জনবলের সংকট আছে। আমরা যদি মিয়ানমার সরকারের সহযোগিতা পেতাম তাহলে হয়তো এটি নিয়ন্ত্রণ করা আরও সহজ হতো।