Home শীর্ষ কাহিনি গায়িকাও একজন পারফরমার নাচলে সমস্যা কী?-দিলশাদ নাহার কনা

গায়িকাও একজন পারফরমার নাচলে সমস্যা কী?-দিলশাদ নাহার কনা

SHARE
Kona-Faria

সময়ের আলোচিত সংগীত শিল্পী দিলশাদ নাহার কনা। প্রায় দেড় যুগ ধরে গান করছেন। দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক ভাবে বেশ কিছু জনপ্রিয় গান তিনি শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন। বিশেষ করে চলতি সময়ে সিনেমার গানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য নারীকণ্ঠ শিল্পীতে পরিণত হয়েছেন কনা। তার কণ্ঠে সিনেমার অনেক গানই শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। এরই মধ্যে তার তিনটি গান কোটিরও বেশি দর্শক উপভোগ করেছেন। বৃষ্টিভেজা এক সন্ধ্যায় কনা বলেছেন তার বর্তমান ব্যস্ততা ও সংগীত জীবন নিয়ে নানা কথা। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক
আনন্দ আলো: দিল দিল দিল… শিরোনামে আপনার একটি গান বেশ আলোচনায় এসেছে। এব্যাপারে কিছু বলুন।
কনা: আমার গাওয়া ‘দিল দিল দিল’ গানটি তিন কোটিরও বেশি ঘরে অতিক্রম করেছে ইউটিউবে। দুই বাংলার মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ ভিউয়ারের গান। বিষয়টি বেশ আনন্দের। এ ছাড়াও ‘রেশমী চুড়ি’, ‘ও ডিজে’ গান দুটিও এক কোটির ঘর অতিক্রম করেছে অনেক আগেই। খুব অল্প সময়ে আমার তিনটি গান কোটিরও বেশি দর্শক উপভোগ করেছেন। এটা একজন শিল্পীর জন্য অনেক বড় পাওয়া। এখন মনে হচ্ছে দায়িত্বটা আরও বেড়ে গেল। একারণে বেশ বুঝে শুনে পথ চলছি। আরো ভালো গান করার চেষ্টা করছি।
আনন্দ আলো: আপনার ‘ও হে শ্যাম’ গানটিও বেশ সাড়া ফেলছে?
কনা: সাম্প্রতিক সময়ে পোড়ামন-২ ছবির ‘ও হে শ্যাম’ গানটি শ্রোতাদের কাছ থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছি। রাফির সংগীত পরিচালনায় আমার সঙ্গে গেয়েছেন ইমরান। এ ছাড়া ‘মন বলেছে’, ‘মন জানে’ গানগুলো বেশ পছন্দ করেছেন শ্রোতারা। এরকম আরো বেশি কিছু গান সামনে শ্রোতারা শুনতে পাবেন।
আনন্দ আলো: আপনি একের পর এক জনপ্রিয় গান শ্রোতাদের উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। এ সফলতার রহস্য কী?
কনা: রহস্য কী সেটা জানি না। তবে চেষ্টা করছি ভালো গান করতে। সময়ের সঙ্গে চলতে। নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করতে। শ্রোতারা গান গুলো গ্রহণ করছে এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।
আনন্দ আলো: সামনে নতুন কোনো গান আসছে কী?
কনা: আসলে ঘন ঘন গান করতে চাই না। নির্দিষ্ট সময় পর পর ভিডিও সহ গান প্রকাশ করবো। সে ভাবেই কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। অডিও ও ভিডিও প্রতিষ্ঠান সিএমভির জন্য কয়েকটি গান করা আছে। ওই গান গুলো থেকেই একেকটি করে গানের ভিডিও করা হবে। এর বাইরে আমি নিজের উদ্যোগেও কিছু গান তৈরি করে রেখেছি। এগুলো চলতি বছরের নির্দিষ্ট সময় পরপর ভিডিও আকারে প্রকাশ করব।
আনন্দ আলো: সিনেমার গানে ব্যস্ততা কেমন?
কনা: সম্প্রতি ‘নায়ক’ সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছি। এটি পরিচালনা করছেন ইস্পাহানি আরিফ জাহান।আর গানটির সুর ও সংগীত করেছেন আহমেদ হুমায়ূন। গানটিতে আমার সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠ দিয়েছেন ইমরান। ‘হেলেন অব ট্রয়’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কলকাতার আকাশ সেনের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠ দিলাম। এ ছাড়াও ‘পাপ কাহিনী, তুই শুধু আমার সহ নতুন হাফ ডজন সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছি। সিনেমার গানে ব্যস্ততা বেশ চলছে। নিয়মিতই কোনো না কোনো নতুন সিনেমার গানে কণ্ঠ দিতে হচ্ছে। সময়টা বের করতে একটু কষ্ট হয়। তারপরও আমি মিলিয়ে নিই। কারণ সিনেমার গানে আমি স্বাচ্ছন্দবোধ যেমন করি তেমনি এখানে নিজেকে প্রমানেরও সুযোগ রয়েছে। সামনে আরও কিছু ছবির গান পাবেন শ্রোতারা। আশা করছি ভালো লাগবে সবার।
আনন্দ আলো: এত ব্যস্ততার মাঝে চলচ্চিত্রের গান, অডিও প্রতিষ্ঠানের গান কীভাবে করেন?
কনা: প্রায় প্রতিদিনই তো শো থাকে না। মাসে যে কয়েকদিন সময় পাই, তার মধ্যেই চলচ্চিত্রের গান, অডিও প্রতিষ্ঠানের গান ও বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে কণ্ঠ দেই।
আনন্দ আলো: জিঙ্গেল ও বিজ্ঞাপনে কণ্ঠ দেয়া কেমন চলছে?
কনা: এগুলো আমার খুব প্রিয় কাজ। বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে আমি প্রচুর কণ্ঠ দিয়েছি। এখনও দিচ্ছি। একেক সময় দেখি টানা কেবল আমার জিঙ্গেল গাওয়া বিজ্ঞাপন টিভিতে চলছে। এটা খুব ভালো লাগার ব্যাপার। আর আমি তো গায়িকা। গান গাই। কিন্তু বিজ্ঞাপনে কণ্ঠ দেয়াটা আমার কাছে অন্যরকম বিষয়। কাজটা খুব মজা করে করি আমি। বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কণ্ঠ দিচ্ছি। বিজ্ঞাপনে নিজের কণ্ঠ শুনতে অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে।
আনন্দ আলো: গান এখন ভিডিও নির্ভর হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
কনা: ভালো গান শ্রোতারা সব সময়ই শোনে। এখন গানের ধারার পরিবর্তন হয়েছে। শ্রোতারা গানের সঙ্গে ভিডিও দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। খুব সহজে মানুষের কাছে গান পৌঁছানো আর জনপ্রিয়তা পাওয়ার একমাত্র উপায় ভিডিও। তাই গান তৈরির সময়ই ভিডিওর কথা মাথায় রাখতে হয়। গানের কথার সঙ্গে মিল রেখে গল্প আর গøামারকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি এসব গানের ভিডিও জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে। এটাই যুগের দাবি।
আনন্দ আলো: একটা গান সুন্দর ও আকর্ষনীয় করতে বেশির ভাগ শিল্পী এখন হরহামেশাই নাচছেন মিউজিক ভিডিওতে। আপনিও ‘রেশমি চুড়ি’ গানের ভিডিওতে নেচেছেন। কেন এই নাচ?
konaকনা: এটা সংগীত শিল্পীর ব্যক্তিত্ব ও পরিবেশনার ওপর নির্ভর করছে। পৃথিবীতে অনেক আগে থেকেই গানের সঙ্গে শিল্পীর নাচ দেখছেন দর্শক। মাইকেল জ্যাকশন, ম্যাডোনা, টেলর সুইফট থেকে শুরু করে পাশের দেশ ভারতের শিল্পীরাও নাচে-গানে ভরপুর মিউজিক ভিডিও উপহার দেন। আমি মনে করি, গায়িকাও একজন পারফরমার। তাই নাচ কোনো সমস্যা নয়। আমাদের দেশে এই চল শুরু হয়েছে একটু পরে।
আনন্দ আলো: এখন অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কেমন মনে হচ্ছে?
কনা: এখন অবস্থা খারাপ না। কারণ অনেক অডিও কোম্পানিই ভালো গানে বিনিয়োগ করছে। পুরোনো কিছু কোম্পানি নতুন করে কাজ শুরু করেছে। গত দুই বছরে আমার নিজেরও বেশ কিছু গান প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে। সে গুলোর সাড়াও পেয়েছি ভালো। এর বাইরে আমি নিজের চ্যানেলেও মাঝে মধ্যে গান প্রকাশ করছি। এখন আসলে শিল্পীরা ইচ্ছেমতো কাজ করতে পারছেন। ইচ্ছে করলে নিজের গান নিজেও প্রকাশ করতে পারেন। আবার কোম্পানি থেকেও প্রকাশ করতে পারেন। এটাই হচ্ছে ডিজিটালি গান প্রকাশের সুবিধা।
আনন্দ আলো: ইউটিউবে গান প্রকাশের বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
কনা: দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের নেটওয়ার্ক চালুর পর বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ইউটিউব ব্যবহারের হার বেড়ে যায়। এই পরিবর্তনকে আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি। একটা সময় ক্যাসেট বিক্রি হতো, তা বন্ধ হয়ে এলো সিডি। গান প্রকাশের পরই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে যেত। পাইরেসির হাত থেকে পরিত্রাণের যেন কোনো উপায় ছিল না। ইউটিউব এসে তাও কিছু রক্ষা। আমাদের পেছনে যারা লগ্নি করছেন তাদের কিছু আয় হচ্ছে।
আনন্দ আলো: স্টেজ শো করতে কেমন লাগে?
কনা: আমি স্টেজে খুব স্বাচ্ছন্দবোধ করি। কারণ এখানে শ্রোতাদের সরাসরি গান শোনানো যায়। আবার সরাসরি তাদের অভিমতও পাওয়া যায়। এটা একজন শিল্পীর জন্য দারুণ সুখের। তাই আমি খুব উপভোগ করি স্টেজ শো।
আনন্দ আলো: অনেকে বলেন শোবিজে বন্ধু পাওয়া বেশ কঠিন। আপনার বন্ধু কারা?
কনা: শোবিজে অনেকেই আমার ভালো বন্ধু। আবার জুনিয়ারদের সঙ্গেও আমার ভালো সম্পর্ক আছে। কোনাল, লিজা ওরা আমার ঘরের মানুষ। মিডিয়ায় সবার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক।
আনন্দ আলো: আপনি গান গেয়ে মানুষকে বিনোদিত করেন। আপনার বিনোদন কী?
কনা: আমি বিনোদিত হই যখন মানুষ আমাকে ভালোবাসে, আমার গান শোনে। মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় বিনোদন আমার কাছে নেই।
আনন্দ আলো: নতুনরা কেমন করছে?
কনা: খুব ভালো করছে। নতুনদের মধ্যে আমি অনেক সম্ভাবনা দেখতে পাই। তবে একটা কথাই বলবো নিষ্ঠার সাথে গান করতে হবে। রাতারাতি তারকা খ্যাতির জন্য গান করলে হবে না।
আনন্দ আলো: বিয়ে করছেন কবে?
কনা: এই প্রশ্নটা প্রায়ই শুনতে হয় ইদানীং। আসলে বিয়েতো সৃষ্টিকর্তার হাতে। তবে আমি বিয়ের জন্য তৈরি। বিয়েটা যে কোনো দিন হয়ে যেতে পারে। আমি সবাইকে জানিয়ে বিয়ে করবো।