Home প্রতিবেদন দেশের নাটক দেখে বিদেশীর কান্না!

দেশের নাটক দেখে বিদেশীর কান্না!

SHARE
Moncho-Natok

সুবর্না হক
স্বপ্নদল। নামটি বড়ই সুন্দর। নামের মতো তাদের কাজও সুন্দর। স্বপ্নদল বাংলাদেশ গ্রæপ থিয়েটার ফেডারেশান ভুক্ত দেশের একটি আলোচিত নাট্য সংগঠন। সম্প্রতি দলটি সুদুর জাপানে গিয়ে একটি আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসবে নাটক করে এসেছে। বলা যায় স্বপ্নদল জাপান জয় করে এসেছে। আনন্দ কার্যালয়ে দলটিকে আমন্ত্রণ জানান হয়েছিল। শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বিকেলে দলের সদস্যদের নিয়ে তেজগাঁওস্থ চ্যানেল আই ভবনে আনন্দ আলোর দফতরে এলেন দলনেতা স্বপ্নদলের প্রধান সম্পাদক জাহিদ রিপন। দলের প্রতিটি সদস্যের চোখে-মুখে যেন যুদ্ধ জয়ের আনন্দ। হ্যা, ব্যাপারটাতো যুদ্ধ জয়ের মতোই। বাংলাদেশের একটি নাটকের সংগঠন জাপানে গিয়ে আন্তর্জাতিক থিয়েটার উৎসবে সাফল্যের সাথে তাদের নাটক মঞ্চস্থ করে এসেছে এটাতো যুদ্ধ জয়ের মতোই। প্রথমেই প্রসঙ্গ তুললেন দল প্রধান জাহিদ রিপন। জাপানের রাজধানী টোকিও মেট্রোপলিটন থিয়েটার সাংস্কৃতিক উৎসবে স্বপ্নদলের বহুল আলোচিত নাটক ‘ত্রিংশ শতাব্দী’র অংশ গ্রহণের সুযোগ পাওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে বললেন, উৎসবের কর্মসূচির আওতায় ৩ ও ৪ নভেম্বর পর পর দুদিন আমরা আমাদের নাটক মঞ্চস্থ করি। আগেই টিকেট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। হল ভর্তি বিদেশী দর্শকের সামনে নাটক মঞ্চস্থ করতে পারার আনন্দতো ছিলই… পাশাপাশি নাটকের কাহিনী যে দেশের মানুষের ওপর লেখা সেই দেশের মানুষকেই তা দেখানোর সুযোগ পাওয়া… সত্যি, এ অনুভ‚তি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দুই দিনেই নাটক চলাকালে দর্শক সারীতে কখণও ছিল পিনপতন নীরবতা। আবার কখনও কখনও তুমুল করতালি মুখর হয়েছিল পরিবেশ। আবার নিমিষেই অশ্রæ সজল মুহূর্ত। নাটক শেষ হওয়ার পরও অনেক দর্শক হল থেকে বের হচ্ছিলেন না। কেউ কেউ তখনও কাঁদছিলেন। দর্শকদের অভিন্ন বক্তব্য ছিল ‘এটা কি দেখালে তোমরা? অনেক দিন তোমাদের কথা মনে থাকবে।’ জাহিদ রিপন আরও বলেন, টোকিওতে ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ মঞ্চায়নের পর বাংলাদেশের মঞ্চ নাটকের ব্যাপারে টোকিওর থিয়েটার কর্মীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
আনন্দ আলোয় আড্ডা জমে গেল ‘ত্রিংশ শতাব্দীর’ জাপান জয়কে ঘিরে। স্বপ্নদলের সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য অনিন্দ্য অন্তরিক্ষ তো বলেই ফেলল, জাপানের মানুষ অনেক ভালো। ওরা আমাদের নাটক দেখে খুব কেঁদেছে…
জুয়েনা শবনম বললেন, জাপানে ‘ত্রিংশ শতাব্দী’র মঞ্চায়ন মঞ্চ নাটক নিয়ে আমাদের ভাবনার জগৎকে বিস্তৃত করে দিয়েছে। বিদেশে দেশের মঞ্চ নাটকের ঐতিহ্য তুলে ধরতে পেরেছি, সেজন্য খুউব আনন্দ হচ্ছে…
অর্ক বললেন, জাপানের টোকিওতে নাটক করতে গিয়ে আমাদের শহীদ মিনার দেখার সৌভাগ্য হল। জাপানের লোকজনকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না কে মালিক, কে শ্রমিক? সবার একটাই পরিচয়Ñ মানুষ। সত্যি এর চেয়ে ভালো স্মৃতি আর হয় না।
শাখাওয়াৎ শ্যামল বললেন, মানুষ যে কত বিনয়ী, ন¤্র, ভদ্র ও সৎ হতে পারে জাপানে না গেলে জাপানের মানুষের সাথে না মিশলে বুঝতেই পারতাম না। এটা একজন নাট্যকর্মী হিসেবে আমার কাছে শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
সামাদ ভ‚ইয়া বললেন, নাট্যকর্মীর পাশাপাশি পেশায় আমি একজন শিক্ষক। জাপানে নাটক করে ফিরে এসে মনে হচ্ছে, মানুষ হিসেবে আমার একটা বদল দরকার। যে মানুষের মূল শক্তি হবে মানবপ্রেম ও ভালোবাসা।
সোনালী রহমান তুলি বললেন, বিদেশে নিজ দেশের মঞ্চ সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পেরেছি, অনেক ভালো লাগছে।
ফজলে রাব্বি সুকর্নো বললেন, জাপান সফর আমাদের জন্য পরিবর্তনের পুর্বাভাস। ভালো হতে চান জাপানকে অনুসরণ করুন, অবশ্যই সাফল্য পাবেন।
জাপানের থিয়েটার উৎসবে ত্রিংশ শতাব্দীর মঞ্চায়ন ছড়াাও টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দলের আরও একটি আলোচিত নাটক ‘হেলেন কেলার’ মনো ড্রামার একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই নাটকে জুয়েনা শবনমের একক অভিনয় দর্শকদের প্রভ‚ত আনন্দ দেয়। উল্লেখ্য, ত্রিংশ শতাব্দী ও হেলেন কেলার দুটি নাটকেরই নির্দেশক জাহিদ রিপন। ত্রিংশ শতাব্দীতে তিনি অভিনয়ও করেন।
বাংলাদেশের একটি নাটকের দল জাপানে গিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে এটা বেশ আনন্দের খবর। আনন্দ আলোর আড্ডায় স্বপ্ন দলের কর্মীরা অভিন্ন সুরে বললেন, বিদেশে নিজের দেশকে গর্বের সাথে তুলে ধরতে পেরেছি… সত্যি এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পৃথিবী জুড়ে এভাবেই আমাদের মঞ্চ নাটকের জয় হোক।