Home ফিচার বিয়ে অতঃপর বিদায়…

বিয়ে অতঃপর বিদায়…

SHARE

তারকাদের প্রেম-বিয়ে-সংসার- এসব খবর নিয়ে ভক্তদের অনেক আগ্রহ। প্রায়শই দেখা যায় শোবিজের তারকারা বিয়ে নিয়ে কোনো এক অজানা কারণে লুকোচুরি খেলেন, খেলতে ভালোবাসেন। এটা অনেক পুরনো বিষয় হলেও ইদানিংকালে দেখা যাচ্ছে আমাদের অনেক তারকাই বিয়ে করে চিরবিদায় জানাচ্ছেন শোবিজ অঙ্গনকে। আর এক্ষেত্রে নারী অভিনয়শিল্পীদের সংখ্যাই যেনো বেশি। সম্প্রতি অনেক ব্যস্ত আর্টিস্টকে দেখা যাচ্ছে বিয়ে করেই হঠাৎ হারিয়ে যাচ্ছেন মিডিয়া অঙ্গন থেকে। অনেক নারী তারকা ত্যাগ করেছেন জ্বলজ্বলে ক্যারিয়ার, জনপ্রিয়তা আর অ্যাকশন, কাট-এর হাঁক ডাক। এ নিয়ে শোবিজে প্রায়ই শোনা যায় নানান ধরনের আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই বললেন, তারকারা খ্যাতি পান মিডিয়ার জন্য, দর্শকদের জন্যই। অথচ যখনই তাদের ক্যারিয়ারে জনপ্রিয়তার তকমাটা লেগে যায়, তখুনি তারা বিয়ে করে সংসার জীবনে ঢুকে মিডিয়াকে বিদায় জানান। এই সময়ের বেশকিছু তারকার বেলায় যেনো এমনটিই বেশি দেখা যাচ্ছে। বিয়ে করে মিডিয়া অঙ্গন থেকে বিদায় নেয়া তারকার তালিকায় রয়েছেন মোনালিসা। বিয়ের পর থেকে এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর তেমন কোনো নাটক-টেলিফিল্ম কিংবা বিজ্ঞাপন দেখা যায়নি। খুব ঘটা করে বিয়ে করেছিলেন মোনালিসা। ১২-১২-১২ এই স্পেশাল তারিখে ফাইজার নামে এক আমেরিকা প্রবাসী ব্যবসায়িকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই তাদের সংসারে ভাঙ্গনের সুর চলে আসে। হয়ে যায় তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়াছাড়ি। জানা যায়, মোনালিসা বর্তমানে সুদূর আমেরিকায় একটি ফাস্টফুডের দোকানে সেলস-এর কাজে রয়েছেন। ২০০৬ সালে একটি মোবাইল কোম্পানির মডেল হয়ে শোবিজে অভিষেক ঘটে মডেল ও অভিনেত্রী সারিকার। এর চার বছর পর আশুতোষ সুজনের ‘ক্যামেলিয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন। তবে অমিতাভ রেজার পরিচালনায় একটি বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে ২০০৮ এর দিকে মিডিয়ায় হৈ চৈ ফেলে দেন সারিকা। তারপর বাকিটা ইতিহাস। পত্রিকার বিনোদন পাতায়, টেলিভিশন, পর্দায়, বিলবোর্ডে এবং সাধারণ মানুষের মনে অল্প সময়েই জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে মডেলিংয়ে পেয়েছিলেন একচেটিয়া জনপ্রিয়তা। একজন আদর্শ বউ হয়ে উঠার স্বপ্ন নিয়ে সেই লোভনীয় ক্যারিয়ারকে তিনি ‘গুডবাই’ বলে দিলেন বিয়ের পর! শোবিজের সবাই অবাক হয়েছিলো সারিকার এই সিদ্ধান্তে। গেল বছরের ১২ আগষ্ট এক অনাড়ম্বর আয়োজনের মাধ্যমে সাত বছরের বন্ধু মাহিম করিমের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন সারিকা। পুরান ঢাকার লক্ষীবাজারের বাসিন্দা মাহিম পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বর্তমানে সারিকা সংসার জীবন নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন।
লাক্স-চ্যানেল আইয়ের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন আফসান আরা বিন্দু। এই প্রতিযোগিতা মিডিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার একটি প্ল্যাটফর্ম দেয় তাকে। পরবর্তীতে জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের গল্প এবং তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় নির্মিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রটি দিয়েই মিডিয়ায় অভিষেক ঘটেছিল তার। এছাড়াও বেশকিছু বিজ্ঞাপন ও নাটকের অভিনয় দিয়ে তিনি খুব সহজেই পৌঁছে যান দর্শকদের অন্তরে। দ্রুতই পরিণত হন শোবিজের চাহিদা সম্পন্ন একজন শিল্পীতে। পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও তিনি বাজিমাত করেন নতুন মুখ হিসেবে। Biya-Kore-Tarokar‘পিরিতের আগুন জ্বলে দ্বিগুন’ ও ‘জাগো’ ছবির মাধ্যমে বিন্দু নিজেকে প্রমাণ করেছেন বড়পর্দায়। সর্বশেষ চলতি বছরেই মুক্তি পাওয়া ‘এই তো প্রেম’ নামের আরেকটি ছবিতে শাকিবের বিপরীতে কাজ করে তিনি অনেক সম্ভাবনার জন্ম দেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, সব সম্ভাবনার ইতি বিন্দু নিজেই টেনে দিলেন নিজের উড়ন্ত ক্যারিয়ারের। সম্প্রতি বিয়ে করেছেন এই লাক্স তারকা। পাত্র আসিফ সালাহউদ্দিন মালিক একজন ব্যবসায়ি। কুমিল­ার ছেলে আসিফ রাজধানীতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সেই আসিফের জীবন সঙ্গী হয়েই বিন্দু ঘোষণা দিলেন, আর কাজ করবেন না শোবিজে। এই সিদ্ধান্তের কোনো নড়চড় হবে না বলেও নিশ্চয়তা দেন তিনি। অনেক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে চলচ্চিত্রের আঙিনায় পা রেখেছিলেন লাস্যময়ী নায়িকা সাহারা। ২০০৩ সালে অভিষেক হয় তার। অনেক পরিশ্রম করে ঢাকার চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক তারকার সঙ্গে জুটি বাঁধলেও তার সফল চলচ্চিত্রগুলোর নায়ক শাকিব খান। সব মিলিয়ে ৫০টির মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তারমধ্যে বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ তার অভিনীত সবচেয়ে আলোচিত চলচ্চিত্র। সর্বশেষ গেল বছরের শুরুর দিকে মুক্তি পায় সাহারা অভিনীত ‘তোকে ভালোবাসতেই হবে’ চলচ্চিত্রটি। এরপর তাকে আর মিডিয়ায় দেখা যায়নি। তখন থেকেই সাহারা মিডিয়া থেকে বিদায় নেয়ার গুঞ্জন উঠেছিলো। জানা গেলো কোনো এক প্রযোজকের সাথে প্রেম করছেন তিনি। সেই প্রেমিকের ইচ্ছেতেই অভিনয় করছেন না তিনি। এরপরই জানা গেলো সেই প্রেমিকের নামটাও। তিনি ‘ঢাকা টু বোম্বে’ ছবির প্রযোজক মাহবুবুর রহমান মনি। তার সঙ্গেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সাহারা। এরপর থেকেই সাহারা ঘোষণা দিলেন তিনি আর চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন না। বদরুল আনাম সৌদের ‘ক্রস কানেকশন’ নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় পা রাখেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী শায়না আমিন। এরপর বেশ কিছু বিজ্ঞাপন ও নাটকে কাজ করেন। ‘গুড়া মশলা’, ‘রমজানের ইফতার’, ‘রেক্সনা’র বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়ে তিনি দারুণ প্রশংসিতও হন। পাশাপাশি আবু আল সাঈদের ‘প্রেমের অঙ্ক’, ‘টেলমি নো’, ধারাবাহিক ‘লোকালয়’, আরিফ খানের ‘মন উচাটন’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে অল্পদিনেই তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। সেই সুবাদে নাম লিখান চলচ্চিত্রের রুপালী পর্দায়। ২০১১ সালে কাজ করেন ‘মেহেরজান’ শিরোনামের একটি চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকায়। প্রেম ও মুক্তিযদ্ধের গল্প নিয়ে তৈরি এই ছবিটিই শায়না আমিনকে শোবিজে আলোচিত করে তোলে। ২০১২ সালে মুক্তি পায় শায়নার দ্বিতীয় ছবি ‘পিতা’। এটিও Biya-Kore-Tarokar-Bi#9A220Aছিলো মুক্তিযুদ্ধের গল্প নির্ভর চলচ্চিত্র। আর চলতি বছর মুক্তি পায় নার্গিস আক্তার পরিচালিত বাণিজ্যিক ছবি ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ মুক্তির পর নির্মাতারা যখন শায়নাকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন তখনই বিয়ে করে সংসারী হবার ইচ্ছে নিয়ে দেশ ছাড়েন শায়না। লন্ডনে গিয়ে মাসুদ রানা নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে বিয়ে করেছেন তিনি। সেখানেই আছেন সংসার নিয়ে। প্রায় ৫ মাস হয়ে গেল দেশে ফিরছেন না। শোনা যাচ্ছে শোবিজে আর কাজ করার ইচ্ছে নেই শায়নার। অবশ্য তার দ্বিতীয় স্বামী রানারই আপত্তি। তিনি চান না শায়না অভিনয় করুক। ভিট চ্যানেল আই টপ মডেল ২০১৪’র প্রথম রানার্সআপ হয়েই তার রঙিন জীবনে পদার্পণ। তারপর কাজ করেছেন নাটকে। তিনি সাদিয়া ইসলাম লামিয়া। সম্প্রতি সায়মন তারিক পরিচালিত ‘মাটির পরী’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। এটি এখন মুক্তির অপেক্ষায় আছে। কিন্তু ক্যারিয়ারে নতুন পালক যোগ হবার আগেই সব কিছুর ইতি টানলেন লামিয়া। গেল মে মাসেই বিয়ে করে, বিয়ের অনুষ্ঠানেই সাংবাদিকদের কাছে ঘোষণা দিলেন ‘শোবিজে আর কাজ করব না’। গেল ১৪ মে মিরপুরের একটি অভিজাত রেঁস্তোরায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় লামিয়ার। তার বর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নৃত্য পরিচালক তানজিল আলম। লামিয়া বলেন, ‘এখন সংসার নিয়ে থাকতে চাই। তাই অভিনয়ে আপতত আমাকে দেখা যাবে না।’ তবে ভবিষ্যতে কবে নাগাদ দেখা যাবে সে বিষয়েও কিছু বলেননি লামিয়া। তার নীরবতাই বলে দিয়ে যায়, মিডিয়া থেকে নিজের নামটি মুছে দিতেই চলেছেন তিনি।