Home আরোও বিভাগ ক্রীড়া বিনোদন আমরা কি শুধুই দর্শক হয়ে থাকবো!

আমরা কি শুধুই দর্শক হয়ে থাকবো!

SHARE
Football-3

বিশেষ কোনো উপলক্ষ, ধরা যাক ঈদ উৎসব এলেই আমরা যেন একটু নড়ে চড়ে বসি। ঘর সাজাই, নতুন কাপড় কিনি, পারলে একটা বড় দেখে টেলিভিশনও কিনি। সামর্থ্য থাকলে বেড়াতে যাই দূরে কোথাও। এনিয়ে বছর জুড়ে আমাদের প্রস্তুতিও থাকে। তেমনি বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরেও আমাদের নানামুখি প্রস্তুতি থাকে। যেভাবেই হোক খেলা দেখতে হবে। কোনো খেলাই মিস করা যাবে না। একই পরিবারে ভিন্ন ভিন্ন দেশের সাপোর্টার হয়ে উঠি। একই ছাদের নীচে বাসকরি। অথচ স্বামী হয়তো ব্রাজিলের সাপোর্টার আর স্ত্রী আর্জেন্টিনা। ফলে খেলা চলাকালে অনেকের বাসাবাড়ি অথবা ড্রয়িংরুমই হয়ে ওঠে ফুটবল খেলার মাঠ। এইসব দৃশ্য দেখে প্রতি চার বছর অন্তর একটাই প্রশ্ন জাগে মনে, তা হলো বিশ্বকাপ ফুটবল আসে বিশ্বকাপ ফুটবল যায় কিন্তু কি রেখে যায় আমাদের জন্য। এর সহজ সরল উত্তরÑ বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতি চার বছর পর আমাদের জন্য আনন্দ রেখে যায়। তার মানে আমরা আনন্দে হাত তালি দেয়া দেশ। কিন্তু আমরাও ফুটবল খেলি। একটা সময় এই দেশেও ফুটবলের ব্যাপক জাগরণ ছিল। এখন কেন নেই? আমাদের কি একবারও ইচ্ছে করে না বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ফুটবল খেলুক।
অনেকে হয়তো ভাবতে পারেনÑ এটা আকাশ কুসুম একটা কল্পনা। বিনীত ভাবে বলি এটা আকাশ কুসুম কল্পনা নয়। এবার দুটি নতুন দেশ বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল আসরে যোগ দেয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। দেশ দুটির নামÑ আইসল্যান্ড ও পানামা। মাত্র সাড়ে ৩ লাখ লোকের দেশ আইসল্যান্ড। আর পানামার লোক সংখ্যা চল্লিশ লাখের মতো। আমার রাজধানী ঢাকার যে কোনো এলাকায়ও এর চেয়ে লোক সংখ্যা বেশী। ওরা পারলে আমরা কেন পারি না? আমাদের ক্রিকেট যদি বিশ্বকাপে খেলতে পারে তাহলে ফুটবল নয় কেন? এজন্য চাই সুদূর প্রসারি পরিকল্পনা। একথা তো সত্য, ক্রিকেট আমাদেরকে সম্মান দিয়েছে তাই ক্রিকেটের প্রতি আমাদের অনেক মনোযোগ। এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের ক্রিকেট বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে অনন্য মর্যাদায় আসীন করেছে। কিন্তু ফুটবলের পক্ষেও এটা করা সম্ভব। একটা সময় সারাদেশে স্কুল পর্যায়ে ফুটবলের চর্চা হতো। এখন সেই পরিবেশ নাই। দেশের অধিকাংশ স্কুলে ফুটবলের চর্চা হয় না। কেন হয় না, এক্ষেত্রে বোধকরি কোনো জবাবদিহিও নাই।
বলেছিলাম একটা উপলক্ষের কথা। এই বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরই তো একটা উপলক্ষ হতে পারে। আমরা কি নতুন করে সাজাতে পারি না আমাদের ফুটবলের আঙিনা। স্কুলের ঐ ছোট্ট ছেলে অথবা মেয়েটিই হোক আমাদের টার্গেট। প্রয়োজনে তাকে ১৫/২০ বছর ধরে গড়ে তুলব। আজই বিশ্বকাপে খেলার কথা ভাবি না। ১৫/২০ বছরও কি পারব না। পানামা, আইসল্যান্ড এর মতো ছোট্ট দেশ পারলে আমরা কেন পারবো না। এজন্য অবশ্যই পরিকল্পনা দরকার। প্লিজ, ফুটবলের উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ে সুদূর প্রসারি পরিকল্পনা নিন। দেখবেন আজ না হোক কাল, অথবা পরশু বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবেই… জয় হোক ফুটবলের।