Home আরোও বিভাগ ক্রীড়া বিনোদন বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ যত গোল তত সাফল্য

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ যত গোল তত সাফল্য

SHARE
Football-1

মোহাম্মদ তারেক ও মামুনুর রহমান:
এখন যদিও ক্রিকেট আমাদের অনেক প্রিয় খেলা কিন্তু একটা সময় ফুটবল এবং ফুটবলই ছিল অনেক প্রিয়। শুধু শহরে নয় প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ফুটবলের জমজমাট আসর বসতো। শহরের তরুণেরা তো বটেই গ্রামের তরুণেরাও ফুটবলকে ঘিরে ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সাজাতো। তখনকার দিনে জনপ্রিয় ফুটবল তারকাদের দেখার জন্য দর্শকরা রীতিমতো ভিড় করতো। আমাদের ফুটবলের আলোচিত তারকা সালাহউদ্দিন, সালাম মুর্শেদী, বাদল, কাননরা তখনকার দিনে ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়। সালাহউদ্দিনের ছবি দিয়ে প্রকাশ করা আজাদ প্রডাক্টস-এর ভিউকার্ড তখনকার দিনে দেদারছে বিক্রি হয়েছে। ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে ফুটবলের আসর মানেই জমজমাট আনন্দ উৎসব। মূলত দুই দলে বিভক্ত হয়ে যেতো ঢাকাসহ পুরো বাংলাদেশ। একদিকে আবাহনী অন্যদিকে মোহামেডান। ব্রাদার্স ইউনিয়নসহ আরও কয়েকটি ফুটবল দলের কদর ছিল বেশ। দেশের যে কোনো স্থানেই আবাহনী আর মোহামেডানের ফুটবল লড়াই মানেই বেধে যেতো হুলুস্থ‚ল অবস্থা। ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় যেদিন আবাহনী মোহামেডানের ফুটবল লড়াই থাকতো সেদিন বিকেলে পুরো ঢাকা ফাঁকা হয়ে যেত। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলা দেখার জন্য টিকিট কাউন্টারে সকাল থেকে ভিড় করতো দর্শক। দীর্ঘলাইনের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পুলিশ বাহিনীকে প্রায়শই হিমশিম খেতে হতো। কালোবাজারে উচ্চমূল্যে খেলা দেখার টিকিট কিনেও যেন শান্তি পেতেন ফুটবল প্রেমী দর্শকরা। আবাহনী ও মোহামেডানের জন্য সাপোর্টারদের স্টেডিয়ামের গ্যালারিও নির্দিষ্ট করা ছিল। খুব একটা বিপদে না পড়লে আবাহনীর সাপোর্টাররা মোহামেডানের গ্যালারির দিকে যেতেন না। একই ভাবে মোহামেডানের সাপোর্টাররাও আবাহনীর গ্যালারির দিকে ভুলেও না যাওয়ার কথা ভাবতেন। আবাহনী, মোহামেডানসহ বড় দলগুলোর খেলার দিনে প্রায়শই সাপোর্টার দুই দলের মধ্যে বাদানুবাদ হতো। তুমুল ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটতো। ফলে পুলিশ বাহিনীকে সদা তৎপর থাকতে হতো।
Football-2অনেকের কাছে ফুটবল ছিল দৈনন্দিন জীবনের একটি অনুষঙ্গ। যেন ফুটবলে আছি, ফুটবলেই বাঁচি। তরুণেরা কেউ সালাম মুর্শেদী, কেউ সালাহউদ্দিন, কায়সার হামিদ, অথবা বাদল হতে চাইতো। সাইদ কাননের মতো গোলকীপার হবার স্বপ্নও দেখতো অনেকে। জাতীয় পর্যায়ে ফুটবলের প্রতি এই ভালোবাসাই বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্যাপক অনুপ্রেরণা যোগায়। সে কারণে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর যেখানেই বসুক না কেন গোটা বাংলাদেশ ফুটবল প্রেমে মশগুল হয়ে ওঠে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সুদূর আফ্রিকায় ১৪ জুন থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপ ফুটবলের জমজমাট আসর। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা দেখার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ উৎসবের আমেজ পাবে বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা। সে কারণে ধারনা করা হচ্ছে এবার বাংলাদেশে ফুটবলকে ঘিরে ব্যাপক আনন্দ উৎসব হবে। অবশ্য তার আভাস ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছে দেশের অধিকাংশ ফুটবল ক্লাব। ফুটবল প্রেমী দর্শকরাও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখার আয়োজন সম্পন্ন করে ফেলেছে। কোথাও কোথাও তরুণেরা নিজেরা চাঁদা দিয়ে বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছে। ধারণা করা যাচ্ছে এবার বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে বাংলাদেশের প্রতিটি রাত থাকবে উৎসব মুখর। বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি খেলা বাংলাদেশে দেখা যাবে রাতে। কাজেই এবারের বিশ্বকাপেও রাত জাগবে বাংলাদেশ। এজন্য অবশ্য নানা ধরনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। ঢাকা সহ দেশের অধিকাংশ শহরে ফুটবল ক্লাবগুলো রাতে বড় পর্দায় খেলা দেখবে। হোটেল রেস্তোরাঁয়ও টিভিতে খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হবে। সেজন্য ঢাকার বেশ কয়েকটি হোটেল রেস্তোরাঁয় বিশেষ খাবারের আয়োজনও থাকবে।
এত গেল ক্লাব পর্যায়সহ উচ্চবিত্তের ফুটবল খেলা দেখার প্রস্তুতির কথা। মধ্যবিত্ত, নি¤œবিত্ত পরিবারেও বিশ্বকাপের ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঘরের টিভি সেটটা ভালো আছে তো? টিভিটা দেখতে অনেক ছোট, পুরনো আমলের। এই সুযোগে একটা বড় সাইজের টিভির ব্যবস্থা করা যায় কিনা এমন ভাবনাও চলছে অনেক পরিবারে। ফলে নতুন টেলিভিশন কেনার ধুম পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান টেলিভিশন কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।
বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে জাতীয় দৈনিক সকল টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন মিডিয়াগুলোতেও শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রচারণার প্রস্তুতি। তার মানে বিশ্বকাপের এই সময়ে আগামী প্রায় একটা মাস বাংলাদেশের মানুষ, দেশের প্রচার মাধ্যমে ফুটবল আনন্দেই মেতে থাকবে। মেসি, রোনালডো, নেইমারসহ জনপ্রিয় ফুটবল তারকাদের দিকে চোখ থাকবে সবার।
প্রিয় পাঠক, একবার ভাবুন তো ফুটবলকে ঘিরে দেশের মানুষের এই যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা… প্রিয় মাতৃভ‚মি বাংলাদেশ যদি থাকতো বিশ্বকাপের এই আসরে? তাহলে গোটা বাংলাদেশ হয়ে উঠতো আনন্দ মুখর বিশ্বখ্যাত একটি দেশ। যে দেশের মানুষ আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল দলের ভক্ত হয়ে অনেক অর্থ খরচ করে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ উপভোগ করে সেই দেশ মানে আমাদের বাংলাদেশ যদি থাকতো বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতায়Ñ আহ্! কী যে আনন্দ আর অহংকার হতো…