Home টি-২০ আড্ডা এখানে মানুষই মানুষকে বেশি ঠকায় : মনিরা আক্তার মিঠু

এখানে মানুষই মানুষকে বেশি ঠকায় : মনিরা আক্তার মিঠু

SHARE

আনন্দ আলো: এত কাজ থাকতে অভিনয় এলেন কেন?

মনিরা মিঠু: আমি তো ভাগ্য বিশ্বাস করি।  ভাগ্যটাই আমাকে অভিনয়ে টেনে এনেছে।

আনন্দ আলো: অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় যে কাজ?

মনিরা মিঠু: হুমায়ূন স্যারের নাটকগুলোই আমার অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।  স্যারের ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি’ নাটকটিতে অভিনয় করে ২০০৮ সালে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার পাই।  এটা আমার জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট।

আনন্দ আলো: একদিন সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখলেন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ।  তাকে দেখে আপনি কী করবেন?

মনিরা মিঠু: তাকে দেখে প্রথমে আমি যে কথাটি বলতে চাইব সেটা হচ্ছে স্যার আপনার জন্য আজ আমি অভিনেত্রী মনিরা মিঠু।  আমার অভিনয় জীবনে যাবতীয় যা কিছু অর্জন সব কিছুতেই আপনার অবদান।  এই কথাটাই বার বার বলতে চাই।

আনন্দ আলো: অভিনয় ছাড়া আর যা ভালো করতে পারেন?

মনিরা মিঠু: ভালো রান্না করতে পারি।  আড্ডা দিতে পারি।

আনন্দ আলো: হঠাৎ ছিনতাইকারীর কবলে পড়লে কী করবেন?

মনিরা মিঠু: আমি কয়েকবার ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলাম।  সবকিছু দিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো কিছুই থাকে না।

আনন্দ আলো: কোনো গ্রামে আপনি শুটিং করতে গেলেন।  ক্যামেরা, লাইট, অ্যাকশন বলার সাথে সাথে আপনার কণ্ঠে পুরুষালি কথা বের হতে লাগলো।  তখন আপনি কী করবেন?

মনিরা মিঠু: সেটাকে আমি খুব সুন্দরভাবে অ্যাকটিংয়ের একটা পার্ট হিসেবে কাজে লাগাবো।

আনন্দ আলো: বেশির ভাগ নাটকে আপনাকে রাগী চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় কেন?

মনিরা মিঠু: হুমায়ূন স্যারের ওপেনটি বায়োস্কপ নাটকে প্রথম অভিনয় করি।  সেখানে আমার চরিত্রে রাগের বিষয়টি ছিল।  খুব চমৎকারভাবে সেই রাগের সঙ্গে আমার অভিনয়টা মানিয়ে গিয়েছিল।  তারপর থেকেই পরিচালকরাই আমাকে রাগী চরিত্রে কাস্টিং করতে থাকে।  আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক সফট অভিনয় করতে পছন্দ করি।

আনন্দ আলো: আপনার অভিনয় দেখে অনেকে বিনোদন পান।  আপনার বিনোদন কিসে?

মনিরা মিঠু: আমি যখন ছেলেদেরকে নিয়ে খুব সুন্দর জায়গায় বেড়াতে যাই সেটাই হচ্ছে আমার বিনোদন।

আনন্দ আলো: বিশিষ্ট অভিনেতা প্রয়াত চ্যালেঞ্জার আপনাকে আদর করে কি নামে ডাকতেন?

T-20মনিরা মিঠু: আমার ডাক নাম মিঠু।  মিঠু নামটা চ্যালেঞ্জার ভাই খুব সুন্দর করে ডাকতেন।  মিঠু খুব সহজ একটা উচ্চারণ।  কিন্তু ওনার উচ্চারণ ছিল অন্যরকম।  আমার ফ্যামিলির আর কেউ ওনার মতো এতো সুন্দর করে ডাকতে পারতেন না।  ছোটবেলায় চ্যালেঞ্জার ভাই আমাকে বায়োনিক ওমেন বলে ডাকতেন।

আনন্দ আলো: চাঁদে যাওয়ার সুযোগ পেলে সঙ্গী হিসেবে কাকে নিবেন?

মনিরা মিঠু: চাঁদে যাওয়ার সুযোগ পেলে সঙ্গী হিসেবে একজন গায়িকাকে নিব।  কারণ আমি প্রচণ্ড রকম গান ভালোবাসি।  আমার বেশির ভাগ সময় কাটে গান শুনতে শুনতে।

আনন্দ আলো: আবার যদি কিশোরী বয়স ফিরে পান তখন কী করবেন?

মনিরা মিঠু: আবার যদি কিশোরী বয়স ফিরে পাই তাহলে খুব মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে ক্লাসের প্রথম হতে চাইব।

আনন্দ আলো: যে প্রশ্ন শুনতে শুনতে ক্লান্ত?

মনিরা মিঠু: আপনিতো কখনো মঞ্চে কাজ করেননি।  তবুও এতো ভালো অভিনয় করেন কীভাবে?

আনন্দ আলো: কোন কাজটি করতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে?

মনিরা মিঠু: ইমোশনাল দৃশ্যে অভিনয় করতে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।

আনন্দ আলো: আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ মানুষ কে?

মনিরা মিঠু: আমার ভাই অভিনেতা চ্যালেঞ্জার।

আনন্দ আলো: আপনার পাঁচটি ভালো গুণের কথা বলুন?

মনিরা মিঠু: আমার পাঁচটি ভালো গুণ হচ্ছে আমি একজন সত্যবাদী।  মিথ্যা কথা সচরাচর বলি না।  আমি মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল।  একদমই মানুষকে ঠকাই না।  আমি মিশুক প্রকৃতির।  সহজেই সবার সঙ্গে মিশতে পারি।

আনন্দ আলো: আপনার পাঁচটি খারাপ গুণের কথা বলুন?

মনিরা মিঠু: আমার পাঁচটি খারাপ গুণ হচ্ছে আমি মানুষকে অল্পতেই বিশ্বাস করি।  আমি খুব রেগে যাই, রাগটা কন্ট্রোল থাকে না।  অপ্রিয় সত্য কথা মুখের ওপর বলে ফেলি।  আমি অলস।

আনন্দ আলো: প্রেম করতে মন লাগে বিয়ে করতে কী লাগে?

মনিরা মিঠু: অনেক অনেক সাহস লাগে।

আনন্দ আলো: এই জীবনে কী পাননি?

মনিরা মিঠু: এ জীবনে অনেক কিছুই পেয়েছি কিন্তু শান্তি পাইনি।

আনন্দ আলো: মিডিয়ায় যে ব্যাপারটা ভালো লাগে না।

মনিরা মিঠু: এখানে মানুষ মানুষকে খুব বেশি ঠকায়।  এ ব্যাপারটা ভালো লাগে না।

আনন্দ আলো: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া কী এমন দেখা হয়নি?

মনিরা মিঠু: তাজমহল।