Home আরোও বিভাগ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাণিজ্যিকভাবে সফল অসাধারণ একটি প্রকল্প

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাণিজ্যিকভাবে সফল অসাধারণ একটি প্রকল্প

SHARE
Setelite

মোস্তাফা জব্বার
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী
প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক ভাবে টেলিভিশনে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে আনন্দ আলোর সাথে এক সাক্ষাৎকারে আগামীর ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজু আলীম
আনন্দ আলো: সাফ ফুটবলের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। বানিজ্যিক ভাবে যাত্রা শুরুর পরিকল্পনা কি?
মোস্তাফা জব্বার: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুরো দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশ টেলিভিশন যাদের সহায়তায় আমরা এই সম্প্রচার করতে পেরেছি তাদেরকেও অভিনন্দন জানাই। সবচেয়ে বেশি অভিনন্দন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তাঁর আন্তরিক নির্দেশে একেবারে বস্তুতপক্ষে প্রায় অসম্ভব সেই কাজটি আমরা সম্পন্ন করেছি। অনেকেই জানেন না যে, বাংলাদেশের এই স্যাটেলাইটটি অর্জন করার পেছনে একটি দীর্ঘ ইতিহাস আছে এবং এই ইতিহাসের শুরু ১৯৭৩ সালে। আমাদের জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল টেলিকম ইউনিয়নের সদস্য পদ গ্রহণ করেন। বেসিক্যালি সেই সময় আমাদের এই রকম যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ, সেই সময় চাঁদা দিয়ে সদস্য পদ নেবে এটা কল্পনার মধ্যেও ছিল না। বঙ্গবন্ধু সেই দুঃসাহসিক কাজটি করেন। তার চাইতে জরুরী যে কাজটি করেন-১৯৭৫ সালের ১৪ ই জুন তিনি বেতবুনিয়ায় একটি ভ‚-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেন যা স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড ষ্টেশন হিনেবে পরিচিত। এটি করার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বের সাথে সম্পৃক্ত করার কাজ করেন এবং বস্তুত তাঁর ওই আকাংখাটি প্রকাশিত হয় যে, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট সম্প্রচারের যুগে প্রবেশ করতে পারে। পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংস ভাবে হত্যার পর বিষয়টি নিয়ে কেউ আর মাথা ঘামায়নি। এ নিয়ে কেউ আলোচনাও করেনি কথাবার্তা বলেননি বরং বাংলাদেশ স্যাটেলাইট দিয়ে কি করবে এমন অ্যাটিচিউড কাজ করেছে কারও কারও আচার-আচরণে। ১৯৯৬ সালে যখন আজকের প্রধানমন্ত্রী সরকার গঠন করেন প্রথমবারের মত তখন ১৯৯৭ সালে তিনি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন যে, বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট দরকার। তার গঠন করা একটি টাষ্কফোর্স ছিল তাকে আমরা জেআরসি কমিটি নামে চিনি। সেই জেআরসি কমিটির মেম্বারও আমি ছিলাম। আমরা ওই কমিটি থেকে অনুভব করি যে, আমাদের আসলে যদি তথ্য প্রযুক্তিতে সামনে যেতে হয় তাহলে অবশ্যই নিজস্ব স্যাটেলাইট লাগবে। কারণ, তখন স্যাটেলাইট ছাড়া বেসিক্যালি ইন্টারনেট অসম্ভব ছিল। আমরা ইন্টারনেটের যুগে যদি থাকতে চাই তাহলে সেটা দরকারি হবে এবং যাত্রাটা শুরু হয়েছিল ভি স্যাট স্থাপন করে তারপরে বিদেশী স্যাটেলাইট ভাড়া করে চলার প্রশ্ন আছে। তো, ১৯৯৭ সালে তিনি একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। সেই প্রকল্পের জন্যে জাপানী সহায়তা নিশ্চিত হয় এবং এটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর্যায়ে যখন যায় তখন ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তিত হয়। ফলে অন্য সকল ক্ষেত্রে যা ঘটেছে এখানেও তাই ঘটেছে। জামায়াত বিএনপি সরকার এসে এই প্রকল্পটি একেবারে ফাইল বন্দী করে রেখে দেয়। ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় আসার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটাকে আবার উন্মোচন করেন এবং আমার কাছে বিষ্ময়কর মনে হয়েছে যেটি তিনি কেবলমাত্র একটি নিজস্ব স্যাটেলাইটের কথা চিন্তা করেছেন তাই শুধু না, তিনি এই স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সর্বশেষ যে ধারা আছে সেটিকেও গ্রহণ করেছেন। আমরা যে স্যাটেলাইটটি তৈরী করেছি এটি কিন্তু পৃথিবীর স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সর্বশেষ ধারা।এমনকি আমরা যে রকেটটি দিয়ে উৎক্ষেপন করেছি সেটিও রকেটের ক্ষেত্রে সবশেষ ধারা এবং এটি প্রথম আমাদের স্যাটেলাইটকে আকাশে উৎক্ষেপন করেছে। এই রকেটের একটি বৈশিষ্ট্য হলো অন্য রকেটগুলো উৎক্ষেপন করে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। কিন্তু আমাদেরটি ফিরে এসেছে।
আনন্দ আলো: ফ্যালকন নাইনের কথা বলছেন?
মোস্তাফা জব্বার: হ্যাঁ, এবং সেটি আবার রি-ইউজঅ্যাবল রকেট হিসেবে কাজ করেছে। এই দিক দিয়ে আমরা যেটি বুঝি তা হলো- আমাদের অসাধ্য সাধন জাতীয় গর্বে পরিণত হয়েছে। আমরা পৃথিবীর ৫৭তম দেশ এই স্যাটেলাইটের অধিকারী এবং এটির প্রয়োজনীয়তার জায়গাটি কিন্তু আসলে ওই যে ’৯৭ সালে আমরা যেটি দেখেছিলাম, তা এখন আরও বেড়েছে। কারণ আমরা এরই মধ্যে এমন অবস্থার মধ্যে পৌছেছি যে, এই যুগটাই ইন্টারনেটের আর যখন প্রাকটিক্যালি যখন কোন প্রাইভেট চ্যানেল ছিল না তখনকার অবস্থার তুলনায় আজকে বস্তুত একটি বিশাল স্যাটেলাইট মিডিয়া যুগ তৈরী হয়ে গেছে এবং আমাদের এই স্যাটেলাইট মিডিয়াগুলো তাদের প্রত্যেকটি কোন না কোন বিদেশী স্যাটেলাইট ভাড়া করে এবং বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করে এবং তার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এটার রিষ্ক যে জায়গায় আছে তা কেবল বৈদেশিক মুদ্রা দেওয়া নয়। আমি আমার জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমকে যদি অন্যের উপরে নির্ভরশীল রাখি তাহলে এমন কোন সময় আসতে পারে যখন এটি আমার বিপক্ষে ব্যবহৃত হতে পারে এবং সেই কারণেই আমার নিজস্ব স্যাটেলাইট দিয়ে আমি আমার জাতীয় গণমাধ্যমেকে ব্যবহার করবো সেটাই আসলে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং এটি যেহেতু আমাদের সম্প্রচার মাধ্যম কেন্দ্রীক স্যাটেলাইট সেই কারণে আমরা এই যে পরীক্ষামূলকভাবে সাফ ফুটবল দেখাতে পারলাম তা আমাদের জন্যে একটি গর্বিত অর্জন। পুরো জাতী এটি নিয়ে গর্ব করতে পারে যে, আমরা এই রকম একটি জায়গায় গিয়েছি যেটি আমি শুরুতে উল্লেখ করতে চাই আমরা ভাগ্যবান যে, এখনো পর্যন্ত স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন থেকে জনগণকে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এই সম্প্রচার করা পর্যন্ত কোন ত্রæটি পাইনি আমরা। কোথাও আমাদের কোন ত্রæটি বা মেরামতের দরকার পড়েনি।
আনন্দ আলো: তার মানে সফল উৎক্ষেপণ এবং সফলভাবে সিগন্যাল পাওয়ার পরে সফলভাবে সম্প্রচারও শুরু হলো?
মোস্তাফা জব্বার: হ্যা। যখন শুরু করেছি তখন থেকে আমরা সিগন্যালও পাচ্ছি। আমি আরেকটি জাতীয় গর্বের কথা বলি। সেটি হচ্ছে যে, আমরা কিন্তু মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চা করি না। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় এই ব্যবস্থাও নাই। আমি প্রথম যখন সজীব ওয়াজেদ ভ‚-উপগ্রহ কেন্দ্রে যাই তখন আমার মনের মধ্যে এই প্রশ্নটা ছিল- স্যাটেলাইট তো বিদেশ থেকে বানিয়ে নিয়ে আসলাম? বিদেশ থেকে এটি উৎক্ষেপনও করে দিলাম? আমার এটি নিয়ন্ত্রণ করবে কে? আমার ধারণা ছিল আমাদেরকে বিদেশী ভাড়া করে নিয়ে এসে দীর্ঘ দিন তাদেরকে রাখতে হবে? তারা এটা নিয়ন্ত্রণ করবে। তখন আমরা যেতে পারবো।
আনন্দ আলো: এই প্রশ্নটা অনেকেরই আছে?
মোস্তাফা জব্বার: কিন্তু আপনি শুনলে খুশি হবেন-আমরা আমাদের ৩০ জন অসম্ভব মেধাবী ছেলেমেয়েকে নিয়েছি এবং ফরাসি তিন ভদ্রলোক তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এই খানে। এদের মধ্যে মহাকাশ নিয়ে লেখাপড়া করেছে এই রকম কেউ নাই। ইঞ্জিনিয়ারিং বা অন্যান্য ডিসিপ্লিন থেকে তারা এসেছে। আমি যখন গিয়েছিলাম তখন ওই ফরাসি ভদ্রলোক যারা ট্রেইনার তাদেরকে জিঙ্গেস করেছিলাম যে, তোমরা তো এদেরকে দিয়ে কাজ করাচ্ছো, কিন্তু তোমরা চলে গেলে কি হবে? তারা বলে- আমরা তিন বছর থাকবো, তোমার এতো ভয়ের কিছু নাই। তবে তোমার জন্যে জানার বিষয় এটা- তোমার এই ছেলেমেয়েরা আমাদেরকে ছাড়া এখন কাজ করতে পারে। এটি আমাদের জাতীগতভাবে গর্ব করার বিষয় যে, আমাদের ছেলেমেয়েরা কি পরিমাণ মেধাবী। কয়েক মাসের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এটি নিয়ন্ত্রণ করা ক্ষমতা রাখে এবং এর মধ্য থেকে দেখেছি বহুজন বিদেশে চাকরির অফার পেয়েছে ষ্কলারশীপের অফার পেয়েছে। তার মানে ছেলেমেয়েগুলোকে একটু যদি আমরা সহায়তা করি তাহলে কিন্তু তারা বড় কিছু করতে পারে এবং আমরা যখন এটি উৎক্ষেপণ করি প্রধানমন্ত্রী তখন আমাদের বিমান বাহিনীর প্রধানকে বলেন, আমি ছিলাম সেই সময় ওইখানে। তিনি বলেন, এখন প্রস্তুতি নেন আমরা স্যাটেলাইট পাঠিয়েছি আমরা মানুষ পাঠাবো মহাকাশে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এইরকম স্বপ্ন দেখা একজন মানুষ। সেই মানুষটির জন্যে কিন্তু আমরা এই সফলতার জায়গায় আসতে পেরেছি।
আনন্দ আলো: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে এক ধরণের সমালোচনা শোনা যায়-এতো খরচ করে এই স্যাটেলাইট বানালাম তা বাণিজ্যিকভাবে কতোটা সফল হবে?
মোস্তাফা জব্বার: আমি একেবারে অফিসিয়াল হিসাব দেই। প্রথমত এটি বাংলাদেশের একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এই প্রকল্পের যে অনুমিত ব্যয় ছিল সেখান থেকে ২ শত কোটি টাকা সাশ্রয় করেছি। দ্বিতীয়ত হলো- যেই সময়ে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা তার আগেই প্রকল্প শেষ করেছি। আমরা হিসেব করে দেখেছি যে, যে অর্থ রাষ্ট্র থেকে ব্যয় করেছি সেই অর্থ রাষ্ট্রকে ফেরত দেওয়ার জন্যে সর্বোচ্চ ৭ বছর সময় লাগতে পারে। শুধু যেটুকু আমাদের জন্যে ব্যবহার করবো শুধু সেই টুকুর জন্যে অর্থ্যাৎ আমাদের এখনকার যে ক্যাপাসিটি আছে সেই ক্যাপাসিটির কেবল অর্ধেকটা আমাদের দেশের প্রয়োজনে কেবল ব্যবহার করতে পারছি। ওই টুকু থেকে আমার ৭ বছরে ক্যাপিটাল রিটার্ন আসার বিষয় আছে। আমার ক্যাপাসিটি আরও অর্ধেক থেকে যাচ্ছে।
আনন্দ আলো: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে স্থাপিত। অনেকে বলছেন এই অবস্থানে থেকে বাংলাদেশে যারা টিভি সম্প্রচার করেন তাদের জন্যে খুব বেশি নাকি সুবিধার হবে না? এব্যাপারে কিছু বলুন।
মোস্তাফা জব্বার: আমাদের যদি সুবিধার না হতো তাহলে বাংলাদেশ টেলিভিশনকে দিয়ে পরীক্ষামূলক সম্প্রচারটা এতো সহজে করতে পারতাম না। আপনি খুব অবাক হবেন আমরা মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে এই রকম চিন্তা ভাবনা করে দেখি যে, সাফ গেমস হচ্ছে এবং এটাকে আমরা পরীক্ষামূলক কাজে লাগাতে পারি কিনা? আমাদের কিছু যন্ত্রপাতি দরকার ছিল- সি ব্র্যান্ডের চেয়ে ইনসেট সি ব্র্যান্ডের যন্ত্রপাতিগুলো লাগবে। আমরা এই যন্ত্রপাতিগুলো এনে স্থাপন করে আমাদের যারা স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ার তাদেরকে দিয়ে স্থাপন করে আমরা এমনকি যেদিন সম্প্রচার হয়েছে তার আগের দিন স্থাপন করে আমরা সফল হয়েছি। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আমাদের এইখানে কোন টিভি চ্যানেলকে এই ধরণের কোনো জটিলতায় পড়তে হবে না। যেটা হবে হ্যাঁ, আমরা যেহেতু একটি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছি সেই কারণে পুরনো প্রযুক্তির চাইতে একটু আপগ্রেড করার প্রশ্ন দেখা দেবে। এটি প্রযুক্তি ক্ষেত্রে খুব স্বাভাবিক জিনিস।আপনি যখন নতুন কিছু করতে যান আপডেটেড কিছু করতে হলে নতুন কিছু অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এই সমালোচনার কোন মানেই নেই যে, এটি বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো ব্যবহার করতে পারবে না?
আনন্দ আলো: তার মানে আমরা আশাবাদী বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো আমাদের এই স্যাটেলাইট ব্যবহার করবে?
মোস্তাফা জব্বার: আমি মনে করি যে, বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো কেবলমাত্র যে বাংলাদেশের অথবা দেশপ্রেমের জন্যে ব্যবহার করবে সেটি নয়। তার কারণটা হলো আমরা প্রযুক্তি গত দিক থেকে সুপিরিয়র এবং আমরা এটাকে এমনভাবে করবো যাতে তার বাণিজ্যিক দিক থেকে সফলতা দেখা দেয়, তার আর্থিক সাশ্রয় হয়। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে তিনি যেনো আপডেট হতে পারেন। আমরা এমন করছি না যে, ঠিক আছে ভাই- জোর করে তার উপরে আমরা এটা চাপিয়ে দিচ্ছি।
আনন্দ আলো: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্যে কোম্পানী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই কোম্পানী সারা দুনিয়ায় মার্কেটিং করবে- সেই জায়গায় আমরা কতোদূর এগিয়েছি?
মোস্তাফা জব্বার: ইন্দোনেশিয়া কাজাখস্থান পর্যন্ত বিরাট একটি ভ‚-খন্ড আমাদের এই স্যাটেলাইটের আওতায় আছে এবং এর চাহিদা আছে ব্যাপক এবং সেই কারণেই আমাদের যে অবস্থান এবং শুনলে খুশি হবেন যে, বস্তুত পক্ষে বাংলাদেশ এখন ক‚টনৈতিক দিক দিয়ে এতোটা সফলতার জায়গায় এসেছে যে, এই রিজিয়নে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা রোল প্লে করে এবং বাংলাদেশের উপরে মানুষের আস্থার জায়গাটা বেড়েছে। ফলে আমরা বাংলাদেশের সুনামটা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি আমাদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে ব্যবহার করতে পারছি। ফলে আমাদের এইটুকু যতোটা ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং করা দরকার সেটিও আমরা করতে পারবো। ইতিমধ্যে তার জন্যে দায়িত্ব দিয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করেছি। তাই আমার কাছে মনে হয় যে, এটা যা হওয়া উচিত সেইভাবেই কাজটি হচ্ছে।