Home এক্সক্লুসিভ আমরা এখন খোলামেলা…

আমরা এখন খোলামেলা…

SHARE
Of-the-record

সুবর্না হক
তারকারা ইদানিং বেশ খোলামেলা কথা বলছেন প্রচার মাধ্যমে। ব্যক্তিগত জীবনের অনেক সত্য ঘটনাও অবলীলায় প্রকাশ করছেন দর্শকদের সামনে। টিভি পর্দায় অনেকে এমন সব কথা বলছেন শুনে পারিবারিকভাবে টিভি দেখতে বসে বিব্রত হচ্ছেন সৃজনশীল পরিবারের মানুষেরা। অবশ্য তারকাদের এই খোলামেলা হওয়ার প্রবনতাকে সময়ের দাবী বলছেন কেউ কেউ। তাদের বক্তব্যÑ আকাশ সংস্কৃতির দোর্দন্ড দাপটের এই যুগে কোনো কিছুই আর গোপন রাখা যায় না। গোপন কথা গোপনও থাকে না। সে কারনে অনেকটাই ‘খুললাম খুললাম’ মানসিকতায় ভর করে হাঁটছেন আমাদের বেশ কিছু তারকা। মজার ব্যাপার হলো বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত তাদের তথাকথিত সাহসী বক্তব্য শুনে একশ্রেণীর ভক্ত বেশ খুশি। ইউটিউবে তারকাদের বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ এর ভিউয়ার সংখ্যাও অনেক। অর্থাৎ তারকার জীবনের খোলামেলা কথা শুনতেই শ্রোতা-দর্শকের বেশী আগ্রহ। শাহরিয়ার নাজিম জয়’এর সেন্স অব হিউমারের একটি ভিডিও ক্লিপ’এ দেখা গেল ভিউয়ারের সংখ্যা কয়েক লাখ। আসুন দেখি ওই ভিডিও ক্লিপÑ এ কি আছে!
প্রথমেই দেখা গেল নন্দিত অভিনেতা আজিজুল হাকিম ও তার স্ত্রী নাট্যকার জিনাত হাকিমকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন জয়। তিনি জিনাত হাকিমের দুই হাত ধরে বলছেন “আপনার দুই হাত ধরে মনে হচ্ছে… হাত দুটো জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাত্রির। যার সাথে হাকিম ভাইয়ের প্রেমের স্ক্যাÐাল ছিলো”…
জয়ের কথা শুনে হাকিম ও জিনাত দম্পতি হো হো করে হেসে ফেললেন…
পরক্ষনেই দেখা গেল নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের পায়ের কাছে এসে নীচে বসার অনুমতি চাইলেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। জয়কে নীচে বসার অনুমতি দিয়ে শাওন বললেন, আমিও নীচে বসি… আমাদের বাসায় এভাবে নীচে বসেই আমরা আড্ডা দেই। শাওনের কথা শুনে জয় বললেন, না-না আপনি উপরেই থাকুন… আপনি তো আমার ভাবী… আপনাকে একটা কথা বলি… যদি কখনও দ্বিতীয়বার বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে আমার কথাটা বিবেচনায় রাখবেন…। আমারও দুইটা সন্তান, আপনারও দুইটা সন্তান… চার সন্তান মিলে আমরা একটা সুখি পরিবার গড়ে তুলব… জয়ের কথা শুনে শাওন বিব্রত হয়ে বলেন, কিন্তু আমার তো… বিবেচনা করার মতো… ঐ যে আপনি অনুষ্ঠানের শুরুতে বলেছিলেন উল্টা পাল্টা প্রশ্ন করলে আপনাকে মাইর দিতে পারব… আপনাকে এখন কষে একটা থাপ্পড় দিতে ইচ্ছা করতেছে…
এরপরই দেখা গেল চিত্র নায়িকা ময়ুরীকে। জয় তাকে প্রশ্ন করলেনÑ কেমন আছেন আপনি? ময়ুরী বললেন, ভালো। জয় এবার ময়ুরীর হাত ধরে বললেন, সিনেমায় আপনাকে অনেক গাইতে, নাচতে দেখেছি। আপনার হাত ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে ছিল। আজ সেটা পুরণ হলো! জয়ের কথা শুনে ময়ুরী বললেন, তাই নাকি?
পরক্ষনেই দেখা গেল নাট্য পরিচালক সুমন আনোয়ারের সাথে পাশাপাশি বসে আছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। মৌসুমীর পরনের প্যান্টে নানান জায়গায় ছেঁড়া। সেদিকে তাকিয়ে জয় প্রশ্ন করলেনÑ ছেড়া প্যান্টটা কবে কিনেছো?
মৌসুমীর উত্তরÑ আমি এতোক্ষণ দেখছিলাম যে আপনি আমার ছেড়া প্যান্টের দিকেই বার বার তাকাচ্ছিলেন… সাথে সাথে বুঝে নিয়েছি যে এই ছেড়া প্যান্ট নিয়েই হয়তো অনেক প্রশ্ন করবেন…
মৌসুমীর কথা টেনে নিয়ে জয় বললেন, যেমন তুমি অনুষ্ঠানে ঢুকতে ঢুকতে আমার প্যান্টের জিপারের দিকে তাকাচ্ছিলে… মৌসুমী কথা টেনে নিয়ে বললেন, আমি সেজন্য তাকাইনি। আমি তাকিয়ে ছিলাম আপনার প্যান্টের ‘ইন’ ঠিক করার জন্য… আমি আপনার প্যান্টের ‘ইন’ ঠিক করার জন্য তাকিয়েছিলাম। আপনার ‘ইনটা’ ডিসপ্লেস ছিল।
জয়ের উত্তরÑ তুমি আমার উপরে দিকে না তাকিয়ে নিচের দিকে তাকিয়েছ। আমিও বিনয়ের সঙ্গে নীচের দিকেই তাকিয়েছি…
এরপর গুণী অভিনেত্রী সুবর্না মুস্তাফাকে দেখা গেল। জয় তাকে প্রশ্ন করলেন এভাবেÑ সুবর্না আপা আপনি একজন আলোকিত মানুষ। আপনি যা করেন বুঝে করেন। না বুঝে আমি আপনাকে কিছু করতে দেখি না। শুধু একটি জায়গায় মনে হয়েছে আপনি বোধহয় না বুঝে করেছেন… সেটা হলো সৌদ ভাইকে বিয়ে… সাথে সাথেই হাসির রোল পড়ে গেল। পর্দায় দেখা গেল সুবর্না মুস্তাফার এক পাশে বদরুল আনাম সৌদ এবং অন্য পাশে জিতু আহসান বসে আছেন। সবাই হো হো করে হাসছেন। হাসি থামিয়ে সুবর্না মুস্তাফা বললেন, মানুষ মাঝে মাঝে আবেগের বশবর্তি হয়ে কিছু কাজ করে ফেলে…
জয় সাথে সাথে প্রশ্ন করে বসেনÑ আবেগ অনেক সময় ভুল ডেকে আনে… আপনার কি আবেগটা ভুল ছিল? জয়ের কথা টেনে নিয়ে সুবর্না মুস্তাফা বলেন, যখন করেছি তখন মনে হয়নি এটা ভুল ছিল। তবে মাঝে মাঝে ভুল মনে হয়… আবার এটাও মনে হয়, ঠিকই তো আছে…
জয়ের মন্তব্যÑ ঠিকই আছে। কারণ লাইফ তো এক ধরনের এডজাস্টমেন্ট…
জয় এবার সুবর্না মুস্তাফাকে প্রশ্ন করেন কিন্তু যখন আপনি শোনেন যে সৌদ ভাই স্বাগতার হাত ধরে চলে যাচ্ছে তখন কেমন মনে হয়…?
সুবর্না মুস্তাফার মন্তব্যÑ ঐটা শুনেছি… দেখিনি তো… শুনেছি। অবশ্যই শুনেছি। তবে আমার সামনে দিয়ে যায়নি কখনও… তবে একটা মজার কথা বলি, কেউ যদি চলে যেতে চায় ওয়েলকাম টু লিভ… গো অ্যাওয়ে… জয় বলে উঠেন, এটা ভালো কথা আপু। আপনি এই জায়গায় অনঢ় থাকবেন। কারণ আপনি এতো মার্জিত এবং এতো বড় একজন আইকন আমাদের জন্য যে… সৌদ ভাই চলে গেলে যাবে… কিন্তু আমি তো আছি, জিতু আছে…. কে নাই আপনার জন্য বলেন? সুবর্না এসময় তেমন কিছুই বললেন না। তবে দেখা গেল বদরুল আনাম সৌদ এক পর্যায়ে সুবর্না মুস্তাফাকে বললেন, ‘তুমি ’৭৬-’৭৭ সালে ঘুড্ডিতে যা করে দেখাতে পারনি, বাংলা সিনেমার কোনো চেঞ্জ আনতে পার নাই, কিন্তু আমি একটি বিয়ে করে তরুণদের মাঝে এক ধরনের চেঞ্জ আনতে পেরেছি। সবাই এখন ভাবে যে, তারা সুবর্না মুস্তাফার সাথে ‘ফ্ল্যাট’ করতে পারবে অথবা তাকে ‘বিয়ে’ করতে পারবে।
এরপর দেখা গেল মৌসুমী হামিদ প্রশ্নকর্তার টেবিলে বসে জয়কে প্রশ্ন করছেন। মৌসুমী হামিদ জয়কে প্রশ্ন করছেন এভাবে, আপনি কোন অভিনেত্রীর সাথে অভিনয় করতে গিয়ে নার্ভাস ফিল করেছিলেন?
জয় ভেবে নিয়ে বলেন, মৌসুমী হামিদ… মৌসুমী সাথে সাথে খিক খিক করে হেসে পাল্টা প্রশ্ন করেনÑ কেন আপনি এই নামটা বললেন জয় ভাই?
জয় উত্তরে বললেন (তার পাশে বসেছিলেন নাট্য পরিচালক সুমন আনোয়ার) কেন বলছি তার একটা কারণ আছে। একটা নাটকে ভুতের ভয়ে মৌসুমীকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। হঠাৎ মনে হলো আরে ওর তো সুমন আনোয়ারের সাথে প্রেম চলছে… তখন ওকে জড়িয়ে ধরার আনন্দটা পাচ্ছিলাম না…
জয়ের কথা কেড়ে নিয়ে মৌসুমী বলতে থাকেন, জয় ভাই আপনি এটা মনগড়া কথা বলছেন। তখন সুমন আনোয়ারের সাথে আমার কোনো রিলেশনশিপ ছিল না।
জয় বলে উঠেন আমি ভুল বলছিনা শুদ্ধ বলছি সেজন্য আমার ব্রেইনের সিটিস্ক্যান করতে হবে। তুমি তো আমাকে কিছু চাপিয়ে দিতে পার না?
মৌসুমী বলে ওঠেন, চাপিয়ে দিচ্ছি না। সত্য কথাটা বলি। আপনার সাথে আমার কাজটা হয়েছিল ২০১৪ সালে। তখন তো সুমনের সাথে আমার কোনো রিলেশন শুরু হয়নি। কাজেই তার কথা বললে তো হবে না।
জয় হাসতে হাসতে বলে ওঠেন, তাহলে আমি কার কথা শুনেছি? শাহরিয়ার শাকিলের… এখানেই ভিডিওটা শেষ। ভিউয়ারের সংখ্যা প্রচুর।
এটাকে আমরা বলছি সময়ের দাবী। পাঠক, এভাবেই কি সময়ের দাবী মিটাব আমরা? আপনাদের মতামত চাই। লিখুন আনন্দ আলোয়। গুরুত্ব সহকারে ছাপা হবে।