Home টি-২০ আড্ডা না ভাই আমি বাস্তবের বড় রাণী হতে চাই না – শানারেই...

না ভাই আমি বাস্তবের বড় রাণী হতে চাই না – শানারেই দেবী শানু

SHARE
Shanu

মোহাম্মদ তারেক
আনন্দ আলো: এত কাজ থাকতে অভিনয়ে এলেন কেন?
শানারেই দেবী শানু: ছোটবেলা থেকেই আমার খুব ইচ্ছা ছিল আমি নাটকে অভিনয় করব। অভিনয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা ছিল বলেই অভিনয়ে আসা।
আনন্দ আলো: জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় যে কাজটি…
শানারেই দেবী শানু: ২০০৫ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়াটাই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলতে পারেন।
আনন্দ আলো: প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে মনে মনে কী বলেন?
শানারেই দেবী শানু: মনে মনে বলি বেঁচে থাকার জন্য আরেকটা দিন পেলাম।
আনন্দ আলো: ক্যামেরার সামনে প্রথম দিন…
শানারেই দেবী শানু: ছোটবেলা থেকেই আমি নাচের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বিটিভিতে যে মনিপুরি ড্যান্স গুলো হতো সেখানে আমি অংশ গ্রহণ করতাম। নাচের জন্য আমি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই।
আনন্দ আলো: ফেসবুকের ইনবক্সে কী ধরনের প্রস্তাব বেশি পান?
শানারেই দেবী শানু: প্রেমের প্রস্তাব তেমন একটা পাই না। তবে এক ধরনের প্রস্তাব বেশি পাই। সেটা হচ্ছে, আমি আপনার সঙ্গে ফ্রেন্ডশীপ করতে চাই।
আনন্দ আলো: যে নাটক দেখে প্রচন্ড কেঁদেছেন…
শানারেই দেবী শানু: অনেক নাটক দেখে কেঁদেছি। তবে নজরুল ইসলাম বাবুর ‘আমাদের গল্প’ টেলিফিল্মটি দেখে আমি কান্না সামলাতে পারিনি। টেলিফিল্মটিতে আমি মৃত্যু পথ যাত্রী একজন মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। খুবই ইমোশনাল ছিল দৃশ্য গুলো। কারণ বাচ্চাটা মারা যাওয়ার আগে মা বাঁচ্চাটাকে সান্ত¦না দিয়ে যায়। খুবই টাচি একটা নাটক। নাটকটি যতবার দেখেছি ততবারই কেঁদেছি।
আনন্দ আলো: যে চরিত্রের ভিতরে ঢুকে পড়েছিলাম…
শানারেই দেবী শানু: ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত, রিপন নাগের পরিচালনায় ‘সাত ভাই চম্পা’ মেগা ধারাবাহিকটির বড় রানীর চরিত্রের ভেতর ঢুকে পড়েছিলাম।
আনন্দ আলো: একদিন হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আপনি ‘সাত ভাই চম্পা’র বড় রানী হয়ে গেলেন। তখন কী করবেন।
শানারেই দেবী শানু: বড় রানীর চরিত্র নেগেটিভ বলা যায়। আমি অবশ্যই বড় রানী হতে চাইব না। কারণ দিনশেষে আমি একজন ভালো মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই। এটা অফস্ক্রিনে থাকুক। বাস্তবে আমি বড় রানী হতে চাই না।
আনন্দ আলো: আপনিতো কবিতা লেখেন এ ব্যাপারে কিছু বলুন?
শানারেই দেবী শানু: এই যে বেঁচে থাকছি প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে নতুন অনুভ‚তির জন্ম নিচ্ছে। এই অনুভ‚তি গুলোকেই শব্দে সাজাই। জীবনের এই সব অনভ‚তিই আমার কবিতা বলে মনে হয়।

আনন্দ আলো: আপনার লেখা যে কবিতাটা এখনো হৃদয়ে গেঁথে আছে?
শানারেই দেবী শানু: একটা চুমুর দাম কত? এক জীবন তাহলে অ্যাকাউন্টএ আরো জীবন কিনে নেই। তারপর চুমু খেতে আসব মন চায় যখন, আমার লেখা তিন লাইনের এই কবিতাটা এখনো আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে আছে।
আনন্দ আলো: বন্ধুরা আমাকে যা বলে খ্যাপায়…
শানারেই দেবী শানু: বন্ধুরা আমাকে সিলেটের ভাষায় আড়–য়া অর্থাৎ গাধা বলে খ্যাপায়।
আনন্দ আলো: যে প্রশ্ন শুনতে শুনতে ক্লান্ত…
শানারেই দেবী শানু: আপনি তো টিভির চেয়ে সামনা সামনি অনেক বেশি সুন্দর।
আনন্দ আলো: একটা ছেলে মানুষী চাওয়া…
শানারেই দেবী শানু: পাহাড়ের উপরে একটা ছোট্ট কুড়ে ঘর। সেখানে আমি আর আমার ভালোবাসার মানুষ থাকব।
আনন্দ আলো: যে কাজ করতে ভালো লাগে?
শানারেই দেবী শানু: কবিতা লেখালেখির মধ্যে ডুবে থাকতে ভালো লাগে।
আনন্দ আলো: এ জীবন কেমন?
শানারেই দেবী শানু: জীবন আসলে জীবনের মতোই সুন্দর।
আনন্দ আলো: জীবনে এমন কী আছে, যা বার বার ফিরে পেতে চান?
শানারেই দেবী শানু: জীবনে সময় ছাড়া কিছুই হারায়নি আমি। হারানো সময় আর ফিরে পেতে চাই না। আমি চাই এ জীবন সরল রেখায় বয়ে যাক। আমি চলেছি শেষটা দেখার আশায়।
আনন্দ আলো: জীবনের না পাওয়া গুলো পেতে ইচ্ছে করে না আপনারÑ
শানারেই দেবী শানু: যা পাইনি। তা পেলে কী হতো কে জানে। ভাবিনি কখনো। আমার ছিল না বলেই আমি পাইনি। যা আমার নয়, তাকে নিয়ে ভাববো কেন?
আনন্দ আলো: শানারেই দেবী শানুর বাজে অভ্যাস…
শানারেই দেবী শানু: আমি খুবই ইমোশনাল একজন মানুষ।
আনন্দ আলো: ইচ্ছে হলে কী করেন?
শানারেই দেবী শানু: ইচ্ছে হলেই লিখি। ইচ্ছে না হলে ভাবনায় ডুবে থাকি। ইচ্ছে হলেই হাসি। ইচ্ছে না হলে কেঁদে বুক ভাসাই। ইচ্ছে হলেই বাঁচি। ইচ্ছে না হলেও যন্ত্র হয়ে ছুটে চলি।
আনন্দ আলো: আপনার অভিনীত প্রথম নাটক…
শানারেই দেবী শানু: সিলেটে থাকাকালিন লন্ডনের এস টিভির জন্য একটি আঞ্চলিক ভাষার নাটক করেছিলাম। নাটকের নামটা মনে নেই। সেটি ছিল আমার প্রথম নাটক।
আনন্দ আলো: আপনাকে একদিনের জন্য মঙ্গলগ্রহে পাঠানো হলে কাকে সঙ্গে নিতে চাইবেন?
শানারেই দেবী শানু: আমি আমার ভালোবাসার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইব।