Home সাক্ষাৎকার ব্যাংকের কম্পল্যায়েন্ট ইস্যুজগুলো খুব ভাল করে দেখতে হবে

ব্যাংকের কম্পল্যায়েন্ট ইস্যুজগুলো খুব ভাল করে দেখতে হবে

SHARE
Tabassom

তাবাসসুম কায়সার, ভাইস চেয়ারম্যান, সিটি ব্যাংক লিমিটেড, চেয়ারপারসন, পারটেক্স এগ্রো বিজনেস ও ডিরেক্টর, পারটেক্স ষ্টার গ্রুপ

আনন্দ আলো: বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে উচ্চস্তরে মহিলারা অবদান রাখছেন। ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশনে নারীদের এই যে এগিয়ে আসা আপনার মূল্যায়ন কি?

তাবাসসুম কায়সার: ব্যবসা বাণিজ্যসহ প্রতিটি সেক্টরে অবশ্যই নারীদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এর মূল কারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা, ফ্যামিলি সাপোরট, সোশ্যাল একসেপ্টটেন্স। সাথে আমার মনে হয় যে, মহিলারা আসাতে সেক্টরগুলো অনেক বেশি গতি পেয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী এন্টারপ্রেনার এবং ইনভেষ্টরস অনেক বেশি বেড়ে গেছে। শুধু যে আপার সেকশন অব দ্যা সোসাইটি শুধু তাই না, মাইক্রোলেভেলেও দেখা যায় যে, অনেক বেশি পার্টিসিপেশন। গ্রাম গঞ্জেও মেয়েরা আজকাল ঘর সংসারের সাথে সাথে অনেক ছোট খাট ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। এই কারণে দেখা যাচ্ছে যে, পুরো ইকনোমিকে তারা বিভিন্নভাবে হেল্প করছে। একজন মহিলা হিসেবে মনে হয় যে, আমরা অনেক ডিফরেন্স আনতে পারছি এবং সামনে আরও অনেক ডিফরেন্স আনতে পারবো।

আনন্দ আলো: ব্যাংকিং সেক্টরে ষ্মল এন্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি দেখতে পাচ্ছেন?

তাবাসসুম কায়সার: শুধু মাত্র আমি যদি সিটি ব্যাংকেরই অবস্থা দেখি- আমাদের রিটেইলে লোন যদি থাকে ৪ হাজার কোটি টাকা, এসএমই লোন যদি ৩ হাজার কোটি টাকার মতো হয়ে থাকে এর প্রায় ১০ পারসেন্টই মহিলা।

আনন্দ আলো: আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেকই মহিলা। এই ১০ পারসেন্ট কি সামনে বাড়ার সম্ভাবনা আছে?

তাবাসসুম কায়সার: অবশ্যই বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

আনন্দ আলো: এই ব্যাপারে ব্যাংকিং সেক্টর কি প্রস্তত?

তাবাসসুম কায়সার: আমরাও দেখছি যে, মহিলা ব্র্যাঞ্চ করে যদি এই মহিলাদের আরও বেশি এনকারেজ করা যায়? নতুন নতুন ব্যবসায় যাতে তারা আসেন এই জন্যে আমরা অনেক ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছি। শুধু ব্যাঞ্চই আলাদা নয়, মেয়েদের জন্যে আলাদা বুথ, আলাদা সার্ভিসেস এবং অন্যান্য ব্র্যাঞ্চগুলোর মাধ্যমেও কিভাবে মহিলাদের আরও বেশি এনকারেজ করা যায় আমরা তা দেখছি এবং তারা যাতে ফাইন্যান্সিয়ালি ইনডিপেনডেন্ট হতে পারে এই ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো উইমেন্স এর মাইন্ড সেট হ্যাজ চেইঞ্জড? এখন যেটা দেখা যাচ্ছে যে, সবাই চাচ্ছে নারীরা যাতে আরও বেশি স্বাধীনতা পায় এবং ফ্যামিলিতে তাদের কন্ট্রিবিউশন বেশি থাকে এই সব খুবই পজিটিভি মনে হয় আমার কাছে।

আনন্দ আলো: ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স এই সব এর কথা শুনছি। ব্যাংকিং সিষ্টেম টুয়েন্টি ফোর সেভেন হয়ে যাচ্ছে। মানুষ আর আগের মত এখন আর ব্যাংকে যেতে চায় না। ঘরে বসে এমনকি দেশে বিদেশে বসেও অনেকে ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছেন। এই ব্যাপারে সিটি ব্যাংকের কি ষ্ট্যাটেজি আছে?

তাবাসসুম কায়সার: আমাদের ইন্টারনেট ব্যাংকিং কল সেন্টার চালু হয়েছে। কিন্তু টুয়েন্টি ফোর আওয়ারস, ভয়েস ম্যাসেজেজ, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সেএই সব করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই ফিউচারের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। বিকজ সার্ভিস ইজ দ্যা মেইন থিং। আমরা এখন এমন একটা পর্যায়ে আছি ট্রানজেকশন পর্যায়ে। এখন আমরা ম্যানুয়াল থেকে আস্তে আস্তে ডিজিটালাইজেশনে যাচ্ছি-এই ট্রানজেশনটা আমদের জন্যে খুব রিষ্কিও হয়ে যাচ্ছে। কি হচ্ছে আমরা তো বুঝতে পারছি না? ফ্রডও হচ্ছে অনেক বেশি। এই সবের জন্যে আমার মনে হয় যে, বিকল্প ব্যবস্থা চিন্তা করতে হবে, তা না হলে আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবো না।

আনন্দ আলো: ব্যাংকের মালিক পক্ষের চেয়ারে বসে আপনারা আসলে কি দেখতে পাচ্ছেন? সামনের বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে?

তাবাসসুম কায়সার: বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং যাচ্ছে। অ্যাজ এ বিজনেস পারসন বা অ্যাজ এ ব্যাংকার আমি যদি দেখি- আমার কাছে যেটা ভয় লাগে সেটা হলো আমদেরকে আরও অনেক কম্পল্যায়েন্স হতে হবে। কারণ কম্পিটিশন ইজ ভেরি হাই। অনেক সময় দেখি যে আন এথিক্যাল কিছু প্রাকটিসেস হয় এই সব যদি আমরা ঝেড়ে ফেলে যদি একটা সুন্দর পরিবেশ ব্যাংকিং সেক্টরে আনতে পারি- কম্পিটিশনটা যদি ফেয়ার হয় তাহলে গ্রোথ অনেক আছে এবং আমাদের সামনের দিকে কম্প্যায়েন্ট হতে গেলে বেসল টু বলেন ক্যাপিটাল এডিকুইসি বলেন এগুলো আমাদেরকে মেইনটেইন করে চলতে হবে তা না হলে সমস্যা হতে পারে।

আনন্দ আলো: উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ এবং তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আপনাদের ভুমিকা থাকতে হবে সেই ব্যাপারে আপনারা প্রস্তুত কিনা?

তাবাসসুম কায়সার: আমরা অবশ্যই প্রস্তুত। বিকজ আমাদেরকে সবদিকে নজর রাখতে হচ্ছে। কম্পল্যায়েন্সের দিকে বলেন, টেকনিক্যাল দিক এবং ডিজিটাল করার জন্যে যা আমরা করছি- ষ্টেপ বাই ষ্টেপ আমরা কাজ করছি যাতে অন্যদের তুলনায় আমরা কোন দিক দিয়ে যাতে পিছিয়ে না পড়ি। আর ব্যাংকিং ইন্ডাষ্ট্রিতেও অনেক নতুন ধরণেন জিনিস আসছে- সেন্ট্রাল ব্যাংকও অনেক কিছুতে আমাদেরকে ডাইরেকশন দিচ্ছে। তাই ব্যাংকিং ইন্ডাষ্ট্রি এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকের চেয়ে প্রাইভেট এবং মাল্টি ন্যাশনাল ব্যাংক এখন অনেক বেশি অ্যাকটিভ।

আনন্দ আলো: বাংলাদেশের উন্নয়নে ব্যাংকিং সেক্টর সামনের দিনে কি করবে?

তাবাসসুম কায়সার: ব্যাংকের ক¤ø্যায়েন্স এই এই ইস্যুজগুলো খুব ভাল করে দেখতে হবে এবং রেগুলেটরীরাও যদি আমাদের হয়ে এই ব্যাপারে হেল্প করেন তাহলে বাংলাদেশের যে ইকনোমিক্যাল গ্রোথ এখন হচ্ছে এই গ্রোথ আরও অনেক বেশি এগিয়ে যাবে।

আনন্দ আলো: ব্যাংকগুলোর বোর্ড এর ভ‚মিকা নিয়ে মাঝে মধ্যে তাদের ভুমিকা কিন্তু প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়- এখানে কি করা যেতে পারে?

তাবাসসুম কায়সার: আমি মনে করি- এটি বোর্ড টু বোর্ড ডিপেন্ড করবে। বোর্ড যদি ফিউচারিষ্টিক হয় এবং ফোকাসড থাকে যে ব্যাংকের ভাল হবে, শেয়ার হোল্ডারদের ভাল হবে এবং ইকনোনমির ভাল হবে তাহলে আমার মনে হয় না এনিয়ে কোনো হতাশা থাকবে। অবশ্যই এটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদেরকে আন্তরিক হতে হবে এবং মনে হয় এটি মাইন্ড সেটেরও ব্যাপার। যদি বোর্ড অব ডিরেক্টরসরা একসাথে থাকেন এবং তারা যদি মনে করেন ব্যাংকের ভাল হোক, শেয়ার হোল্ডার এবং দেশের ভাল হোক তাহলে এটি করা সম্ভব।