Home সাক্ষাৎকার অভিনয় এখন তার নেশা

অভিনয় এখন তার নেশা

SHARE
Azom-Khan-actor

সৈয়দ ইকবাল
অভিনয়টা তার শখই। কিন্তু সেই শখ যেন এখন পুরোপুরি প্রফেশনে পরিণত হয়েছে। কয়েক বছর আগেও তিনি এমনটা চিন্তাও করেননি। শুধুমাত্র ভালোবাসা এবং এক প্রকার নেশার জায়গা থেকেই অভিনয়টা শুরু করেন তিনি। কিন্তু নিজের ভেতর এরকম অভিনয় প্রতিভা দেখে তিনি নিজেও যেন আজ বিস্মিত। হ্যাঁ, পাঠক বলছি অভিনেতা আজম খানের কথা। টিভি পর্দা খুললেই কোন না কোন বিজ্ঞাপন কিংবা নাটকে তার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতোই।
অভিনয় কি শখ থেকে নেশায় পরিণত হয়েছে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে কখনও ভাবিনি, অভিনয়টা নেশায় পরিণত হয়েছে কি-না। ভালো লাগে এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি। অবশ্য ভালো লাগার বিষয়ও অনেক। ছোটবেলায় বিতর্ক করতাম। নাটক, কবিতা আবৃত্তি ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি। ব্যাংকিং, বিজনেস আর খেলার জগৎ নিয়ে টেলিভিশনে টকশো করেছি অনেক। গান গাওয়ার শখ ছিল। কিন্তু গান শেখার সুযোগ পাইনি। এসবই ভালো লাগা থেকে করা। আর এই অভিনয়ের প্রতি একটা মায়া জন্মে গেছে। যা এখন নেশাই বলা যায়। তা না হলে শত ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত অভিনয় করা হয়ে উঠত না। প্রতিনিয়ত পর্দায় নতুন করে নিজেকে উপস্থাপন করতে সব সময় চেষ্টা ছিল। আগামীতে এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
আজম খানের এ কথা যে মিথ্যা নয়, তার প্রমাণ পাওয়া যায় তার অভিনীত নাটকের বিশাল এই তালিকা দেখে। চয়নিকা চৌধুরীর নাটক ‘ফিরে আসার গল্প’, ‘সে আকাশ ভালোবাসে’, ‘তাল পাতার পাখা’, ‘কালো চিঠি’, ‘পথের শেষে’, ‘গল্পটি ছোট’, ‘আসবে বলে’; পিন্টু সাহার ‘হৃদয়ে মম’, সাখাওয়াত মানিকের ‘রূপালী’ ছাড়াও ‘সবুজ মানুষ’, ‘এবং স্বপ্নের মৃত্যু’, ‘শেষের পরে’, ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’, ‘ভালোবাসার কিছু রং’, ‘আরশী’, ‘তুমি আছো তাই’, ‘নীলাভ বিস্মরণ’, ‘প্রিয় নার্গিস’, ‘আগমনী গান’, ‘বলো তারে’, ‘কখনও এমন নির্জন দুপুর আসে’, মাহফুজ আহমেদের ‘শৈনী প্রæ’, প্রজ্ঞা নিহারিকার ‘তোমার রঙ্গে হৃদয় আমার রাঙ্গা’, সাজ্জাদ সুমনের ‘কুলুর বলদ’, মেহেদী হাসান জনির ‘শেষটা এমন ছিল’, তুহিন হোসেনের ‘ভাঙ্গা কাচ’, ‘টোনাটুনির প্রেম’, জুয়েল মাহমুদের অমাবস্যার চাঁদ’, গৌতম কৈরীর ‘একদিন প্রতিদিন’সহ প্রতিটি নাটক ও টেলিছবিতে নিজেকে ভিন্নরূপে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। জনপ্রিয়তার ¯্রােতে গা ভাসাতে নারাজ তিনি। তবে তার কাজের তালিকাটা একেবারে ছোট নয়। এখন পর্যন্ত ৮৪টি খন্ড নাটক, ৯টি ধারাবাহিক নাটক সহ বেশকিছু বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন তিনি। এছাড়াও তিনি মিউজিক ভিডিওসহ সরকারী-বেসরকারী নানান ক্যাম্পেনেইংয়ের বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন।
মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে একক ও ধারাবাহিক নাটক, টেলিছবি আর মিউজিক ভিডিও মিলিয়ে এত কাজ কীভাবে করলেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘যার প্রতি ভালোবাসা থাকে, তার জন্য সব প্রতিকূলতা জয় করা যায়। অভিনয়ের প্রতি আমার ভালোবাসাও এমনই। অফিস শেষ করে শুটিংয়ের জন্য ছুটে গেছি দেশের নানা প্রান্তে। আবার শুটিং শেষে রাতেই ফিরে পরদিন অফিস করেছি। একটাই কারণ, অভিনয় দিয়ে মানুষের মন জয় করতে চাই। তা করতে পারলেই শিল্পী জীবন সার্থক হবে। শুধু তাই নয়- আমি শ্যুটিংয়ের সময় অফিস এবং শ্যুটিং- দুইটা জিনিস দারুণভাবে মেনটেইন করি। সত্যি কথা বলতে কী- অফিস শেষে যে সময়টা আমার পরিবারকে দেয়ার কথা- সেটাই আমি শুটিংয়ে দিয়ে থাকি। আমার পরিবারের সময়টা আমি সেক্রিফাইস করছি।’
কাজের মধ্যে এতো সুখের ও ভালোলাগার বিষয় থাকলেও একটা চাপা কষ্টও রয়েছে এই অভিনেতার। ২০১৫ সালের ৩ জুলাই যেদিন প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন সেইদিন তার মা মারা যায়। আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন তার মা। তবে শ্যুটিং থেকে হাসপাতালে যেতে যেতে তিনি আর সেদিন মাকে ফিরে পাননি। আর এজন্যই বুকের মধ্যে একটা চাপা কষ্ট রয়েছে তার। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দিন আমি আমার মায়ের সাথে দেখা করেই কাজ শুরু করি। সেইদিনও যথারীতি মায়ের সাথে কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। তবে শ্যুটিংয়ে থাকার সময় ফোনে জানতে পারি মা হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আইসিউ তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে মাকে জীবিত ফিরে পাইনি।’
আনন্দ আলোর সাথে আলাপকালে এই সময়টা খানিক আনমনা হয়ে যান তিনি। এক সময় আজম খানের মনটা বেশ কান্নায় জড়িয়ে যায়। প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে জানতে চাওয়া হয় অভিনয়ে আসার গল্পটা কেমন ছিলো? তিনি বলেন, ‘এটিএন বাংলার অফিসে শিল্পী চন্দন সিনহাকে আমার ওই শখের কথা বলার পরে তিনি পরিচয় করিয়ে দেন এই সময়ের একজন জনপ্রিয় নির্মাতার সঙ্গে। তিনি একজন দারুণ কাজপাগল মানুষ। তার কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। তার অনুপ্রেরণা আর উৎসাহ আমাকে এগিয়ে যেতে আশাবাদী করেছে। অনেক বড় কিছু কাজ করার পরিকল্পনা তার আমাকে নিয়ে। তিনি সত্যিই একজন গুণী নির্মাতা, অনেক আবেগপ্রবণ আর মায়াবতী একজন মানুষ। তিনি হলেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। সেভাবেই শুরু। তিনি আরো বলেন, ‘আমি সত্যিই অনেক ভাগ্যবান। অনেক গুণী শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। ক্যামেরার সামনে আর পিছনে সহ শিল্পীদের অনুপ্রেরণা আর সহযোগিতা না পেলে হয়তো এতগুলো কাজ করা হতো না আমার।’ বর্তমানে এই অভিনেতা বেশকিছু খন্ড নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত আছেন।